পরীক্ষা শেষ । পেপারে একটা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখলাম । একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে টিচার নিয়োগ দেওয়া হবে চার জন । খাপে খাপ মিইল্যা গেলো আমরা বান্ধবীও চারজন । বাস বায়োডাটা নিয়ে রেডি হয়ে রওয়ানা হলাম ।
তার আগে বলে নেই অন্য ঠিকানার কিছু চিঠি পিয়ন সবসময় আমাদের বারান্দায় ফেলে রেখে যেতো । তাই একদিন মিটিং হল । বান্ধবীরা মিলে আমাকে বলল " আমাদের তুলনায় তুই ভাল ভাবে সান্টিং দিতে পারবি । পিয়ন বেটাকে ইচ্ছামত সান্টিং দিবে । তাই এই সপ্তাহ তুই বাসায় থাকবি । সারাদিন বারান্দায় বসে থাকবি । যখন পিয়নের বাচ্চা আসবে তাকে ইচ্ছেমত বকে দিবি । " কি আর করার মেজরিটি পারসেন্টের মতামত মেনে নিতে হল । সপ্তাহ আমার হুদাই গেলো পিয়ন বেটা ও আর আসল না । মাঝখান থেকে ঘোরাঘোরি মিস করলাম ।
যেদিন স্কুলে ইন্টারভিউ দিতে যাব চিঠিগুলো নিয়ে বের হলাম । ওগুলো সঠিক গন্তব্যে পৌছে দেওয়ার জন্য । সকাল ১০.০০ টায় বের হয়েছি । ঠিকানা খুজেঁ বের করতে করতে ৩.০০ টা বেজে গেলো । পুরানঢাকার ঐতিহাসিক গলি । শেষমেস পেলাম । বান্ধবীরা বলল পেয়ে গেলে ওরা কেউ কথা বলবে না যা বলার আমিই বলব । নিচতলা থেকে কলিংবেল চেপে খোজঁ নিচ্ছি ঐ নামধারী কে আছেন । চার তলায় গিয়ে পেলাম । কলিংবেল চাপতেই একজন ২৬/২৭ বছরে একজন লোক বের হয়ে আসল । পরে আমি চিঠিতে উল্লেখ নামটি বললাম । লোকটি বলল তিনিই সেই ব্যক্তি । মাথায় রাগ চেপে গেলো
বাসায় এসে দেখি আবার সেই ঠিকানার চিঠি । কয়েকদিন পর একই চাকরী । লোকটি সেইদিন চা খাওয়ার জন্য বসতে বলছিল । কিন্তু আমার মাথায় আগুন । কোন কথা না বলে ফিরে আসলাম ।
কয়েকদিন পর আবার সেই কাহিনী । এবার জ্বলন্ত বারুদ হয়ে গেলাম সেই ঠিকানায় । চিঠি তার হাতে না দিয়ে জানতে চাইলাম সে কেন পিয়নকে বলে নি । সে জানাল খারাপ কি, আমরা যদি চিঠিটা দিয়ে আসি সে তো একটু আমাদের দর্শন পেলো । আমি জানালাম " আমরা ভেবেছিলাম চিঠিতে কোন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ থাকতে পারে তাই চিঠিগুলো প্রাপকের পাওয়া উচিৎ । কিন্ত এখন ভাবছি, ফের যদি আমাদের ঠিকানায় চিঠি যায় আমি চিঠি এভাবে ছিড়ে ডাস্টবিনে ফেলব ।(হাতের চিঠিটি ছিড়ে দেখালাম ) "
পরীক্ষা শেষে একমাস মাসুদ রানা পড়ে আর পোস্টম্যানের চাকরী করে কাটালাম । আপুদের কাছে যখন গল্প করেছি আপুরা হাসির বণ্যাতে ভাসলো আর বলল "তোর জীবনের প্রথম চাকরী"। আমার দুঃখ দেখে কে ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

