আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ ভিলেনের ভূমিকায় সাংসদ কবরী
আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ সারাহ্ বেগম কবরী মহাজোট সরকারের এক বছরে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনের জনগণকে কোন উন্নয়নের ছোঁয়া দিতে পারেনি। রাজনৈতিক নেতাদের কোনঠাসা করতে গিয়ে তিনি নিজেই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তার এই আচরণে নারায়ণঞ্জ আওয়ামী লীগে প্রকাশ্যে দলীয় কোন্দল দেখা দিয়েছে। ফতুল্লাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান ও গিয়াসউদ্দিনের সময়কালের চেয়েও বর্তমানে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে কবরীর শাসনামলে। ঝুট সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জবর-দখল, টেন্ডারবাজি, তেলচোর সিন্ডিকেট, ভিজিএফ কার্ড হাতিয়ে নিয়ে আলোচনার শীর্ষে উঠে আসেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সাংসদ কবরী।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের টিকেট পেয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা)আসনে নির্বাচিত হন সারাহ বেগম কবরী। কিন্তু মনোনয়ন পাওয়ার পর তার প্রাক্তন স্বামী বাবু সারোয়ারের সঙ্গে তালাকের ঘটনা কবরীকে আলোচনায় নিয়ে আসে। নির্বাচিত হওয়ার পর পরই কবরী সমর্থিত সন্ত্রাসী ও সিন্ডিকেটরা ঝুট সেক্টর দখলে রাখতে ফতুল্লা বিসিক শিল্পাঞ্চলে অস্ত্রের মহড়া দেয়। এমনকি কবরী নিজে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ অফিসে এসে প্রকাশ্য ঝুট দাবি করায় হতভম্ব হয়ে পড়েন গার্মেন্টস মালিকরা। সিন্ডিকেটের নেপথ্যে রয়েছে কবরীর পিএস খ্যাত বিএম শফি। একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি গার্মেন্টের ঝুট থেকে কবরী এমপির জন্য শফি ৩০ ভাগ নিয়ে নিচ্ছে। শফি নিজের জন্য রেখে দিচ্ছে ২০ ভাগ।
ভাগাভাগি নিয়ে শফির সঙ্গে কবরীর দ্বন্দ্বের পর এবার ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করছে শ্যামপুরের সন্ত্রাসী সেন্টু। কবরীর সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এখন সেন্টুর মাধ্যমে। সেন্টু চারদলীয় জোট সরকার আমলে বিএনপি দলীয় সাংসদ সালাউদ্দিনের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। বিসিক এলাকায় ক্রসফায়ারে নিহত টাওয়ার সেলিমের সেকেন্ড ইন কমান্ড রকমত, ভোলাইল এলাকার ইসলাম, আলীম, সঞ্জিত সিন্ডিকেট প্রতিদিন ঝুট ব্যবসা নিজেদের দখলে নিতে প্রতিষ্ঠানের মালিকদের চাপ প্রয়োগ করছে। এছাড়া ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে টিপু, টোকাই রুহুল, টিটো, ইরাকী ফিরোজ, দেলোয়ার হোসেন দেলু, ইয়াসিন, ফরহাদ, মুসলিম, আনোয়ার, আর্মি রয়েল, তুষার, মিঠু, সুমন, রহিমউদ্দিন, জাফর, নাসির, শামীম, মিঠু, মোক্তার ওরফে কাইল্লা মোক্তার, আকতার, জনি, মামুন ওরফে দাড়িওয়ালা মামুন, খোকন ওরফে মোবাইল খোকন, জুয়েল, রনিসহ অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী সক্রিয় রয়েছে। আলীগঞ্জ এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে কবরীর পে মাসলম্যান হিসাবে রয়েছেন শ্রমিকলীগ নেতা কাওছার আহমেদ পলাশ। শহরের চাষারা ডাকবাংলো ও ইসদাইরে বাংলাভবন কমিউনিটি সেন্টারে বসে কবরী এসব নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তিতে কবরীর সঙ্গে থাকা ছয় তেল ব্যবসায়ী পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল।
ফতুল্লার মেঘনা, যমুনা ডিপোতে তেল চুরির মহাৎসবে মেতে উঠেছে কবরীর ছত্রছায়ায় থাকা সন্ত্রাসীরা। প্রকাশ্যে তেল চুরির করায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ােভ দেখা দিয়েছে। মেঘনা ডিপোর জনৈক সন্ত্রাসীর বাড়ির ঘাটে, দাপা এবং শৈলকুপা বুড়িগঙ্গা নদীতে তেলের জাহাজ থেকে তেল চুরি করেন। ট্যাঙ্ক লরি থেকে ডিপোর অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ম্যানেজসহ নানাভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে লাখ লাখ টাকার তেল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। এসব টাকার ভাগ কবরীর পিএস সেন্টুর মাধ্যেমে কবরী পেয়ে থাকেন। যমুনা ও মেঘনা ডিপো থেকে কবরীর ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসী রিপন, ফোয়াদ, চুশনি শাহীন, গলাকাটা নাছির, সালাউদ্দিন, স্বপন সরদার জয়নাল আবেদীন বিল্লাল, ফরহাদ, বোরহান, রহমতউল্লাহ ভান্ডারী, হিরু, বাবু, বুইট্রা সুমন, আফসারউদ্দিন আফসু তেল চুরি করছে। এদের মধ্যে তিনটি সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা অন্য নদীগুলো থেকে জাহাজের তেল চুরি করে থাকে। অন্যদিকে, দাপা ও শৈলকুপা এলাকা যারা নিয়ন্ত্রণ করছে তারা হলো, দাড়িওয়ালা মানিক, দারু কামলা, ডাকাত জাকির, ফোয়াদ, রনি, কানা সুমন, চারাল মিনুর, বুইট্রা শাহীন, টিপু সুলতান, শফিকুল ইসলাম দিপু। সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা হচ্ছে- লিপু, চোরাই তেল ব্যবসায়ী বাঘা আরিফ, স্বপন মেম্বার, আউয়াল, রুহুল, মোক্তার, খোকন, রাসেল, মোফা, তোফা, বাবু, মাসুদ, ইকবাল প্রমুখ।
২০০৯ সালের ২ এপ্রিল এমপি কবরী গ্র“পের আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসী বাঘা আরিফের নেতৃত্বে মিল্টন চৌধুরী, মুসা, হাসু, রোমানসহ ১৪-১৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে ফতুল্লা বাস ষ্ট্যান্ডের পূর্ব পাশের সমবায় সমিতি অফিস তালা ভেঙ্গে দখল করে নেয়। দখলের একদিন পর এমপি কবরী দখলকৃত অফিসটিতে মিলাদ মাহফিল করে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টানিয়ে দেন। ২ ডিসেম্বর সদর উপজেলা কার্যালয়ের সম্মেলন কে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনিরকে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে কবরীর ক্যাডার বাহিনী।
আগষ্ট মাসে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এর উদ্যোগে দুটি বৃহত্তর ব্যবসায়িক সমাবেশে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, গত সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় এমপি কবরী স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ঢাকার গুলশানের বাসায় ডেকে নিয়ে ঝুট চাওয়ার পাশাপাশি চাঁদা দাবি করেন। এতে করে ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন শিল্পঅধ্যুষিত এলাকার শিল্প মালিকরা অতিষ্ঠ বলে দাবি করেছে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া ফতুল্লা থানার বক্তাবলী এলাকায় তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে আওয়ামীলীগের দুই গ্র“পের সংঘর্ষের ঘটনায় থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীসহ অন্যান্য নেতাদের গ্রেপ্তারের পেছনে কবরীর ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৯ জানুয়ারী উপজেলা নির্বাচনের পর উপজেলা চেয়ারম্যান ও দুই ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে কবরীর বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। সদ্য সমাপ্ত ঈদের পূর্বে ফতুল্লা থানা এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নামে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কার্ডের বেশীরভাগ লুট করে নিয়ে যায় কবরীর লোকজন। এ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এছাড়া হালুয়া রুটির ভাগাভাগি নিয়ে ফতুল্লার বিভিন্ন স্থানে প্রায়শই কবরীর অনুসারীদের মধ্যে এমনকি তার উপস্থিতিতে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে সাংসদ সারাহ্ বেগম কবরীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অপপ্রচার। শামীম ওসমানের সাঙ্গপাঙ্গরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। সন্ত্রাস চাঁদাবাজির অভিযোগ মিথ্যা। সন্ত্রাস যে দলেরই হোক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’ সন্ত্রাস চাঁদাবাজির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি প্তি হয়ে বলেন ‘গডফাদার শামীম ওসমান তো তোমাদের বাবা। সেই তোমাদেরকে আমার পিছে লেলিয়ে দিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে কাল্পনিক মিথ্যা অভিযোগ উপস্থাপন করছে।’ তিনি এ প্রতিবেদককে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, আমার বিরুদ্ধে সংবাদ লিখে কোনো লাভ হবে না।
একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?
হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।