বাতিল হয়ে যাওয়া ২২ শে নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে একটা কথা খুব জোড়ালো ভাবে প্রচার হয়েছিলো সেটা হলো মনোনয়ন বাণিজ্য। পরে প্রথম সারির কিছুর নেতার মুখে এই সত্যতা পাওয়া যায়। এবং ঐ সময়কার কিছু আসনের প্রার্থী দেখে তা অনুমানও করা যায় বৈকি।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ তৃণমূল পর্যায়ের মতামতের উপর ভিত্তি করে মনোনয়ন দিবে এই কথাটি শোনার পর থেকেই মনে মনে আওয়ামীলীগকে একটা বাহবা দিয়েছিলাম তাদের বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্তের জন্য।
আওয়ামীলীগের তৃণমূল পর্যায়ের মতামত শেষ। শেষ হলো তিনশ আসনের মনোনয়ন প্রার্থীকে মনোনিত করা। কিন্তু বাস্তবে আওয়ামীলীগ তথা শেখ হাসিনা কতটুকু পারলো তৃণমুল মতামতকে গুরুত্ব দিতে?
পাবনা-১ রাজনৈতিক বিবেচনায় আসনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারন এইখান থেকে নির্বাচন করে বিশিষ্ট রাজাকার জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। সেইখানে নিজামী জোটের প্রার্থী হওয়ায় একমাত্র প্রতিদ্বন্ধী আওয়ামীলীগ প্রার্থী। তাই তৃণমূল নেতারা জোটের শক্তি এবং জামাতের আমীরকে ফেল করার জন্য খুব চিন্তা করে তৃণমূল নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ১৯৭৩ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত দলীয় এমপি, সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের নাম বিপুল ভোটে মনোনিত করে কেন্দ্রে পাঠায়। কিন্তু শেখ হাসিনা ব্যাক্তি বিদ্বেষের কারনে তৃণমূল পর্যায়ের মতামতকে উপেক্ষা করে প্রার্থী করেন শামসুল হক টুকুকে, যা নিয়ে পাবনা-১ বাসী তীব্র ক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। অধ্যাপক আবু সাঈয়িদ এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা এখন একটা কথায় বলছে জামায়াতের আমীর নিজামীকে ওয়াকওভার দেওয়ার জন্যই এ সিদ্ধান্ত।
পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি কারন শেখ হাসিনা বলেছেন, 'তোমরা সংস্কারপন্থী'। কিন্তু উনি এটা বিবেচনায় নিতে ভুলে গেছেন যে তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা বিপুল ভোটে জাহাঙ্গীর সাহেবকে মনোনিত করে আসন্ন নির্বাচনে।
মাহমুদুর রহমান মান্না (বর্তমান আওয়ামীলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক) যার নামটি শুনলেই মনে পড়ে যায় একসময়কার ছাত্র রাজনীতির তারকা নক্ষত্রের কথা। ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং ছাত্রলীগের তুখোর এই নেতাকে বগুড়া-২ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। অথচ তাকালে দেখা যায় বিএনপির ঘাঁটি বলে খ্যাত এই আসনে কিছুদিন আগেও আওয়ামীলীগ জামানত হারাত। কিন্তু মান্না সাহেবের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং ডাকসুর রাজনীতির ইমেজকে কাজে লাগিয়ে এইবারের নির্বাচনে খুবই শক্তিশালী প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু তাকেও শেখ হাসিনার কথামতো মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। যদিও পার্লামেন্টারি বোর্ডে এটা নিয়ে কয়েকজন জোড়ালো কথা বললেও শেখ হাসিনার ইচ্ছের কাছে সবাই থেমে যায়।
মৌলভীবাজার-৩ আসনের আরেক বর্তমান আওয়ামীলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক, ডাকসুর সাবেক ভিপি মোঃ মনসুর আহমেদকেও শেখ হাসিনা মনোনয়ন দেয়নি যদিও তৃণমূল থেকে উনার নাম সবার উপরেই ছিলো।
মনোনয়ন দেওয়া হয়নি গাজীপুর-৫ আসনের আক্তারুজ্জামানকে।
মাননীয় শেখ হাসিনা ব্যাক্তিগত বেধাবেদ ভুলে আপনাকে দলের জন্য যা ভালো তা করা উচিৎ। সময়েই বলে দিবে আপনার সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। তবে ব্যাক্তিগত ভাবে শুধু এইটুকু বলতে পারি আওয়ামীলীগের চরম দুঃসময়ে আশির দশকে এই মান্না, মনসুর, আক্তাররাই কিন্তু রাজপথে থেকে আওয়ামীলীগকে বাঁচিয়ে রেখেছিলো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



