আমার প্রিয় পোস্ট

বিশ্বের অর্থনৈতিক ধ্বস ও বাংলাদেশের শেয়ার বাজার

২৫ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:১২

শেয়ারঃ
0 1 0

এই পোস্টটি লেখা হয়েছে দিনমজুরের এই পোস্টের জবাবে। উত্তর বড় হয়ে যাওয়ায় ট্র্যাডিশন অনুযায়ী আলাদা পোস্ট হিসেবে দিয়ে দিলাম ;)

দিনমজুরের পোস্টের বক্তব্যের সাথে কিছুটা একমত। তবে তার গল্পটি বাংলাদেশের স্টক মার্কেট জালিয়াতির ঘটনাটির সাথে খাটে, কিন্তু ফেনি মে কিংবা এআইজি শেয়ার মূল্যের পতনের সাথে ঠিক সেভাবে খাটে না।

বাংলাদেশের স্টক মার্কেটে তখন শুরুর দিকের অবস্হা ছিল। শেয়ারের প্রকৃত মূল্যের তুলনায় অর্থের জোগান কিছুটা বেশী ছিল (এর মূল কারন একটু পর বলছি)। তাই শেয়ারের দাম বাড়ছিল। একই সাথে শেয়ারে বিনিয়োগ লাভজনক দেখে আরও বেশী বিনিয়োগকারী এসেছে, শেয়ারের দাম আরও বেড়েছে... এভাবেই চলেছে। এই সাজানো নাটকটি শুরু করেছিল একটি বিত্তবানদের সিন্ডিকেট কিছু বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সাথে নিয়ে (দিনমজুরের বানরের গল্পের মতো)। আবার সময়মতো শেয়ার মূল্যের সর্বোচ্চ অবস্হানের সময় সাধারন মানুষের সর্বোচ্চ ক্ষতি করে সেই সিন্ডিকেট সব শেয়ার বিক্রি করে কেটে পড়ে। ফলাফল আপনারা সবাই জানেন। যাহোক, এরপর থেকে বিভিন্ন ধরনের অবজারভেশনের ব্যবস্হা করা হয়েছে (যদিও ফুলপ্রুফ নয়)। বিদেশী বিনিয়োগ নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে তুলে নেয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এরপরও অনেক রিস্ক এখনও রয়েছে।

পুঁজিবাদি বিশ্বের বর্তমান ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটের ধ্বসের কারন ভিন্ন যদিও কাছাকাছি একটি প্যাটার্ন আছে। অধিক মুনাফার আশায় খুব অল্প সিকিউরিটির বিপরীতে বিভিন্ন ব্যংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান লোন দিয়েছে। এখানে লোন ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা কম কিন্তু ইন্টারেস্ট রেট অনেক বেশী, অর্থাৎ আদায় করতে পারলে মুনাফাও বেশী। যার ফলে বিভিন্ন প্রপার্টির মূল্য তার প্রকৃত মূল্যের চাইতে অনেক বেড়ে যায়, কারন মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়ে গিয়েছে। এভাবেই চলছিল সবকিছু।

এখন কথা হচ্ছে হঠাৎ ধ্বসের কারন কি? খাদ্যদ্রব্যের মূল্য, এবং জ্বালানী তেলের হঠাত অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, সেই সাথে উন্নত বিশ্বের বেকারত্বের হার বৃদ্ধি - এ সবকিছু মিলে হঠাৎ করেই মানুষের ক্রয় ক্ষমতা অনেক কমে যায়। ফলাফল অনেকেই তাদের ঋণ পরিশোধে অপারগ হয়ে পড়ে। একই সাথে মর্টগেজের উপকরন যেমন বাড়ি ও জমির দামও কমতে থাকে। ফলে ঋণ প্রদানকারী এসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে লাভ তো দুরে থাক, সেসব বাড়ি, জমি বিক্রি করে ঋণের মূল পরিমানই উসুল করা সম্ভব হয়ে উঠে না। আবার অনেকে ইচ্ছা করেই ঋণে কেনা বাড়ি ছেড়ে দেয়, কারণ অপরিশোধিত ঋণের পরিমান বাড়ির মূল্যের চাইতে এখন বেশী। একটা চেইন রিঅ্যকশন শুরু হয়। ব্যংকগুলোর ক্ষতির অংক বাড়তে থাকে। তাদের ঋণ দেয়ার ক্ষমতাও কমে যায়। এই ঋণের উপর ভর করা ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতাও কমে যায় (অথচ, একসময় এমন পরিস্হিতি ছিল যে এক ডলারের সিকিউরিটির বিপরীতে ব্যাংক ৯৭ ডলার পর্যন্ত ঋণ দিয়েছে)। ফলাফল? এ প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি... দেখা যাক কি হয়।

বাংলাদেশের শেয়ার বাজারেও এরকম একটি ভঙ্গুর অবস্হা বিরাজ করছে। একটি কোম্পানির মূল্য যদি একমাসেই সাত/আট গুন বৃদ্ধি পায় (যেটি প্রাইমারি শেয়ার ছাড়ার পর ঘটে) তাহলে তা অবশ্যই অস্বাভাবিক। অর্থাৎ পন্যের তুলনায় অর্থের যোগান বেশী। কোন কোম্পানির শেয়ারের মূল্য নির্ধারিত হওয়ার কথা সেই কোম্পানির বর্তমান অবস্হা ও ভবিষ্যত সম্ভাবনার উপর। তখন আপনার শেয়ার কেনা-বেচা না করলেও চলবে। কোম্পানির মালিকানার অংশিদারিত্বের সুবাদে আপনি লভ্যাংশ পাবেন।

বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের বর্তমান এ অবস্হা কতদিন চলবে তা বলা যাচ্ছে না। কারন এখনও প্রতিদিন অনেক নতুন ক্রেতা শেয়ার বাজারে প্রবেশ করছে। চীনের বাজারও অনেকটা এ অবস্হা চলছে। এখন যদি এসব মার্কেটে যদি কোন কারনে কেউ বড় বিনিয়োগ তুলে নেয়, সাথে সাথে কিছু শেয়ারের মূল্যপতন ঘটবে। কিছু ক্রেতা প্যানিকড হয়েও শেয়ার ছেড়ে দিয়ে হয়ত আরও মাত্রা যোগ করবে। ফলে আরও মূল্যপতন ঘটবে। ফলাফল, শেয়ার বাজার আবার বিনিয়োগকারীদের আস্হা হারাবে এবং আরও একটি ধ্বস নামবে। যেটি হয়ত শেয়ারগুলো তাদের যৌক্তিক মূল্যে কেনাবেচা হলে ঘটত না।

দেখা যাক কি ঘটে...

 

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:৫৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:৩৩
রাগিব বলেছেন: ছোটবেলাতে শেয়ার কিছুই বুঝতাম না, সেসময়ে আগ্রহভরে শেয়ার পাতাটা দেখতাম, "মিলন ট্যানারি" নামের কোনো কোম্পানির ১০০ টাকার শেয়ার ১ টাকা, ২ টাকা, ৫ টাকায় দাম উঠেছে। বাংলাদেশের শেয়ার হিড়িকের স্বর্ণযুগে একদিন দেখি, সেই মিলন ট্যানারি ২০০-৩০০ তাকায় বিক্রি হচ্ছে!! পরে শেয়ারের হুজুগ শেষ হয়ে গেলে অবশ্য আবার ১ টাকারও নীচে নেমে এসে গেছে।
২৫ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:৩৯

লেখক বলেছেন: সেই স্বর্ণযুগের (মতান্তরে কালোযুগ) সময় আমিও কিছু বুঝতাম না। সবার মুখে দু'একটা কোম্পনির মধ্যে বেক্সিমকোর নাম খুব শুনতাম। কারণ সবদিকেই তাদের ব্যবসা ছিল (বেক্সিমকো, শাইনপুকুর মিলে)। কিন্তু সেই যে একবার কোমর ভাঙলো বেক্সিমকোর, এখনও দাঁড়াতে পারেনি।

২. ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১০:১১
দিনমজুর বলেছেন: আপনার পোস্টের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। ফাইনান্সিয়াল সংকট নিয়ে আপনার অবজারভেশনের সাথে আমি মোটামুটি একমত। আমার এই পোস্টে ( Click This Link) আমি ফাইনান্সিয়াল সংকটের কারণ সংক্ষেপে তুলে ধরার চেস্টা করেছি।

তবে, আমার যে পোস্টের জবাবে এ পোস্ট লিখেছেন- সেটির বক্তব্য মনে হয় আপনার কাছে পরিষ্কার করে তুলে ধরতে পারিনি- ফেনি মে বা এআইজি'র পতনের কারণ হিসাবে বানর গল্পের কথাটি বলিনি- বরং এর কারণ উপরে লিংক দেয়া পোস্টে বলেছি। আমি বানরের গল্পটি সম্পর্কে বলেছি- সেটি স্টক মার্কেটকে বুঝতে কাজে লাগে (এআইজি-ফেনি মে প্রভৃতির শেয়ার পতন ঘটলে- শেয়ারহোল্ডারদের খোয়া যাওয়া টাকা অবশ্যই অন্য কারো না কারো পকেটে ঢুকে- এই অর্থে)। এবং মনে করি- আসলেই সেটি স্টক মার্কেটের সাথে সংগতিপূর্ণ (বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিতে হবে- এই আরকি)।

স্টক মার্কেট নিয়ে আগামিতে আরো কিছু বলার চেস্টা করবো, মূলত Doug Henwood এর "Wall street: How it works and for whom" বইটি থেকেই এবং এখানে শেয়ার ব্যবসার সাথে যুক্ত এমন ক'জনের সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই স্টক মার্কেট নিয়ে আমার লেখাটি তৈরী করার চেস্টা করছি- তারই ভূমিকা অংশ আমার সেই পোস্ট। তবে, সম্ভবত লেখাটি পুরো তৈরি করতে বেশ সময় লাগবে বুঝতে পারছি- কেননা ফাইনান্সিয়াল ক্রাইসিস নিয়ে আরো কিছু কাজ করছি এবং স্টক মার্কেটের পুরো বিষয়টি খুব একটা সরল নয় ।

আলোচনার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
২৬ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৬

লেখক বলেছেন: এক্ষেত্রে একটু দ্বিমত আছে। স্টক মার্কেটে কোন স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকা প্রতিষ্ঠানের দামের রাতারাতি পরিবর্তনে অবশ্যই কারো চাল ধরতে হবে। টাকা কারো-না-কারো পকেটে যাচ্ছে। কিন্তু এই প্রেক্ষাপট কিছুটা হলেও ভিন্ন।

একটি কোম্পানী যখন ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে পড়ে, ভবিষ্যত অন্ধকার হয়ে যায়, তখন এমনিতেই শেয়ারের মূল্যপতন ঘটবে। অনেকটা ব্যবসা করতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার মতই। ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসার একজন মালিকের পরিবর্তে এক্ষেত্রে ভুক্তভোগী শেয়ার বাজারের মাধ্যমে মালিকানা কেনা সাধারন জনগন।

৪. ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৯
সাংবাদিক বলেছেন: নতুন গ্রুপ ‌'সাংবাদিক' - মুক্ত মনের প্রতিচ্ছবি

হাটি হাটি পা করে পথ চলতে শুরু করেছে নতুন গ্রুপ 'সাংবাদিক' এর। সুচিন্তিত মতামত প্রকাশকারী ব্লগারদের এই গ্রুপে স্বাগতম জানাই। আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে যরা ঐকবদ্ধ্য হয়েছে, তাদের জানাই অভিনন্দন ও ধন্যবাদ আমাদের সাথে থাকার জন্য। সত্যের পক্ষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম চালাতে আমরা দ্বিধাবোধ করি না। আমরা যা দেখি তাই লেখি কারণ আমাদের চোখ সবসময় প্রস্তুত সত্য উদঘাটনে আর আমাদের হাত সব সময় প্রস্তুত সত্য প্রকাশে। তো আর দেরী কেন? যদি হোন সাহসী সাংবাদিক, লেখক কিংবা সমমনা ব্যক্তি, তবে এক্ষুণিই ঐক্যবদ্ধ হোন আমাদের সাথে। সদস্যপদ গ্রহণ করুন আমরা তো আছিই আপনার সাথে। আর হ্যাঁ, আরেকটি শুভ সংবাদ হচ্ছে শীঘ্রই আত্মপ্রকাশ পাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের নিউজ পোভাইডার সার্ভিস ইউকে বিডি নিউজ। ইতিমধ্যে এই কার্যক্রমে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশী সাংবাদিকরা। এ ব্যাপারে আপনার মূল্যবান মন্তব্য ও পরামশ আমাদের কাম্য। আমাদের কাছে মেইল করুন :
শুভ হোক আপনাদের প্রতিটি ক্ষণ।
সাংবাদিক গ্রুপের জন্য ক্লিক করুন : http://www.somewhereinblog.net/group/Sangbadik
৫. ১০ ই জানুয়ারি, ২০১১ রাত ৮:১৭
কাউছার ভূইয়াঁ বলেছেন: শেয়ার বাজারে মার্জিন ঋণের হার বৃদ্ধি করে দরপতন ঠেকানো যাবে না। বিস্তারিত । শেয়ার বাজারের উপড় অরো অনেক লেখা http://kbhuiyan.wordpress.com -এ পড়ুন।

সুন্দর একটা লেখা উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ১.৭৯৬৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ