আমাদের শাওন তসলিমাকে 'নরকের কীট' আখ্যা দিয়ে বিশাল পোস্টের আয়োজন করেছে। সেখানে তসলিমা থেকে উদ্ধৃত প্রত্যেকটি কথা পড়লাম। কোনোটায়ই খারাপ কিছু পেলাম না। এগুলো উদ্ধৃত করে মানুষকে নরকের কীট যারা বলে, তারা কোন ধর্মের অনুসারী? শান্তির ধর্ম ইসলামের অবশ্যই নয়।
উদ্ধৃতিগুলো দেখা যাক:
১। ধর্মের দালান-কোঠা যদি মানুষে মানুষে ভালোবাসা নষ্ট করে তবে এই পৃথিবী থেকে ধ্বংস হয়ে যাক মন্দির, মসজিদ, প্যাগোডা আর গীর্জার সকল অস্তিত্ব । ইট সুড়কিরে চেয়ে মানুষ বড়, ইট সুড়কির চেয়ে ভালোবাসা বড় ।
এইখানে খারাপ কথা কোনটা? ধর্মের নামে যদি মানুষে মানুষে ভালোবাসা, শান্তি, সম্প্রীতি নষ্ট হয়ে যায়, তাইলে সে ধর্মে তসলিমা ক্যান, আমিও হাগু করি।
২। ওরা জেরুজালেম, হেরা পর্বতে বসে ধর্ম রচনা করেছে । এই ধর্মকে ওরা পবিত্র ঘোষণা করেছে । এই পবিত্রতার দোহায় দিয়ে তোমাকে ( নারীকে ) পায়ের নিচে স্থান দিচ্ছে , আবৃত করছে , অনাবৃত করছে । ওরা তো মানুষ নয় , ওরা পুরুষ ।
ধর্মের বই কেউ আসমান থেকে আসতে দেখে নাই। এটা পুরাটাই বিশ্বাসের ব্যাপার। এর অথেনটিসিটি নিয়ে বিশ্বাসের বাইরে যে কেউ প্রশ্ন করতে পারে। একজন পুরুষের জন্য ৪ বিয়া, আর নারীর জন্য মাত্র ১, নবীর বউকে আর কেউ বিয়ে না করার ফতোয়া - এগুলা পুরুষের তৈরি নিয়মই মনে হয়, নিরপেক্ষ কোনো স্রষ্টা এগুলা বানানোর কথা না।
৩। নারী ধর্ষণ করতে শিখুক, ব্যভিচার করতে অভ্যস্ত হোক । নারী খাদকের ভূমিকায় না এলে তার খাদ্য নামের কলংক ঘুচবে না । এখন ভালো কথার যুগ নয়, নীতি বাক্যের সময় নয় । কাঁটা দিয়েই আজকাল কাঁটা তুলতে হয় ।
একদম খাঁটি কথা। টিট ফর ট্যাট।
৪। পুরুষকে খুশী করা ছাড়া সাধারণত নারীর অন্য কোনো কাজ নেই ।
কথা শুনতে যতোই খারাপ লাগুক, এটাই এখনও আমাদের সমাজের বাস্তবতা।
৫। নারীকে নারী অংগের বাইরে কেও কল্পনা করার অভ্যাস কারো গড়ে ওঠেনি । এই অংগকে পুরুষেরা বরাবরই খাদ্য হিসাবে গ্রহন করেছে ।
বৃহদার্থে এটাও সত্য। মেয়েদের বুকের দিকেই এই সমাজেও প্রথম নজর যায়। যারা এটা অস্বীকার করে, তারা বাথরুম পার্টি, বাইরে বেরোনোর আগে মিনিমাম তিনবার করে হাতমেরে বেরোয়।
৬। স্ত্রৈণ শব্দটির অর্থ স্ত্রীর অতিশয় বাধ্য । অর্থাৎ যে ছেলে তার স্ত্রীর অতিশয় বাধ্য তাকে স্ত্রৈণ বলা হয় । কিন্তু যে ছেলে স্ত্রৈণ তাকে কেউ ভালো চোখে দেখে না । বরং তার দিকে তাকিয়ে আড়চোখে তাকিয়ে উপহাসের হাসি হাসে ।
একদম সত্য কথা। পুরুষ শ্রেষ্ঠ অ্যাটিটুডের সমাজে এটাই বাস্তবতা।
৭। যে তুমি মুখ থুবড়ে পড়ে আছো নারী, তোমার সারা শরীরে পুরুষের কামড় । তোমাকে শুকতে একটি কুকুরও বেদনায় নীল হবে সেই তোমাকেই যদি কেও পুনরায় কামড়ায় সে কোনো শূকর নয় সে কোনো কাল কেউটে নয় সে পুরুষ ।
বাস্তব এবং নির্মম সত্য।
৮। ওরা মৃত্যুর আরেক নাম , ওরা পরুষ । তোমার দিকে ধেয়ে আসা পুরুষেরা মূলত আসে অবাধ কাম ও অনিয়ন্ত্রিত ক্রোধের কারণে , কতৃত্ব বোধের ক্রোধ ।
এটাও বাস্তব এবং নির্মম সত্য।
৯। ওরা তোমার বিকেলের চায়ে বিষ মিশিয়ে দেবে ওরা দল বেধে তোমাকে ধর্ষণ করতে আসবে , ওরা মানুষ নয় ওরা পুরুষ ।
মাথায় মাল উঠলে সব পুরুষই এক একটি শিশ্ন, এর বাইরে কোনো অস্তিত্ব থাকে না। শুনতে খারাপ শোনালেও এটাই সত্য। যে নিজেকে এর বাইরে বলে দাবি করে, সে নপুংসক হতে পারে, পুরুষ না।
তসলিমার লেখা খুব একটা পড়ি নাই। যা পড়েছি, লেখক হিসেবে তাকে বড় মাপের মনে হয় নাই। কিন্তু শাওনের কল্যাণে তসলিমার ফ্যান হয়ে গেলাম। সত্য কথা সহজভাবে বলার গুণ তার আছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৮:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


