পর্যবেক্ষক
আরো পাঁচ হাজার নতুন সিএনজিচালিত অটোরিকশা নামছে রাজধানীর রাস্তায়। এসব অটোরিকশা বিতরণের ব্যাপারে আগামী সপ্তাহেই আবেদন আহ্বান করা হবে। দীর্ঘ এক বছর পর বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এ ব্যাপারে নতুন করে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে।
লাইসেন্সধারী সাধারণ চালকদের ব্যক্তি মালিকানায় এসব সিএনজিচালিত অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন লটারির মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে। বিআরটিএ ইতিমধ্যে আবেদন করার নিয়মাবলীসহ অন্যান্য নীতিমালায় কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। চলতি সপ্তাহেই চালকদের রেজিস্ট্রেশনের নিয়মাবলী সংবলিত বিজ্ঞপ্তি সংবাদপত্রে প্রকাশের কথা রয়েছে। ভারত থেকে এসব সিএনজি অটোরিকশা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে আমদানি করা হবে।
তবে অতিরিক্ত অটোরিকশা রাস্তায় নামলেও তা নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে কি ভূমিকা রাখবে তার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না কেউ। বিআরটিএর কর্মকর্তারা বলেছেন, সংখ্যাটা বাড়লে তারা প্রতিযোগিতা করেই নিয়মের মধ্যে চলে আসবে।
রাজধানীর যাত্রীদের দুর্দশা লাঘবে পাঁচ হাজার সিএনজিচালিত নতুন অটোরিকশা আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয় গত বছরের জুনে। এরপর দীর্ঘসূত্রতায় বিষয়টি ঝুলে থাকে। সম্প্রতি যোগাযোগ মন্ত্রণালয় নতুন করে প্রকৃত চালকদের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন বিতরণের জন্য বিআরটিএকে উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এবার নীতিমালায়ও কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে চালকদের আর্থিক সক্ষমতা, প্রতিটি আবেদনপত্রের সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জামানতের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পরিবর্তিত নীতিমালায় কোনো জামানত দিতে হবে না। তবে চালকদের বিআরটিএর ইস্যু করা বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে।
সূত্র জানায়, নতুন সিএনজি অটোরিকশা দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই থাকবে। একজন চালক মাত্র একটি আবেদন করতে পারবেন। আবেদনপত্র জমা শেষে বাছাই পর্বে পাঁচ হাজারের বেশি আবেদনকারী হলে লটারির মাধ্যমে তাদের নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত পাঁচ হাজার চালকের নামে সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন দেয়া হবে। শুধু রেজিস্ট্রেশন নম্বর বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই বাজার থেকে সিএনজি অটোরিকশা কিনতে পারবেন। নতুন সিএনজি যারা পাবেন পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে তা অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করতে পারবেন না। এর আগে মালিকানা পরিবর্তনের কোনো নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ না থাকায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সেগুলো বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। রেজিস্ট্রেশন পাওয়া ব্যক্তিরা বাজারে বিদ্যমান যে কোনো কোম্পানি থেকে সিএনজি অটোরিকশা কিনতে পারবেন।
বিআরটিএর এক পরিচালক জানান, সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চালকদের রেজিস্ট্রেশন দেয়া হবে। কেবল বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী চালকরাই রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের কারণে ২০০২ সালে রাজধানী থেকে ৩৭ হাজার টু স্ট্রোক অটোরিকশা তুলে দেয়া হয়। এসব টু স্ট্রোকের পরিবর্তে কয়েক দফায় মাত্র ১৩ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাস্তায় নামানো হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। এরপর রাজধানীর বিভিন্ন রুটে নতুন নতুন বাস নামানো হলেও তা ঢাকাবাসীর প্রয়োজন মেটাতে পারেনি।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অভিযোগের শেষ নেই। সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে অধিকাংশ চালকই যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করেন। তারা ‘মিটার নষ্ট’-এ অজুহাতে যাত্রীদের চুক্তিতে যেতে বাধ্য করেন। শহরের মধ্যে যে কোনো দূরত্বে যাবার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা স্বল্পতম দূরত্বে যাত্রী নিতে অস্বীকার করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গন্তব্য পছন্দ না হলে তারা যাত্রী নিতে চান না।
আবার ব্যাপক চাহিদার সুযোগে ইতিমধ্যে একই নম্বরে একাধিক অটোরিকশা রাস্তায় চলাচল করারও ঘটনাও ধরা পড়েছে। সূত্র জানায়, সরকারের চলতি উদ্যোগও অটোরিকশা চলাচলে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। সিএনজি অটোরিকশার চলাচলের নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে নতুন পাঁচ হাজার অটোরিকশা রাস্তায় নামলেও জনদুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।
বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে বিষয়টি হ্যান্ডেল করতে চাই। এজন্য আবেদন পাওয়ার পর আবেদনকারীর সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি হলে সেগুলো লটারি করতে বুয়েট কিংবা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সস্টিটিউটকে দায়িত্ব দেয়ার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, নতুন ৫ হাজার সিএনজি অটোরিকশা রাস্তায় নামলে ঢাকায় সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা ১৮ হাজারে উন্নীত হবে।
তবে ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা ব্যবসায়ী-মালিক সমিতির সভাপতি বরকতউল্লাহ ভুলু ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের নতুন সিএনজিচালিত অটোরিকশা বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেছেন, তা না হলে আমরা আইনের আশ্রয় নেব। কারণ সরকার আমাদের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। আমরা তখন রাস্তা থেকে হাজার হাজার অটোরিকশা তুলে নিয়ে পরিবেশ রক্ষা করেছিলাম। এখন আমাদের বঞ্চিত করলে তা মেনে নেবো না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



