পর্যবেক্ষক
আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের সভা থেকে তফসিল ঘোষিত চার সিটি ও নয় পৌর নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে এ নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। একই সঙ্গে তারা এখনো জরুরি আইন প্রত্যাহার না করাকে দুঃখজনক আখ্যায়িত করেছে।
গতকাল কার্যনির্বাহী সংসদের মুলতবি সভা শেষে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান এ ঘোষণা দেন। তবে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, দলের সভাপতিম-লীর অন্যতম সদস্য তোফায়েল আহমেদ ও মতিয়া চৌধুরী এখনই নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণার ব্যাপারে প্রথমে দ্বিমত পোষণ করলেও সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তোফায়েল আহমেদ আগামী ৩ জুলাই সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপের পরে এ ঘোষণা দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। আর মতিয়া চৌধুরী জরুরি অবস্থা বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়ার সিদ্ধান্তে আপত্তি করেন।
তখন দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ‘সর্বসম্মতিক্রমে’ নেয়া হচ্ছে। তখন তার এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেন লতিফ সিদ্দিকী। কিন্তু অন্য সদস্যরা জিল্লুর রহমানের বক্তব্যকে সমর্থন জানালে লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য চাপা পড়ে যায়।
আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, তোফায়েল আহমেদ ও মতিয়া চৌধুরী সভায় সিইসির একটি বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। তারা বলেন, সিইসির সাম্প্রতিক বক্তব্য রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ। প্রসঙ্গত, সিইসি সম্প্রতি বলেছেন, যারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে না, তারা পাঁচ বছর পিছিয়ে যাবে।
বৈঠক সূত্র জানায়, দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আগের দিন বক্তৃতা করার পর গতকাল একটি লিখিত বক্তব্য দেয়ার জন্য দাঁড়ান। তিনি কিছু অংশ পড়ার পরই দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুল বোস ও হাবিবুর রহমান খান এর বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, আগের দিন যারা বক্তৃতা করেছেন তারা আবার সুযোগ পেলে আমাদেরও সুযোগ দিতে হবে। এ পরিস্থিতিতে আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ ও বৈঠকের সভাপতি জিল্লুর রহমানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। লতিফ সিদ্দিকী পুরো বক্তৃতা পড়ার সুযোগ পাননি।
সূত্র জানায়, প্রথম দিনের বৈঠকে অধিকাংশ নেতা নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে মত দেয়ার পর গতকালও বেশির ভাগই ছিলেন নির্বাচনের পক্ষে। দলের সভাপতিম-লীর সদস্যদের মধ্যে জিল্লুর রহমান, সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, আবদুর রাজ্জাক, আতাউর রহমান খান কায়সার ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে মত দেন।
এছাড়া দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ, আকতারুজ্জামান ও অধ্যাপক আবু সাইয়িদ তাদের বক্তৃতায় বলেন, দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যে নির্বাচনে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছেন। এমন সময় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা খুব একটা কার্যকর হবে না।
সূত্র জানায়, বৈঠকে উপস্থিত প্রায় সব নেতাই একমত পোষণ করে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জন করলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দলের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। অতীতে আওয়ামী লীগ ১৯৮৬ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জন করে বিপাকে পড়েছিল। ২০০১ সালের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সিলেট ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বাদে সব সিটি নির্বাচন বর্জন করেছিল। তাতে দলের কোনো লাভ হয়নি, বরং ক্ষতি হয়েছে। এসব যুক্তি তুলে ধরে বক্তারা নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে মত দেন। সভায় সাংগঠনিকভাবে দলকে আরো শক্তিশালী করার পক্ষে মত দেয়া হয়।
সভায় বলা হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৩ জুলাই। আবার সেদিনই সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপ। সেজন্য দলের পক্ষ থেকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানানো হয়Ñ হয় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের তারিখ পেছানো হোক, নয়তো সংলাপের তারিখ এগিয়ে আনা হোক।
২৬ জুন সকাল ১১টায় এ বৈঠক শুরু হলেও ওই দিন দুপুর আড়াইটায় তা মুলতবি করা হয়। আর গতকাল বিকাল ৫টায় মুলতবি বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় রাত পৌনে ৮টায়।
বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় একমাত্র এজেন্ডা ছিল স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গ। নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন শুরুর আগে যে কোনো পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণারও দাবি জানান। জিল্লুর রহমান দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, সাময়িক মুক্তি পেয়ে শেখ হাসিনা চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গেছেন। ফিরে এসে আবারো যাতে তাকে কারাগারে যেতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাই।
জিল্লুর রহমান দলের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ নাসিমের অসুস্থতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তার একটি চোখ ও একটি কানসহ বাম পাশ পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে। সরকার প্রথম দিকে আমাদের দাবির প্রতি সাড়া দিলেও দেশের বাইরে তার চিকিৎসার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি আমরা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



