পোস্ট আর্কাইভ
- নভেম্বর,২০১২(১)
- জানুয়ারী,২০১২(১)
- নভেম্বর,২০১১(১)
- সেপ্টেম্বর,২০১১(১)
- আগস্ট,২০১১(১)
- জুন,২০১১(১)
- এপ্রিল,২০১১(২)
- মার্চ,২০১১(৩)
- ফেব্রুয়ারী,২০১১(১)
- জানুয়ারী,২০১১(৩)
- ডিসেম্বর,২০১০(২)
- নভেম্বর,২০১০(৩)
- অক্টোবর,২০১০(২)
- সেপ্টেম্বর,২০১০(২)
- আগস্ট,২০১০(৩)
- জুলাই,২০১০(৩)
- জুন,২০১০(৩)
- মে,২০১০(৪)
- এপ্রিল,২০১০(৩)
আমার লিঙ্কস
আমার বিভাগ
কোন বিভাগ নেই
আমার প্রিয় পোস্ট
- ইম্প্রেশনিস্ট আর্টিস্ট :: জর্জ স্যুরা' (Georges-Pierre Seurat) - শাহেদ খান
- ভালোবাসা.... স্বপ্ন - শূণ্যস্বপ্ন
- ফেসবুক এর জন্য ১০০০ ইমো
- ফারহান আহমেদ
- অমৃত বচন
(৩য় দফা আপডেটেড) - কি নাম দিব
- কয়েকটি ইসলামিক নিদর্শন(নাস্তিকদের প্রবেশ নিষেধ)৩য় পত্র - সোহাগহোসেন
- বর্ষপূর্তি
: ফিরে দেখা একটি বছর - রেজওয়ান মাহবুব তানিম
- আমার যত ভাল লাগা : ব্লগে প্রিয় পোস্টগুলো - রেজওয়ান মাহবুব তানিম
- মহাকাশ নিয়ে চলচ্চিত্র - কাউসার রুশো
- আমার প্রিয় পোষ্টের লিষ্ট [নিয়মিত আপডেট করা হবে] - সময় নীলার্ধ
- একজনের মাথা কেটে আরেকজনের মাথায় লাগান!!!!(যাদু নয় সত্যি!!!)

- হাসান যোবায়ের
- জিহ্বা দেখে রোগ চিনুন - একলা পাখী
- বাংলা ভাষায় লেখা ১০০টা ভাল উপন্যাসের তালিকা কেমন হতে পারে? - মাহবুব মোর্শেদ
- ভ্যালেন্টাইন বোন - ডুব সাঁতার
- ১২টি ভয়াবহর্ নির্যাতনের যন্ত্র (১র্ম পব) - রান০০৭
- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৭৫-২০১০) - শেখ আমিনুল ইসলাম
- গল্প: বোকা (পরিমার্জিত) - স্বদেশ হাসনাইন
- ফিরে দেখা ২০১০ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- চলতি বছরের শীর্ষ দশ নতুন ব্লগার - আজিব পোলা
- পুরানো ঢাকার বিরিয়ানি বাজার - জুল ভার্ন
- মুক্তিযুদ্ধ,ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য সমগোত্রীয় পোস্ট সংকলন - পাপতাড়ুয়া
রুচি।
১২ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৯:৩২ |
খবরটা পেলাম ছোটভাই এর কাছ থেকে।ওর স্বভাবমত বিস্তর চেচামেচির পর বলল, “ভাই বাবা এক বাচ্চা নিয়ে এসেছে বাসায়।”
“বাচ্চা মানে?”
“এক মেয়ে নাকি দত্তক এনেছে পালবে ওটাকে। এসব কি বুড়া বয়সে ভীমরতি নাকি?” বলেই আবার শুরু করল চেচামেচি।
আমি বললাম, “ঠিক আছে তুই ফোন রাখ আমি খোজ নিচ্ছি কি হয়েছে।”
বেশ কয়েকবার রিং হওয়ার পর ফোন ধরল মা। সরাসরিই জিজ্ঞেস করলাম, “মা তোমরা নাকি এক মেয়ে নিয়ে এসেছ? ঘটনা কি?”
মা বলল, “আমাদের বর্গাচাষী তাহেরের বউটা মারা গেল বাচ্চাটা হওয়ার পরপরই। সবাই মিলে আমাদের ধরল বাচ্চাটাকে নিয়ে আসার জন্য। কি করব বল?”
“তাই বলে এ বয়সে এ ঝামেলা তাছাড়া দত্তক নেওয়ার সমস্যাও আছে তুমি তা জান?”
মা আমার ইঙ্গিতটা বুঝল। অল্প হেসে বলল, “কেন তোদের ধনসম্পদ কমে যাবে?”
বিদ্রুপটা গায়ে লাগল। ফোন কেটে দিলাম। এমনিতেই বাড়ির সাথে আমার সম্পর্ক তেমন একটা ভাল না এ ঘটনার পর আরও শীতল হয়ে গেল।
মাস ছয়েক পরের কথা আবার ইশতির ফোন।“ভাইয়া রুচিটা না খুব কিউট।খুব ছিচকাদুনে আবার আমার কোলে আসলে একদম চুপচাপ।আমি বাড়ি আসার পরথেকে সে আমার কোল থেকে নামছে না। আমার খুব ভাল লাগছে ওকে।”
আমি অবাক! “রুচিটা কে?”
“আরে আমাদের বোন আরকী।”
“ও!”
ইশতি এমনি। হটাত করেই কারও উপর সে রেগে যাবে আবার
পরক্ষণই রাগ কমে যাবে।ফোনটা কেটে দিলাম।মনে হতে লাগল সবাই যেন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
ইন্ডিয়া থেকে দেশে আসতে খুব একটা সময় লাগে না।ঝামেলাও বলতে গেলে নাই।তারপরও আমি বাড়ি যাই না।
৪ বছর পর। পরীক্ষা শেষ। বাড়ি যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না। মেয়েটাকে নিয়ে আব্বার সাথে বেশ কথাকাটাকাটি হয়েছিল আমার।মা এবার খুব করে ধরল। কি আর করা শেষ পর্যন্ত আসতেই হল আমাকে।দরজা খুলতেই দেখি দাড়িয়ে আছে মেয়েটি। ঝাকড়া চুল গোলগাল বেশ কিউট।আমার ছবি দেখে আগে থেকেই হয়ত সে চিনে রেখেছে আমায়।
আমাকে ঝড়িয়ে ধরল “ভাইয়া!”
একেতো ভ্রমণক্লান্তি তারউপর এইমেয়ে! বিরক্তিটা আরচাপিয়ে রাখতে পারলাম না।ধাক্কা দিয়ে সড়িয়ে দিলাম ওকে। রুমে ঢুকে আরও মেজাজ গরম হল। দেয়াল ঝুড়ে নানা আকাঝুকি।আমার রুমের এককোনে ভুতের মত ছবি আকা।চশমা চোখে দেখে বুঝলাম আমাকেই আকতে চেয়েছে সে।
মাকে ডেকে বললাম, “এসব কি?”
মা হেসে বলল, “রুচিটা যা দুষ্ট।সারা বাড়িঘরে ছবি একে রেখেছে।”
“তাই বলে আমার রুমে? ফাইজলামীর একটা সীমা থাকা উচিত।”
মেয়েটা হয়ত ধরতে পারেনি আমার বিরক্তিটা। একটু পরেই রুমে ঢুকে বলল, “ভাইয়া আমার জন্য চকোলেট এনেছ?”
চোখ লাল করে থাকালাম ওর দিকে। মা ওকে ঠেনে নিয়ে গেল।এতে কাজ হয়েছে সে আর আমার আশেপাশে এরপর আসল না।রাতে খাওয়ার সময় মাকে বললাম, “তুমি খাবে না?”
“না তোর বাবা আসুক একসাথেই খাব।শোন তুই রুচিকে তোর সাথে খেতে বল না!”
“কেন?”
“সে তোর সাথে খেতে চাচ্ছিল।”
কপালে বিরক্তির ভাজ ফুটল আমার।বললাম, “শুন মা আমার সাথে ন্যাকামি করবে না।”
তিনদিন পর ঢাকায় যাব ইশতির কাছে। রাতেই ব্যাগ গুছানোর কথা বললাম মাকে।সকালে খুটখাট শব্দে ঘুম ভাঙল আমার।
দেখি রুচি আমার ট্র্যাভেলব্যাগ খুলে কি জানি করছে।কেন জানি মেয়েটাকে হঠাৎ খুব ভাল লাগছে।উঠে ওকে ধরলাম। ভয়ে ওর চোখমুখ নীল হয়ে গেল।
“আমি তোমার ব্যাগে শার্ট রাখছিলাম” কোনমতে একথা বলেই কেদে ফেলল সে।
কান্নাজড়িত কন্ঠে বলল, “আমাকে মেরো না ছেড়ে দাও আর কখনো আসব না তোমার রুমে।”
হঠাৎ মনটা খারাপ হয়ে গেল।ছেড়ে দিলাম ওকে। আমি এতই খারাপ যে একটা বাচ্চা মেয়েও ভয় পায় আমাকে!আমার বোন আমাকে ভয় পায়? ছি: ছি:!
“রুচি,” এই “রুচি” ডাকতে লাগলাম ওকে।বারান্দায় দাড়ানো সে।ভয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে মেয়েটা।ওকে কোলে নিয়ে বললাম তুমি চকোলেট খেতে চাচ্ছিলে না ঐদিন? আস আমার সাথে।বাসার সামনের দোকান থেকে একগাদা চকোলেট আর বেলুন নিয়ে আসলাম আমরা। ড্রাইভারকে বললাম, গাড়ি বের করতে।
রুচিকে বললাম, “তুমি যাবে আমার সাথে?” সে একপায়ে খাড়া। মা না করলেও ওর কান্নাকাটির জন্য রাজি না হয়ে পারল না।গাড়িতে বসেই শরু হল ওর গল্প। কত কথা।
“আচ্ছা ভাইয়া তুমি আমায় একটা সাইকেল কিনে দিবে? জান ছোট ভাইয়া না দিতে চায় না বলে আমি নাকি পরে গিয়ে ব্যাথা পাব। ছোট ভাইয়াটা যে কি? আমি যে বড় হয়ে গেছি সে বুঝেই না।দিবে তো?”
“আচ্ছা ঠিক আছে কালকে আসার সময় কিনে নিয়ে আসব।”
“আচ্ছা ভাইয়া তুমি আমায় একটা মোবাইল কিনে দিবে?”
“কেন?”
“বারে! তুমি যখন ইন্ডিয়া থাক তখন তোমার সাথে কথা বলব।”
“আচ্ছা দিব।”
মিষ্টি মুখের ঘ্রাণ লাগানো নানা আবদার আর গল্প করতে করতে ক্লান্ত রুচি কতক্ষন পর আমার কোলে ঘুমিয়ে পড়ল। ওর মুখের দিকে থাকিয়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল আমার।ভাবতে লাগলাম এই স্বর্গীয় সুখ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করার অধিকার কে দিয়েছিল আমায়?
পুনশ্চ- আমার কোনো বোন নাই। এই অভাবটা আমাকে খুব পোড়ায়।খু-উ-ব!
স্বর্গে গেলে কে কি চাইবে জানি না আমি ঈশ্বরের কাছে আমার জন্য একটি বোন চাইব।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এই কল্পনাটা প্রায়ই করি। ;
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৯:৫৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
শুভকামনা রইল। প্রতিটি ক্ষন যেন কাটে আপনার আনন্দে।
হুপফূলফরইভার বলেছেন:
আইজ ২০শে জুলাই ৫ই শ্রাবণ, বর্ষাকাল,তাই ব্যাংগে ডাকে গ্যাকো গ্যাকো,
ছ্যরি থুক্কু, হ্যাপি বা--ড্ডে ২ ইউ......
শুভ জন্মদিন দোস্ত! তুমি নাই, তো কি হৈছে!
ভাইস্তারে দিয়া তোমার জইন্য এই দেহ কি পাডাইছি!
আরো লাগব? এই লও!!
তোমারে অনেক ধন্যবাদ।
ছন্দ্বহীন বলেছেন:
আমি লেইট..তবুও শুভ জন্মদিন। খুব মজা করেছেন নিশ্চই?
জীবনের প্রত্যেকটি দিনই জন্মদিনের আমেজে কাটান এই প্রত্যাশা রইলো।
ইসরা০০৭ বলেছেন:
গল্পটা সুন্দর হয়েছে।
বলাক০৪ বলেছেন:
চমৎকার লেখা, বরাবরের মতই। যাক, মিস করলাম না। আমার কিন্তু তিনটা বোন। দুইজন মনে করে আমি দেবতা, একজনের এই ব্যাপারে ভালরকম দ্বিমত আছে! হাঃ হাঃ।
আরো লেখা চাই।
কালীদাস বলেছেন:
আরে বার্থ ডে গেছে নাকি? টের পাইনি, নিক নিয়ে আরেক নতুন ক্যাচালে বিজি ছিলাম, সরি ভাই!জীবন সুন্দর, আনন্দময় হোক। কাটল কেমন দিনটা? আছেন কেমন?
কালীদাস বলেছেন:
মাঝখানে শাহ জাহান মাহমুদ কয়েক জায়গায় হিন্দু বলে এসেছিল আমাকে। এরপর ওর লাস্ট পোস্টে যেয়ে কাউন্টার এটাক করলাম। আর কাহাতক কত ভাল লাগে এইসব বেহুদা ক্যাঁচাল!!
সজিবহাসান বলেছেন:
আমার ছোট বোনটাও আপনার বোনের মত।কথা বলতে বলতে মাথা খারাপ করে দেই।তবে আমাকে খুব ভালবাসে।
আজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন:
খুবই ভাল।
রিমঝিম বর্ষা বলেছেন:
গল্প নাকি?
রিমঝিম বর্ষা বলেছেন:
যাদের বোনের জন্যে এত হা-হুতাশ.........তারা কি আমাকে চোখে দেখেনা?বাপের চোখের মনি নয়...মায়ের সোনার খনি নয়..........ভাই এর আদরের ছোট বোন।
রিমঝিম বর্ষা বলেছেন:
আমি খুশিতে বাক্-বাকুম করবো ভাইয়া।
আকাশটালাল বলেছেন:
টু বর্ষাপু এবং শূন্য ভাই, তুমরা দুইজনই আমার প্রিয় মানুষ কিন্তু এখানে এমন ন্যাকামি শুরু করলা ক্যান এই নাও তুমাদের দুই জনের ছবি দিয়ে দিলাম
বর্ষাপু আর শুণ্য ভাই
ভাই এটা কি ছবি দিলেন? আমি এত পিচ্চি! আমার মানসম্মান সব গেল
অট- আকাশ ভাই ভাল আছেন?
আকাশটালাল বলেছেন:
জ্বি ভাইজান, ভালো। আপনের কি খবর? ২ মাস পর আজকে চিটাগাং যাইতাচি, Its party time now.............ho ho.......
পিংকী বলেছেন:
রুচি!খুব ভালো লেগেছে।
আহারে আপনি বোনের জন্য আপসুস করেন আর আমি
আমাকে বড় ভাইয়া সারাদিন বকে! কিছু না করলেই বকে। সারাদিন অর্ডার দেয়
আপনার বোন থাকলে আপনিও বকতেন। নাই দেখে এত দরদ দেখালেন আর কি
পিংকী বলেছেন:
আপনেকে বলছে তাই না?হুম হতে পারে। আমার আমার বড় মামার ৪ ছেলে
বেচারা কাজিন গুলো, বোনার জন্য অনেক আপসুস করে।
আর তাদের কোন একটার সাথে যদি ঘুরতে বা কোন কাজে কোথাও যাওয়া লাগে আর কোন ছেলে যদি আমার দিকে তাকায় তাহলে গেছে পুরা খবর করে ফেলে আমাকে
বলে তুমি হিজাব পড়ো মুখ ডাকো না কেন? অন্য ছেলে তোমার দিকে তাকায় কেন ইত্যাদি
বোন হিসাবে অনেক আদর করে, কাজিন গুলো খুব ভালো তবে এত বাড়াবাড়ি করে ভাগ্য ভালো তাদের কোন বোন হয় নাই।
তাহলে খবর আছিল
পিংকী বলেছেন:
হা হা হা আমি তো ভাবছি আপনি কিছুই করবেন না।আর এখন দেখি ঘুষি মেরে মুখ ফাটিয়ে দিবেন। জোশ তো
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
অনেক অনেক ভালো লাগলো লেখাটা। অনেক আবেগ দিয়ে লেখা, বুঝা যায়।আমারও বোন ছিলো না, বোনের অভাব প্রতিমুহূর্তে অনুভব করতাম। শেষে একটা বোন হয়েছে, আমার ১৯ বছরের ছোট।
শুভেচ্ছা রইলো, ভালো থাকুন।
ডুব সাঁতার বলেছেন:
পুনশ্চ- আমার কোনো বোন নাই। এই অভাবটা আমাকে খুব পোড়ায়।খু-উ-ব
















আপনার মন্তব্য লিখতে লগইন করুন ।