গতকালকে আরিফ জেবতিক ভাইয়ের একটি পোস্ট উনি লিখেছিলেন উনি এবার 'না' ভোট দিবেন। কেন দিবেন সেটার একটা ব্যাখ্যাই উনি দিয়েছিলেন। আবার গত বেশ কিছুদিন যাবৎ অনেকেই না ভোট দিবেন বলে মন্তব্য এবং পোস্ট করেছেন। সেগুলোর পরিপেক্ষিতেই আমার এই পোস্ট টি আমার একান্ত কিছু ভাবনা নিয়ে সাজানো হয়েছে।
আমরা আসলে কেন না ভোট দিতে চাচ্ছি কারন আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিহীন আদর্শহীন রাজনীতির জন্য, তাদের ক্ষমতালিপ্সার জন্য। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে বিএনপি, আওয়ামীলীগ ক্ষমতার সিংহাসনে বসার জন্য রাজাকার, ধর্মব্যাবসায়ী, স্বৈরাচারদের সাথে হাত মিলিয়েছে। যদিও ছোট মাঝারী মিলে আরো অনেকগুলো রাজনৈতিক দলের অবস্থান রয়েছে এ দেশে তদপুরি এটা সহজেই অনুমেয় যে এই দুই দলের কোন একটি দলই ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে। আর আমরাও ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এই দুল গুলোকেই নির্বাচিত করি। কেননা আমাদের হাতে অপরচিউনিটি খুবই কম, সেই সাথে আমরা ছোটবেলা থেকেই কোন না কোন দলের সাথে মিশে যায় এবং অন্যান্য দলের সাথে আদর্শের সংঘাতে জড়িয়ে যায়......। ফলে আমাদের ভিতর কাজ করে কিছু সস্তা আবেগ।
কিন্তু সময় বদলেছে........ সেই সাথে আমরা বুঝতে বা বলতে শিখেছি কাল কে কালো বা সাদা কে সাদা। সেইসব বিবর্তনের হাত ধরেই এখন নির্বাচন কমিশনও ব্যালটে 'না' ভোটের ব্যবস্হা রেখেছে। ফলে হতাশ অনেককেই উৎফুল্ল হতেও দেখেছি যে এখন উনাদের ভোটখানাকে রাজনৈতিকবিদদের বিরুদ্ধে একটা হাতিয়ার বানাতে পেরেছে বলে।
কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি আপনার এই না ভোট টির মূল্য আসলে কতটুকু?
আমি যতটুকু জানি বা শুনেছি তাতে হলো যে যদি কোন আসনে 'না' ভোটের সংখ্যা বেশী হয়ে যায় তাহলে সেখানে আবার নির্বাচন হবে। তাহলেতো যেই লাউ সেই কদুই। কারন সেখানে আবার আগের যারা আছে তারাই নির্বাচন করবে.... বা হয়তো ছোটখাট পরিবর্তনও আসতে পারে। কিন্তু আপনার স্বপ্ন পূরন করার মতো কেউ না আসার সম্ভাবনা কিন্তু খুবই ক্ষীন। আরেকটা উল্লেখ করার মতো ব্যাপার হলো যে যদি নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে ঐ আসনের নির্বাচন অনুষ্টিত হয় তাহলে সেখানে স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগও থেকে যায়।
যে এলাকায় পুনরায় নির্বাচন হবে সেখানে আবার নির্বাচনের ঢামাডোল, আবাও অর্থের অপচয়, আবারও সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রার মান ব্যাহত।
যাক আরেকটা ব্যাপার হলো আমরা ধরেই নিতে পারি যে এ পরিমান না ভোট পড়বেনা যে আবার নির্বাচন হবে। কেউনা কেউনা আবার ঠিকই নির্বাচিত হয়ে যাবে .......... আর আমাদের 'না' ভোট দিয়ে প্রতিবাদের ভাষা ক্ষীন কন্ঠে আওয়াজ তুলে ভূমিষ্ট হওয়ার সাথে সাথে মারা যাবে।
আমার কিছু প্রস্তবনাঃ
আমরা মোটামুটি সবাই শিক্ষিত, ভালো-মন্দ বুঝার মতো জ্ঞান আমাদের আছে। সুতরাং আমরা যদি কোন দল না দেখে নিজ নিজ আসনের প্রার্থী বিবেচনা করি এবং সেখান থেকে তুলনামূলক ভাবে সবচেয়ে ভালো প্রার্থীকে ভোট দিই তাহলে আমার মনে হয় প্রত্যেক এলাকা থেকে আমরা ভালো সংসদ প্রতিনিধি পেতে পারি। এবং সেইখান থেকে একটা কার্যকর সরকারও আশা করতে পারি। কারন অনেকগুলো ভালোর সমন্বয়ে ভালো কিছু আশা করাটা মনে হয় বোকামী হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



