somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পড়তে মন না চাইলেও প্লিজ একবারের জন্য মাইক টাইসনের এই সাক্ষাৎকারটা পড়ুন

০৩ রা অক্টোবর, ২০১০ রাত ২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

 বছর বিশেক আগেও আপনি ছিলেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। সবাই আপনাকে নিয়ে মাতামাতি করত। জীবনের এই পর্যায়ে এসে কী মনে হচ্ছে?
মাইক টাইসন: আমার বয়স এখন ৪৪। এখন বুঝতে পারছি, জীবনের পুরোটাই অপচয় করেছি। আমি যা না, তা-ই ভাবতাম নিজেকে। স্বার্থপরের মতো শুধু নিজেরটা দেখে এসেছি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে যখন দেখি, তখন মনে হয়, একটা দুর্গন্ধযুক্ত শুয়োরকে দেখছি।

 শুনে মনে হচ্ছে খুব কষ্টে আছেন?
টাইসন: আমি তো সত্যিই এ রকম। তাই কষ্ট পেয়ে কী হবে? কেউ যখন আমার সঙ্গে হাত মেলাতে চায় বা জড়িয়ে ধরতে চায়, নিজেকে খুব নোংরা লাগে। নিজের বাচ্চাদের ধরার আগেও আমি হাত ধুয়ে নিই। মনে হয়, একটু হলেও নোংরা পরিষ্কার করলাম। আমার চার বছরের মেয়েটাকে হারানোর পর উপলব্ধি করি, আমার এমন কিছু করতে হবে, যা মানুষের উপকারে আসবে।

 আপনি কি এমন কিছু করতে যাচ্ছেন, যেটা সন্তানহারা মা-বাবাদের উপকার করবে?
টাইসন: আমি আসলে জানি না। এই ব্যাপারটা আমার ভেতর মিশ্র অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। মাঝেমধ্যে মনে হয়, আর সবাই মরে গিয়েও যদি ও বেঁচে থাকত! মেয়েটা মারা যাওয়ার পর, শেষকৃত্য করেছি ও চিকিৎসকের বড় অঙ্কের বিল পরিশোধ করেছি। ওদিকে আমার পকেটে ফুটো পয়সাও ছিল না ওই সময়। কষ্টের পাহাড় বুকে বেঁধে কীভাবে কী করেছি, নিজেও জানি না। কয়েক বন্ধুর যে সাহায্য সেই সময় পেয়েছি, মনে হয় আমি তার যোগ্য না।

 ১২ বছর বয়স থেকে সংগ্রাম করে একটা পর্যায়ে এসেছিলেন। সেই জীবনটা যখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে, আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?
টাইসন: এটা জীবনের একটা সহজ সমীকরণ। আপনি যদি নিজে থেকে বিনয়ী না হন, তবে প্রকৃতি একসময় আপনাকে ঠিকই বিনয়ী হতে বাধ্য করবে। আমি শেষ হয়ে গেছি। কিন্তু এই জায়গা থেকেও যুদ্ধ করেই টিকে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

 শুনেছি আপনি এখন নিরামিষভোজী?
টাইসন: হ্যাঁ। প্রায় ১০ মাস হতে চলল। নিরামিষের শক্তিটা টের পাচ্ছি।

 কী রকম উপকার পাচ্ছেন?
টাইসন: ছোট এক টুকরো মাংস খেলেও আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। প্রচণ্ড কষ্ট হয়। এ জন্য আমাকে অনেক প্রিয় খাবার ছেড়ে দিতে হয়েছে। কিন্তু কী আর করা।
 শুনেছি আপনার প্রথম ‘লড়াই’ ছিল একটা পাখি নিয়ে?
টাইসন: ছেলেটার নাম ছিল গ্যারি ফ্লাওয়ার। বয়সে একটু বড় ছিল। কিন্তু আমার পোষা পাখিটাকে মেরে ফেলার পর আমি সহ্য করতে পারিনি। সেদিন ওকে পিটিয়ে সবার যে পরিমাণ তালি পেয়েছিলাম, সেটাই আমাকে একজন ফাইটার হওয়ার উৎসাহ দিয়ে গেছে। বাকি জীবন এই তালি পাওয়ার জন্যই লড়ে গেছি। তবে এখন সবকিছু অর্থহীন মনে হয়। মনে হয়, সবকিছুর জন্য প্রায়শ্চিত্ত করা উচিত আমার।

 কী ধরনের প্রায়শ্চিত্ত?
টাইসন: ঠিক জানি না। শুধুু জানি, আমি যে অবস্থায় আছি এখানে আমার থাকার কথা নয়। হয়তো ফাঁসির আসামি হয়ে যেতাম, নয়তো অপঘাতে মারা যেতাম। এইডস বা অন্য কোনো কঠিন রোগেও মরে যেতে পারতাম। এ রকম কোনো কিছু হলেই আমার জন্য ঠিক হতো। ...আমার মধ্যে বিনয় বলে কোনো জিনিস নেই। তবে আমি চেষ্টা করছি নিজেকে বদলে ফেলার। অনেক চেষ্টা করছি। জানি না, কতটুকু পারব।

 লড়াইয়ের আগমুহূর্ত পর্যন্ত আপনার প্রতিপক্ষরা বেশ হম্বিতম্বি করত। কিন্তু আপনার চোখে চোখ রাখা মাত্র তাঁদের মনের সেই জোরটা কোথায় যেন হারিয়ে যেত। ট্রেভর বারবিক, মাইকেল স্পিংকস, ডনোভান ‘রেজর’ রুডক, ফ্রাঙ্ক ব্রুনো থেকে ল্যারি হোমস পর্যন্ত সবাই কেমন যেন চুপসে যেতেন। যেন জাদুর ভেলকি।
টাইসন: জাদুটাদু কিছু নয়। ভীতি প্রদর্শন করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা একটা শিল্প। এটা পুরোপুরি বৈধও।

 ভয় দেখাতেন কীভাবে?
টাইসন: প্রথমে আমার নিজেকে বিশ্বাস করাতে হয়েছে, বিশ্বাস না হলে জোর করে করাতে হয়েছে...এভাবেই।

 কী বিশ্বাস করাতে হয়েছে?
টাইসন: আমি প্রয়োজনে তাকে খুন করে ফেলতে পারি। এটা যে মিথ্যা নয়, সেটা চোখেমুখে ফুটিয়ে তুলতে হবে। প্রতিপক্ষকে বিশ্বাস করাতে হবে।

 প্রত্যেক ফাইটারই তো তা চান। আপনি তাঁদের থেকে আলাদা কোন দিক দিয়ে?
টাইসন: সবাই চাইলেও তা করতে পারে কজন? সত্যি বলতে অনেকেই ছিল, কিন্তু আমার মতো করে কেউই তা করতে পারেনি। আমি আত্মপ্রশংসা করছি না। জেনেবুঝেই বলছি। আমার মতো হিংস্র আর কেউ ছিল না। আমার ম্যানেজারের কাছে বিখ্যাত সব ফাইটারের ভিডিও ফুটেজ ছিল। রাতের পর রাত আমি সেগুলো দেখেছি, শিখেছি।

 বক্সিংয়ে আপনি যে কৌশলগুলো শিখেছেন, বাস্তব জীবনে তা কাজে লেগেছে?
টাইসন: অবশ্যই। কিন্তু আমাকে ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হয়েছে। রিংয়ের জীবনটা আলাদা। ওখানে প্রতিটি মুহূর্তে প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হওয়ার মানসিকতা নিয়ে থাকতে হয়। কিন্তু বাস্তব জীবনে তো সেটা সম্ভব নয়।

 আপনার কাছে নিয়মানুবর্তিতার মানে কী?
টাইসন: নিয়মানুবর্তিতা সেই জিনিস, যেটা আপনার একদমই পছন্দ নয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটাই কাজে লাগে।

 হলিফিল্ডের সঙ্গে কুখ্যাত লড়াই সম্পর্কে বলবেন?
টাইসন: দেখুন, বক্সিং নিয়ে এখন আর আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। (হলিফিল্ডের কান কামড়ে) আমি ভুল করেছিলাম। যা করেছি, সেটা বক্সিংয়ের মধ্যে পড়ে না।

 নিজেকে কি এখন মুক্ত মনে হয়?
টাইসন: একবারের জন্যও মনে হয় না। নিজেকে এখনো বন্দী লাগে। কিন্তু আমি জেলের বাইরে। অদ্ভুত একটা অনুভূতি। আশপাশে আমার টাকাওয়ালা অনেক বন্ধু। তাই মনে হতে পারে, আমার অনেক টাকা। কিন্তু আমার কাছে টাকা নেই। এখন আমার আর তারকাখ্যাতিও নেই। এ রকম অদ্ভুত এক জেলে বসে আছি আমি...।

 জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কি এভাবেই চলবে?
টাইসন: আশা করি না। সম্মান নিয়েই কবরে যেতে চাই।

সূত্রঃ Click This Link
১৫টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×