somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে কথা কখনও হয়নি বলা [ বিষয়ঃ ব্লগ আড্ডা-রাজাকার-A-টিম ]

১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ১১ই অক্টোবরের ব্লগ আড্ডা, আড্ডা নিয়ে আমার পোস্ট, ব্লগারদের প্রতিক্রিয়ায় আমার প্রতিক্রিয়া পোস্ট, আড্ডায় অংশগ্রহন করা কয়েকজন ব্লগারের আমার পোস্টের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া পোস্ট, অন্যান্য কিছু ব্লগারের আড্ডা নিয়ে প্রতিক্রিয়া পোস্ট সবশেষে সবাকের অবাক করা A-টিম নিয়ে পোস্ট নিয়ে এই কয়েকদিনে আমার মনে অনেক কথা জমে উঠেছে।
আমি খুব সুন্দর ভাবে গুছিয়ে বলতে বা লিখতে পারিনা। তথাপিও যদি কোন সময় সূচনাটা সুন্দর করে ফেলেছি, একসময় ঠিকই শেষে বা মাঝপথে খেই হারিয়ে ফেলেছি। তবুও আজ কিছু লিখার অদম্য ইচ্ছা জেগে উঠেছে। আজকে আমাকে কিছু বলতেই হবে, যে কথা কখনও হয়নি বলা।
আমার মনে আছে আমি যেদিন ব্লগিং শুরু করি সেদিন থেকেই আমার মনে এক অদ্ভুদ শিহরন জেগে উঠেছিলো। ফ্রন্ট পেইজে এক্সেস পাওয়ার পর আমার প্রথম পোস্টে নিশাচরের প্রথম কমেন্ট ছিলো +। সেই শুরু এক অদ্ভুদ ভাললাগায় একের পর এক পোস্ট দিতে শুরু করলাম। কবিতা, ভূত, কিছু দৈনন্দিন জীবনের ঘটনা ইত্যাদি নিয়েই আমার ব্লগে পোস্ট হতো। আমি ব্লগে সবসময় আমাকে নিয়েই ব্যাস্থ থাকতাম। কখনও বুঝতাম না বা বুঝার চেষ্টাও করতাম না ব্লগ রাজনীতি, দলাদলী। শুধু আত্নমগ্ন হয়ে নিজেকে তুলে ধরার সর্বোচ্চ প্রয়াসে চেষ্টা চালাতাম।
এক সময় এই ভার্চুয়াল সমাজের সামাজিকায়নে নিজেকে একটা ক্ষুদ্র পরিমন্ডলে আবিষ্কার করি। তখন মনে হতো ব্লগিং করছি, কমেন্ট পাচ্ছি, কমেন্ট করছি কিন্তু কাউকে চিনিনা বা দেখেনি। তাই ব্লগ আড্ডার কথা শুনে সেই ব্লগ আড্ডায় গেলাম। অনেকের সাথে পরিচয় হলো, মোবাইল নাম্বার বিনিময় হলো। অনেকের সাথে ফোনে কথা বলতাম। অনেক ভালো লাগতো সেই মুহুর্ত্ত গুলো।
আমাকে আমার অফিসে, বাসায় অনেক কাজ করতে হয়। তাই কোন একটা সুযোগ পেলে সেখানে আড্ডা জমানোর চেষ্টা করতাম। আসলে নিজেকে এক গেঁয়েমি থেকে মুক্তি দেওয়ার একটা চেষ্টা আরকি। আর ব্লগের অনেকের সাথে পরিচয় হওয়ার পর নিজেকে আর বড় পরিধিতে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য বা আরো অনেককে চিনতে জানতে আমি সবসময় চেষ্টা করতাম।
১১ই অক্টোবরের ব্লগ আড্ডার দিন আমি মিরপুরে খেলা দেখতে গেলাম আমার ছোট ভাই বদরুলকে নিয়ে। সেইখান থেকে আমি ব্লগার রাতমুজুরের কাছে ফোন করে জানতে চেষ্টা করি কারা কারা ব্লগ আড্ডায় আসছে? আর উনি আসতেছে কিনা? রাতমুজুর আমাকে বললো উনি জানেনা কারা কারা আসছে আর উনিও আসবেন কিনা সেটা সিউর না। আমি বললাম ঠিক আছে আপনে গেলে আমাকে জানিয়েন। বদরুল আমাকে বললো আইরিন আপু নাকি আসছে, ঐ সময় আবার খেলাও জমে গেছে। বাংলাদেশের জয়ের সম্ভবনা দেখে ব্লগ আড্ডায় আসার ইচ্ছাটা মাটি দিয়ে দিলাম। কিন্তু বাংলাদেশের যখন ছয় উইকেট পরে গেলো তখন মেজাজটা বিগড়ে গেলো। মনটা খুবই খারাপ হয়ে গেলো। ফলে আমি ব্লগ আড্ডায় চলে আসলাম। এসে দেখি রাতমুজুররা বসে আছে। আমি উনাকে হালকা জারি দিলাম আমাকে উনার আসার ব্যাপারটা নিশ্চিত না করার জন্য। তারপর একে একে সবাই আসতে লাগলো।
আমি ব্লগ আড্ডায় ঘটে যাওয়া সব ব্যাপারগুলোই অকপটে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। যদি ঘুনাক্ষরেও বুঝতে পারতাম এত কিছু হয়ে যাবে তাহলে হয়তো আমি ঐ পোস্ট টি দিতামনা অথবা দিলেও অনেক কিছু ইগনর করতাম। মনে আছে আইরিন আপু যখন আসলো তখন আমি যেচে গিয়ে উনার সাথে পরিচয় হয়েছি। উনার বান্ধবীর সাথে মজা করেছি। যদিও উনারা আমার পাঁচ বছরের সিনিয়র। মনে আছে আমি উনার বান্ধবী তানিয়া আপুকে বলেছিলাম আমার বড় বোন আপনার ক্লাসমেট ছিলো, আপনাকে আমার খুব ভালো লেগেছে। শফিকুল ভাই হয়তো আমার প্রথম বাক্যটি শুনেনি বা শুনে থাকলেও বললো, ইউনুসরে আমি খুব ভালো পাই প্লিজ আপনি একটু ইউনুসের কথা ভেবে দেখবেন। এটা নিয়ে সবাই খুব হাসাহাসি করলো। সুনীলদার অনেক অনুরোধে এবং অন্যান্য ব্লগারদের অনুরোধে এবং উৎসাহে আইরিন আপু একটি গান শুনেয়েছিলো।
ব্লগার মেসবাহ ভাইয়ের সাথে অনেক আগ থেকেই আমার ভালো একটা সু-সম্পর্ক ছিলো ফলে আমি উনার কাছাকাছিই ছিলাম। এবং আমারা দুইজনই সবার শেষে ঐ আড্ডা থেকে বের হয়ে প্রত্যুদার সাথে আড্ডা দিয়ে একসাথে ফার্মগেট পর্যন্ত আসলাম।
আলোচিত বা বিতর্কিত ব্লগার ত্রিভুজ যখন ব্লগ আড্ডায় আসলো, একপাশে কিছু ব্লগারদের সাথে কথা বলছিলো তখন আমি উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম ভাই আপনাকেতো চিনলাম না। উনি বললো আমি ত্রিভুজ। উনার ব্লগ পরিপক্কতা, আর চেহারায় না মিলাতে পেরে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম আপনে যে ত্রিভুজ সেটার কি কোন আইডেন্টেটি আছে? মেসবাহ ভাই আমাকে বলেছিলো যা গিয়ে জিজ্ঞাসা করে আয় আপনি কি সত্যিই রাজাকার? উনি আরো বলেছিলো দেখেতো রাজাকার-টাজাকার কিছু মনে হয়না। আর ত্রিভুজও দেখলাম পিছনে চুপচাপ উনার মতো করে বসেছিলো। একসময় ব্যাপারটা আসলে ভুলেই গিয়েছিলাম। যে যার মতো করে মজা করতে লাগলাম।
তবে আমার পোস্টের পর মেসবাহ ভাইয়ের কমেন্ট এবং এরপর এই ব্যাপারে "ছেলেটির এলার্জি" পোস্ট টি দেখে যারপরনাই বিস্মিত হয়েছি। সাথে আরো বিস্মিত হয়েছি যখন দেখি সবাই মেসবাহ ভাইয়ের কাকতালীয় বলে বিশ্বাস করে নিলো আর এই দিকে আমার কচুকাটা চালাতে লাগলো। কেউরে দেখলাম আমার সাক্ষাৎকার চাইতে, কেউরে দেখলাম আমারে নিয়ে কাল্পনিক সাক্ষাৎকার পোস্ট দিতে। সেটা আসলে বড় বিষয় নয়। তারচেয়ে যে জিনিসটা ভালো লেগেছে সেটা হলো মেসবাহ ভাই ত্রিভুজরে দেখেও সেখানে প্রতিবাদ অথবা চলে না আসার জন্য যে কথা বলেছে সেটা।
আরিফ থেকে আনা ভাইয়ের একটা মন্তব্য যতদূর মনে পড়েছে, একটা পোস্টে পোস্টদাতা উনাকে বলেছিলো আপনিওতো চিটাগাং iiuc পড়তেন। যদি আপনি জানতেন iiuc শিবির তৈরির কারখানা তাহলে সেইখান থেকে আপনি চলে আসতেন? আনা ভাই বলেছিলেন তখন তিনি রাজনীতি নিয়ে এতো মাথা ঘামাতেন না বা এতোকিছু জানতেন না। আসলেই কাজ বা ঘটনার শেষ হলেই কেউ জানতে পারে বা বুঝতে পারে আর কেউ বা এ্যালার্জির চুলকানুর জন্য বাসায় এসে সাবানের পর সাবান শেষ করে ফেলে হাত ধুতে ধুতে। আর অনেক ব্লগাররেই দেখেছি গলা ফাটিয়ে ফেলতে তারা আগে থেকেই জানত ত্রিভুজ ব্লগ আড্ডায় আসবে। তা বাবা জানতেন যদি তাইলে আড্ডায় এসে ত্রিভুজকে বের করে দিতেন, আমরা দেখতাম, আর আপনাদের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে নিতাম আমাদের অক্ষমতার জন্য। ব্লগে সবাই গলাবাজি করতে পারে বাস্তবে কতদূর আবার সেটা প্রমান করার জন্যই ফরহাদউদ্দিন স্বপনদের এই আস্ফালন। আমি কাউকে কষ্ট দিয়ে ফেললে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। তবে যারা বলেছেন সেদিনের ব্লগ আড্ডার পর আড্ডায় যাওয়ার ইচ্ছাটা মরে গেছে তাদেরকে বলছি অবশ্যই আপনারা ব্লগ আড্ডায় আসবেন এবং সকল ভালো, সুন্দরকে বুকের মাঝে লালন করে মজা করবেন।

আমি ব্লগে প্রায়ই দেখতাম এতিম শব্দটি। বিশ্বাস করুন আর নাই বা করুন আমি মনে করতাম এতিম নামে হয়তো জনপ্রিয় কোন ব্লগার ছিলো যে এখন আর নেই। সবাকের ঐ পোস্ট টি দেখার পর আসলেই বুঝতে পারলাম এতিম আর A-টিম সম্পর্কে বা A-টিমের মেম্বারদের সম্পর্কে। তখন আমি বুঝতে পারলাম এই টিম সম্পর্কে। A-টিম কে বলছি যদি আপনারা রাজাকার তাড়ানোর মনোবাসনায়ই এতিম হয়েছেন তাহলে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে দোয়া করছি আপনাদের মনোবাসনা পূর্ণ হোক। তবে সাবধান সেটা যেন কোন দলের দালালী না হয়। কেননা আওয়ামীলীগ, বিএনপি উভয় দলই উনাদের স্বার্থমতো করে এই জামাত-শিবির যুদ্ধাপরাধীদের সাথে আতাঁত করেছে। আর কখনও যেনো কোন নিরপরাধ ব্লগারদেরকে ব্যাক্তি আক্রোশে জামাতী বানিয়ে দেওয়া না হয়।আমিও একবার কিন্তু এই আক্রমনের স্বীকার হয়ে ছিলাম, সেই ক্ষত কিন্তু এখনও শুকায়নি। আমি জানি সেটা ছিলো ব্যাক্তি আক্রোশ। আর না হলে সত্যি সত্যিই আপনারা এতিম হয়ে যাবেন।

আরও অনেক কিছুই বাকি রয়ে গেলো............ হয়তো একদিন বলা হয়ে যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:৩৫
৫২টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×