আমার প্রিয় পোস্ট

অন্যায়ের প্রতিবাদ করে লাশ হতেও আপত্তি নাই। শুধু মিনতি লাশটা যেন শেয়াল-কুকুরে না খেয়ে ফেলে, আমার মা-বাবার কাছে যেন পৌছে দেয়া হয়।

সরকারী হাসপাতালে বিড়ম্বনা....এ অবস্থার কি শেষ হবেনা?

২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৮

শেয়ার করুন:                   Facebook

গতকাল সন্ধায় ফোন আসে দুলাভাই খুব অসুস্থ। ময়মনসিংহ মেডিকেল থেকে ঢাকা বক্ষ্মব্যাধি হাসপাতালে রেফার করছে। দুলাভাই ঢাকা আসতে চাইনা। দুলাভাই খুব কৃপন। না খাইতে খাইতে ৩২ কোমর ২৮ হয়ে গেছে।
ছোট ভাইকে বললাম জোর করে নিয়ে আসতে।

আমি যাওয়ার আগেই ওরা বক্ষ্মব্যাধি হাসপাতালে পৌছে গেল। রাত্রে রোগী ভর্ত্তি করবেনা। সকালে আসতে বলল। অনেক জোরাজোরি করার পর বলল ঠিক আছে এই যে লিস্ট দেখেন ১২০০ টাকা দেন। আমরা তারাতারি ১২০০ টাকা দিয়ে দিলাম। আমি রিসিট চাইলাম। তখন আরেকজন বলল না কালকে সকালেই নিয়ে আসতে হবে। তখন আগের লোক বলল সবকিছু ফ্রি করে দিচ্ছি যদি কিছু বখশিস দেন। আমরা রাজি হলাম। ৫০০ টাকা দিয়ে সব ফ্রি করালাম। রোগী ওয়ার্ডে নিয়ে গেল।

আমরা যে বেড পাইছি সেই ফ্যান নষ্ট। এর মাঝে একজন মহিলা এসে বলল এই ঔষুধগুলো নিয়ে আসেন। উনাকে দেখে নার্সও মনে হচ্ছেনা আবার ডাক্তারও মনে হচ্ছেনা। আমি জানতে চাইলাম ডাক্তারতো দেখে নাই, আপনে কিভাবে ঔষুধ আনতে বলেন? উনি বলল ডাক্তার অপারেশন থিয়েটারেই দেখবে। আমি আবার বললাম এরকমও তো হতে পারে যে অপারেশন নাও লাগতে পারে। তখন ঐ মহিলা বলল আপনারা ঔষুধ আনলে আনেন আর না হলে ডাক্তার রোগী দেখবেনা। অগত্যা বাধ্য হয়ে সব কিছু আনলাম।

অপারেশনের রোগী.... কিন্তু অপারেশন থিয়েটারে হাটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমি প্রশ্ন করতেই বলল হেটে যাক আসার সময় স্ট্রেচারে নিয়ে আসব। আমরা অপারেশন থিয়েটারের সামনে রোগী নিয়ে অপেক্ষা করছি। এর মাঝে এক ওয়ার্ড বয় এসে বলল আপনারা দাড়িয়ে থাকেন স্যারের মাথা আজকে গরম দুইজন আজকে মারা গেছে।

আরও কিছু লোককে দেখলাম বাইরে দাড়ানো। এদের একজনের পিতার অপারেশন চলছে। আর ঐ ওয়ার্ড বয় এদের কাছে টাকা চাচ্ছে রোগিকে স্ট্রেচারে নিতে চাইলে। এ নিয়ে একটু কথা কাটাকাটি হইলে আমি বললাম ভাই আপনে এত কথা বলছেন কেন? স্ট্রেচারে নিয়ে যান ওনারা আপনাকে খুশী হয়ে কিছু দিবনে। আপনে কেডা? আপনে কোন রোগীর সাথে এসেছেন? আপনার রোগীর আজকে অপারেশন হবেনা। শেষে আমাকে ওনার কাছে ক্ষমা চাইতে হলো।

........নিজের কাছে নিজেকে খুব ছোট মনে হলো।

সরকারী হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় এবং আয়াদের কাছে আমরা জিম্মি।

এ অবস্থার কি শেষ হবেনা?

 

 

  • ২০ টি মন্তব্য
  • ১৩০ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৫ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৬
comment by: ফ্রুলিংক্স বলেছেন: রোগী তো এমনিতেই মারা যাবে। তার আগে মিনিমার একজনকে সাইজ করতে পারলে ভালো হতো। আমি ডাক্তারকে প্রেফার করি।
২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৭

লেখক বলেছেন: ডাক্তাররাও এইসব ওয়ার্ড বয় এবং আয়াদের কাছে জিম্মি।

২. ২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৬
comment by: রাতমজুর বলেছেন: বহু বছর ধরে চলছে, কবে এই অবস্থার শেষ হবে কে জানে।
২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৮

লেখক বলেছেন: কবে এই অবস্থার শেষ হবে কে জানে?

অনেক ধন্যবাদ রাতমুজুর ভাই।

৩. ২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৬
comment by: রাজামশাই বলেছেন: ১০০ মধ্যে ১০০ হাচা কতা
২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৮

লেখক বলেছেন: ১০০ ভাগ সত্যি কথা এটা।

৪. ২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৫
comment by: অতন্দ্র প্রহরী বলেছেন: আসলে সবই সত্য কথা আর এসব কথা আমরা সহ সকলেই অবগত। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার। আপনি রব্যকে বল্লন না কেন? দেখুন সমাধান হয় কিনা।
২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০০

লেখক বলেছেন: আপনার কি মনে হয় র‌্যাব এসব জানেনা? আমারতো মনে হয় অবশ্যই অবগত। আসলে হাসপাতালের চতুর্থশ্রেণীর কর্মচারীদের কাছে সবাই জিম্মি।

৫. ২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৬
comment by: সিটিজি৪বিডি বলেছেন: আসুন আমরা সবাই হাসপাতালের অব্যবস্থপনার বিরুেদ্ধ আন্দোলন করি।
২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৩

লেখক বলেছেন: সহমত।

আসলে এমন একটা আন্দোলন সময়ের দাবী। এই বিষয় নিয়া সবার সোচ্চার হওয়া উচিত।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

৬. ২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৬
comment by: নূর-ই-হাফসা বলেছেন: ভাল কথা বলেছেন।আসলে কবে ঠিক হবে কে জানে?
২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৩

লেখক বলেছেন: সিটিজি৪বিডি বলেছেন: আসুন আমরা সবাই হাসপাতালের অব্যবস্থপনার বিরুেদ্ধ আন্দোলন করি।

৭. ২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৮
comment by: কাপালিক বলেছেন: গত সপ্তাহে রাত সাড়ে ৩টায় বুকে ডানপাশে হঠাৎ করে দেখি প্রচন্ড ব্যথা করছে। উঠে অনেকক্ষণ বসে থেকে ৭ টা বাজে হাঁটতে হাঁটতে ঘরের পাশেই সরকারী হাসপাতালে চলে যাই। হেলথ কার্ড দেখিয়ে সিরিয়াল নিয়ে মিশরী ডাক্তারকে গিয়ে বলি ব্যথার কথা।

সাথে সাথে ইসিজি, ব্লাড প্রেসার, টেম্পারেচার চেক করে হুলস্থুল কান্ড। শেষে রিপোর্ট দেখে বলে, ধুর, কিছু না, মাংসপেশীতে ব্যথা। দাওয়াই - ২ পাতা প্যারাসিটামল টেবলেট।

মোট খরচ - ২ রিয়েল।

১০০ রিয়েল দিয়ে এক বছরের হেলথ কার্ড বানালে সাড়া বছর এখানে চিকিৎসা ফ্রি। শুধু প্রতি ঔষধের জন্য লাগে ২ রিয়েল।

এর নাম স্বাস্থ্য সেবা।
২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৪

লেখক বলেছেন: হিংসা হয়।

৮. ২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৯
comment by: চাঙ্কু বলেছেন: ওদের চেয়ে কুত্তাও অনেক ভাল ব্যাবহার করে ।আমরা পুরা জিম্মি ওই কুকুর গুলার কাছে ।

আপনার দুলাভাইয়ের কি অবস্থা এখন ??

দোয়া করি উনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন ।

ভাল থাকবেন ।
২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩১

লেখক বলেছেন: অপারেশন হইছে। পেটে এখনও প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করছে।

আপনিও ভাল থাকবেন।

৯. ২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৯
comment by: নাজমুল। বলেছেন: এদের আসলে কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার। +
২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫০

লেখক বলেছেন: সহমত।

সিটিজি৪বিডি বলেছেন: আসুন আমরা সবাই হাসপাতালের অব্যবস্থপনার বিরুেদ্ধ আন্দোলন করি।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

১০. ২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৫
comment by: নাজমুল। বলেছেন: দোয়া করি উনি যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠেন ।
২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

 



 


আমি কোন দল বা কোন গোষ্টীর নই
আমি সকল দেশের সকল মানুষের।

ভালবাসি দেশকে চরমভাবে।
ভালবাসি প্রকৃতি, ভূত।
ভালবাসি বিতর্ক, সমালোচনা।
কষ্ট পাই মানুষের কষ্ট...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ৬২০৭১