আমার প্রিয় পোস্ট

wanna know and show everything I can......

এক পাহাড়ির শৈশবকাল (পর্ব-১)

০৩ রা জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৪৭

শেয়ারঃ
0 4 0

নাম তার সাজন্যে, খুব সাদামাটা ছিল তার শৈশব। শৈশবে সে চেয়েছিলো জীবনকে সাজাতে নিজের মতো করে, চেয়েছিলো স্বপ্নকে আগলিয়ে রেখে স্বপ্ন তার পূর্ণ করতে। গ্রামের সকল বালকের তুলনায় তার চিন্তাধারনা ছিলো খুব আলাদা। যদিও সে কখনো নিজেকে গ্রামের অন্য বালকদের কাছ থেকে সরিয়ে রাখেনি ক্ষণমূহুর্তের জন্যও। উপভোগ করেছে সকল সাধারন বালকদের মতো করে নিজের শৈশবও। দূরে রাখেনি নিজেকে রোদ দুপুরে ঘুরে বেড়াতে, ইচ্ছামতো পুকুরের পানিতে জাপিয়ে পড়তে, দুঃসাহসিকের মতো করে পাহাড়ের পর পাহাড় ডিংগাতে, রহস্য উদঘাটন করতে পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা অনেক কিছুকে, বাঁশের বা গাছের চূড়ায় উঠে বসন্তের হাওয়াতে নিজেকে ভাসাতে, পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় গজিয়ে উঠা বন্য আলু সংগ্রহ করতে, রাখালদের পিছু পিছু গিয়ে পাহাড়ের কোন এক কোনায় বসে রাখালের বাঁশি বা হেংগ্রং এর সুরে নিজেকে হারাতে, গুলটি নিয়ে ঘুরে বেড়াতে গ্রামের আনাচে কানাচে আর পাহাড়ের গহীন জংগলে, বিকালবেলায় খোলা মাঠে জাম্বুরায় লাঠি মারতে, বর্ষার পানিত গাঁ ভিজাতে, বানের পানিতে সাঁতার কাটতে, কলাগাছের বানানো ভেলাতে করে কাপ্তাই লেকের পানিতে ভেসে বেড়াতে, পাহাড়ে ছড়াগুলোতে গিয়ে মাছ কাঁকড়া ধরতে, ভুলেনি আবার কখনো স্কুলে যেতে। এসবের নানারকম কাহিনীতে ছিলো ভরপুর তার সেই আলো আঁধারের শৈশব। সেইসময়ে সে ছিলো স্কুল বলতেই পাগল। স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে মা বাবার মমতাময় আদর, আর বন্ধুবান্ধবদের উচ্ছল আনন্দ আর হাসিতামাশা খুব করে টানতো তাকে স্কুল অভিমূখে। সংগে ছিলো তার স্বপ্ন। স্বপ্ন ছিলো তার নিজেকে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব স্থানে নিজেকে দেখতে। বিশেষ করে সৈন্য দলের ডাক্টার হিসেবে দেখতে চেয়েছিলো সে নিজেকে।সে খুব অল্প বয়সে স্কুলে যাওয়া শুরু করেছিলো তার দুই বছরের বড় বোনের সাথে। তার বয়সটা তখন চারের কোঠায় ঢুকেছে মাত্র। যতই না স্কুলের প্রতি তার আগ্রহ ছিলো, তার চেয়ে বেশি তার আগ্রহ ছিলো ডিউটিতে যাওয়া সেনাবাহিনীর দলকে দেখে। সেনাবাহিনীর প্রতি তার এই ভালোলাগা তাকে স্কুলমনস্ক করিয়েছে অনেক বেশি। সেনাবাহিনীর সৈন্যদল যখন তাদের ডিউটির উদ্দ্যেশ্যে তআদের বাড়ির পাছ দিয়ে যেতো তখন সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারতোনা। তাই সেই সময়ে সে বড় বোনের সাথে স্কুলে যাওয়ার আবদার ধরতো। যেই না তার মা আর বোন রাজি হতো, সে এমনিই দিতো দৌড় আর্মিদের পিছনে। ভুলে যেতো সে তার বোনের কথাও। বেচারা বোন তার কত আশা করেছিলো সংগে করে তার আদরের ছোট ভাইকে নিয়ে স্কুলে যেতে। কিন্তু প্রতিদিন কি ভাবতো বোনটি তার, আর কি হতো। তাই বিকালে এসে বোনটি তার খুব বকা দিতো, আর ধমক দিয়ে বলতো আর যদি করেতো তার সাথে স্কুলে যাওয়া ব্ন্ধ। আর সেই কথা শুনে লক্ষী ভাইয়ের মতো সে রাজি হয়ে যেতো আর সে রকম না করার জন্য। কিন্তু সময়মতো সে নিজেকে উল্টয়ে নিয়ে নিজের ফায়দা লুঠে নিতো। তবে সে স্কুলে সময়মতো পৌঁছে গিয়ে থাকতো। মাঝে মাঝে দিদির আগে পৌঁছতো। এতে করে তার বাবা মা একদিকে খুব খুশি হতো আর অন্য দিকে খুব চিন্তিত হতো। সে লেখাপড়ায় ছিলো অনেক ভালো। তাই তার বাবা মা তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতো। ছেলেটি তাদের ডাক্তার/ইন্জিনিয়ার হবে। কিন্তু সেই স্বপ্নের মাঝে ছিলো তাদের অনেক অনিশ্চয়তা। কারন যে সময়টির কথা বলা হচ্ছে সেই সময়টিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিলো উত্তপ্ত। তাদের সে এলাকায় তখনো পর্যন্ত তেমন কোন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু পরিস্থিতি যেভাবে পাল্টাচ্ছিলো সেই হিসেবে উত্তেজনা সৃষ্টি না হওয়ার তেমন কোন কারন ছিলো না। সাজন্যে ছিলো পাহাড়ী এক উচ্ছল চাকমা ছেলে। সেই সময়ে সমতল থেকে নিয়ে যাওয়া বাংগালিদের সাথে পাহারিদের মাঝে খুব দাংগা হতো। সেনাবাহিনীরা ব্যবহার করতো সেইসব বাংগালিদের। যাদেরকে তারা নিয়ে গিয়েছিলো সেই গহীন পাহাড়ি এলাকায় সুখের স্বপ্ন দেখিয়ে। যারা জানতনা এই দেশে চাকমা, মার্মা, ত্রিপুরা সহ বিভিন্ন নামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস সেইসব অন্ঞলে। আর সেখানে নিয়ে গিয়ে তারা তাদের ফাঁড়ির বেষ্ঠনী হিসেবে ব্যভার করতো তাদেরকে। বসিয়ে দিতো সরকারের খাস জমি খ্যাত পাহাড়িদের অবন্দোবস্ত জমিতে। ফলে পাহাড়িরা বাস্তুহারা হয়ে দলে দলে যোগ দিতো জেএসএসের গড়া শান্তিবাহিনীতে। শান্তিবাহিনী নিজেদের জমি উদ্ধারে জাপিয়ে পড়তো সেনাবাহিনীর আস্তানায়। এই হামলা হতে পারে আচমকা। তাই সাজন্যের মা বাবা খুব চিন্তিত ছিলো তাদের সন্তানকে নিয়ে। যদিনা তাদের ছেলে সেইসব দাবী আদায়ের হামলায় একজন ভূক্তভোগী হয়...........(চলবে)

সাজন্যে=সন্ধ্যাবেলা
হেংগ্রং=মূখ দিয়ে বাজানোর বাঁশের তৈরি যন্ত্রবিশেষ
সাজন্যে নামটা কেবল কল্পিত।

 

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:২০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

০৩ রা জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:০৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২. ০৪ ঠা জুলাই, ২০০৯ সকাল ১১:৩৯
সেতূ বলেছেন: সুন্দর লিখা ...

"পাহাড়িরা বাস্তুহারা হয়ে দলে দলে যোগ দিতো জেএসএসের গড়া শান্তিবাহিনীতে। শান্তিবাহিনী নিজেদের জমি উদ্ধারে জাপিয়ে পড়তো সেনাবাহিনীর আস্তানায়।-
-সত্য কথা,

যুগে যুগে সব সরকার সমতলের জনগন কে ভুল ধারনা দিয়ে আসচ্ছে এবং সমতলের জনগন ও পাহাড়ে জনগন মধ্য একটা দূরত্ত সৃষ্টি করে রেখেছে -সব সরকারের সুবিধার জন্য

লিখে যান ....+++
০৪ ঠা জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:১১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩. ০৭ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:০৮
সৌম্য বলেছেন: সুন্দর লেখা, ভালো লাগলো, কালো মে (এটা বম শব্দ)
০৭ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:১৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৪. ০৭ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:২৫
নাজনীন খলিল বলেছেন: +++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++

ভাল লাগছে ।সাজন্যেকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারছি।
ধন্যবাদ।
০৮ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ২:০২

লেখক বলেছেন: আপু ধন্যবাদ।

৫. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৪৮
বিপ্লব রহমান বলেছেন: অসাধারণ লেখনি আপনার। লেখায় অন্য এক বিবর্ণ পাহাড়ের চিত্রও ফুটে উঠেছে। চলুক।্

 

মোট সময় লেগেছে ১.১১৯৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি একজন পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি আদিবাসী। আদিবাসীদের জন্য কথা বলি, আদিবাসীদের জন্য চিন্তা করি। আদিবাসীদের অগ্রগতি বাংলাদেশের অগ্রগতির একটি অংশ...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই