somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বিবাহ সমাচার :):DB-);)

০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছুদিন আগে আমার সবচেয়ে বড় ভাইয়ের বিবাহ হয়েছে অর্থাৎ ব্লগীয় ভাষায় কুরবানী হয়েছে। সেই বিয়েতে আমাদের সব ভাইবোন উপস্থিত ছিলো। যেহেতু আমাদের দশ ভাইবোন, সেহেতু খুব কম সময়েই আমরা সবাই একত্রিত হতে পেরেছি। তাই আমাদের মাঝে বিয়ের অনুষ্টান বা মজার বাইরেও সবাই একত্রিত হওয়া নিয়ে অন্যরকম একটা অনুভূতি কাজ করছিলো। উল্লেখ্যযে আমাদের ছয় ভাইয়ের চেয়ে চারবোন বড়। এবং বোনদের সবার বিয়ে হয়ে গিয়েছে, বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে ইনশাআল্লাহ সবাই সুখেই আছে। এখন ভাইদের বিয়ে করার পালা শুরু হয়েছে।
আমার সবচেয়ে বড় বোন যার বয়স কিনা ৪৫। তাকে বিয়ের দিন আমি ধরলাম এই বলে যে আপা আমারতো চুল পেকে যাচ্ছে আমারে কি তোমরা বিয়ে করাবা না। এখনো আমার ইমিডিয়েট বড় ভাইয়ের বিয়ে বাকি আছে। অর্থাৎ আমার বড় আরো দুই ভাই আছে যার মাঝে সবচেয়ে বড় ভাই বিয়ে করিতেছে আর দ্বিতীয়জন এখনো অনার্স করছে।

আমার কথা শুনে সবার সেকি হাসি। সবাই আমার মাথার চুল পরীক্ষা করে দেখলো এবং আরো পাচ-সাতটি পাকা চুল বের করলো। তাদের সেকি মুরব্বীয়ানা। এক আপা বললো তোকে যদি এখন বিয়ে না করায় তাহলেতো তোকে কেউ বিয়ে করবেনা। অন্য আপা হয়তো আমার পক্ষ নিয়ে বলছে আমার ভাই ইন্জিনিয়ার অতএব কোন সমস্যা নাই ইত্যাদি ইত্যাদি।

সবশেষে মজার কথা বললো কাজল আপা, উনি বললো এক কাজ করলে কেমন হয় আজকে রাত্রে আনসারের (যার বিয়ে হচ্ছে) বউ নিয়ে আসার পর তুইও কাউকে বউ সাজিয়ে নিয়ে আব্বার সামনে গিয়ে সেলাম করে বলবি যে, আব্বা আমার চুল পেকে যাচ্ছে এটাতো তোমার চোখে পড়লোনা তাই আমি নিজেই বিয়ে করে ফেলেছি। এখন তোমার বউমাকে আশীবার্দ করে দাও। সবার আপার প্রস্তাব শুনে রাজি হয়ে গেলো। আমি ভয় পেলাম। সবাই বললো বিড়াট একটা মজা হবে, তাই সবার চাপাচাপিতে রাজি হয়ে গেলাম।

সমস্যা বাধলো কে বউ সাজবে সেটা নিয়ে। শেষে আমার ছোট ভাই ইব্রাহীমকে বউ সাজানোর প্রস্তাব করা হলো। প্ল্যান মাফিক আমরা মেয়ের বাড়ি থেকে বউ তুলে দিয়ে সবার আগে আমি আর ইব্রাহীম আমাদের বাড়িতে চলে আসলাম। ইব্রাহীমকে সুন্দর করে সাজিয়ে লম্বা করে একটা ঘোমটা দেওয়া হলো।

সবাই বড় ভাইয়ের বউ নামাতে ব্যাস্থ। গাড়ি থেকে আমার দুই আম্মা ভাবী আর আমার ভাইকে নামাচ্ছে। আর সবাই দুই পাশে লাইন ধরে ফুল ছিটিয়ে দিচ্ছে। গন্তব্য বাড়ান্দায় দাঁড়ানো আব্বা। তারা আব্বাকে সেলাম করার পরই আমি আর ইব্রাহীম গিয়ে আব্বার সামনে দাঁড়ালাম। ঘটনার আকস্মিকতায় সবাই হতবিহবল। আমারও বুকের মাঝে কাঁপন শুরু হয়েছে। তারপরও আল্লাহর নাম নিয়ে বলা শুরু করলাম, আব্বা আমার বয়স হতে হতে প্রায় পচিঁশ বছর হয়ে গেলো। এইদিকে চাকুরীর চাপে মাথার চুলও পেকে যাচ্ছে। তাছাড়া এখনো মেজো ভাইয়ের বিয়ে বাকি আছে। আমি যদি তার অপেক্ষা করতে থাকি তাহলে তো আমার এই জীবনে বিয়ে করা হবেনা। তাই আমিও আব্বা তোমাদের না জানিয়ে বিয়ে করে ফেলেছি। আব্বা তুমি আমাদের মাফ কইরা দেও।

আমার বড় বোন বলতে লাগলো, আব্বা ভালো হয়েছে তোমার কোন টাকা পয়সা খরচ হয়নি। তারা যদি ভালো থাকে তাহলে সমস্যা কি? তুমি তাদের আশীবার্দ করে দাও।

ততক্ষণে আব্বার মুখে কথা ফুটলো। চিৎকার করে বললো ইব্রাহীম আমার বন্ধুকটা নিয়ে আয়। আর বেচাড়া ইব্রাহীম তখন ঘোমটার শাড়ী সরিয়ে বললো, কি হইছে আব্বা? আমি এখনি বন্ধুক নিয়ে আসতেছি।

তখন চারদিকে হাসির রোল পড়ে গেলো। আব্বা সহ সবাই বুঝতে পারলো আমাদের মজা। ততক্ষণে সবাই ইব্রাহীমকে নিয়ে হাসাহাসি করতে লাগলো। আর বেচারা ইব্রাহীম বেয়াকুফ হয়ে এক কোনে দাঁড়িয়ে রইলো।

এর পর থেকে আমার প্রায়ই ব্লগেও আমার বিয়ে নিয়ে একটা দুষ্টামি করতে ইচ্ছে করতে লাগলো। ফলে রাত বারোটার সাথে সাথেই আমি সবাইকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে হ্যাপি নিউ ইয়ার এবং আমার বিবাহ :):DB-);) পোস্ট টি দিলাম।
সে জন্য আমি সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।
তবে এটা সত্যি কথা সবার কাছ কুরবানী মোবারক, শাদী মোবারক শুনে কিন্তু দিলটা জুড়িয়ে গেলো :):D
২৮টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×