'অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী' কথাটি আদতে সত্য। যার প্রমাণ বারংবার মিলছে। নিদর্শন স্বরূপ অতীতে ও বর্তমানে আমরা সংকুচিত জ্ঞানের দানে দেদারভাবে বেশ কিছু বাংলা শব্দের অপপ্রয়োগ দেখে আসছি। যেমনটি ধরা যাক 'মদন' শব্দটি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড়। বর্তমানে কাউকে তার বোকামি আচার ব্যবহারের স্বীকৃতি স্বরূপ 'মদন' উপাধিতে ভূষিত করা হচ্ছে। অবশ্য তা নিতান্তই উপহাসের স্বার্থে। কিন্তু বাংলা ভাষাভাষীরা কি জ্ঞাত নয় যে 'মদন' শব্দটি একটি হিন্দুধর্ম সম্পকিত শব্দ। এবং যার দুটি সুন্দর অর্থ রয়েছে। অর্থ দুটি হচ্ছে: প্রেমের দেবতা, বসন্তকাল। বোকা লোকটি যদি প্রেমের দেবতা কিংবা বসন্তাল হয়ে থাকে তবে তার উচিত আনন্দে মাটিতে পা না ফেলে আকাশে ভ্রমণ করা! নেহায়েত উক্ত শব্দের ব্যবহারকারীরা যদি তাদের ইঙ্গিতকৃত অর্থটিকে কালের বিবর্তন হিসেবে মনে করেন, সে কথা অবশ্য স্বতন্ত্র। কারণ আপনি যা বিশ্বাস করতে চান তা প্রমাণ করতে হয় না। আমার আবদার একটিই ছিল এবং তা হলো অপেক্ষাকৃত সুন্দর ও সত্যকে বরণ করে নেয়া।
নাম নিয়ে টিটকারির অসুস্থ প্রতিযোগীতায় মদন, আবুল, কুদ্দুস ইত্যাদির সঙ্গে নতুন যুক্ত হয়েছে ইউনূস, মফিজ এই সব। এর কয়েকটির সঙ্গে যে কোন পবিত্র নামের সংযোগ আছে তা আমরা জনি। কিন্তু কৌতুক করার মাত্রা আমাদের বৃদ্ধি পেলেও উপাদানের কি এতোই সংকট পড়েছে যে মানুষের নাম নিয়ে টানাটানি করতে হবে? কারও নাম তা যতই যা হোক না কেন আমাদের উচিত সম্মান করতে শেখা। প্রত্যেকেরই আত্নমর্যাদা আছে এবং কোথাও একটি মন আছে। নাম ব্যঙ্গ করে কারও মর্যাদা হানি করা বা মনে আঘাত দেয়া সত্যিই অন্যায়!
প্রিয় মদনবাবু, তাই আপনি বলুন- আমি 'মদন' হলে তোমরা উত্তম হবে না কেন?
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


