গতকাল সন্ধায় ফোন আসে দুলাভাই খুব অসুস্থ। ময়মনসিংহ মেডিকেল থেকে ঢাকা বক্ষ্মব্যাধি হাসপাতালে রেফার করছে। দুলাভাই ঢাকা আসতে চাইনা। দুলাভাই খুব কৃপন। না খাইতে খাইতে ৩২ কোমর ২৮ হয়ে গেছে।
ছোট ভাইকে বললাম জোর করে নিয়ে আসতে।
আমি যাওয়ার আগেই ওরা বক্ষ্মব্যাধি হাসপাতালে পৌছে গেল। রাত্রে রোগী ভর্ত্তি করবেনা। সকালে আসতে বলল। অনেক জোরাজোরি করার পর বলল ঠিক আছে এই যে লিস্ট দেখেন ১২০০ টাকা দেন। আমরা তারাতারি ১২০০ টাকা দিয়ে দিলাম। আমি রিসিট চাইলাম। তখন আরেকজন বলল না কালকে সকালেই নিয়ে আসতে হবে। তখন আগের লোক বলল সবকিছু ফ্রি করে দিচ্ছি যদি কিছু বখশিস দেন। আমরা রাজি হলাম। ৫০০ টাকা দিয়ে সব ফ্রি করালাম। রোগী ওয়ার্ডে নিয়ে গেল।
আমরা যে বেড পাইছি সেই ফ্যান নষ্ট। এর মাঝে একজন মহিলা এসে বলল এই ঔষুধগুলো নিয়ে আসেন। উনাকে দেখে নার্সও মনে হচ্ছেনা আবার ডাক্তারও মনে হচ্ছেনা। আমি জানতে চাইলাম ডাক্তারতো দেখে নাই, আপনে কিভাবে ঔষুধ আনতে বলেন? উনি বলল ডাক্তার অপারেশন থিয়েটারেই দেখবে। আমি আবার বললাম এরকমও তো হতে পারে যে অপারেশন নাও লাগতে পারে। তখন ঐ মহিলা বলল আপনারা ঔষুধ আনলে আনেন আর না হলে ডাক্তার রোগী দেখবেনা। অগত্যা বাধ্য হয়ে সব কিছু আনলাম।
অপারেশনের রোগী.... কিন্তু অপারেশন থিয়েটারে হাটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমি প্রশ্ন করতেই বলল হেটে যাক আসার সময় স্ট্রেচারে নিয়ে আসব। আমরা অপারেশন থিয়েটারের সামনে রোগী নিয়ে অপেক্ষা করছি। এর মাঝে এক ওয়ার্ড বয় এসে বলল আপনারা দাড়িয়ে থাকেন স্যারের মাথা আজকে গরম দুইজন আজকে মারা গেছে।
আরও কিছু লোককে দেখলাম বাইরে দাড়ানো। এদের একজনের পিতার অপারেশন চলছে। আর ঐ ওয়ার্ড বয় এদের কাছে টাকা চাচ্ছে রোগিকে স্ট্রেচারে নিতে চাইলে। এ নিয়ে একটু কথা কাটাকাটি হইলে আমি বললাম ভাই আপনে এত কথা বলছেন কেন? স্ট্রেচারে নিয়ে যান ওনারা আপনাকে খুশী হয়ে কিছু দিবনে। আপনে কেডা? আপনে কোন রোগীর সাথে এসেছেন? আপনার রোগীর আজকে অপারেশন হবেনা। শেষে আমাকে ওনার কাছে ক্ষমা চাইতে হলো।
........নিজের কাছে নিজেকে খুব ছোট মনে হলো।
সরকারী হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় এবং আয়াদের কাছে আমরা জিম্মি।
এ অবস্থার কি শেষ হবেনা?
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


