বেশ ঢাক-ঢোল পিঠানো হলো। টিভি-পত্রিকায় লেখক, বুদ্ধিজীবি, রাজনীতিবিদ, কলামিস্টদের কথার শব্দমালায় ভরে উঠলো। বিরোধীদলীয় নেত্রী পর্যন্ত সংবাদ সম্মেলন ঢেকে প্রচ্ছন্ন হুমকী এবং সাধুবাদ নেওয়ার তড়িকা পর্যন্ত বললো। বুঝাই যাচ্ছে এবারের সফর অতীতের সমস্ত সফরের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হয়েছে। মূলত এক-এগারোর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নিরুঙ্কুষ জয় এবং আওয়ামীলীগ সরকারের পরবর্তী কিছু সিদ্ধান্ত ও কার্যক্ষমই যে এর মূল কারন সেটা বুঝা যায়।
বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিবিক্রেতারা এখনো মনে করে আওয়ামীলীগ সরকারের নিরুঙ্কুশ জয়ে বিদেশীরা বিশেষ করে ভারতের হাত আছে। অনেকেই ভাবে মঈনউদ্দীনের সফরের প্রাপ্তি ৬ ঘোড়ার পেটে করে ভোট মেশিনও চলে এসেছিলো যা আওয়ামীলীগকে জিততে সহায়তা করেছে। আওয়ামীলীগ সরকারের বিশেষ কিছু কার্যক্ষমেও ব্যপারটা উদ্বেগজনক এবং সন্দেহমূলক বলে প্রমান হয়েছে। এর মাঝে -
১। সমুদ্রসীমা নিয়া ভারতের জাতিসংঘে দাবি জানানোর অনেকদিন পরও বাংলাদেশের কোন ভূমিকা না নেওয়া। সাংবাদিক,কলামিস্ট,রাজনীতিবিদ,বুদ্ধিজীবিরা যখণ এ ইস্যু নিয়ে সরগরম তখন একেবারে শেষ মুর্হুর্তে এসে বাংলাদেশের পক্ষে দাবি জানানো।
২। টিপাইমুখী বাঁধ নিয়ে যখন একমাত্র আওয়ামীলীগ ছাড়া সারা বাংলাদেশের মানুষ সরগরম তখন বাঁধ পরিদর্শন শেষে আব্দুর রাজ্জাকের নির্লজ্জের মতো বক্তব্য - "টিপাইমুখী বাঁধ হলে বরং বাংলাদেশই সুবিধা পাবে।" আজো বুঝতে পারিনা বাংলাদেশ কি ধরণের সুবিধা পেতে পারে?
৩। উলফার প্রধান নেতাদেরকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ভিতরে ধৃত এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যথারীতি অস্বিকার। যদিও শেষ পর্যন্ত রাজখোয়ার আদালতের বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চরম মিথ্যুক সেটা প্রমানিত হয়েছে। এখানে সবচেয়ে বেশী উদ্বেগজনক ব্যপার ছিলো একটা স্বাধীন দেশে অন্যদেশের সামরিক বাহিনী ঢুকে আসামী ধরা এবং সরকারের জনগণকে অন্ধকারে রাখার ব্যপারটা।
৪। ভারতীয় বাহিনীর বাংলাদেশে ভারতের দূতাবাসের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়া নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য।
৫। কিছুদিন আগে বাংলাদেশকে বাফার স্ট্রেট বলা হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোন প্রতিবাধ না করা।
যাই হোক একটা বিশেষ কারনে সরকারের সফর কিছুদিন পিছিয়ে গিয়েছিলো। এর মাঝে হঠাৎ করে বাংলাদেশের প্রথম সাড়ির দৈনিকগুলোতে নিউজ হয়ে আসে তিস্তা নদী নিয়ে একটা চুক্তি হয়ে যেতে পারে এ সফরে। খবরটা ছিলো নিঃসন্দেহে ধারুন।
১২৪ জন পয়গম্বর নিয়ে জননেত্রী, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, দেশরত্ম, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের উদ্দেশ্য রওনা দিলেন। রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলে এতো লোকের সফর দেখে অনেকের চোখ কপালে উঠলো। আওয়ামীলীগেরই এক নেতাকে আফসোস করতে দেখলাম এই বলে যে - শেখ হাসিনার বাড়ীর দারোয়ানকে কেনো নেওয়া হলোনা। তাৎক্ষণিক আরেকজন নেতা উনাকে শুধালো যে, দারোয়ান নিয়ে গেলে বাসা পাহাড়া দিবে কে? কথা বাড়তে থাকে, কথায় রং লাগে। এর আগেরবারের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সম্মানসূচক স্ট্রেট গেস্ট হাউসে থাকতে দিলে উনি নাকি উনার সমস্ত আত্নীয়স্বজন নিয়ে উঠেছিলেন। যা ছিলো রীতি বর্হিভূত। অনেকেই এ সময় এটাকে রিফিউজি ক্যাম্প বলেও সমালোচনা করেছিলো।
এবারের ভারত সফরে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের লালগালিচা স্বংবর্ধনা দেওয়া হইলো। যা জাতির জন্য বিশেষ গর্ব বয়ে এনেছে। বিশেষ করে আওয়ামী ঘরানার পত্রিকাগুলো যেভাবে লালগালিচাকে শিরোনামে ব্যবহার করছে তাতে এইটা মনে হওয়াটা নিশ্চিত।
সম্মানসূচক ইন্দিরা গান্ধী পুরষ্কার। যা এ দেশের দ্বিতীয় কেউ পেলো।
বাংলাদেশের জনগণের জন্য বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে বললেন - "বাংলাদেশের জনগণের জন্য বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা নিয়ে দেশে ফিরছি।" এমন ভাবে বলেছেন যেনো ভারতের কেউ বাংলাদেশ সফরে তা বয়ে নিয়ে এসেছে।
১০০ কোটি ডলারের ঋণের বোঝা
২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
নেপাল-ভারতে ট্রানজিটের প্রতিশ্রুতি
মারহাবা। মারহাবা। মারহাবা। মারহাবা।
ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করছি ভারতে সফরে বাংলাদেশের কোন প্রাপ্তিই নেই।
১০০ কোটি ডলারের ঋণ কত সুদে কিভাবে কতদিনে দিতে হবে তা জাতির সামনে পরিষ্কার করা হয় নাই। এই ঋণ শুধুমাত্র রেলওয়ে খাতে এবং বাসের জন্য ব্যবহার করা হবে। সুতরাং এই ৭ হাজার কোটি টাকা যখন শুধুমাত্র রেলওয়ে এবং বাসের জন্য ব্যবহার করা হবে তখন এই ভেবে চিন্তিত হচ্ছি যে কত কোটি টাকা এইখান থেকে লুটপাট হবে।
২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আশা জাগালেও চিন্তা দূর হয় নাই। যেখানে ভারতই তাদের বিদ্যুৎ চাহিদা মিটাতে পারছেনা সেখানে বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ দিবে কিভাবে? কি স্বার্থ হাসিলের জন্য? আর কত টাকার বিনিময়ে এই বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। ত্ত্বাবাধয়ক সরকারের আমলে যখন চালের সংকট তৈরী হয়েছিলো তখন ভারতে চাল দিয়েছিলো যার কেজি পড়েছিলো ৪৫ টাকার উপরে।
তিস্তা নিয়ে আগামী তিনমাসের মাঝে মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক শুরু হবে। এইটাকে যদি কেউ সাফল্য বিবেচনা করেন তাদের দলে আমি নই। যেখানে এইটা নিয়ে একটা চুক্তি হওয়ার কথা সেখানে বৈঠকের আশ্বাস।
ভারতকে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে দিবে। কিসের বিনিময়ে? নেপাল-ভারতে ট্রানজিটের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে?
টিপাইমুখ প্রশ্নে ভারত বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর কোন পদক্ষেপ নেবে না ভারত সেই রকম আশ্বাস। যা শুনলে শুধুমাত্র ফারাক্কার স্মৃতি ভেসে উঠে।
শুল্কমুক্ত সুবিধার আশ্বাস শুনতে শুনতে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার জোগাড় হইছে।
জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা সকাল থেকেই এয়ারপোর্টের রাস্তা দখল করে বিকেলে যেভাবে সফর ফেরত প্রধানমন্ত্রীকে ফুল ছিটালো তাতে মনে হইছে উনি বিশ্ব জয় করে ফেলেছে।
অথচ বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল ভারতে প্রদর্শন হয়না। সেটা নিয়ে কোন কথায় হয়না।
প্রতিদিন সীমান্তে বিসিএফের গুলিতে মানুষ মারা যায় নেই কোন প্রতিবাদ।
বিসিএফের সহায়তায় ভারতের চোরা পণ্যতে দেশের বাজার সয়লাব নেই কোন প্রতিবাদ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

