নির্বাচনে জয়ী হয়েই জামাল বাবার কাছে আবদার করেছে মোটর সাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য। জহির সাহেব ব্যবসায়ী এবং হিসেবী, তিনি ছাত্রজীবনে ছেলেকে মোটর সাইকেল কিনে দেওয়ার কোন যুক্তি দেখলেন না, তাছাড়া মোটর সাইকেল ব্যয় বহুল এবং নতুন মোটর সাইকেল পেয়ে জামাল বই পুস্তক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
কিন্তু জামাল দেখাল উল্টা যুক্তি, তার যুক্তি হলো আজ কালকার দিনে লেখাপড়ার পাশাপাশি রাজনীতি করা প্রয়োজন, কারণ ছাত্র রাজনীতি থেকেই তো সে একদিন হবে চেয়ারম্যান, এম.পি কিংবা মন্ত্রী। কাজেই ছাত্র রাজনীতি অবশ্যই প্রয়োজন আর রাজনৈতিক কারণে চলাফেরার জন্য মোটর সাইকেল তো জরুরী।
জেলা লেভেলের কলেজ সংসদের জি.এস এবং জেলা শাখার ছাত্র নেতা হিসেবেও জামালকে উপজেলা লেভেলের কালেজসমূহের ছাত্র সংসদ এবং সংগঠনের উপজেলা ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে তাকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হয়। সে কারণে মোটর সাইকেল তার জন্য বেশি জরুরী। জহির সাহেব সবকিছু শুনে একান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও মোটর সাইকেল কিনে দিতে রাজি হলেন।
ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পর থেকে জামাল মনে মনে ঐশীকে অনেকবার খুঁজেছে কিন্তু কোনদিন জামালের চোখে পড়েনি। মোটর সাইকেল কেনার পর থেকে জামাল আরো বেশি ঐশীর সঙ্গে দেখা করার জন্য অসহিঞ্চু হয়ে উঠল। ভাগ্যক্রমে সেদিন সকালবেলা জামাল মোটর সাইকেল নিয়ে কলেজে যাচ্ছিল এমন সময় একটা রিক্সা অতিক্রম করতেই মোটর সাইকেলের লুকিং গ্লাসে ঐশীর প্রতিবিম্ব দেখে জামাল মোটর সাইকেল সজোরে ব্রেক কষে দাঁড়ালো, এই রিক্সা একটু দাঁড়াও।
রিক্সা থামতেই জামাল একটা মুচকি হাসি হেসে বলল, ঐশী রিক্সা ছেড়ে দাও, এসো আমার মোটর সাইকেলে।
ঐশীর রাগ তখন চরমে তার ফর্সা লাল গাল যেন রাগে টগবগ করছে, চোখ দুটো যেন জ্বলজ্বল করছে। সে রাগান্বিত স্বরে রিক্সাওয়ালাকে সামনে যেতে বললেও জামাল এমনভাবে মোটার সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়েছে যে রিক্সা নিয়ে সামনে যাবার কোন সুযোগ নেই। তাই ঐশী রাগ সংবরণ করে রিক্সায় বসে রইল।
রিক্সাওয়ালা ভয়ে ভয়ে বলল, আপা আমাকে ছেড়ে দেন, আমি চলে যাই।
ঐশী আরো জোরে চিৎকার করে বলল, জামাল তুমি পথ ছাড়বে নাকি আমি চেঁচাবো?
তাতে কি ব্যাপারটা ভালো দেখাবে? বরং সবাই তোমাকেই খারাপ বলবে।
আমাকে খারাপ বলবে আর তোমাকে কেউ খারাপ বলবে না? সবাই প্রশংসা করবে নাকি?
আমাকে তো কেউ ভালো বলে না, নতুন করে আর কী বলবে?
অগত্যা ঐশী রিক্সা ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে জামালকে বলল, বলো? কী বলতে চাও?
এভাবে কেউ কথা বলে? এভাবে কথা বললে মুড নষ্ট হয় না? চলো আমরা কোথাও বসি, তোমার সঙ্গে আমার অনেক কথা আছে। প্লিজ আমার মোটর সাইকেলে উঠো।
ঐশী অবজ্ঞার সুরে বলল, তুমি কী করে ভাবলে যে আমি তোমার মোটর সাইকেলে উঠবো?
কেন আমার মোটর সাইকেলটা কি খারাপ? দেখো বাবার কাছ থেকে জোর করে মোটর সাইকেল নেওয়ার সময় আমার বার বার করে তোমার কথা ভেবেছি, এসো না প্লিজ, তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে।
কিন্তু তোমার সঙ্গে তো আমার কথা নাই।
ঐশী রাগ করো না প্লিজ, তুমি আমাকে বুঝতে চেষ্টা করো।
বললাম তো বলো? কী বলবে তাড়াতাড়ি বলো?
ঐশী আমি তোমাকে ভালোবাসি।
ঐশী বিরক্তির সুরে বলল, আবার ভালোবাসার কথা! আমি না তোমাকে বলেছি, ঐসব ভালোবাসাবাসির মধ্যে আমি নেই। আজকেও কি কারো সঙ্গে বাজি ধরেছ নাকি?
ঐশী বিশ্বাস করো বাজি ধরে নয়, আমি তোমাকে মন থেকে ভালোবাসি। ইলেকশনের পর থেকে আমি তোমাকে খুঁজেছি শুধু মনে মনে নয় একরকম হন্য হয়েই খুঁজেছি, ভাবছিলাম আমার বিজয়ের খবরটা প্রথমে তোমাকে জানাবো কিন্তু আমার দূর্ভাগ্য তোমাকে পেলাম না তারপর মোটর সাইকেল কেনার পর থেকে আবারো তোমাকে খুঁজেছি শেষ পর্যন্ত আজ তোমাকে পেলাম। এসো একসঙ্গে একটু ঘুরে আসি।
ঐশী মুখ বিকৃত করে বলল, এসো একসঙ্গে একটু ঘুরে আসি, তুমি বললে আর আমি তোমার সঙ্গে ঘুরতে গেলাম।
জামাল তুমি অযথা আমার জন্য সময় নষ্ট করেছ আমি তোমাকে কোনদিন আমার জন্য অপেক্ষা করতে বলিনি তোমাকে একটা কথা আজও ষ্পষ্ট করে বলছি আমি তোমাকে ভালোবাসি না। আমি তোমাকে ঘৃণা করি। আমি তোমার সঙ্গে আর কোন কথা বলতে চাই না। আমি এখন আসি, বলে ঐশী যেতে উদ্যত হলো।
জামাল জিজ্ঞেস করল, ঐশী তুমি কি কাউকে ভালোবাসো?
সেটা জেনে তোমার লাভ কি?
লাভ লোকসানের কথা না।
যদি বলি আমি কাউকে ভালোবাসি না তখন কি বলবে তাহলে আমাকে ভালোবাসো?
হুঁম তুমি এখনো বুকড্ না হলে আমি তো আছিই।
আর যদি বলি আমি একজনকে ভালোবাসি, তখন তুমি কী বলবে?
বলেই দেখো না তাকে আমি কী করি?
কী করবে? মারবে?
জামাল যেন গর্জে উঠল, শুধু মারবো না, তোমাকে ভালোবাসার সাধ মিটিয়ে দিব।
তবে তোমাকে আজ স্পষ্ট করে বললাম আমি কাউকে ভালোবাসি না এবং বাসবো না, বললাম তো ঐসব ভালোবাসাবাসির মধ্যে আমি নেই, এখন আমাকে যেতে দাও প্লিজ, বলে ঐশী সামনে এগিয়ে চলল।
জামাল চাপাস্বরে বলল, ঐশী কাজটা তুমি ঠিক করলে না।
ঐশী আর কোন কথা না বলে মাথা নত করে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেল।
চলবে..
গডফাদার-০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

