পর্যবেক্ষক
পালিয়ে যাওয়া বেশিরভাগ নেতা বিদেশে বেশ আয়েশেই আছেন। করছেন বিলাসী জীবন-যাপন। পলাতক এসব নেতাদের বেশিরভাগই সপরিবারে বসবাস করছেন। তাদের কেউ আবার বিদেশে বসেই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। আবার কেউ বিদেশেই খুলে বসেছেন নতুন ব্যবসা।
মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলা এবং অধস্তনদের সততা নিয়ে সবসময় প্রশ্ন তুলে আলোচিত ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। বহুল আলোচিত এ সংস্কারপন্থী নেতা এখন পুত্রবধূকে নিয়ে প্রায়ই শপিং করে বেড়ান সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায়। বসবাস করেন কুয়ালালামপুরের বিলাসবহুল মনকেয়ারায় রজেনভিউ অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাটে।
কুয়ালালামপুরের বনেদি আবাসিক এলাকা ‘শাহআলম’-এ বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহম্মদ নাসিম। সম্প্রতি কুয়ালালামপুর থেকে ফিরে এক আওয়ামী লীগ নেতা জানিয়েছেন, ডুপ্লেক্স ওই বাড়িতে সুইমিং পুল পর্যন্ত রয়েছে। বাড়িটি এখনো ভাড়া দেয়া হয়নি বলে ওই সূত্র দাবি করেছে। যদিও মোঃ নাসিম এখন ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ধনাঢ্য ব্যবসায়ী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান সপরিবারে সিঙ্গাপুরে থাকলেও মাঝে মধ্যে বেড়াতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সম্প্রতি তাকে ওয়াশিংটন ডিসিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশি এক সাংবাদিক। লন্ডনে বসেই মোরশেদ খান ব্যবসার দেখাশোনা করছেন।
সাবেক মন্ত্রী শাজাহান সিরাজ বিলাসবহুল ‘কনডোমিনিয়াম’ ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে মালয়েশিয়ায় সপরিবারে বসবাস করছেন। সম্প্রতি কুয়ালালামপুর থেকে ফিরে আসা এক বিএনপি নেতার মতে, বাংলাদেশি মুদ্রায় ওই ফ্ল্যাটের ভাড়া প্রায় এক লাখ টাকা।
সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান প্রথমে কয়েক মাস সিঙ্গাপুরে বসবাস করলেও এখন থাকছেন দুবাইতে। জানা গেছে, সেখানে বসবাস করা বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছেন।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়া প্রথমে কিছুদিন ব্যাংককে অবস্থান করলেও এখন স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে নিউইয়র্কে থাকেন। তবে তার ছেলে মুশফিকুল হক জয় ব্যাংককে একটি বার খুলে সেখানেই বসবাস করছেন।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর সস্ত্রীক মালয়েশিয়ায় বসবাস করলেও ছেলে আদনান ওমর যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। সম্প্রতি সাভারে সাঙ্গু টেক্সটাইল মিল নামের একটি নতুন ইন্ডাস্ট্রি চালু হয়েছে, যার মালিক ওমর। বিদেশে বসেই ব্যারিস্টার ওমর ওই মিল তদারকি করছেন।
সংসদের সাবেক হুইপ ওয়াহিদুল আলম নেপালে তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। মেয়ের জামাই একটি দূতাবাসের বড় কর্মকর্তা।
আরেক সাবেক হুইপ জাহেদ আলী চৌধুরী সপরিবারে বসবাস করছেন সিঙ্গাপুরে। জানা গেছে, পূবালী কনস্ট্রাকশনের মালিক জাহেদ আলী চৌধুরী সিঙ্গাপুরে বসেই তার ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
এছাড়া খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, তার ব্যবসায়িক পার্টনার কৃষিবিদ জাভেদ ইকবাল কুয়ালালামপুরের টুইন টাওয়ারে ‘জে এইচ কনসোর্টিয়াম’ নামে যৌথ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছেন। এছাড়া সাবেক সাংসদ ডা. দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অ্যাসাইনম্যান্ট অফিসার ডা. ফিরোজ মাহমুদ ইকবাল, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ছেলে দীপু চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ আলহাজ মকবুল হোসেন, কমিশনার ও সিনেমার ভিলেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও মির্জা খোকনসহ পলাতক আরো বহু নেতা কুয়ালালামপুরসহ মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শহরে বসবাস করছেন।
জানা গেছে, ভিসার কারণে পলাতক অনেক নেতাকেই সিঙ্গাপুরসহ পার্শ্ববর্তী কোনো দেশে গিয়ে আবার মালয়েশিয়ায় ঢুকতে হচ্ছে। আবার কমিশনার ডিপজলের মতো অনেকে দেড় লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে ‘সেকেন্ড হোমের’ সুবিধাও নিয়েছেন। ডিপজল মালয়েশিয়া সরকারের কাছ থেকে কয়েকশ একর জমি লিজ নিয়ে সেখানে গড়ে তুলছেন বিশাল ডেইরি ফার্ম। বসবাস করছেন নিজের কেনা অত্যাধুনিক ফ্ল্যাটে। এর আগে তিনি দৈনিক ২০০ ডলার ভাড়ার একটি ফাইভ স্টার হোটেলে বাস করতেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



