somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন শিক্ষকের কাছে খোলা চিঠি

০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জনাব,

আসসালামু আলাইকুম।

শিক্ষকের কাজ শিক্ষা দান করা। এই কাজ করতে গিয়ে তাকে নিজের মর্যাদা বজায় রাখতে হয়। তার আচরণে যেন এমন কিছু প্রকাশ না পায় যাতে শিক্ষার্থীরা তার প্রতি বিরুপ ধারণা পোষণ করে। কিন্তু আজ ১৯ অক্টোরবর একাডেমিক ভবন পরীক্ষার হল ২০২-এর সামনে আমার সঙ্গে যে আচরণটা করলেন তাকে কি শিক্ষকসুলভ বলা যায়? অযথাই করিডোরে আমাকে ডেকে ক্যাপ খোলালেন। ক্যাপ পড়াটা কি অপরাধ? কলেজ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোন আইনে বা কিতাবে কি লেখা আছে ক্যাপ পড়া যাবে না? এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তির ব্যক্তিগত অধিকার। তাছাড়া আমি তো ক্লাসে ক্যাপ পড়ছি না! তারপরেও প্রশ্ন থাকে- ক্যাপ পড়া তো শিষ্টাচার বহির্ভূত নয়! এটা একটি প্রয়োজনীয় পরিচ্ছদ। রোদের হাত থেকে বাঁচার জন্য, চুলকে ধুলা-বালির থেকে রক্ষা করার জন্য আমি এটি ব্যবহার করি। কিন্তু আপনি এমন ভাব করলেন যেন আমি শিক্ষাঙ্গণে অস্ত্র নিয়ে এসেছি। অবশ্য অস্ত্রধারীর সঙ্গে সঙ্গতকারণে এমনটা করতে যেতেন না। তাতে ভয় আছে! কিন্তু আপনার কি আমাকে নিরীহ মনে হল যে এর পরে যা খুশি তাই করলেন, যা খুশি তাই বললেন? এরপর আপনি আমাকে প্রশ্ন করলেন আমি হিন্দু কিনা! অপ্রাসঙ্গিক সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন প্রশ্ন! এরপর হাতের ‘আর্ম ব্যান্ডটা’ খোলালেন। এক্ষেত্রেও উপরিক্ত কথাগুলো প্রযোজ্য। আর্ম ব্যান্ড কি নিষিদ্ধ? আপনার চোখ তখন ঘুরছে আমার সারা শরীরে- আর কি খুঁত বের করা যায়! দেখলেন শার্টের হাতের বোতাম খোলা। আসলে আমি যে ফুলশার্টটা পড়েছিলাম ঐ ধরণের শার্টে হাতের বোতাম কেউ লাগাই না, তাছাড়া খুব গরমও পড়ছিলো। আসল কথা হলো হাতের বোতাম লাগানোটা গুরুত্বপূর্ণ না। যে কেউ তার মুভমেন্টের সুবিধার জন ওগুলো খোলা রাখতে পারে। এবং এটা সর্বজন বিদিত যে ফরমাল শার্ট ছাড়া ক্যাজুয়াল শার্টে ইয়াংরা হাতের বোতাম খোলাই রাখে। আপনি বোতাম লাগাতে বললেন, আমি লাগালাম। কিন্তু এরপর আপনি যা বললেন তা চরম অভদ্রতা! আপনি বললেন- ‘তোমাকে তোমার পিতার ত্যাজ্যপুত্র করা উচিত!’ কি অরুচিকর জঘণ্য কথা- যা বলার কোন অধিকার আপনার নেই! আপনি আমাকে মারার ইচ্ছা পোষণ, RAB-এর হাতে দেয়া এমনকি ক্রসফায়ারের কথাও বলেছিলেন- আচ্ছা আপনি কি পাগল? নতুবা এমন অসংলগ্ন কথাবাতা কেন! আপনি মানুষ চেনেননি। আপনি কিন্তু আমার সরাসরি শিক্ষক নন, হল পরিদর্শক। আমাদের দেশের শিক্ষকদের একটা বিরাট সমস্যা তারা নিজেদেরকে ছাত্রদের খোদা মনে করে। ছাত্রদের সঙ্গে তারা যা খুশি তা করতে চায়। কিন্তু প্রত্যেকেরই লিমিটেশন আছে। আর আমি ক্লাস সেভেন পড়ুয়া কোন ছাত্র নই। অনার্সের একজন পরীক্ষার্থী। তারপর আপনি আমার ক্যাপ ও আর্ম ব্যান্ড দুটো হাতে নিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করলেন। সীটে বসার আগে যে কাজটি করলেন সেটা ছিল ভীষণ নোংরামির। আপনি আমার ক্যাপ দিয়ে আপনার সীটটা পরিষ্কার করেছেন! তখনই আপনার প্রতি আমার যে নুন্যতম শ্রদ্ধাবোধটুকু বাকি ছিল মুহুর্তে তাও হারিয়ে গেল। একজন শিক্ষক হিসেবে আপনি আপনার মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হলেন। অথচ শিক্ষকদের উচিত অশিক্ষণীয় এমন কিছুই না করা যাতে তার প্রতি কারো শ্রদ্ধা ভূলুণ্ঠিত না হয়।

আর কিছুই বলবো না। সেদিন সবার সামনে আমাকে খেলার পাত্র করে যে মানসিক আঘাত দিয়েছিলেন আজ নিরালায় বসে প্রতিজ্ঞা করুন- তার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। একজন শিক্ষকের জীবনে এটি হোক একটি শিক্ষণীয় পত্র।

ওয়াস সালাম
একজন দুঃখপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫১
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×