আসসালামু আলাইকুম।
শিক্ষকের কাজ শিক্ষা দান করা। এই কাজ করতে গিয়ে তাকে নিজের মর্যাদা বজায় রাখতে হয়। তার আচরণে যেন এমন কিছু প্রকাশ না পায় যাতে শিক্ষার্থীরা তার প্রতি বিরুপ ধারণা পোষণ করে। কিন্তু আজ ১৯ অক্টোরবর একাডেমিক ভবন পরীক্ষার হল ২০২-এর সামনে আমার সঙ্গে যে আচরণটা করলেন তাকে কি শিক্ষকসুলভ বলা যায়? অযথাই করিডোরে আমাকে ডেকে ক্যাপ খোলালেন। ক্যাপ পড়াটা কি অপরাধ? কলেজ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোন আইনে বা কিতাবে কি লেখা আছে ক্যাপ পড়া যাবে না? এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তির ব্যক্তিগত অধিকার। তাছাড়া আমি তো ক্লাসে ক্যাপ পড়ছি না! তারপরেও প্রশ্ন থাকে- ক্যাপ পড়া তো শিষ্টাচার বহির্ভূত নয়! এটা একটি প্রয়োজনীয় পরিচ্ছদ। রোদের হাত থেকে বাঁচার জন্য, চুলকে ধুলা-বালির থেকে রক্ষা করার জন্য আমি এটি ব্যবহার করি। কিন্তু আপনি এমন ভাব করলেন যেন আমি শিক্ষাঙ্গণে অস্ত্র নিয়ে এসেছি। অবশ্য অস্ত্রধারীর সঙ্গে সঙ্গতকারণে এমনটা করতে যেতেন না। তাতে ভয় আছে! কিন্তু আপনার কি আমাকে নিরীহ মনে হল যে এর পরে যা খুশি তাই করলেন, যা খুশি তাই বললেন? এরপর আপনি আমাকে প্রশ্ন করলেন আমি হিন্দু কিনা! অপ্রাসঙ্গিক সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন প্রশ্ন! এরপর হাতের ‘আর্ম ব্যান্ডটা’ খোলালেন। এক্ষেত্রেও উপরিক্ত কথাগুলো প্রযোজ্য। আর্ম ব্যান্ড কি নিষিদ্ধ? আপনার চোখ তখন ঘুরছে আমার সারা শরীরে- আর কি খুঁত বের করা যায়! দেখলেন শার্টের হাতের বোতাম খোলা। আসলে আমি যে ফুলশার্টটা পড়েছিলাম ঐ ধরণের শার্টে হাতের বোতাম কেউ লাগাই না, তাছাড়া খুব গরমও পড়ছিলো। আসল কথা হলো হাতের বোতাম লাগানোটা গুরুত্বপূর্ণ না। যে কেউ তার মুভমেন্টের সুবিধার জন ওগুলো খোলা রাখতে পারে। এবং এটা সর্বজন বিদিত যে ফরমাল শার্ট ছাড়া ক্যাজুয়াল শার্টে ইয়াংরা হাতের বোতাম খোলাই রাখে। আপনি বোতাম লাগাতে বললেন, আমি লাগালাম। কিন্তু এরপর আপনি যা বললেন তা চরম অভদ্রতা! আপনি বললেন- ‘তোমাকে তোমার পিতার ত্যাজ্যপুত্র করা উচিত!’ কি অরুচিকর জঘণ্য কথা- যা বলার কোন অধিকার আপনার নেই! আপনি আমাকে মারার ইচ্ছা পোষণ, RAB-এর হাতে দেয়া এমনকি ক্রসফায়ারের কথাও বলেছিলেন- আচ্ছা আপনি কি পাগল? নতুবা এমন অসংলগ্ন কথাবাতা কেন! আপনি মানুষ চেনেননি। আপনি কিন্তু আমার সরাসরি শিক্ষক নন, হল পরিদর্শক। আমাদের দেশের শিক্ষকদের একটা বিরাট সমস্যা তারা নিজেদেরকে ছাত্রদের খোদা মনে করে। ছাত্রদের সঙ্গে তারা যা খুশি তা করতে চায়। কিন্তু প্রত্যেকেরই লিমিটেশন আছে। আর আমি ক্লাস সেভেন পড়ুয়া কোন ছাত্র নই। অনার্সের একজন পরীক্ষার্থী। তারপর আপনি আমার ক্যাপ ও আর্ম ব্যান্ড দুটো হাতে নিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করলেন। সীটে বসার আগে যে কাজটি করলেন সেটা ছিল ভীষণ নোংরামির। আপনি আমার ক্যাপ দিয়ে আপনার সীটটা পরিষ্কার করেছেন! তখনই আপনার প্রতি আমার যে নুন্যতম শ্রদ্ধাবোধটুকু বাকি ছিল মুহুর্তে তাও হারিয়ে গেল। একজন শিক্ষক হিসেবে আপনি আপনার মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হলেন। অথচ শিক্ষকদের উচিত অশিক্ষণীয় এমন কিছুই না করা যাতে তার প্রতি কারো শ্রদ্ধা ভূলুণ্ঠিত না হয়।
আর কিছুই বলবো না। সেদিন সবার সামনে আমাকে খেলার পাত্র করে যে মানসিক আঘাত দিয়েছিলেন আজ নিরালায় বসে প্রতিজ্ঞা করুন- তার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। একজন শিক্ষকের জীবনে এটি হোক একটি শিক্ষণীয় পত্র।
ওয়াস সালাম
একজন দুঃখপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



