আমার প্রিয় পোস্ট
- OLD BOY একটা বুক ফাটানো ফিল্ম। না দেখলে, মুভি জীবন সার্থক না। - দিপ
- স্ক্রিনশট নেয়ার জন্য কিছু চমৎকার এডঅন
- কুঁড়ের বাদশা
- কিভাবে পোষ্টে কিংবা কমেন্টে বিভিন্ন ছবি, ইউটিউবের ভিডিও এবং ইমোটিকন দিতে হয়?? (একটি সাহায্যমূলক ছোটখাট টেকি পোষ্ট) - নির্ভয় নির্ঝর
- গত কয়েকদিনের দেখা মুভি: আউলা ঝাউলা চিন্তাভাবনা - শূন্য আরণ্যক
- মুভি রিভিউ :: অশ্রুর বাঁধ ভেঙে দেয়া ১৩ টি সিনেমা - মেহরাব শাহরিয়ার
- Split Personalities:: আপনি সুস্থ আছেন তো? - আইরিন সুলতানা
- জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে স্বগতোক্তি এবং বিক্ষিপ্ত প্রশ্ন - সোজা কথা
- ইমাম মালেকীর পেইন্টিং - রানা
- ঈমান জোরদার করার জন্য বিভিন্ন ব্লগ হইতে সংগৃহিত ক্লাসিক লেখা - দ্বিতীয়নাম
- নবীজী মুহম্মদ সা. এর বিয়েসমূহ এবং কিছু প্রশ্ন - নাস্তিকের ধর্মকথা
- 'আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার' - আহমাদ মোস্তফা কামাল
এদেশেও শূন্য টাকার নোট চালু হোক
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৫৪
প্রথমেই একটা কৌতুক বলি - মৃত্যুর পর জন এফ কেনেডি, ইন্দারা গান্ধী এবং বঙ্গবন্ধু ঈশ্বরের মুখোমুখি। প্রথমে কেনেডি ঈশ্বরের কাছে জানতে চাইলেন প্রভু আমাদের মহান আমেরিকা কবে দূনীর্তিমুক্ত হবে? ১০০ লাগবে ঈশ্বরের উত্তর। এবার ইন্দারা গান্ধীর প্রশ্ন- প্রভু আমাদের মহান ভারত কবে দূনীর্তিমুক্ত হবে? ২০০ বছর লাগবে ঈশ্বরের জবাব। জবাব শুনে নিরবে কাদঁতে লাগলো ইন্দিরা। এবার দুরু দুরু বুকে বঙ্গবন্ধু গেলেন ঈশ্বরের সামনে - প্রভু আমার সোনার বাংলা কবে দূনীর্তিমুক্ত হবে? প্রশ্ন শুনে স্বয়ং ঈশ্বরই হাউ মাউ করে কাদঁতে লাগলেন। হতচকিত বঙ্গবন্ধু ঈশ্বরকে জিজ্ঞেস করলেন - প্রভু আমি কি কোন অন্যায় করে ফেলেছি। - ওরে নারে, তোর প্রশ্ন শুনে কাদঁছি। কারন সোনার বাংলা যতদিনে দূর্নীতিমুক্ত হবে ততদিন আমি নিজেও বেচেঁ থাকবো না।
কৌতুক যদিও কৌতুকই, সত্যির লেশমাত্র নেই তবুও একথা অনস্বীকার্য যে এদেশে দূর্নীতির প্রকোপ এত মারাত্মকভাবে বিস্তৃত লাভ করেছে যে এখন এদেশে কোথায় দূর্নীতি হয় একথা জিজ্ঞেস না করে কোথায় দূনীর্তি হয় না একথা জিজ্ঞেস করাই যুক্তিযুক্ত। আমাদের পাশ্ববর্তীদেশ ভারতও দূর্নীতির উর্দ্ধে নয়।
![]()
কয়েক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক ভারতীয় অধ্যাপক নিজের দেশে বেড়াতে এসে সমাজের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বল্গাহীন বিচরণে বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি ভারতে এসে দেখলেন, সেখানে কোনো কাজই ঘুষ ছাড়া হচ্ছে না। সরকারি দপ্তরগুলোয় একজন নাগরিকের একটি সাধারণ সেবাও ঘুষ ছাড়া হচ্ছে না। এসব দেখে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তখন থেকেই তাঁর চিন্তা কিভাবে এই ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ সৃষ্টি করা যায়। নিজের ভাবনা থেকেই সৃষ্টি করলেন ফিফথ পিলার ইন্ডিয়া নামের একটি সংগঠন। এই সংগঠন শূন্য টাকার নোট ছাপিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ শুরু করেন।
২০০৭ সাল থেকে ফিফথ পিলার ইন্ডিয়া এই শূন্য টাকার নোট সাধারণ মানুষকে বিলিয়ে আসছে। এই নোট সম্পর্কে বিজয় আনন্দ বলেন, এটি ঘুষকে ‘না’ বলার একটি চমত্কার ব্যবস্থা। কোনো সাধারণ নাগরিক কোনো দপ্তরে গিয়ে ঘুষের দাবির মুখে পড়লে এই নোট ঘুষ চাওয়া ব্যক্তির দিকে বাড়িয়ে দেবেন। এতে দুটো জিনিস হবে, ঘুষ যিনি চাচ্ছেন তাঁকে না বলা হবে, আবার তাঁকে কিছুটা অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে বুঝিয়ে দেওয়া যাবে—তিনি যে দাবি করছেন, তা অযৌক্তিক ও অন্যায়।
এই শূন্য টাকার নোট একবার তামিলনাড়ুর এক সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে দারুণ অপরাধ বোধের জন্ম দিয়েছিল বলে জানা যায়। তামিলনাড়ুর একটি গ্রামে বিদ্যুত্ সঞ্চালনের বিনিময়ে কারও কাছে বেশ ভালো অঙ্কের অর্থই দাবি করেছিলেন সেই কর্মকর্তা। যাঁর কাছে ঘুষের দাবি জানানো হয়, তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গেই ফিফথ পিলার ইন্ডিয়ার মুদ্রিত শূন্য টাকার নোট সেই কর্মকর্তার দিকে বাড়িয়ে তাঁর দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। এতে সেই সরকারি কর্মকর্তা বিব্রত হন এবং অপরাধ বোধে আক্রান্ত হয়ে তাঁর সংগৃহীত সব ঘুষের টাকা ফেরত দিয়ে দিয়েছিলেন।
বিজয় আনন্দের মতে, এই শূন্য টাকার নোট দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের একটি চমত্কার অস্ত্র। তিনি মনে করেন, দুর্নীতি যারা করে, ঘুষ যারা নেয়, তাদের এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দেখা যায় না। তাই ওইসব দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোরের দুঃসাহসও বেড়ে যায়। এই শূন্য টাকার নোটের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজেরাও বুঝবে, তাদের কর্মকাণ্ডে জনগণও সোচ্চার।
শূন্য টাকার নোটের কোনো গাণিতিক মূল্য হয়তো নেই, কিন্তু এর নৈতিক মূল্য অনেক। এই নোট ইতিমধ্যেই ভারতে অসাধারণ সাড়া ফেলেছে। মানুষ মনে করছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই শূন্য টাকার নোট এক অনন্য শাণিত হাতিয়ার হিসেবেই দেখছে ভারতীয়রা।
আজ আমাদের বড় বেশী প্রয়োজন হয়ে পড়েছে শূন্য টাকার নোটের। যদিও জানি না এতে আমাদের দূনীর্তির কোন হেরফের হবে কিনা?
তথ্যসূত্র :
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
নুভান বলেছেন:
কুনো কাম হৈবো না। আমাদের দেশের ঘুষখোর গুলা যদি এমন নীতিবান-ই হইতো, তাইলে তো ঘুষ-ই খাইতোনা।
লেখক বলেছেন: নীতিবান না বলেইতো তাদের নীতিবোধ জাগ্রত করার জন্য এ চেষ্টা। অন্তত একজনেরও যদি বোধদয় ঘটে।
ত্রিভুজ বলেছেন:
আজকেই এক সরকারি অফিসে ঘুষ দিতে রাজী হ্ইনি। সারাদিন অনেক হাইকোর্ট আর সুপ্রিমকোর্ট দেখালো... আগ্রহ নিয়ে তাদের বলা প্রতিটা কাজ করলাম.. শেষে হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে, কাজটা হয়নি। আমার প্রাপ্য আমি নিতে গিয়েও যদি ঘুষ দিতে হয় তাহলে কিভাবে হবে! এখন প্রভাব খাটিয়ে নিজের প্রাপ্য বুঝে নিতে হবে... কি এক দেশে বাস করি আমরা। অবাক হয়েছি ঠিক আজকেই এরকম একটা পোস্ট দেখতে পেয়ে... ইন্টারেস্টিং তথ্য। আমাদের কিছু শূন্য টাকার নোটের প্রয়োজন।
লেখক বলেছেন: অদ্ভুত কো-ইনসিডেন্স বলা যায়। তবে এ ঘটনা কিন্তু একদিনের নয় প্রতিনিয়ত প্রতিক্ষণ কোন না কোন অফিসে চলছে দূর্নীতিবাজদের দৌরাত্য।
ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা আপনাকে।
রাজিব খান০০৭ বলেছেন:
কয়েকদিন আগে এক মহিলা কর্মকর্তা আমার ফাইল আটকিয়ে ঘুষ নিয়ে ছাড়ল।পুরুষদের কথা বাদ একজন মেয়ে মানুষ কিভাবে একাজ করে?
লেখক বলেছেন: দূনীর্তিবাজদের কি আর লিঙ্গভেদ আছে?
ওসমানজি২ বলেছেন:
চোরায় না শুনে ধর্মের কাহিনী, নির্লজ্জ ঘুসখোরদের শুন্য টাকার নোট দেখিয়ে কোন লাভ নেই। তবুও একটা কিছু শুরু হোক এই ঘুসখোরদের বিরুদ্ধে। +++
লেখক বলেছেন:
সহমত এবং ধন্যবাদ।
মাহমুদহাসান বলেছেন:
নচিকেতা বলেছেন> ঘুষা মার ধর্ম, ঘুষা মার কর্ম, ঘুষ নিতে কী সংশয়? প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া এই দেশে অপরাধ, ঘুষ খাওয়া কখনোই নয়.....
লেখক বলেছেন:
অসাধারণ একটি গান।
অমিত চক্রবর্তী বলেছেন:
++++
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ।
সপ্নীল বলেছেন:
শূন্য নোটতো দুরের কথা, ডাবল, ট্রিপল শূন্য নোটেও বাংগালীর কাজ হবে না ভাই, ইন্ডিয়ানদের দেশপ্রেম শিখতেই আমাদের আরো হাজার বছর লাগবে।
লেখক বলেছেন: একমত। তবুও চেষ্টা চলুক।
চাঁদাবাজরা চাঁদা নিলে, টেন্ডারবাজরা টেন্ডার দখলে নিলে, দ্রব্যমূল্য সন্ত্রাসীরা দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে নিলে, সরকারি চাকরিজীবীরা ঘুষ না নিয়ে কি হাওয়া খেয়ে বাঁচবে?
লেখক বলেছেন: চলুন একটা কাজ করি....
ঘুষকে বৈধতা দেয়ার জন্য আন্দোলনে নামি।
হাওয়া খেয়েতো বাচাঁ যাবে না।
একাকী বালক বলেছেন:
ইন্ডিয়া তো শূন্য টাকার নোটে গান্ধীজীর ছবি দিছে। আমার প্রশ্ন আমরা কার ছবি দিব? একেক সরকারের সময় একেক জনের ছবি? যারে দিবেন শূন্য টারার নোট হেও হাসব। কইব ভাই সবারই পোলা মাইয়া ঘুষ খায়, এদের ছবি দিয়েন না। আরও বেশী ঘুষ চাইব। লেখক বলেছেন:
আমার মনে হয় শূন্য টাকার নোটে আমাদের দেশের বিখ্যাত কোন ঘুষখোরের ছবি দেয়াই যুক্তিযুক্ত হবে। ![]()
লেখক বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
ডট কম ০০৯ বলেছেন:
শূন্য টাকার নোটের কোনো গাণিতিক মূল্য হয়তো নেই, কিন্তু এর নৈতিক মূল্য অনেক নৈতিক মূল্য বোঝার মত মনওয়ালা মানুষ লাগবে তোওওওও
লেখক বলেছেন: নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ তৈরী হোক।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














