somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যায় যাবে দিন সঙ্গীবিহীন আমি আর কারো হবোনা

০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি গ্রামে বড় হয়েছি।আমার একটা বন্ধু সার্কেল ছিল।আমদের কাজ ছিল সারাদিন আড্ডা, হৈ চৈ করে ঘুরে বেড়ানো।এই গাছ, ঐ গাছের ফল চুরি করে খাওয়া।কারও গরু বাধা থাকলে সেটা ছেড়ে দেওয়া।আরও কত কি?
এই করে কিভাবে যে সময় চলে যেত বুঝতেই পারতামনা।

আমাদের স্কুলে যাওয়ার পথে নদীর পাড়ে একটা বিশাল কদম গাছ ছিল।এই জন্য আমরা তাকে কদমতলী বলে ডাকতাম।জায়গাটা অনেক অনেক সুন্দর।

ঐ সময়কার কথা। একদিন স্কুল থেকে আসার সময় আমরা দেখলাম কদমতলীর কদম গাছে অনেক কদম ফুল ফুটেছে।আমাদের সে কি খুশি।সবাই মিলে গাছে উঠে অনেক কদম ফুল পারলাম।তারপর সবাই মিলে ঝগড়া।কে আগে দেখেছে?সবাই বললতে লাগল আমি...আমি।আমিও বলতে লাগলাম আমি।শেষে সবাই মিলে একমত হইলাম যে আমিই দেখেছি প্রথম।তখন আমার সে কি আনন্দ।কারণ সেই সময় আমাদের ভিতর একটা নিয়ম ছিল যে প্রথম দেখবে সেই হবে সেটার মালিক।কেউ তাকে না জানিয়ে একটি ফুলও ছিড়তে পারবেনা।তখন আমার কি যে সুখ।

আসলে ছোট ছোট কিছু আনন্দ মানুষকে কতটুকু সুখী করতে পারে এই প্রথম অনুভব করলাম।

বাসায় এসে মাকে কদমফুল দেখাতেই বলল এখন বর্ষা আসবে, দিন-রাত বৃষ্টি হবে।মার কাছে কারন জানতে চাইলে বলল কদম ফুল নাকি বৃষ্টির আগমনী বার্তা নিয়ে আসে।সেই সময় থেকে কদম ফুল দেখলেই বৃষ্টি,বর্ষা আমার চোখের সামনে ভেসে উঠত, ভেসে উঠে।

বর্ষার সময় আমরা অনেক মাছ ধরতাম।রাত্রে আমরা জাল, কুচ ইত্যাদি নিয়ে বের হতাম।দিনেও জাল, বরশি দিয়ে মাছ ধরতাম।ঠিক তেমনি এক বর্ষায় আমাদের পাশের বাসায় কুষ্টিয়া থেকে কিছু আত্নীয় আসল বেড়াতে।
তাদের মাঝে বৃষ্টি নামে একটি ছোট মেয়ে ছিল।ক্লাস টুতে পড়ত।

আমরা যখন দিনে বরশি দিয়ে মাছ ধরতাম তখন সে আমাদের পাশে বসে থাকত।আমার সাথে দুষ্টুমি করত।আমি মাছ না পেলে বসে বসে কাদত।আমি অবাক হয়ে যেতাম।একসময় দেখা গেল সে প্রতিটা সময় আমার পাশে পাশে ঘুরঘুর করত।আমি যেখানে যেতাম সেখানেই যেত।আমারও খুব ভাল লাগত।আমিও তাকে আদর করতাম।

কিন্তু বেশী সুখ কপালে সইলনা।একদিন তাদের যাওয়ার সময় হলো।সেদিন কি যে বৃষ্টি।মনে হলো বৃষ্টির জন্য আকাশের কান্না, সাথে আমারও।আমি ওদের বিদায় দেখতে পারবনা বলে কদমতলীতে এসে বসে আছি।সাথে আমার বন্ধুরা।কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখি সে কিছু কদম ফুল নিয়ে এসে আমাকে বললো-ভাল থেকো ..... ভাল থেকো .....।আমার মনে আছে সেই সময় আমি দুই দিন কিছু খাইনি।আর সবসময় মন খারাপ থাকত।

এভাবে অনেক সময় চলে গেল।কত কদম ফুল ঝড়ে গেল।কত বর্ষা এলো-গেলো।সেই সাথে বৃষ্টিকেও ভুলে গেলাম।

দশ বছর পর।ময়মনসিংহ থেকে বাসায় গেলাম।আমাদের পাশের বাসায় একটি নতুন সুন্দরী মেয়েকে দেখলাম সবসময় আমার দিকে থাকিয়ে থাকতে আর মিটমিট করে হাসতে।আমি খুব রাগ করতাম।কথা বলতে চাইলে এড়িয়ে যেতাম।এর পরদিন সে আমার পথ আটকিয়ে দাড়ালে, আমি তাকে খুব অপমান করি।সে কিছু বলতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি শুনিনি।তার পরের দিন সকালে ঐ মেয়েটিকে আর দেখি না।আমি ঐ বাসার আশ পাশ দিয়ে ঘুরঘুর করি, কিন্তু তাকে আর দেখি না। নিজের কাছে খুব খারাপ লাগতে লাগল।

কিছুক্ষণ পর ঐ বাসার এক ছোট ভাই আমাকে কিছু কদম ফুল দিয়ে বলল বৃষ্টি দিয়ে গেছে।আমিতো অবাক হয়ে গেলাম।তারপর সে যা বলল তা ছিল এইরকম-"বৃষ্টি এসেছিল।আমি যে মেয়েটিকে দেখে রাগ করতাম সেই ছিল বৃষ্টি।সে এসেছিল কারণ সে আমাকে ভালবাসত।তার বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিলো, তাই সে লুকিয়ে এখানে চলে এসেছিল আমার জন্য"।আজকে খুব সকালে তার বাবা-মা তাকে নিয়ে গেছে।

আমি কদম ফুলগুলো নিয়ে দাড়িয়ে রইলাম।আর মনের অজান্তেই চোখের পানিগুলো বৃষ্টি হয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগল।
২৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×