somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাফ-হুজুরের গল্প: পাঞ্জাবি-লীলা

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাদ্রাসা পড়ুয়া তিনি। কিন্তু মাদ্রাসার শিক্ষা তাকে যে মূল্যবোধ দেওয়ার কথা তা তিনি গ্রহণ করেননি। প্রাপ্ত তথ্য মতে, মদ্যপান থেকে শুরু করে সমকাম পর্যন্ত গোপনে সবকিছুই করেছেন তিনি।

অনেক মাদ্রাসা শিক্ষিতের মতো তার মধ্যেও কুপমুন্ডকতা কাজ করেছে। পাঠ্য বইয়ের বাইরে বাকি সব বইকে অপাঠ্য মনে করে জীবনে তেমন কোন বই পড়েননি। কিন্তু তবুও নিজেকে তিনি মনে করেন সবজান্তা। সবকিছু নিয়ে কুতর্ক করার অভ্যাস। তার অল্প বিদ্যা বড়ই ভয়ঙ্কর।

এই ধরণের লোকগুলো আবার মহা চালবাজ হয়ে থাকেন, তিনিও মহা চালবাজ। মাথা ভর্তি শয়তানী বুদ্ধি।

এক আত্মীয়ের সুপারিশে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরিতে ঢুকে সুযোগ বুঝে বসকে তৈল-মৈথুন করে বাগিয়ে নিয়েছেন বেটার পোস্ট। বেতন কম, কিন্তু ধান্ধা বেশি। নুন খেতেন কম্পানির কিন্তু কাজ বাগিয়ে দিতেন তাদেরকে যারা তাকে বেশি করে ঘুষ দিত। ঘুষের টাকা তার কাছে বড়ই বরকতময়।

আমাদের সমাজের চরিত্র হচ্ছে টাকাওয়ালাকে সালাম ঠুকা। কিন্তু টাকাওয়ালার খাসলত যদি খারাপ হয় সালামের পর মানুষ পেছন থেকে ‘হারামজাদা’ বলে গালিও দেয়। এই গালি মনে মনে বিধায় এই গল্পের চরিত্রটিও সেগুলো শুনতে পায় না।

ঘুষের টাকাতে গরম বেশি। তাই আমাদের এই হাফ-হুজুর টাকার গল্প করতে ভালবাসেন। এমন কোন আদমি নাই যার সাথে তিনি মোলাকাত করেছেন অথচ তার টাকার গল্প বয়ান করেননি।

টাকাই তার জীবনের যৌবন হওয়ার পিছনে আরেকটি ছোট গল্প আছে। এক মেয়েকে বিয়ে করতে না পারার ব্যর্থতা।

হাফ-হুজুরের তখন টাকা কম ছিল, মেয়ের বাবা অন্য আরেকটি অর্থবান ও সচ্চরিত্রের ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন। আমাদের হাফ-হুজুর ক্ষেপে যায়। তার ধারণা হয় তার যদি সেই ছেলেটির থেকে বেশি টাকা থাকতো তবে তার সাথেই বিয়ে দিত। তাই তিনি টাকার সাথেই যৌবন লীলায় মেতে ওঠেন, হোক সে ঘুষের টাকা।

এরপর তার যখন ভালো ঘুষের টাকাপয়সা হলো, তখন সে নির্লজ্জের মতো একটি কাজ করে বসলো। যে মেয়েটিকে সে বিয়ে করতে পারেনি তার ছোট বোনকে সে বিয়ে করতে উঠে-পড়ে লাগলো। সেই ছোট বোনটি হাফ-হুজুরের কাণ্ডে আকাশ থেকে পড়লো, “এটা কী ধরণের কথা! আপনি আমার আপুকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, এখন আমাকেও!”। ছোট বোনটি বুঝে নাই এই ভণ্ড হুজুর আসলে তার আপুকে বিয়ে করতে না পারার প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে, দেখাতে চাচ্ছে টাকার গরম।

যা হোক, হাজুরের (হাফ-হুজুর) এই আশাও পূরণ হলো না। টাকা দিয়ে বৌ কিনতে পারলো না।

অনেক চেষ্টা-তদবিরের পর আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করলো।

হাফ-হুজুর এবার পুরোপুরি ভণ্ড হুজুরের চরিত্রে প্রবেশ করলো। বৌয়ের সাথে একাধিক যুবতী শ্যালিকা পেল। সেই যুবতীদের সাথে হাফ-হুজুরের প্রকাশ্য গা ঘষাঘষি টাইপ সম্পর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে সবাইকে হতবাক করে দিল। ঘুষের টাকার গরম তাকে এমনই অন্ধ করে দিল, আশেপাশে থাকা বড়-ছোট সবাইকে অগ্রাহ্য করতে শুরু করলো। চারিদিকে ছিঃ ছিঃ কানাঘুষা, তবু তার পাঞ্জাবি-লীলা (পাঞ্জাবি পড়ে যে লীলা) সাঙ্গ হলো না! হাফ-হুজুর পুরোপুরি ভণ্ড হয়ে গেল।

ভণ্ড হুজুরের বৌ এই সব লুচ্চামির প্রতিবাদ করতে চাইলো। ভণ্ড হুজুর বৌকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে থামিয়ে দিল। বৌয়ের ফেসবুক ব্যবহার করা মানা, এমনকি ফোনে কোন ম্যাসেঞ্জার অ্যাপ ইন্সটল করার আগে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু সে নিজের পাঞ্জাবি-লীলা চালিয়ে যেতে লাগলো। সমাজের যে সুবিধাবাদী শ্রেণী তার টাকাকে লোক দেখানো ‘সম্মান’ করে কিন্তু পেছনে গালি দেয়, তারা সবকিছু দেখে বুঝেও না দেখার, না বোঝার ভাণ করতে লাগলো।

ওদিকে ভণ্ড হুজুর ঘুষের টাকায় ব্যবসাতেও নামলো। এইবার তার ধান্দা শুধু ঘুষ নেওয়া নয়, দেওয়াও। অফিসারদেরকে ঘুষ দিয়ে কাজ হাসিল করতে লাগলো। হঠাৎ ব্যবসার পার্টনার মারা যাওয়ায় সে একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে গেল। শোকের বদলে অচিরেই নতুন গাড়ি কিনে সুখ করতে লাগলো।

হাজুর ভাবে তার অনেক টাকা তাই সে উপরে উঠে গেছে, বড়লোক হয়ে গেছে। সে ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করলো। আসলে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হাজুর দিন দিন আরও ছোটলোক হয়ে যেতে লাগলো। লোকে আড়ালে তাকে ছি ছি করে, গালি দেয়। সবাই জানে তার চারিত্রিক কু-বৈশিষ্ট্য, তার বাজে স্বভাবের কথা। কেউ তাকে পছন্দ করে না, কিন্তু সামাজিকতার খাতিরে প্রকাশ করে না সে কথা।

কিন্তু একজন আছে যে সবার চেয়ে অন্যরকম। যে কারো টাকাকে সম্মান করে না। যাকে টাকা দিয়ে কেনা যায় না। যে তার মেধা ও নিজস্ব গুণাবলী দিয়ে সবার কাছে সুপরিচিত। যে সম্মান করে মানুষকে, কোন ভণ্ড হুজুরকে নয়। সুনাম-পরিচয়ে হাফ-হুজুর যার কাছে নগণ্য। সেই একজন হাফ-হুজুরের ঘুষের টাকার কাছে বশ্যতা স্বীকার না করায় ঘটনাক্রমে তার শত্রু হয়ে দাঁড়ালো। হাজুর তাকে সহ্য করতে না পেরে হিংসা করতে লাগলো। এই হিংসা বেরিয়ে আসলো মুখোশ ছিঁড়ে, পরিণত হলো বিদ্বেষে, গোপন শত্রুতা থেকে প্রকাশ্য নোংরামিতে। কিন্তু হাজুর যতোই নোংরামি করুক নিজ কাজের গুণে সেই একজনের সুনাম কিন্তু বাড়তেই থাকে, দেশ থেকে দেশান্তরে। তার ব্যক্তিত্বের কাছে হাজুর ছোট হয়ে রইলো। এর ফলে হাজুরের মাথা খারাপ হয়ে গেল।

হাজুরের মনে একটাই প্রশ্ন, তার এতো টাকা, তবু কেন অন্য আরেকজনের পরিচয় তার চেয়ে বড় হবে? হাজুর বুদ্ধি আঁটতে লাগলো, শয়তানি বুদ্ধি। হাজুর বুঝতে পারলো, শুধু আরেকজনের নামে মিথ্যা কথা রটিয়ে সে বেশি সুবিধা করতে পারবে না, তাকে অন্য কিছু করতে হবে। হাজুর ঠিক করলো সে ধর্ম ব্যবসায় ঢুকবে। এই একটা জিনিস দিয়ে সে মানুষকে তার প্রতি দুর্বল করতে পারবে। যেহেতু তার কাছে মাদ্রাসার সার্টিফিকেট আছে, কালো টাকা আছে, তাই লোকজন জুটিয়ে ধর্মের সেবার নামে সে অনেক কিছুই করতে পারবে। দুই-একজন পীর, একদল সত্যিকারের হুজুরকে বাগে আনতে পারলেই হবে। হাজুর ঠিক করলো সে এক ঢিলে দুই-তিন পাখি মারবে, কালো টাকাকে সাদা করা হবে আবার দুই-কালীন কামিয়াবিও হাসিল হবে। এইবার তার সম্মান বৃদ্ধি থামাবে কে? সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে সে! মুহাহাহা (হাজুরের হাসি)!

কিন্তু একটা সমস্যা আছে। বিয়ে করার সময় হাফ-হুজুর তার লম্বা দাঁড়িকে হাফ-ইঞ্চি করে ফেলেছিল বৌ আর শ্যালিকাদের কাছে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে। হাজুর এবার মহা চিন্তিত, হাফ-ইঞ্চি দাঁড়ি নিয়ে তো আর ফুল হুজুর হতে পারবে না! দাঁড়ি বাড়ালে তার পাঞ্জাবি-লীলার কী হবে! বৌ-শ্যালিকারা তো দাঁড়ি পছন্দ করে না। হাজুর দোটানায় পড়ে গেল। পাঞ্জাবি-লীলা নাকি ধর্ম ব্যবসা?

যার মনে একবার ধর্ম ব্যবসা ঢুকেছে তার সিদ্ধান্ত কি হবে তা বলাই বাহুল্য। হাফ-হুজুর নিজেকে বোঝালো, ধর্ম ব্যবসাও এক প্রকার পাঞ্জাবি-লীলা।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:৪৪
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঢাকার শিশুদের ইদ বিনোদন

লিখেছেন তারেক_মাহমুদ, ১৯ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১:০৫



ইদের পর অফিস খুলেছে দুইদিন, তবে রাজধানীতে এখনো ঈদের আমেজ কাটেনি। ঢাকার রাস্তাঘাট একদম ফাকা, অন্য সময় যেখানে দুই আড়াই ঘন্টা লাগতো, আজ ত্রিশ মিনিটেই অফিসে চলে আসলাম। গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বকাপ ফুটবল- দলগুলোকে সাপোর্টের নামে কী করছি!!

লিখেছেন কাওসার চৌধুরী, ১৯ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:৫২


:: বাঙালিরা নিজের সফলতার চেয়ে অন্যের ব্যর্থতায় বেশি খুশি হয়। অন্যভাবে বললে, ব্যর্থ মানুষরা সফল মানুষদের ব্যর্থ হতে দেখতে চায়, বড়ই পুলকিত হয়। আর খেলাধুলা ক্ষেত্রে তো আমরা আরো... ...বাকিটুকু পড়ুন

সত্যের পথে চলতে হবে এটাই শেষ কথা

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৯ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২৪


ভোটাধিকার নেই বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে
আছে মেতে সবেই-
নিজোদেশে বাস করে প্রবাসীদের মতো
তবু মনে নেই তাদের গভীর কোন ক্ষত।
যুদ্ধার্জিত স্বাধীনতারে কত দামে বিক্রি করে
আমরা সবে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের চোখে দেখা কয়েকটি মৃত্যু

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:১৭



১। ভদ্রমহিলা আমাদের বাসায় ভাড়া থাকতেন। তার দুইটা মেয়ে দশ-বারো বছর। স্বামী রেড ক্রিসেন্টে চাকরি করেন। কথা নেই, বার্তা নেই মহিলা হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। প্রচুর বমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

"স্বপ্ন বয়ন"

লিখেছেন বৃষ্টি বিন্দু, ১৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:২০



কবিতা তুমি কোথায়?
কোথায় তোমার গন্তব্য?
এত পথ চলো,
এতো কবির নিউরনে ঝড় তুলো!
অথচ তুমি ক্লান্ত নও।
নাকি প্রচণ্ড ক্লান্ত,
তাও শুধু আমার জন্য?
মাঝে মাঝে পথ ভুলে চৌরাস্তায় দাঁড়িও।
সেখান থেকে তোমাকে নাহয় পিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×