অল্পদর্শী
ওয়ান-ইলেভেনের পর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, আমলা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীসহ দুই শতাধিক ভিআইপির আনা-নেয়ার খরচে সরকার ফকির হয়ে গেছে। দেশ-বরেণ্যদের (!) গ্রেপ্তারের পর দেশের বিভিন্ন কারাগারে স্থানান্তর এবং চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে আনা-নেয়ায় প্রিজনভ্যানের জন্য নির্ধারিত বাজেটের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ জ্বালানি খরচ হয়ে গেছে।
কারা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভিআইপি বন্দিদের অনেককেই ৫০ থেকে ৭০ বার হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রায় দু’ডজন ভিআইপি বন্দিকে ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে প্রিজনভ্যান ও নিরাপত্তাকর্মীদের যানবাহনে যে পরিমাণ জ্বালানি খরচ হয়েছে তা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। প্রিজনভ্যানের জ্বালানি বাবদ পেট্রোল পাম্পগুলোতে এক কোটিরও বেশি টাকার বিল বকেয়া পড়েছে। জ্বালানি খাতের খরচের এ টাকা পরিশোধ করার সরকারি বরাদ্দের অর্থও শেষ হয়ে গেছে। বাড়তি এ টাকার জোগান দিতে না পারলে কারাবন্দিদের প্রিজনভ্যানে আনা-নেয়ার বিষয় নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
কারা প্রশাসনের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামান্য অসুস্থ হলেই ভিআইপি বন্দিদের হাসপাতালে পাঠানোর ‘ট্র্যাডিশন’ বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ না হয়েও যারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাদের কারাগারে ফিরিয়ে আনা হবে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই খোঁজখবর নেয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কারাগারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার আরো উন্নতি করে যাতে গুরুতর অসুস্থ রোগী ছাড়া অন্য বন্দিদের কারা অভ্যন্তরেই চিকিৎসা দেয়া যায়, সে ব্যাপারে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী আমানউল্লাহ আমানসহ ১৯ ভিআইপি বন্দি চিকিৎসাধীন রয়েছেন হাসপাতালে। তাদের কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ হলেও বাকিরা সামান্য অসুখ নিয়েই হাসপাতালে রয়েছেন। তাই কম অসুস্থ বন্দিদের কারাগারে ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) পরিবহন শাখার একটি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কারাগার থেকে আসামি আনা-নেয়ার জন্য ১৮টি প্রিজনভ্যান ব্যবহার হচ্ছে। এসব ভ্যানের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ডিএমপির পরিবহন শাখার। তবে জ্বালানি খরচ বহন করে কারা অধিদপ্তর। এ অধিদপ্তরের কারা কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা প্রহরী সংক্রান্ত একটি খাত থেকে প্রিজনভ্যানের জ্বালানি খাতের বরাদ্দ দেয়া হয়। সূত্রে জানা যায়, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সারাদেশে ৯৫টি প্রিজনভ্যানের জ্বালানি খরচ বাবদ ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এরমধ্যে ডিএমপির ১৮টি প্রিজনভ্যানের জ্বালানি খরচ বাবদ ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। এ টাকা দিয়ে ২০০৬-০৭ অর্থ বছরের প্রিজনভ্যানের জ্বালানি খাতে বকেয়া সাড়ে ১১ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়।
গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১৮টি প্রিজনভ্যানে ৮৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার জ্বালানি খরচ হয়েছে। এ টাকা কারা অধিদপ্তর থেকে পরিশোধ করা হয়নি। কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দের সব টাকাই শেষ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে ঢাকা ছাড়াও সারাদেশে ভিআইপি আসামিদের আনা-নেয়ায় প্রিজনভ্যানের জ্বালানি খরচ দ্বিগুণ বেড়েছে। ডিএমপির মতো সারাদেশে ৭৭টি প্রিজনভ্যানের জ্বালানি খাতে ৭০ লাখ টাকা বকেয়া পড়েছে। ফলে ডিএমপির প্রিজনভ্যানের তেল সরবরাহকারী পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ বকেয়া পরিশোধ না করলে আর তেল সরবরাহ করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



