আমার মেঝ আপু । খুব শান্ত । ওর কোন চাহিদা নেই । দিলে খাবে না দিলে না খেয়ে থাকবে, বলবে না খাবে । আমার মত ডিমান্ডের গোডাউন না । আমরা ৩ বোন । আমি ছোট । আমার ২টা আপুই আমাকে অসম্ভব ভালবাসে । কিন্তু মেঝ আপুর ভালবাসা একটু আলাদা । যে ভালবাসা আমাকে কাদাঁয় । আমার গলার স্বর শুনে আমার শারীরিক অবস্থা আমার মা-মনি যতদ্রুত বলতে পারবে, মেঝ আপু তার আগেই বলে দেয় । আমার রাতে ঘুম না হলে আমার মা-মনি জিজ্ঞাসা করে আমাকে, কেন ঘুম হচ্ছে না ? কিন্তু ও জিজ্ঞাসা করে না । ও বলে দেয় কেন ঘুম হচ্ছে না । যা আমিও জানি না । আমার চোখের পানি ঝরলে আমার পরিবারের সবাই কান্না শুরু করে । কিন্তু ও আমার আগেই কান্না শুরু করে ।
অগাস্ট মাসের কোন একটা দিন , আমার কাছে মাত্র ২০০ টাকা । তারপরদিন ভাইয়া ঢাকায় আসবে । তাই চিন্তার কোন কারন নেই । বাড়িতে কাউকে বলি নাই যে আমি ফকির হয়ে গেছি । আমি অফিস করছি । বিকালে কারফিউ । অফিস ছুটি হয়ে গেল । আমি বাসায় চলে গেলাম । কিন্তু চিন্তা হচ্ছে টাকা নাই চলব কি করে ? ভাইয়াও আসতে পারবে না এর মধ্যে । আমি কারও কাছ থেকে কখনও ঋণ নেই না । ভীষণ বিপদ । কারফিউ এর ২য় দিন ও কান্না কাটি শুরু করেছে । ও বুঝতে পেরেছে যে আমার কাছে টাকা নাই । সেই দিনই ভইয়াকে এই কারফিউ এর মধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছে । ভাইয়া ও চলে এসেছে । এসে দেখে আপু যা যা বলেছে সব সত্যি ।
আজ যেটা ঘটেছে তা হচ্ছে -
আমি আমার চাকরিতে রিজাইন দিয়েছি কিছু দিন আগে । কিন্তু বাসায় কাউকে বলি নাই । ভাবছি ভাইয়া ঢাকায় আসলে পড়ে বলব । ৩১ তারিখ পর্যন্ত লাস্ট ডিউটি । অফিসে আসার জন্য তৈরী হচ্ছি । ঠিক তখনই মেঝ আপুর ফোন । আমার বুকের ভিতর মৃদু কম্পন হল । ও আমাকে নানান কথা বলার পরে বলল " তুই চাকরি ছেড়ে দিয়েছিস। টাকা আছে কয়দিনের চলার মতো ? "
আমি কেঁদে ফেলেছি । আমার পরিবারের প্রতিটা মানুষ আমাকে প্রচন্ড ভালবাসে । ওদের কে নিয়েই আমার জগৎ । কিন্তু এ কেমন অনুভূতি যা আমার মা-মনির আগে আমার মেঝ আপুর মধ্যে জাগে ? ও আমার ২ বছরের বড় । এমন তো না যে ও আমাকে কোলে পিঠে করে বড় করেছে । এতা গভীর ভালবাসা ! এদের প্রত্যেকের ভালবাসার প্রতিদান আমি কি করে দিব ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

