somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বই আলোচনা "মিউটিনি অন দ্য বাউন্টি" জে,এন,হল এবং সি,নর্ডহফ

২৬ শে মে, ২০১০ রাত ৯:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি বই আপনার খুব ভালো লাগলে কতবার পড়েন? ৩ বার ৫বার ১০ বার তারবেশী? কিন্তু এ বইটি প্রথম পড়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কম করে হলেও ২০-২৫ বার পড়েছি আমি।অথচ প্রথম হাতে নিয়ে বেশ অনীহা নিয়েই পড়তে শুরু করেছিলাম আমি বইটি।ঐতিহাসিক ঘটনা অবলম্বনে রচিত বই পড়তে আমি তেমন একটা মজা পাই না এর প্রধান কারন কাহিনী বিন্যাসে সীমাবদ্ধতা ও দায়বদ্ধতা।
কিন্তু কয়েক পাতা পড়ার পর থেকে একী! একী!ভাব আমার মাঝে শেষ পাতা পড়ে ত পুরো হতভম্ব আমি।চোখ জ্বলছে বেশ ভাল করেই বুঝলাম আমি।
কথা না বাড়িয়ে কাহিনী সংক্ষেপ বলি আপনাদের-

১৭৮৭ সালে বৃটিশ নৌজাহাজ বাউন্টি দক্ষিন সাগরীয় দ্বীপ তাহিতির দিকে রওনা দেয়।উদ্দেশ্য সেখান থেকে রুটিফলের চারা সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইংরেজ কলোনীতে পৌছে দেওয়া।জাহাজে মিডশীপম্যান কাম ভাষাবিদের চাকরি নেয় এই বইয়ের প্রধান চরিত্র রজার বিয়্যাম।জাহাজের ক্যাপ্টেন ব্লাই এর অত্যাধিক নিয়মানুবর্তীতা বদমেজাজী স্বভাব কিছু ভুল সিদ্ধান্ত সর্বাপরি তার ছোটখাট দুর্নীতী নাবিকদের মাঝে অসন্তোষের বীজ বুনে দেয়।তাহিতি থেকে কাজ সেরে ফিরার পথে জাহাজের লেফটেন্যান্টে ক্রিশ্চিয়ানের নের্ত্বেতে একদল নাবিক বিদ্রোহ করে বসে।তারা ক্যাপ্টেন ব্লাই ও তার অনুগামীদের ছোট একটি লন্চে করে মাঝ সমুদ্রে ভাসিয়ে দেয়।কপালদোষে বিদ্রোহীদের সাথে জড়িত না থেকেও বিয়্যামকে থেকে যেতে হয় বিদ্রোহীদের সাথে জাহাজে। এরপর বিদ্রোহীরা জাহাজ নিয়ে আবার চলে যায় তাহিতি দ্বীপে।সেখানে তারা দীর্ঘদিন অবস্থান করে।ওখানের এক গোত্রপতির ভাতিজীর সাথে প্রণয় ও বিয়ে হয় বিয়্যাম এর।বেশ কিছুদিন পর বিদ্রোহের সংবাদ পেয়ে বিদ্রোহীদের ধরতে বৃটিশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এসে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় বিয়্যামসহ কয়েক নাবিককে।দীর্ঘদিন পর মার্শাল কোর্টে বিচারের পর নির্দোষ হিসেবে ছাড়া পায় বিয়্যাম।তখনি সে ছুটে যেতে চায় তাহিতি দ্বীপে তার স্ত্রী সন্তানের কাছে।কিন্তু আবারও ভাগ্যের চক্রান্তে সে যুদ্ধজাহাজে চাকরি করতে বাধ্য হয়।প্রায় ১৬ বছর পর সে সুযোগ পায় তাহিতিতে যাওয়ার।দ্বীপে নেমে তারা বাড়ির দিকে রওনা দেওয়ার সময় দেখা হয়ে যায় তার শ্যালক এর সাথে।দীর্ঘ নীরবতা ভেঙ্গে বিয়্যাম তাকে তার স্ত্রীর কথা জিজ্ঞেস করে।শান্ত স্বরে তার শ্যালক জানায় মারা গেছে বহুদিন আগেই।আর আমার মেয়ে? আরও অনেকক্ষন নীরবতার পর বিয়্যামের প্রশ্ন।
এমন সময় বাচ্চা কোলে একটি যু্বতী মেয়ে এদিকে আসতে থাকে।তাকে দেখিয়ে বিয়্যাম এর শ্যালক বলে ঐ তোমার মেয়ে।
নি:শ্বাষ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপায় বিয়্যামের।চোখ ছলছল করছে তার কিন্তু কোনমুখে এতকাল পর পিতার অধিকারে ডাকবে সে মেয়েকে? তাই পরিচয় গোপন করেই পরিচিত হয সে তার মেয়ের সাথে।অল্পক্ষণ পরেই বিদায় নেয় তার মেয়ে ও নাতনী।তারপর রুপালী চাদ মৃত্য আত্বীয়দের প্রেতাত্বাকে সঙ্গী করে উঠে পড়ে সে জাহাজে


এই হচ্ছে কাহিনী সংক্ষেপ।এই বইয়ের মূল মেসেজ আমার কাছে মনে হয়েছে
সামরিক বাহিনীতে বিদ্রোহ তা যতই সফল হোক না কেন বিদ্রোহীদের জন্য কখনও ভাল কিছু বয়ে আনে না।বিডিআর বিদ্রোহের পর বইটি আমি আরেকবার পড়েছিলাম।বারবার মনে হয়েছিল বিডিআর সদ্যসদের প্রতি কি ক্যাপ্টেন ব্লাই যে অত্যাচার করেছিল তার নাবিকদের সাথে তার বেশী যন্ত্রনা দেওয়া হত?
কেন জানি মনে হয়েছিল এ বইটি পড়া থাকলে বিডিআর বিদ্রোহীরা বিদ্রোহের আগে আরেকবার ভাবত।
বইটি পড়ে আমার আরও মনে হয়েছে প্রতিষ্টানের প্রধান যদি ব্লাইযের মত রগচটা বদমেজাজী হয় তবে ঐ প্রতিষ্টানের বারটা বাজতে বেশীক্ষন লাগবে না।

পুনশ্চ- বাউন্টি দখল করে ক্যাপ্টেন ব্লাই ও তার অনুগামীদের মাঝ সমুদ্রে নামিয়ে দেওয়ার পর সেখান থেকে ভয়ংকর কষ্ট যন্ত্রনা সহ্য করে তাদের ইংল্যান্ডে পৌছানো নিয়ে একটি বই আছে একই লেখকদ্বয়ের "ম্যান এগেইনস্ট দ্য সী" নামে।যারা অ্যাডভেন্চার প্রিয় তার দুটি বই ই পড়ে নিতে পারেন।আমি নিশ্চিত খুব ভাল লাগবে আপনাদের।
লিংক
মিউটিনি অন দ্য বাউন্টি

ম্যান এগেইনস্ট দ্য সী
৫৭টি মন্তব্য ৫৬টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×