somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ধন্যবাদ ব্লগার জটিলঃ স্তন ক্যান্সার, জনসচেতনতা এবং breast self examination
সম্মানিত ব্লগারের তথ্যপূর্ন পোষ্টটির সাথে যোগ করছি কিছু কথা।

বেশ কয়েক যূগ থেকেই মেয়েদের নিজে নিজেই স্তন পরীক্ষা করার মাধ্যমে ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতন থাকা আর সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে আসা হচ্ছে। এমনকি আমাদের দেশে ও এই পদ্ধতিটি এখন জনপ্রিয়।ডাক্তার পরামর্শ দিচ্ছেন রোগীকে। পিছিয়ে নেই পেপার পত্রিকা সহ অন্যান্য মিডিয়া গুলোও।
তবে,এই বিষয়ের উপর করা সাম্প্রতিক গবেষনা জানাচ্ছে কিছু অন্যরকম তথ্য।
বলা হচ্ছে,breast self examination এর এই পদ্ধতি ক্যান্সার থেকে উত্তরনে তেমন কোন হেল্প তো করছেই না,বরং প্রকৃত অর্থে কিছুটা ক্ষতি করছে।
এই রিপোর্ট টি দেখতে পারেন এখানে,

Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28858380 http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28858380 2008-10-23 00:00:18
ও মন রমজানেরই রোজার শেষে http://www.sonarbangladesh.com/

বাংলাদেশে কাল বা পরশু ঈদ হতে পারে। জানি, সবাই আগাম খুশিতে মেতেছে।
এই সূদুর জার্মানীতে একটু আনন্দ আর অনেকটাই নিরানন্দ ঈদ কাটাচ্ছি।

তবু স্বজনহীন ভারাক্রান্ত এই মনেও ঈদের খুশি বন্যা এক মূহুর্তেই বইয়ে দিতে পারে যে অমলিন গানটি,সেটাই একমাত্র সঙ্গী আজকের।

আপনিও শুনুন...ঈদের আনন্দ আর চেতনায় উজ্জিবিত হোন নতুন করে।

ও মন রমজানেরই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ...


http://www.sonarbangladesh.com/

সবাইকে ঈদ মোবারক আসসালাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28849775 http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28849775 2008-09-30 18:11:13
রিপোষ্ট জার্মানীতে উচ্চশিক্ষা প্রথম বার পোষ্ট করার পর ড্রাফট করে রেখেছিলাম,পরে পোষ্ট করেছি...তাই অনেক পেছনে পড়ে গিয়েছে। লেখাটা দরকারী মনে হল,তাই রিপোষ্ট করলাম...কারো বিরক্তির কারন হলে খুবই দুঃখিত।
জার্মানীতে উচ্চশিক্ষা
লিখেছেন মোকাররম হোসেন

গত বছর আগস্টে এশিয়া এনার্জির উদ্যোগে জার্মানিতে কয়লাখনি দেখাতে একদল সাংবাদিককে ভ্রমণ করানো হয়। তারা আসেন জার্মানির কোলনে। সফররত সাংবাদিকদের মধ্যে দৈনিক আমার দেশের চিফ রিপোর্টার সৈয়দ আবদাল আহমেদ ও নয়া দিগন্তের চিফ রিপোর্টার মাসুমুর রহমান খলিলী (বর্তমানে বার্তা সম্পাদক) পূর্বপরিচিত। সেই সূত্রেই জার্মানিতে উচ্চশিক্ষারত বাংলাদেশী ছাত্রদের বর্তমান অবস্থা, শিক্ষা, চাকরিসহ বিদ্যমান বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাগুলো সম্পর্কে তাদের সাথে আলোচনা হয়। পরে পত্রিকা দু’টিতে এ বিষয়ে দু’টি রিপোর্টও করা হয়। এখানে আরো কিছু তথ্য ও অভিজ্ঞতা লেখার আশা রাখি।
বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত মানসম্পন্ন শিক্ষা, গবেষণা, অগণিত আবিষ্কার, ভারী যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী আর দু-দু’টি বিশ্বযুদ্ধের দেশ জার্মানি যে একটি আলোচিত দেশ, তা বলাই বাহুল্য। গবেষণা আর উন্নতির চরম শিখরে আরোহণের পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থাও যে বিশ্বমানের ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
কবি রবীন্দ্রনাথ নাকি বিংশ শতকের শুরুতে জার্মানির শিক্ষাব্যবস্থার উঁচু মান দেখে আক্ষেপ করে বলেছিলেন ‘আমার ডিগ্রিটা যদি জার্মানি থেকে হতো’। রবীন্দ্রনাথের আক্ষেপ যে খুব একটা বাড়াবাড়ি ছিল না, তা বোঝা যায় গোটিংগেন (Goettingen) বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গেলে। গণিত বিদ্যায় উচ্চশিক্ষার এক সময়ের তীর্থস্থান ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই চল্লিশের অধিক বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। সেই রাম আর অযোধ্যা হয়তো এখন আর নেই। দু’টি সর্বগ্রাসী বিশ্বযুদ্ধই এর অন্যতম কারণ।
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার প্রায় ৩০০ ইনস্টিটিউশন রয়েছে। এর মধ্যে ৮২টি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৩৬টি অ্যাপ্লাইড বিশ্ববিদ্যালয় এবং মিউজিক ও ফাইন আর্টবিষয়ক ৪৬টি কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ২০ লাখ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ১২ শতাংশ বিদেশী। বিদেশীদের মধ্যে আবার ৯ শতাংশই পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা জার্মানিতে শেষ করেছেন। গত ১৫ বছরে জার্মানিতে বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে।
জার্মানিতে মূলত তিন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় আছে। প্রথমত, অ্যাপ্লায়েড বিশ্ববিদ্যালয় (Applied Science University)। যেখানে ছাত্রদের মূলত চাকরি অরিয়েন্টেড (Job Oriented) বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়া হয়। গবেষণামূলক কাজ এখানে হয় না বললেই চলে। দ্বিতীয়ত, টেকনিক্যাল বা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (Technical university), যেখানে প্রকৌশলসহ বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলো পড়ানো হয়। সাথে সাথে রয়েছে ব্যাপক গবেষণামূলক প্রকল্প। তৃতীয় ভাগে আছে নরমাল বিশ্ববিদ্যালয়, যেগুলো মূলত ইউনি (UNI) হিসেবে পরিচিত। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, কলা, বাণিজ্যসহ সব অনুষদই পড়ানো হয়। আকারে ইউনিগুলো বড় হয়ে থাকে।
অনেক ইংলিশ ভাষাভাষী দেশে ছাত্রবৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নিজ অর্থায়নে (Self Finance) পিএইচডি করার সুযোগ থাকলেও জার্মানিসহ অনেক ইউরোপীয় দেশ এই নিয়মের ব্যতিক্রম। এখানে পিএইচডি পর্যায়ের সব ছাত্রই প্রায় চাকরির সমপরিমাণ বৃত্তি বা বেতন পেয়ে থাকেন। কিন্তু এসব সুযোগ বিজ্ঞান বা প্রকৌশল বিষয়ের ছাত্রদের জন্যই বেশি।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিষয় নির্ধারণের ব্যাপারে আপনাকে বুদ্ধিমান হতে হবে। সব বিষয়ে (Subject) ফান্ড পর্যাপ্ত নয়। বাংলাদেশ থেকে একজন ছাত্র যা ব্যবহারিক জ্ঞান নিয়ে আসে, তা জার্মানির মতো হাইটেক দেশের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ছাত্রদের নতুন জিনিস জানা এবং শেখার স্পৃহা থাকতে হবে। ভালো বিষয়, ভালো বিশ্ববিদ্যালয় এবং ছাত্রবৃত্তির জন্য যথেষ্ট ধৈর্য নিয়ে ইন্টানেটে সার্চ করা এবং যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হবে। বুদ্ধিজীবী নামের কলঙ্ক, পার্শ্ববর্তী দেশের অর্থে পরিচালিত গণমাধ্যম আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমিকে যখন ব্যর্থ রাষ্ট্র (Dysfunctional State) প্রমাণের জন্য আদাজল খেয়ে নেমেছে। তখন হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে একটি হাইটেক দেশে আমাদের দেশের অজপাড়াগাঁয়ের ছেলেরাই তাদের মেধার যথেষ্ট স্বাক্ষর রেখে চলেছে। বিগত বছরগুলোতে যেসব ছাত্র উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে পাড়ি জমিয়েছে তার প্রায় ৯৫ শতাংশ ছাত্রই সফলভাবে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে চাকরি, পিএইচডি, পোস্ট ডক্টরেট গবেষণা বা বিভিন্ন গবেষণা কাজে নিয়োজিত আছেন। মজার ব্যাপার হলো সংখ্যায় কম হলেও বাংলাদেশী ছাত্ররা পার্শ্ববর্তী ভারত বা পাকিস্তানের ছাত্রদের তুলনায় বেশিগুণ সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে।
বর্তমানে প্রায় অর্ধশতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্স চালু আছে। ধীরে ধীরে সব বিশ্ববিদ্যালয় একাধিক বিষয়ে ইংরেজি মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মাস্টার্স কোর্স চালুর পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রদের দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজনে ব্যবহারিক জার্মান ভাষা শিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কোর্সগুলোতে জার্মান ভাষার কোর্স বিনামূল্যে শেখানো হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খণ্ডকালীন ছাত্র চাকরি বা পিএইচডি গবেষণার জন্য জার্মান ভাষা তেমন একটা জরুরি নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পার্টটাইম কাজের জন্য জার্মান ভাষা জানা জরুরি।
চাকরির ক্ষেত্রে জার্মান ভাষা জানা থাকলে বাড়তি সুবিধা এবং চাকরি পাওয়া সহজ হয়। জার্মানিতে অবস্থিত বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে জার্মান ভাষা জানা জরুরি নয়। এ ব্যাপারে কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ইনফিনিয়ান টেকনোলজি (Infineon Technology)-এর সহযোগী কোম্পানিতে সস্ত্রীক চাকরিরত ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘জার্মানি ভাষা জানা থাকলে এখানে চাকরির সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশের ছাত্ররা জার্মানি এবং এর শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানে না। এখানে টিউশন ফি ছাড়া পড়াশোনা করা যায়, উপরন্তু স্কলারশিপের সুযোগও প্রচুর। আমার স্ত্রী জার্মানিতে এসে সিমেন্স কোম্পানির স্কলারশিপ অর্জন করে। এখানের সুযোগগুলো সম্পর্কে বাংলাদেশী ছাত্রদের আরো বেশি জানা দরকার এবং মিডিয়াতে আসা দরকার।
জার্মানিসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা হলো ইইউ ভিসা (EU Visa)। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ভিসা থাকলে আপনি সেই ভিসা ব্যবহার করে যেতে পারবেন অন্যান্য দেশেও। এ ক্ষেত্রে চাকরি, গবেষণা বা ভ্রমণের জন্য ইইউভুক্ত দেশগুলোকে এক দেশ হিসেবে ভাবতে পারেন।
একজন ছাত্র পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতি মাসে ৮৬ ঘণ্টা কাজের অনুমতি পায়। ৫০-৬০ ঘণ্টা পার্টটাইম কাজ পেলেই মোটামুটি খরচ চালানো যায়। এ ছাড়া ছয় মাস অর্ধদিবস বা তিন মাস পূর্ণদিবস কাজের অনুমতি ছাত্র ভিসাতে দেয়া হয়। কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা (যেমন­ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ওয়েবপেজ ডিজাইন বা অন্যান্য) থাকলে খণ্ডকালীন ছাত্র চাকরি বা পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরি পেতে যথেষ্ট সহায়ক হয়।
এখানে একটা অভিজ্ঞতার কথা না বললেই নয়, বাংলাদেশের ছাত্ররা ইন্টারনেটে সময় দিয়ে ধৈর্যের সাথে সার্চ করতে এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। আপনাকে বুঝতে হবে, ইন্টারনেটই আপনার সবচেয়ে বড় সাহায্যকারী। কোনো মিডিয়া সেন্টার নয়, সরাসরি আপনি নিজেই চেষ্টা করুন ভর্তির জন্য। প্রথমে সব ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটগুলোর তালিকা করুন, বিশেষ করে ইংলিশ ভার্সনগুলোর। এ ক্ষেত্রে -google.com-এর সাহায্য নিন। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ধৈর্য সহকারে সার্চ করুন। যত বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে apply করবেন, আপনার চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা ততই বেড়ে যাবে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর জন্য তো আর অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে না। একই document শুধু কপি করে দিলেই হলো। ভারতীয় এক ছাত্রের প্রচেষ্টার কথা বলি, যিনি জার্মানির সব বিশ্ববিদ্যালয়ে apply করে চান্স পেয়েছেন একটিতে। তার মেহনত সত্যিই অনুকরণীয়।
জার্মানিতে পড়াশোনার জন্য আসতে পারেন কয়েকভাবে। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে কেউ চাইলে তাকে জার্মান ভাষা কোর্সে ভর্তি হতে হবে। খুব কমসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্রাজুয়েট পর্যায়ে ইংলিশ ভাষায় কোর্স চালু আছে। প্রথম চেষ্টা করতে পারেন ইংলিশ ভাষায় পড়ানো হয় এমন কোনো subject-এ ভর্তি হতে। তা না পেলে দু’ভাবে ব্যাচেলর কোর্সে ভর্তি হওয়া যেতে পারে। প্রথমত, বাংলাদেশে জার্মান ভাষার কিছু প্রাথমিক জ্ঞান নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য apply করুন। ভর্তি হতে পারলে এখানে এসে মূল কোর্স শুরুর আগে ছয় থেকে এক বছরের মধ্যে জার্মান ভাষার বাকি কোর্স করে ফেলুন। অন্যভাবেও আসা যায়, আপনি সরাসরি বাংলাদেশ থেকে জার্মানির যেকোনো ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রে apply করুন। ভর্তি হতে পারলে ভাষা শিক্ষার জন্য ভিসা পাবেন। এখানে এসে ভাষা শিক্ষা সমাপ্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার পছন্দের subject-এ ভর্তি হতে পারেন। তবে এই প্রক্রিয়া বেশ costly. মাস্টার্সে ভর্তির জন্য প্রথমে ডাড (daad.de)-এর ওয়েবসাইট থেকে কোনো কোনো ভার্সিটিতে আপনার সাবজেক্ট আছে তার তালিকা তৈরি করুন। আপনার যোগ্যতা (যেমন­ রেজাল্ট, TOEFL/IELTS ইত্যাদি) পুরোপুরি খাপ না খেলেও নির্দ্বিধায় apply করুন।
পিএইচডি’র জন্য সরাসরি apply করতে পারেন। ভার্সিটির ওয়েবসাইট থেকে আপনার সাবজেক্ট সংশ্লিষ্ট ফ্যাকাল্টির ইনস্টিটিউটগুলোর তালিকা তৈরি করুন। ইনস্টিটিউট প্রফেসরকে সরাসরি email করুন। জানতে চান পিএইচডি’র সুযোগ আছে কি না। যদিও জার্মান বা ইউরোপীয় মাস্টার্স ডিগ্রি না থাকলে সরাসরি পিএইচডিতে নিতে চান না। প্রফেসর যদি রাজি হন সে ক্ষেত্রে বুঝবেন তার পর্যাপ্ত ফান্ড আছে আপনার জন্য। আরেকটা কথা বলে রাখা ভালো, বাংলাদেশে অনেকের একটা ভুল ধারণা হচ্ছে, উচ্চশিক্ষা করতে হবে স্কলারশিপ নিয়ে, আর তা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য। পিএইচডি’র জন্য স্কলারশিপ জরুরি।
আগেই বলেছি, ছাত্রাবস্থায় পার্টটাইম কাজ পাওয়ার জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বা কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট কাজ জানা থাকা খুবই সহায়ক। এ ক্ষেত্রে দেশেই পরিচিত কারো কাছে অথবা কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বা ওয়েবপেজ ডিজাইনিং ইত্যাদি কাজের প্রাথমিক ধারণা নিতে পারেন।
জার্মানির উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে তথ্য পাবেন কিভাবে? প্রথম কথা, আপনাকে ইন্টারনেটে লেগে থাকতে হবে। নিয়মিত ইন্টারনেটে বসা, সার্চ করা ও ব্যাপক যোগাযোগ অত্যাবশ্যক। ইন্টারনেটে আপনার পরিচিতি সার্কেল বাড়াতে হবে। জার্মানি ও এর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি তথ্য, ছাত্রবৃত্তিসহ অন্যান্য তথ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোর মধ্যে জার্মান একাডেমিক একচেঞ্জ সার্ভিস (DAAD, http://www.daad.de) গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিভিন্ন সাবজেক্টের তালিকা ও স্কলারশিপের তথ্য পাবেন। স্কলারশিপের জন্য জার্মান সায়েন্স ফাউন্ডেশন (DFG, http://www.dfg.de), জার্মান শিক্ষা ও গবেষণা মন্ত্রণালয় (BMBF, http://www.bmbf.de) উল্লেখযোগ্য। এসব সংস্থার ওয়েবসাইটের সংশ্লিষ্ট ইংলিশ সংস্করণে আপনাকে ব্যাপক সার্চ করতে হবে।
বাংলাদেশী ছাত্ররা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (BSA) গড়ে তুলেছে যা নতুন ছাত্রদের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। BSA-এর ওয়েবসাইট http://www.bsa-germany.de আপনাকে দেবে যথেষ্ট সহায়তা। এ ছাড়াও bsa-germany yahoo group-এর সদস্য হয়ে ইমেইল করলে আপনি জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী ছাত্রদের কাছ থেকে যথেষ্ট তথ্য আর অভিজ্ঞতা পেতে পারেন। ঢাকাস্থ জার্মান কালচারাল সেন্টার (http://www.goethe.de/dhaka) জার্মান দূতাবাসের ওয়েবসাইট (http://www.dhaka.diplo.de) পাবেন জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার পর্যাপ্ত তথ্য।
লেখকঃ পিএইচডি গবেষক, জার্মানি
email :

Click This Link

Click This Link

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28847366 http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28847366 2008-09-24 13:35:22
জার্মানীতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে লিখেছেন মোকাররম হোসেন বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত মানসম্পন্ন শিক্ষা, গবেষণা, অগণিত আবিষ্কার, ভারী যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী আর দু-দু’টি বিশ্বযুদ্ধের দেশ জার্মানি যে একটি আলোচিত দেশ, তা বলাই বাহুল্য। গবেষণা আর উন্নতির চরম শিখরে আরোহণের পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থাও যে বিশ্বমানের ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
কবি রবীন্দ্রনাথ নাকি বিংশ শতকের শুরুতে জার্মানির শিক্ষাব্যবস্থার উঁচু মান দেখে আক্ষেপ করে বলেছিলেন ‘আমার ডিগ্রিটা যদি জার্মানি থেকে হতো’। রবীন্দ্রনাথের আক্ষেপ যে খুব একটা বাড়াবাড়ি ছিল না, তা বোঝা যায় গোটিংগেন (Goettingen) বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গেলে। গণিত বিদ্যায় উচ্চশিক্ষার এক সময়ের তীর্থস্থান ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই চল্লিশের অধিক বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। সেই রাম আর অযোধ্যা হয়তো এখন আর নেই। দু’টি সর্বগ্রাসী বিশ্বযুদ্ধই এর অন্যতম কারণ।
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার প্রায় ৩০০ ইনস্টিটিউশন রয়েছে। এর মধ্যে ৮২টি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৩৬টি অ্যাপ্লাইড বিশ্ববিদ্যালয় এবং মিউজিক ও ফাইন আর্টবিষয়ক ৪৬টি কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ২০ লাখ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ১২ শতাংশ বিদেশী। বিদেশীদের মধ্যে আবার ৯ শতাংশই পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা জার্মানিতে শেষ করেছেন। গত ১৫ বছরে জার্মানিতে বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে।
জার্মানিতে মূলত তিন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় আছে। প্রথমত, অ্যাপ্লায়েড বিশ্ববিদ্যালয় (Applied Science University)। যেখানে ছাত্রদের মূলত চাকরি অরিয়েন্টেড (Job Oriented) বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়া হয়। গবেষণামূলক কাজ এখানে হয় না বললেই চলে। দ্বিতীয়ত, টেকনিক্যাল বা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (Technical university), যেখানে প্রকৌশলসহ বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলো পড়ানো হয়। সাথে সাথে রয়েছে ব্যাপক গবেষণামূলক প্রকল্প। তৃতীয় ভাগে আছে নরমাল বিশ্ববিদ্যালয়, যেগুলো মূলত ইউনি (UNI) হিসেবে পরিচিত। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, কলা, বাণিজ্যসহ সব অনুষদই পড়ানো হয়। আকারে ইউনিগুলো বড় হয়ে থাকে।
অনেক ইংলিশ ভাষাভাষী দেশে ছাত্রবৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নিজ অর্থায়নে (Self Finance) পিএইচডি করার সুযোগ থাকলেও জার্মানিসহ অনেক ইউরোপীয় দেশ এই নিয়মের ব্যতিক্রম। এখানে পিএইচডি পর্যায়ের সব ছাত্রই প্রায় চাকরির সমপরিমাণ বৃত্তি বা বেতন পেয়ে থাকেন। কিন্তু এসব সুযোগ বিজ্ঞান বা প্রকৌশল বিষয়ের ছাত্রদের জন্যই বেশি।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিষয় নির্ধারণের ব্যাপারে আপনাকে বুদ্ধিমান হতে হবে। সব বিষয়ে (Subject) ফান্ড পর্যাপ্ত নয়। বাংলাদেশ থেকে একজন ছাত্র যা ব্যবহারিক জ্ঞান নিয়ে আসে, তা জার্মানির মতো হাইটেক দেশের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ছাত্রদের নতুন জিনিস জানা এবং শেখার স্পৃহা থাকতে হবে। ভালো বিষয়, ভালো বিশ্ববিদ্যালয় এবং ছাত্রবৃত্তির জন্য যথেষ্ট ধৈর্য নিয়ে ইন্টানেটে সার্চ করা এবং যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হবে। বুদ্ধিজীবী নামের কলঙ্ক, পার্শ্ববর্তী দেশের অর্থে পরিচালিত গণমাধ্যম আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমিকে যখন ব্যর্থ রাষ্ট্র (Dysfunctional State) প্রমাণের জন্য আদাজল খেয়ে নেমেছে। তখন হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে একটি হাইটেক দেশে আমাদের দেশের অজপাড়াগাঁয়ের ছেলেরাই তাদের মেধার যথেষ্ট স্বাক্ষর রেখে চলেছে। বিগত বছরগুলোতে যেসব ছাত্র উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে পাড়ি জমিয়েছে তার প্রায় ৯৫ শতাংশ ছাত্রই সফলভাবে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে চাকরি, পিএইচডি, পোস্ট ডক্টরেট গবেষণা বা বিভিন্ন গবেষণা কাজে নিয়োজিত আছেন। মজার ব্যাপার হলো সংখ্যায় কম হলেও বাংলাদেশী ছাত্ররা পার্শ্ববর্তী ভারত বা পাকিস্তানের ছাত্রদের তুলনায় বেশিগুণ সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে।
বর্তমানে প্রায় অর্ধশতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্স চালু আছে। ধীরে ধীরে সব বিশ্ববিদ্যালয় একাধিক বিষয়ে ইংরেজি মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মাস্টার্স কোর্স চালুর পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রদের দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজনে ব্যবহারিক জার্মান ভাষা শিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কোর্সগুলোতে জার্মান ভাষার কোর্স বিনামূল্যে শেখানো হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খণ্ডকালীন ছাত্র চাকরি বা পিএইচডি গবেষণার জন্য জার্মান ভাষা তেমন একটা জরুরি নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পার্টটাইম কাজের জন্য জার্মান ভাষা জানা জরুরি।
চাকরির ক্ষেত্রে জার্মান ভাষা জানা থাকলে বাড়তি সুবিধা এবং চাকরি পাওয়া সহজ হয়। জার্মানিতে অবস্থিত বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে জার্মান ভাষা জানা জরুরি নয়। এ ব্যাপারে কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ইনফিনিয়ান টেকনোলজি (Infineon Technology)-এর সহযোগী কোম্পানিতে সস্ত্রীক চাকরিরত ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘জার্মানি ভাষা জানা থাকলে এখানে চাকরির সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশের ছাত্ররা জার্মানি এবং এর শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানে না। এখানে টিউশন ফি ছাড়া পড়াশোনা করা যায়, উপরন্তু স্কলারশিপের সুযোগও প্রচুর। আমার স্ত্রী জার্মানিতে এসে সিমেন্স কোম্পানির স্কলারশিপ অর্জন করে। এখানের সুযোগগুলো সম্পর্কে বাংলাদেশী ছাত্রদের আরো বেশি জানা দরকার এবং মিডিয়াতে আসা দরকার।
জার্মানিসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা হলো ইইউ ভিসা (EU Visa)। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ভিসা থাকলে আপনি সেই ভিসা ব্যবহার করে যেতে পারবেন অন্যান্য দেশেও। এ ক্ষেত্রে চাকরি, গবেষণা বা ভ্রমণের জন্য ইইউভুক্ত দেশগুলোকে এক দেশ হিসেবে ভাবতে পারেন।
একজন ছাত্র পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতি মাসে ৮৬ ঘণ্টা কাজের অনুমতি পায়। ৫০-৬০ ঘণ্টা পার্টটাইম কাজ পেলেই মোটামুটি খরচ চালানো যায়। এ ছাড়া ছয় মাস অর্ধদিবস বা তিন মাস পূর্ণদিবস কাজের অনুমতি ছাত্র ভিসাতে দেয়া হয়। কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা (যেমন­ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ওয়েবপেজ ডিজাইন বা অন্যান্য) থাকলে খণ্ডকালীন ছাত্র চাকরি বা পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরি পেতে যথেষ্ট সহায়ক হয়।
এখানে একটা অভিজ্ঞতার কথা না বললেই নয়, বাংলাদেশের ছাত্ররা ইন্টারনেটে সময় দিয়ে ধৈর্যের সাথে সার্চ করতে এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। আপনাকে বুঝতে হবে, ইন্টারনেটই আপনার সবচেয়ে বড় সাহায্যকারী। কোনো মিডিয়া সেন্টার নয়, সরাসরি আপনি নিজেই চেষ্টা করুন ভর্তির জন্য। প্রথমে সব ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটগুলোর তালিকা করুন, বিশেষ করে ইংলিশ ভার্সনগুলোর। এ ক্ষেত্রে -google.com-এর সাহায্য নিন। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ধৈর্য সহকারে সার্চ করুন। যত বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে apply করবেন, আপনার চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা ততই বেড়ে যাবে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর জন্য তো আর অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে না। একই document শুধু কপি করে দিলেই হলো। ভারতীয় এক ছাত্রের প্রচেষ্টার কথা বলি, যিনি জার্মানির সব বিশ্ববিদ্যালয়ে apply করে চান্স পেয়েছেন একটিতে। তার মেহনত সত্যিই অনুকরণীয়।
জার্মানিতে পড়াশোনার জন্য আসতে পারেন কয়েকভাবে। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে কেউ চাইলে তাকে জার্মান ভাষা কোর্সে ভর্তি হতে হবে। খুব কমসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্রাজুয়েট পর্যায়ে ইংলিশ ভাষায় কোর্স চালু আছে। প্রথম চেষ্টা করতে পারেন ইংলিশ ভাষায় পড়ানো হয় এমন কোনো subject-এ ভর্তি হতে। তা না পেলে দু’ভাবে ব্যাচেলর কোর্সে ভর্তি হওয়া যেতে পারে। প্রথমত, বাংলাদেশে জার্মান ভাষার কিছু প্রাথমিক জ্ঞান নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য apply করুন। ভর্তি হতে পারলে এখানে এসে মূল কোর্স শুরুর আগে ছয় থেকে এক বছরের মধ্যে জার্মান ভাষার বাকি কোর্স করে ফেলুন। অন্যভাবেও আসা যায়, আপনি সরাসরি বাংলাদেশ থেকে জার্মানির যেকোনো ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রে apply করুন। ভর্তি হতে পারলে ভাষা শিক্ষার জন্য ভিসা পাবেন। এখানে এসে ভাষা শিক্ষা সমাপ্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার পছন্দের subject-এ ভর্তি হতে পারেন। তবে এই প্রক্রিয়া বেশ costly. মাস্টার্সে ভর্তির জন্য প্রথমে ডাড (daad.de)-এর ওয়েবসাইট থেকে কোনো কোনো ভার্সিটিতে আপনার সাবজেক্ট আছে তার তালিকা তৈরি করুন। আপনার যোগ্যতা (যেমন­ রেজাল্ট, TOEFL/IELTS ইত্যাদি) পুরোপুরি খাপ না খেলেও নির্দ্বিধায় apply করুন।
পিএইচডি’র জন্য সরাসরি apply করতে পারেন। ভার্সিটির ওয়েবসাইট থেকে আপনার সাবজেক্ট সংশ্লিষ্ট ফ্যাকাল্টির ইনস্টিটিউটগুলোর তালিকা তৈরি করুন। ইনস্টিটিউট প্রফেসরকে সরাসরি email করুন। জানতে চান পিএইচডি’র সুযোগ আছে কি না। যদিও জার্মান বা ইউরোপীয় মাস্টার্স ডিগ্রি না থাকলে সরাসরি পিএইচডিতে নিতে চান না। প্রফেসর যদি রাজি হন সে ক্ষেত্রে বুঝবেন তার পর্যাপ্ত ফান্ড আছে আপনার জন্য। আরেকটা কথা বলে রাখা ভালো, বাংলাদেশে অনেকের একটা ভুল ধারণা হচ্ছে, উচ্চশিক্ষা করতে হবে স্কলারশিপ নিয়ে, আর তা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য। পিএইচডি’র জন্য স্কলারশিপ জরুরি।
আগেই বলেছি, ছাত্রাবস্থায় পার্টটাইম কাজ পাওয়ার জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বা কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট কাজ জানা থাকা খুবই সহায়ক। এ ক্ষেত্রে দেশেই পরিচিত কারো কাছে অথবা কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বা ওয়েবপেজ ডিজাইনিং ইত্যাদি কাজের প্রাথমিক ধারণা নিতে পারেন।
জার্মানির উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে তথ্য পাবেন কিভাবে? প্রথম কথা, আপনাকে ইন্টারনেটে লেগে থাকতে হবে। নিয়মিত ইন্টারনেটে বসা, সার্চ করা ও ব্যাপক যোগাযোগ অত্যাবশ্যক। ইন্টারনেটে আপনার পরিচিতি সার্কেল বাড়াতে হবে। জার্মানি ও এর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি তথ্য, ছাত্রবৃত্তিসহ অন্যান্য তথ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোর মধ্যে জার্মান একাডেমিক একচেঞ্জ সার্ভিস (DAAD, http://www.daad.de) গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিভিন্ন সাবজেক্টের তালিকা ও স্কলারশিপের তথ্য পাবেন। স্কলারশিপের জন্য জার্মান সায়েন্স ফাউন্ডেশন (DFG, http://www.dfg.de), জার্মান শিক্ষা ও গবেষণা মন্ত্রণালয় (BMBF, http://www.bmbf.de) উল্লেখযোগ্য। এসব সংস্থার ওয়েবসাইটের সংশ্লিষ্ট ইংলিশ সংস্করণে আপনাকে ব্যাপক সার্চ করতে হবে।
বাংলাদেশী ছাত্ররা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (BSA) গড়ে তুলেছে যা নতুন ছাত্রদের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। BSA-এর ওয়েবসাইট http://www.bsa-germany.de আপনাকে দেবে যথেষ্ট সহায়তা। এ ছাড়াও bsa-germany yahoo group-এর সদস্য হয়ে ইমেইল করলে আপনি জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী ছাত্রদের কাছ থেকে যথেষ্ট তথ্য আর অভিজ্ঞতা পেতে পারেন। ঢাকাস্থ জার্মান কালচারাল সেন্টার (http://www.goethe.de/dhaka) জার্মান দূতাবাসের ওয়েবসাইট (http://www.dhaka.diplo.de) পাবেন জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার পর্যাপ্ত তথ্য।
লেখকঃ পিএইচডি গবেষক, জার্মানি
email :

Click This Link

Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28847228 http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28847228 2008-09-24 04:32:34
দারিদ্র্য বিমোচনে ওয়াকফ, ক্ষুদ্র বিনিয়োগ জাকাত ও ওশরের ভূমিকা । লিখেছেন শাহ আবদুল হান্নান Click This Link

আমাকে ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে চারটি বিষয়ের ওপর বলতে বলা হয়েছিল। আমি সংক্ষেপে মূল কথাগুলো বলার চেষ্টা করব। বিষয়গুলো হচ্ছে ওয়াক্‌ফ, মাইক্রো-ফাইন্যান্স, জাকাত ও ওশর। আমি প্রথমেই ওয়াক্‌ফ সম্পর্কে আলোচনা করব। আমরা জানি, মুসলিম ইতিহাসে ওয়াক্‌ফ একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান ছিল। কোনো কোনো গবেষণায় দেখা যায়, মুসলিম বিশ্বের ভূসম্পত্তির বা অন্যান্য সম্পদের ১০-১৫ ভাগ সম্পত্তি ছিল ওয়াক্‌ফ করা। ওয়াক্‌ফের দ্বারাই সেই সময় মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান ও কাজ পরিচালিত হতো। সেসব বিষয় সরকারকে তেমন দেখতে হতো না। এমনকি পথে পথে সরাইখানা নির্মাণ করা হতো, যাতে পথযাত্রীদের অসুবিধা না হয়। এটা ওয়াক্‌ফ ফান্ড থেকেই করা হতো। যেহেতু ওয়াক্‌ফ ফান্ড সবার জন্য ব্যয় করা যায় এবং এতে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, তার ফলে সব জাতির, সব সমাজের প্রয়োজন এর মাধ্যমে পূরণ করা যেত। ড. উমর চাপড়া তার ‘ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ’ বইতে এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। সোভিয়েত মুসলিম ইতিহাসের ওপর আলেকজান্ডার বেনিগ্‌সন তার বইতে দেখিয়েছেন যে, মধ্য এশিয়ার প্রায় ১০ শতাংশ সম্পত্তি ওয়াক্‌ফের অধীনে ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার পর এসব ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি দখল করে নেয়া হয়। সেগুলো সরকারি সম্পত্তিতে পরিণত করে অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হয়।

বর্তমান বিশ্বে ওয়াক্‌ফ গতি হারিয়ে ফেলেছে। ওয়াক্‌ফের যে বিরাট গুরুত্ব, তা আমরা ভুলে যাচ্ছি। এই ওয়াক্‌ফব্যবস্থা আবার ব্যাপকভাবে কাজে লাগানোর জন্য বেশ কিছু দিন ধরে একথা বলে আসছি যে, ‘একটি নতুন ওয়াক্‌ফ আন্দোলন’ প্রয়োজন। সে আন্দোলনের ফিকাহগত দিক ইসলামিক ফাউন্ডেশন কতৃꦣ2453; প্রকাশিত ‘বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন’ বইতে পাওয়া যাবে। এখানে এর শুধু প্রয়োগগত দিক ব্যাখ্যা করতে চাই।

আমাদের দেশে যারা বিপুল সম্পত্তির অধিকারী, তাদের সংখ্যা কয়েক শত। তারা যদি তাদের সম্পত্তি শুধু এক-দুইজন সন্তানের জন্য না রেখে, জাতিকে যদি তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দিয়ে যান ওয়াক্‌ফের মাধ্যমে, তাহলে সেটা খুবই ভালো কাজ হবে। এর পরিমাণ কোনো সম্পত্তির যেকোনো পরিমাণ অংশ হতে পারে। যেমন তা চার ভাগের এক ভাগ কিংবা তিন ভাগের এক ভাগ অথবা দশ ভাগের একভাগ? যে কোনো পরিমাণ হতে পারে। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি যে, প্রত্যেক বড় বড় ধনবান পরিবার, শিল্পপতি, যাদের সামর্থে?80; পরিমাণ ১০০ কোটি বা তার বেশি, তাদের মালিকানাধীন কারখানার মধ্য থেকে একটি বা দু’টি ওয়াক্‌ফ করে দিতে পারেন। তাদের নগদ অর্থেরও একটি অংশ ওয়াক্‌ফ করতে পারেন। তাহলে সেটি সমাজের জন্য অনেক বড় কাজ হবে। ওয়াক্‌ফ ফান্ড বা সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার জন্য একটা মোতাওয়াল্লি কমিটি থাকে। প্রত্যেক ওয়াক্‌ফকারী তার ওয়াক্‌ফের জন্য একটি মোতাওয়াল্লি কমিটি করে দিতে পারেন। ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির মূল অংশ ব্যয় করা হয় না। ব্যয় করা হয় সেখান থেকে আয়ের বা লাভের অংশকে। এর সব কিছুই জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।

এমনিভাবে যদি আমাদের দেশের পঞ্চাশ জন শিল্পপতি পঞ্চাশটি ওয়াক্‌ফ ফান্ড বা ট্রাস্ট জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য গঠন করেন, তাহলে এটা বিরাট একটা কাজ হতে পারে। এরপর যদি ট্রাস্টগুলো নিয়ে একটি ফেডারেশন গঠন করা যায়, তাহলে সেখান থেকে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজ ভাগ করে নেয়া যেতে পারে। সবাই একই রকম কাজ না করে এবং একই এলাকায় না করে ফেডারেশনের মাধ্যমে কে কোন এলাকায় কাজ করবেন, তা ঠিক করে নিতে পারবেন। কে কোন্‌ কাজ করবেন কোথায় করবেন? এ রকম একটি সমন্বয়ের ব্যবস্থা যদি করা যেতে পারে তাহলে এটা জাতীয়ভাবে বিশাল একটা কাজ হয়ে যাবে।

ওয়াক্‌ফ নগদ টাকায়ও দেয়া যায়। যেকোনো সম্পদ দেয়া যায়। সেটা ভূ-সম্পত্তি হতে পারে, ইন্ডাস্ট্রি হতে পারে। যেমন আমরা জানি, ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশ ওয়াক্‌ফ রয়েছে। সোশ্যাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ক্যাশ ওয়াক্‌ফ রয়েছে। কাজেই প্রত্যেক শিল্পপতি ওয়াক্‌ফ ট্রাস্ট বা ফান্ড করলে সেখানে নগদও দিয়ে দিতে পারেন। এই তহবিলের সবটাই ব্যয় করা হবে শুধু জনকল্যাণমূলক কাজে।
ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশ ওয়াক্‌ফে যে কেউ অর্থ দিতে পারেন। একটা শরিয়াহ কমিটির তত্ত্বাবধানে এটা পরিচালিত হয়। তার মাধ্যমে তারা জনকল্যাণমূলক কাজে এটা ব্যয় করতে থাকেন। সেখানে যে কেউ তার টাকা নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করার জন্য উল্লেখ করে দিতে পারেন। যেমন? শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা কিংবা শিশুদের জন্য ব্যয় করার কথা নির্দিষ্ট করে বলে দেয়া যায়। অথবা বলে দেয়া যায়, যে দিকে বেশি প্রয়োজন ব্যাংক সেখানে ব্যয় করতে পারে। সাধারণভাবে না বলে দিলে সুবিধা হলো, ব্যাংক যে দিকে বেশি দরকার সে দিকে ব্যয় করার সুযোগ পাবে।

সুতরাং আমাদের নতুন করে একটি ওয়াক্‌ফ আন্দোলন প্রয়োজন। আমি মনে করি, এই আন্দোলন আমাদের দেশের চেহারা পরিবর্তন করতে সাহায্য করবে। এখন মাইক্রো-ফাইন্যান্স নিয়ে আলোচনা করব। ‘ক্রেডিট’ বলি আর ‘ফাইন্যান্স’ বলি, ইসলামের দৃষ্টিতে তা করতে হবে সুদমুক্ত। মাইক্রো-ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে ইসলামের আওতায় যেসব পদ্ধতি অনুসরণ করা সম্ভব তা অনেক ধরনের হতে পারে এবং তার মাধ্যমে ব্যাপক ফল পাওয়া যেতে পারে। ইসলামের আওতার মধ্যে যেসব পদ্ধতি বাস্তবায়ন সম্ভব, তার ক’টি উল্লেখ করছি।

প্রথমত, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মাইক্রো-ফাইন্যান্সের কাজ করা যেতে পারে। অর্থাৎ ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে যে পদ্ধতিতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ করছে, সেটা। তারা বাই-মুয়াজ্জাল বা বাই-মুরাবাহা পদ্ধতিতে গ্রামাঞ্চলে যাদের প্রয়োজন তাদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। তারা এর জন্য মুরাবাহা বা মুয়াজ্জাল চার্জ (অর্থাৎ বিক্রয়-ক্রয় মূল্যের পার্থক্য) খুবই কম নিয়ে থাকে। এতে কেবল প্রশাসনিক বা পরিচালনা ব্যয় পূর্ণ হয়। এখানে তারা লাভ করতে চাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেছেন, তারা বেশি পরিমাণ আদায় করছেন কি না, এমনকি প্রশাসনিক ব্যয়ের তুলনায়ও বেশি নিচ্ছেন কি না তা স্টাডি করে দেখছেন। তাতে যদি তারা দেখতে পান, আদায়ের পরিমাণ বেশি এবং তা আরো কমানো সম্ভব, তাহলে তারা সেটা কমিয়ে দেবেন। এটা একটা ট্রাডিশনাল পদ্ধতি, যেটা আমরা করতে পারি এবং বর্তমানে তা করা হচ্ছে।

একথা বলে রাখা ভালো যে, মাইক্রো-ফাইন্যান্সের জন্য বর্তমানে যে সময় দেয়া হয় অর্থাৎ ছয় মাস বা এক বছর, সে সময়টা খুবই অল্প। তাই সময় বাড়ানো দরকার। সেই সাথে বিনিয়োগের পরিমাণটাও বাড়ানো দরকার, যেখানে যেখানে বাড়ানো প্রয়োজন। আদায়ের ক্ষেত্রেও লক্ষ্য রাখতে হবে যে, আদায় সাথে সাথে শুরু না করে কয়েক মাস পর শুরু করা উচিত। ব্যবসার অগ্রগতির জন্য কিছু সময় দেয়া দরকার। এই অবকাশ তিন মাস, ছয় মাস বা নয় মাস হতে হবে। অথবা প্রয়োজন বিশেষে এক বছরও হতে পারে। এটা নির্ভর করবে পরিস্থিতি, ঘটনা, কোন খাতে বিনিয়োগ দেয়া হচ্ছে ইত্যাদি বিষয়ের ওপর। এ ধরনের পরিবর্তন আনা ইসলামী ব্যাংকের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এ ব্যাপারে আইডিবি’র সাথেও আমার আলোচনা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের সাথেও হয়েছে। আমি আশা করি, তারা এ বিষয়গুলো দেখবেন। এখন অন্যান্য কী পদ্ধতিতে মাইক্রো-ফাইন্যান্সকে জনগণের প্রয়োজনে লাগানো যায় তা দেখা যাক।

এর একটা দিক হচ্ছে, মাইক্রো-ফাইন্যান্সের সাথে ওয়াক্‌ফ চ্যারিটি কিংবা জাকাতকে জড়িয়ে একটি পরিকল্পনা করা যায়। তাহলে আমরা দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ক্ষুদ্র বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক ধরনের পরিবর্তন ও বৈচিত্র্য আনতে পারি। এর মধ্যে একটা পদ্ধতি হচ্ছে, সব টাকা কর্জে হাসানা দেয়া এবং পুরো টাকাটাই ফেরত নেয়া আর এতে যে প্রশাসনিক ব্যয় তা আমরা ওয়াক্‌ফ ফান্ড থেকে বহন করব। অথবা আমরা সেটা চ্যারিটি, সাদাকাহ বা জাকাত ফান্ড থেকে ব্যয় করব। কেননা জাকাতের অন্যতম একটা খাত হচ্ছে ‘আমিলিনা আলাইহা’ অর্থাৎ জাকাত আদায়কারী কর্মচারীদেরকে তা থেকে বেতন দেয়া যায়। সুতরাং আমরা এখানে একটি বৈচিত্র্য বা পরিবর্তন আনতে পারি।

আমরা এটাও করতে পারি যে, একেবারে দেয়ারই সাধ্য যাদের নেই, যারা হতদরিদ্র, তাদের চিহ্নিত করে কিছু ক্ষেত্রে আমরা তাদের বিনিয়োগ দেবো। কিন্তু ফেরত দেয়ার সময় তাকে সেই বিনিয়োগের ৭৫ শতাংশ ফেরত দিতে হবে না। বাকি মাত্র ২৫ শতাংশ ফেরত দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে এই ৭৫ শতাংশ এবং প্রশাসনিক ব্যয় আমরা বহন করব জাকাত ফান্ড, চ্যারিটি ফান্ড অথবা ওয়াক্‌ফ ফান্ড থেকে। এভাবে অন্যান্য ক্ষেত্রে আমরা ২৫ শতাংশ বা ৫০ শতাংশ নাও নিতে পারি। এসব ক্ষেত্রেও তা নেয়া হবে না এবং প্রশাসনিক খরচ ওয়াক্‌ফ ফান্ড, জাকাত ফান্ড বা অন্যান্য সাদাকাহ ফান্ড থেকে বহন করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে আমরা ১০০ শতাংশই নেব না। প্রথমবারের ১০০ শতাংশ নেবো না। কিন্তু যদি দ্বিতীয়বার দেখা যায় যে, সে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে তার কাছ থেকে যতখানি সম্ভব নেবো। প্রকৃতপক্ষে জাকাত তো এ ধরনেরই। কেননা জাকাত আসলে সম্পদ স্থানান্তর। কাজেই এটা করা যায়। এই টাকা আমরা নেবো না। অর্থাৎ বলছি ২৫ শতাংশ, ৫০ শতাংশ বা ১০০ শতাংশ? সেটা আসলে ব্যয় হবে জাকাত, ওয়াক্‌ফ, চ্যারিটি বা সাদাকাহ থেকে। সুতরাং মাইক্রো-ফাইন্যান্সকে যদি ওয়াক্‌ফ, সাদাকাহ, চ্যারিটি ও জাকাতের সাথে সমন্বিত করতে পারি তাহলে এর ভেতর নানা ধরনের বৈচিত্র্য ও পরিবর্তন আমরা নিয়ে আসতে পারি, যেটা ট্রাডিশনাল মাইক্রো-ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে করা সম্ভব নয়। এ কথা সত্য যে, তাদের কনসেপ্টে ওয়াক্‌ফ নেই। এ ধরনের জাকাতের ধারণা নেই। আর যদি থেকে থাকে বা তারা এ রকম কিছু করে নেয়, তাহলে ভালো কথা। তারা এ ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করুক। ইসলামের ভালো নীতি যদি কেউ নেয়, তাহলে আমরা খুশি হবো। তাদেরও ভালো দিকগুলো আমরা গ্রহণ করে থাকি। আমি এটাই জানালাম যে, ইসলামের মাইক্রো-ফাইন্যান্স কত উত্তম হতে পারে। যতটুকু আমি জানি, আইডিবি এ ধরনের চিন্তা করছে। ইসলামী ব্যাংকেরও এ ধরনের নতুন প্রজেক্ট নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্পর্কে ইসলামী ব্যাংকের কর্তৃপক্ষকে আরো চিন্তা-ভাবনা করতে অনুরোধ করছি।

আজকের তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে জাকাত। জাকাত সম্পর্কে এখানে আমি এই আলোচনা করব না যে, এর রেট (হার) কী, এর আইটেম কী এবং এর প্রাপক কে? এ বিষয়ে আপনারা বিভিন্ন দেশের জাকাত অ্যাক্ট দেখতে পারেন। আমার জানা মতে, ইসলামী ব্যাংকের সেক্রেটারির কাছে এর কপি আছে। এর জন্য বাংলাদেশের জাকাতের আইন দেখতে পারেন। সর্বোপরি এ বিষয়ে ড. ইউসুফ আল কারজাভির বই ‘ইসলামে যাকাতের বিধান’ প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড সবার দেখা উচিত। তাতে তিনি জাকাতের সম্পূর্ণ বিষয় আলোচনা করেছেন। যেসব বিষয়ে মতবিরোধ আছে সেসব বিষয়েও তিনি সেখানে আলোচনা করেছেন। সেই বই দেখলে জানা যাবে, কোন মতটা বেশি শক্তিশালী। তিনি সব মত দিয়েই সেখানে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এ বিষয়ে এর চেয়ে মূল্যবান বই আর নেই।
জাকাতের ওপর শুধু একটি কথা এখানে বলব। সরকারের একটা জাকাত ফান্ড আছে। কিন্তু এটাতে জাকাত আদায় হয় না, হচ্ছে না বা কম হচ্ছে। এর নানা কারণ আছে। আমার মনে হয়, সরকারের পক্ষে বাধ্যতামূলক জাকাত আদায় করা সম্ভব হবে না। আমাদের দেশে রাজনীতির যে অবস্থা, জনগণের মধ্যে যে ধরনের বিভক্তি এবং যে ধরনের বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে, তাতে বাধ্যতামূলক জাকাত আদায় করা আমাদের দেশে বর্তমানে সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না, যেটা কোনো কোনো দেশে হচ্ছে। তাহলে আমাদের কী করতে হবে? এর জন্য আমাদের প্রাইভেট সেক্টরেই জাকাত আদায় করতে হবে। আর প্রাইভেট সেক্টরে জাকাত আদায় করলে সেটা উত্তম হবে। ওয়াক্‌ফের মতো এই প্রস্তাবই দিতে চাই যে, প্রত্যেক মুসলিম শিল্পপতি ও বড় বড় ব্যবসায়ী নিজেরাই এক একটা জাকাত ফান্ড করুন। আপনারা যারা বড় বড় শিল্পপতি, ব্যবসায়ী আছেন, যাদের সম্পদের পরিমাণ অনেক, যাদের জাকাতের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা, আপনারা প্রত্যেকে একটা করে জাকাত ফান্ড করুন। তারপর সেখান থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যয় করার চেষ্টা করুন। চিন্তা করুন, কিভাবে লোকদের কর্মসংস্থান করে দেয়া যায়। এর জন্য যার যার চাহিদানুযায়ী তাকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিন। যেমন, যার ঘর নেই, তাকে একটা ঘর করে দিন। যার টিউবওয়েল দরকার, তাকে টিউবওয়েল দিয়ে দিন।

আমি অনুরোধ করি প্রাইভেট সেক্টরের বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি ও কমার্শিয়াল হাউস এসব বিষয় গুরুত্ব দিতে। যারা বড় বড় আমদানিকারক, হোলসেলার, যারা শত শত কোটি টাকার আমদানি করেন, তারা যদি তাদের প্রদত্ত জাকাতের জন্য একটি ফাউন্ডেশন করেন, একটি করে নিজস্ব জাকাত ফান্ড করেন তাহলে তার দ্বারা আমাদের দেশে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে। যারা নিজেরা জাকাত দিচ্ছেন, তারা কখনোই এই ফান্ড নষ্ট করবেন না। আর যিনি এত টাকা দিতে পারেন, তিনি এই টাকা থেকে কিছু নিয়ে নেয়া অসম্ভব ব্যাপার। সুতরাং প্রত্যেকে জাকাত ফান্ড গঠন করুন এবং একটি কমিটি গঠন করে তা ব্যয় করুন। জাকাতের আইন মোটামুটি সবারই জানা? কে জাকাত পায় আর কে পায় না, সে বিষয়ও সবার কাছে স্পষ্ট। খুব বেশি প্রয়োজন হলে বা সন্দেহ থাকলে আলেমদের সাথে পরামর্শ করতে হবে।

জাকাতের একটি উদ্দেশ্য হচ্ছে দারিদ্র্য বিমোচন। আরেকটি উদ্দেশ্য মানুষ যেন লোভী না হয়ে যায়। এ জন্যও আল্লাহ তায়ালা জাকাতের বিধান করেছেন। মানুষ যেন লোভী না হয়। মানুষের অন্তরকে ভোগবাদী না বানানোই এর উদ্দেশ্য। সূরা তওবায় আল্লাহ বলছেন ‘হে রাসূল! তাদের মাল থেকে জাকাত আদায় করুন এবং তাদেরকেও পবিত্র করুন এবং তাদের পরিচ্ছন্ন করুন।’ আমরা বলি জাকাত আদায় করলে সম্পদ পরিচ্ছন্ন হয়। হ্যাঁ, এটা ঠিক। কিন্তু এই আয়াত দ্বারা এই বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে যে, জাকাত আদায় দ্বারা দাতাকেই পরিচ্ছন্ন করা উদ্দেশ্য। এ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাচ্ছি। আমরা যারা দান করতে অভ্যস্ত হয়ে যাব আল্লাহ চাইলে আমরা দুনিয়াতে অত লোভী হবো না। এ বিষয়টি সবার বিবেচনায় আনার জন্য অনুরোধ করছি।

পরিশেষে, ওশর সম্পর্কে কিছু আলোচনা করব। ফসলের জাকাতকে ওশর বলে। এ ব্যাপারে নানা দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কারণে এখানে ফসলের জাকাত আদায় হচ্ছে না। এ ব্যাপারে মুফতি শফীর মত হচ্ছে, বাংলাদেশের ভূমির ওপর জাকাত প্রযোজ্য। ইসলামী ব্যাংকের শরিয়াহ কাউন্সিলের সাবেক সেক্রেটারি মরহুম মাওলানা সাইয়েদ মোহাম্মদ আলী লিখে গেছেন, এ দেশে ওশর প্রযোজ্য। সেন্ট্রাল শরিয়াহ কাউন্সিলের বর্তমান চেয়ারম্যান মুফতি আবদুর রহমান সাহেবের সাথে আমার আলাপ হয়েছে। তিনি ফতোয়া লিখে রেখেছেন যে, এখানে ওশর দিতে হবে। আমি তাকে এটা তাড়াতাড়ি প্রকাশ করতে বলেছি। প্রত্যেক এলাকায় যদি ওশর আদায় হয় এবং যারা বড় বড় ভূ-সম্পত্তির মালিক তারা যদি ওশর আদায় করেন, তাহলে সেই আদায়কৃত ওশর ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণে সহায়ক হবে। আমরা জানি, সেচ লাগলে ওশর দিতে হবে ৫ শতাংশ এবং সেচ না লাগলে ১০ শতাংশ দিতে হয়। এখানে হার বেশি, কিন্তু তার পরও আল্লাহ তায়ালা মানুষকে উৎসাহিত করেছেন দান করার ক্ষেত্রে। যিনি বেশি পারেন তিনি তার পাশেরজনকে দান করবেন, তাদের সাহায্য করবে, খেদমত করবে। এভাবে তাদের নিজ অন্তরকে নিজে পরিচ্ছন্ন করবেন।

আমি ইসলামী ব্যাংককে খুব ভালো জানি। এটা এ দেশের একটা মহৎ প্রতিষ্ঠান। এর দ্বারা গোটা দেশের হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবারই উপকার হচ্ছে বলে জানি। তারা এ দেশে দারিদ্র্য বিমোচনেরও চেষ্টা করছেন। তারা একটি ফাউন্ডেশনও করেছেন। এসব কিছু কল্যাণকর কাজ। ভবিষ্যতে এসব কাজ তারা আরো বাড়াবেন বলে আশা করি। (ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড আয়োজিত ‘দারিদ্র্য বিমোচনে ওয়াক্‌ফ, ক্ষুদ্র বিনিয়োগ, জাকাত ও ওশরের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধ।)

লেখকঃ চিন্তাবিদ, সাবেক সচিব বাংলাদেশ সরকার
সাবেক চেয়ারম্যান, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28844382 http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28844382 2008-09-17 15:44:47
ব্রেকিং নিউজ ...ভিডিও Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28838365 http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28838365 2008-09-03 20:36:47
আমার ডয়েস শেখা আর অমর একুশে আর এক পাকিস্তানী ক্লাসমেট ছিল...মেহেরুননেসা, লাহোরের মেয়ে। ও যখন প্রথম আমাদের সাথে ক্লাসে জয়েন করল,কেমন যেন ঝিম মেরে থাকত মেয়েটা। একদিন বলল,তোমাদের এখানে শীপ,মানে জাহাজ কই?
শুনে অবাক,জাহাজ আসবে কোত্থেকে?
বলল,ও নাকি শুনে এসেছে আমাদের দেশটা নদীতে ভরা,সব জায়গায় চলতে হয় নৌকা দিয়ে।
ওর কথা শুনে মনে পড়ল,আমাদের দেশটা একদিন নদীমাতৃক দেশ ছিল।
হায়রে, সেদেশের আজ কি অবস্থা!

ভাষা আন্দোলোনের ইতিহাসটা ও জানত,তাই খুব অবাক হয়েছিল যখন আমি ওর কাছে উরদু শিখতে চেয়েছিলাম।
তবে মেডিকেলের গাদাগাদি পড়ার চাপে দুদিনেই আমার উরদু শেখার বারোটা বেজে গিয়েছিল।পরে অবশ্য আমনা আর মেহের খুব ভাল বাংলা বলতে পারত। আমার আর উরদু শেখা হয়ে ওঠেনি

যাই হোক,এসেছি ডয়েসল্যান্ডে। মানে জার্মানীতে। এরা ইংলিশ বলেও না,বোঝেও না। যারা বলতে পারে তারাও বলতে চায়না। এরা চায় যে সবাই এদের ভাষা শিখুক।

বাসার পাশেই শপিংমল। কিছু কিনতে গেলে হ্যালো আর চুজ দিয়েই চালিয়ে নিতে হতো। চুজ হল tschuss ,মানে বিদায়। এরপর আস্তে আস্তে শিখলাম guten tag(শুভ দিন ), guten morgen (শুভ সকাল ) ইত্যাদি ইত্যাদি...
একদিন ডিম কিনব,খুজে পাচ্ছিনা।
কত ভাবেই বুঝাই...তারা কিছুতেই কিছু বোঝেনা।
Egg বলি,হাত দিয়ে দেখিয়ে দেই...বোঝেনা।
পরে ইশারায় মুরগী বোঝাতে পারলাম,তখন বুঝল। জানলাম এরা ডিম কে বলে Eier.

বুঝলাম এই দেশে ভাষা না শিখে রেহাই নেই। ভর্তি হলাম ভাষা কোর্সে। চোখে চশমা পরা ইতালিয়ান মহিলা আমাদের টিচার।
শুরুতেই বলল,ich heise Mirella.
Wie heist du?
বলার ধরনে বুঝলাম,তার নাম মিরেলা।
আর সে আমার নাম জানতে চাচ্ছে।
তারপর ঠিক তার মত করেই বললাম
ich heise...

এভাবেই শুরু হল অজানা ভাষার অজানা বুলি মুখে তুলে নেবার প্রয়াস।
কোথা থেকে এসেছি বলার জন্য শিখলাম,
ich komme aus Bangladesh.
এই কথাটা বলতে ভাল লাগত অনেক।

আমাদের টিচার অনেক ভাল ছিল,আর সত্যিই হয়তো যেকোনো নতুন ভাষা শেখা অনেক আনন্দের,তাই আমি খুব...খুবই উপভোগ করতাম এই ক্লাস।
আনা মারিয়া আর হোসে ব্রাজিলের, ভু ,ওয়াং লি, আর মিন চিনা, সোয়েতলানা আর ভিটালি ইউক্রেনের, বার্সেলোনার আনা আর ওলগা, ইরানের সাইফ,পাকিস্তানের ইউসরা আর কানমাল, ইজিপ্টের জাকারিয়া। সবার সাথে খুব অল্প সময়েই ভাল বন্ধুত্ব হয়েছিল। অবাক হয়েছিলাম অনেকেই একেবারেই ইংরেজি জানেনা দেখে।

একদিন মিরেলা comparative শেখাচ্ছিল।
যেমন,
Peter ist besser als Min( peter is better than min)
অনেকগুলো শেখানোর পর আমাদেরকে নতুন বাক্য তৈরী করতে দিল।
লিখলাম,
Bengali ist schoner als deutsch
মানে,বাংলা ডয়েসের চেয়ে ভাল।
মিরেলা খুব মজা পেল। আমি ও বেচে গিয়েছিলাম।
কারন ভাগ্যিস সে ইতালিয়ান ছিল।জার্মান ছিলনা।

তিনমাসের এই কোর্সটার শেষের দিকে অবাক হয়ে দেখলাম,যে ভাষাটাকে সেখা একদিন অসম্ভব মনে করেছিলাম,ছোট্ট ছোট্ট বাক্যে আমি এখন তা বলতে পারি,আর অন্যদের কথাও বুঝতে পারি অনেকটাই।নতুন একটা ভাষা শেখার অদ্ভুত আনন্দ মনে দোলা দিচ্ছিল।
কোর্স শেষে পরীক্ষা হল। ৮৭% নম্বর পেলাম। মিরেলার প্রশংসাও পেলাম।

শেষের দিন সবাই বাড়ি থেকে খাবার বানিয়ে এসেছিল। আমি মোগলাই করেছিলাম। সবাই খেয়ে খুব খুশি।
খাবার শেষে চলছিল গল্পগুজব।মিরেলা কে বললাম,তুমি তো ভাষা শেখাও,তুমি কি মাতৃভাষা দিবস জান?

কেউই জানেনা।

বিষয়টা সত্যিই খুব দুঃখজনক।

কিছুদিন আগে বৃটিশ কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্পর্কে অনেককিছু দেখলাম। ওরা একটা আলাদা সংখ্যা বের করেছে ২১ ফেব্রুয়ারী নিয়ে। কিন্তু কোথাও বাংলাদেশের কোন কথা নেই। ইতিহাসটা আমাদের,কিন্ত আমাদেরকে কেউ চেনেনা।

মনে হল,আসলে আমরাই অন্যদেরকে জানাই না।

তাই এই সুযোগটা হাতছাড়া করলাম না।

টানা ৭/৮ মিনিট বলে গেলাম এই ইতিহাস।
পিনপতন নিরবতায় সবাই শুনলো।
অনেকে অনেক প্রশ্ন করল।
কথা শেষ হলে মিরেলা ধন্যবাদ দিল এই ইতিহাসটা জানানোর জন্য।
একটা ছোট্ট দেশের ছোট্ট মানুষ হয়েও গর্বে আমার বুকটা ভরে উঠল!
নিজের দেশটাকে হঠাৎ আরো নিজের ,আরো আপন বলে মনে হলো!


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28822734 http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28822734 2008-07-21 21:17:33
একটি বাংলা অনলাইন ম্যাগাজিন। বিবিধ বিষয় নিয়ে প্রবন্ধ,নিবন্ধ...বিশিষ্ট কলামিষ্টদের উল্লেখযোগ্য কলামে সমৃদ্ধ...প্রতিদিনের দেশীয় পত্রিকা থেকে খবরের শিরোনাম সহ অনেক কিছুই রয়েছে সোনার বাংলাদেশ ডট কম নামক অনলাইন ম্যাগাজিনে।
ভিজিট করতে পারেন এখানে...
http://www.sonarbangladesh.com/]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28814427 http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28814427 2008-06-28 00:54:07
জার্মানীতে বসন্ত আসার পর থেকে দেখছি,কেমন যেন ঝিম মেরে থাকে দেশ টা।
গুমোট আকাশ...কখন বৃষ্টি নামে ঠিক নেই।
সারাদিন সুর্যের কোন দেখা নেই।
মাঝে মাঝে বাংলাদেশে যখন এমন আবহাওয়া হত,সেই সব কর্মবিমূখ অলস দিনগুলোর কথা মনে পড়ে।
বাংলাদেশে এমন দিনে আমরা দরজা জানালা লাগিয়ে কাথা মুড়ি দিয়ে
গল্প করতাম।
সাথে থাকত কাচা মরিচ পেয়াজ আর সরিষার তেল দিয়ে মাখানো মুড়ি।
জানতাম,একটু পরেই আম্মুর ডাক পড়বে খিচুড়ি,শুটকি ভর্তা আর ডিম ভাজি খেতে।
মন খারাপ হয়ে যায় যখন দেখি,এই দেশে এমন দিনে ও কাজে যাচ্ছে সবাই...
মেঘলা আকাশ থেকে বরফ পড়ে চারিদিক সাদা হয়ে আছে,তবুও ছুটছে সবাই নিজের কাজে।
হাসছে...চলছে...কাজ করছে...
খুব মনে পড়ে ছোটবেলায় পড়া সেই কবিতাটা,

নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে
তিল ঠাই আর নাহিরে...
ওগো,আজ তোরা
যাসনে ঘরের বাহিরে...

কিন্ত আমার মনের এই আকুতির কি ই বা দাম এই সব দেশে।
একটু পরে অন্য একটা স্মৃতি মনে পড়ে নিজের মনেই হেসে ফেলি,আর মন টা ভাল হয়ে যায়।
বাংলাদেশে থাকতে একবার ঘোর বরষার সময় পর পর অনেকগুলো নাইট ডিউটি পড়েছিল হাসপাতালে।গাইনী ওয়ার্ডে ছেলে রা বেশি কাজ করতে চায়না,তাই মেয়েদের উপরে বেশি চাপ থাকত।
হোষ্টেল থেকে হাসপাতাল মাত্র ৫ মিনিটের পথ।কিন্ত এত পানি জমেছে রাস্তায় আর যেহেতু রাত তাই রিক্সা পাওয়া যেতনা।তখন বাথরুমের স্যান্ডেল আর সবচেয়ে পুরোনো জামা কাপড় পড়ে প্রায় কোমর পানি ডিঙ্গিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছে কয়েক দিন।
ওয়ার্ডে পৌছে সব বদলে ফেলে তবেই ডিউটি করা।
আর এক দিন ইমারজেন্সি ডিউটি করতে গিয়ে রাত প্রায় একটায় পার হতে হয়েছিল এই পানির সমুদ্র।

যাই হোক,বলতে চেয়েছিলাম এই দেশের সামারের কথা...চলে গেছি উইন্টারে,আর সেখান থেকে পুরনো দিনের স্মৃতিতে।

এখানে শীত যতই বাড়ছিল,একটা শুকনো খড়খড়ে দেশে এসেছি,এই ভাবনা টা আমার মনে গেথে যাচ্ছিল।কারন চারিদিকের সব গাছ,সব পাতা মলিন হতে হতে যেন খড়ির মতো হয়ে যাচ্ছিল।
কদিন হল ঠান্ডাটা একটু কমেছে।আমি অবাক হয়ে দেখছি,সব গাছ গুলোতে পাতা গজাতে শুরু করেছে...
যতই দেখছি অবাক হয়ে যাচ্ছি,যে গাছ গুলো কালকেই ছিল দাঁড়িয়ে থাকা একটা মৃত লাঠির মত...পাতায় পাতায় এত দ্রুত সেগুলো প্রান ফিরে পেল কিভাবে?
যে পথ টা দিয়ে আমি প্রতিদিন যাই আসি,সেই পথে চলতে গিয়ে থমকে দাড়াই।কি আশ্চর্য!!সব গাছ গুলো এমন সবুজ সতেজ আর প্রানময় হল কি করে?
একটা দিনে,একটা ঘন্টায় যেন অনেক খানি বদলে যাচ্ছে ওরা।আর কি আশ্চর্য! যেদিকে তাকাই,প্রত্যেকটা গাছেই নতুন পাতার সাথে নতুন ফুলের কুড়ি।যেখান টাতে এতদিন শুকনো কাটার জঙ্গল দেখেছিলাম,হঠাত দেখি উকি দিচ্ছে হলুদ আর টকটকে লাল রঙের ফুল।
শুকনো মরা আপেল গাছে গাছজুড়ে ফুটে আছে সাদা আর পিঙ্ক মিলিয়ে অপরুপ ফুল।
ঘাসে ফুটেছে ছোট্ট সাদা ফুল আর সবুজ ঘন পাতার বুকে হাজারো হলুদ ফুল।কোথাও সবুজের মাঝে যেন বেগুনীর চাদর বিছানো।
বেলি ফুলের মত অফ হোয়াইট কালারের থোকা থোকা ফুলে ভরে আছে সেদিনের শুকনো কাছটি।
আরো অবাক!
অসংখ্য ভ্রমর গুনগুনিয়ে ঘুরছে ফুটে থাকা ফুলের ঝাড়টিতে।
বড়ো ছোট এমন কোন গাছ বাকি নেই যেখানে নতুন পাতা আর ফুলের এই সমারোহ নেই।
পাহাড়ের উপরের গাছ গু্লোতে নতুন পাতার রঙ মন আর চোখে এমন শীতলতা আনবে আমি ভাবিনি...
সত্যিই এই প্রকৃতির বর্ননা দেবার সাধ্য আমার নেই...
কিন্ত প্রকৃতির এই রূপ বদলের ধাক্কায় আমার মন টা কেপে ওঠে,নিজেকে প্রশ্ন করি,এটা কি পুলক নাকি ভয়!!!
এই মহা সাজ আর সাজের আয়োজনে আমার হৃদয়ের যে পুলক,কোন এক অজানা কারনে তাকে সহ্য করতে আমার কষ্ট হচ্ছে...
আমার ছোট্ট মন বুঝতে পারে না,প্রকৃতির স্রষ্টা কেন,কার জন্য এত সওগাত ঢেলে দেন...কি বুঝাতে চান তিনি...আর আমরা কি বুঝি...।
স্রষ্টা কিংবা প্রকৃতি কি এভাবে কিছুই বোঝাতে চায় না আমাদের??
না কি এসব কিছুই সৃষ্টি হয়েছে অকারনে...কোন রহস্য নেই এগুলোর...
নেই কোন উদ্দেশ্য..।

আমি জানিনা......
তবে এতটুকু বুঝি,এর জবাব দিতে পারবে প্রতিটি হৃদয়,যখন সে হৃদয় কথা বলবে নিজের সাথে...





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28793370 http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28793370 2008-05-01 22:20:28
মা আমার... আমারি মা,মা জননী,
আমারি সুখের ঠিকানা।
দু:খকে হায় শুধু ভুলে যায়,
কান্নাকে হায় আচলে লুকায়
সাজাতে আমার আঙ্গিনা...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28783779 http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28783779 2008-03-30 13:21:52
দোয়া করবেন আজ আমার নানাভাই নিরব নিশ্চুপ হয়ে পড়ে আছেন বিছানায়।
মেডিক্যাল কলেজের ঠিকানায় চিঠি পেয়েছিলাম,
সালাম ও স্নেহ নিও।
জেনে রেখ,যৌবনে যে বৃদ্ধের মত দিনাতিপাত করে,বৃদ্ধাবস্থায় সে যৌবনের স্বাধ উপভোগ করে।
নানাভাইএর স্বপ্ন ছিল নাতনী ডাক্তার হবে,আল্লাহ পাক তা পূর্ণ করেছেন।
কিন্ত আজ মরন রোগে বিছানায় শায়িত,কিছুই করতে পারছি না।
একটু পাশে থাকার ক্ষমতাও নেই।
জীবনের টানে এতদুরে চলে এসেছি...
কাদতেও ভয় হয়,যদি ধৈর্যের সব বাধ ভেঙ্গে যায়!!!!!
সবার কাছে একটু দোয়া চাচ্ছি,আল্লাহ পাক যেন আমার নানাভাই কে ক্ষমা করেন,কবুল করেন,রোগ যন্ত্রনা উপশম করেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28782379 http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28782379 2008-03-25 14:52:34
খুব সাধারন একজন মানুষ... http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28771428 http://www.somewhereinblog.net/blog/zahan82blog/28771428 2008-02-17 15:22:13