ইউনিতে বিএসসি কোর্স প্রায় শেষ। থিসিস অথবা ইন্টার্ণী করলেই শেষ। খুশী হওয়ার পরিবর্তে চোখে-মুখে অন্ধকার। কিছুই পারিনা গেইম খেলা ছাড়া। রাতের পর রাত গেইম খেলে পার করে দিসি। প্রোগ্রামিং এর বেসিক 'সি' ও পারিনা। কিন্তু এর মাঝে ইউনিতে এক প্রোগ্রামিং কনটেস্ট এ অংশ গ্রহণ করে চ্যাম্পিয়ন। সেই সাথে এনএফএস-২ তেও চ্যাম্পিয়ন, এ্যাজ অফ এ্যাম্পায়ার্স এ রানার আপ হইলাম। বাংলাদেশের প্রায় সমস্ত জাতীয় দৈনিকে খবরটা আসলো। বাপে সমস্ত পত্রিকা জোগাড় কইরা গ্রামের সবাইকে দেখাতে লাগলো। ডেইলি স্টার আমাদের গ্রামে যায়না। তাই ময়মনসিংহ শহর থেকে ডেইলী স্টার নেওয়াইলো। গ্রামের সবাইরে বললো ইংরেজী পত্রিকাতেও খবর আসছে।
আমি যখন গ্রামে গেলাম। মোটামুটি একটা মিছিল হয়ে গেলো আমারে নিয়া। আমার গ্রামে যাওয়ার খবরে এলাকার মানুষ খন্ড খন্ড মিছিলে আমাদের বাড়ির সামনে হাজির। ব্যপারটা যথেষ্ট হাস্যকর হলেও গ্রামের মানুষের ভালবাসায় আমার হইলো মহাচিন্তা। আমি যে কেমনে প্রোগ্রামিং কনটেস্টে চ্যাম্পিয়ন হইছি সেইটাতো আমি জানি। বুদ্ধি করে, ক্যাচাল লাগিয়ে যদি ইউনির সবচেয়ে ভালো প্রোগ্রামিং পারে এমন ভালো দুইটা পোলারে আমার পক্ষে না নিতাম
হতাশার শেষলগ্নে এসে হঠাৎ করে আমার ইউনির এক সাবেক স্যার শাহরুখজ্জামান স্যারের কথা মনে হইলো। দুইমাস উনার ক্লাস করেছিলাম। দুইমাস পরই উনি ওয়ারিদে জয়েন দিলেন। আমি স্যাররে ফোন দিয়া কিছু একটা ব্যবস্থা করার কথা বললে স্যার আমার বাড়ীর কথা জানতে চাইলো। আমি বললেই স্যার চিৎকার দিয়ে বললো আমার বাড়িও তো তিন গ্রাম পরে। বললো উনি কিছু একটা ব্যবস্থা করবেন। বিকালেই আমাকে ফোন দিয়ে সিভি পাঠাতে বললো। শাহরুখজ্জামান স্যারের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ। স্যার এখন স্কলারশীপ নিয়া আমেরিকা আছে। মিজান ভাইয়ের কাছে শুনেছিলাম শাহরুখজ্জামান স্যার ব্লগার রাগিব ভাইয়ের খুব কাছের বন্ধু।
পরেরদিন সকালে একটা ঠিকানা জানিয়ে বললো যোগাযোগ করতে। উনি মিজান ভাই। ইনফরমেটিক্স সফটওয়্যারের প্রতিষ্টাতা সি.টি.ও। একসময় উনি সামহোয়্যারইনেও চাকুরী করতো। কথা বার্তা বলে আমারে পছন্দ করে ফেললো। ঝাপাইয়া পড়লাম উনার সাথে। কিছুই পারতামনা। ঝাড়ি
শেষে কিছু চিকন বুদ্ধি খাঠাইয়া ঝাড়ি কমাইলাম। ধীরে ধীরে কিছু কিছু জিনিসও বুঝতে পারলাম। ইউনির থিসিসের জন্য মিজান ভাই একটা এ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার বানাতে বললো। যেটা ক্লায়েন্টের জন্য লাগবে এবং সেই সাথে ইউনিতেই জমা দিবো। প্রোফেশনালিজমের সর্বোচ্চ ব্যবহার দেখলাম মিজান ভাইয়ের কাছ থেকে। দুই মাসে সফটওয়্যারটা একটা পজিশনে দাঁড়াইয়া পড়লো। সেই সময় ব্যাপকভাবে সাহায্যে করলো জাক্সারা আইটির রফিক ভাই। প্রচন্ড ব্যস্ততার মাঝেও আমাকে বিরাট সাহায্যে করলো। মিজান ভাই প্রজেক্সটি দেখে আমাকে সাথে সাথেই দশহাজার টাকা দিলো
ইউনির সফটওয়্যার শোতে এই একাউন্টিং সফটওয়্যার দিয়া আমি চ্যাম্পিয়ন হইলাম। এইবার মিডিয়ার পাশাপাশি চ্যানেই আইও কাভারেজ দিলো
ইনফরমেটিক্স এ জয়েন দিয়া দিলাম। কিছুদিন কাজ করে একটা সমস্যায় ইনফরমেটিক্স ছেড়ে দিয়ে রাইট ব্রেইন সলুউশান এ জয়েন করলাম। সেইখানে ছিলাম ১৪ মাস। এর মাঝে মিজান ভাইয়ের সাথে পারসোনালি কাজ করেছি প্রচুর। হঠাৎ করে উনি অফার দিলেন কমপিউটার জগৎ পোর্টালের জন্য। রাজি হয়ে গেলাম যদিও ইউনিকোডে কাজ করার কোন রকম অভিজ্ঞতায় আমার ছিলোনা। যায় হোক রাইট ব্রেইন সল্যুউশান এ টুইটারের ক্লোন, রেডিও ফূর্ত্তির সাইট, গ্রামীনফোন-সুন্দরবন কুড়িয়ারের একটা সাইট নিয়া তিনটা প্রজেক্টে প্যারালালি কাজ চলতে লাগলো। সাথে বাসায় কমপিউটার জগৎ। হাফিয়ে উঠলাম। ঘরে বাইরে নিজের পারফরমেন্স খারাপ হতে লাহলো। তাই ব্যক্তিগত কাজের ব্যস্থতায় আবার কোম্পানী ছেড়ে দিলাম এবং জয়েন দিলাম মিজান ভাইয়ের ইনফরমেটিক্স এ। এখনো ইনফরমেটিক্স এ মিজান ভাইয়ের সাথে কাজ করে যাচ্ছি।
রিসেন্ট করা আমার কিছু কাজের লিংকঃ
http://www.comjagat.com
http://www.nextalkpinless.com
http://www.yisland.com
http://www.flattenme.com(only html & design)
http://www.moonri.se (Team member)
http://www.shiree.org (Team member)
তাছাড়া কাজের ফাকেঁ ফাকেঁ আরো বেশ কিছু ব্লগ সাইট, ফোরাম তৈরীর প্রক্রিয়াও জড়িত ছিলাম। মিজান ভাইয়ের মতো আমারও জেডসিই পরীক্ষা নিয়া কোন রকম মাথা ব্যথা নাই
[ দুঃখিত পোস্ট টি একান্তই ব্যাক্তিগত ক্যাচাল ]
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


