-আল্লামা শায়খ আবদুল বিন আবদুল্লাহ বিন বায
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং আমাদের জন্য সকল কল্যাণ বিধান করে ইসলামকে দ্বীন হিসাবে নির্বাচন করেছেন। শান্তি ও করুণা বর্ষিত হউক তাঁরই বিশেষ বান্দা ও রসূল মুহাম্মদের উপর যিনি অতিরঞ্জন, বিদআ'ত (নব প্রথা) ও পাপাচার হতে মুক্ত থেকে তাঁর প্রভুর আনুগত্য করার প্রতি আহ্বান করেছেন। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর বংশধর ও সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর প্রদর্শিত পথের অনুসারী হবে সকলের উপর করুণা বর্ষণ করুন।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা অন্য কারো জন্মোত্সব পালন করা জায়েজ নয়, বরং তা বারণ করা অবশ্য কর্তব্য। কেননা, এটি ধর্মে নব প্রবর্তিত একটি বিদআ'ত। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও এ কাজ করেননি। তাঁর নিজের বা তাঁর পূর্ববর্তী কোন নবী বা তাঁর কোন দুহিতা, স্ত্রী, আত্মীয় অথবা কোন সাহাবীর জন্মদিন পালনের কোন নির্দেশ তিনি দেননি। খোলাফায়ে রাশেদীন, সাহাবায়ে কেরাম (আল্লাহ তায়ালা তাদের সকলের উপর সন্তুষ্ট হউন) অথবা তাঁদের সঠিক অনুসারী তাবেয়ীনদের মধ্যেও কেউই এমন কাজ করেননি। এমনকি, আমাদের পূর্ববর্তী অধিকতর উত্তম যুগে কোন আলেমও এ কাজ করেননি। অথচ তাঁরা সুন্নাহ সম্পর্কে আমাদের চেয়ে অধিকতর জ্ঞান রাখতেন এবং আল্লাহর রসূল ও তাঁর শরীয়ত পালনকে সর্বাধিক ভালবাসতেন। যদি এ কাজটি এমনই সওয়াবের হতো তাহলে তাঁরা আমাদের আগেই তা করতেন।
দ্বীনে ইসলাম একটি পরিপূর্ণ ধর্ম। আল্লাহ তায়ালা স্বীয় রসূলের মাধ্যমে যে শরীয়ত প্রবর্তন করেছেন তা স্বয়ং সম্পূর্ণ বিধায় আমাদেরকে তা অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিদআ'ত বা নতুন কোন প্রথার সংযোজন থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, 'আমাদের এই ধর্মে যে কেউ নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।' এই হাদীসটি বোখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত অন্য এক হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'কেউ যদি এমন কাজ করে যা আমাদের এই ধর্মে নেই তাহলে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।' তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য এক হাদীসে বলেছেন, 'তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তী খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত পালন করবে। আর তা দৃঢ়তার সাথে ধারণ করবে। সাবধান ! কখনও ধর্মে নব প্রবর্তিত কোন বিষয় গ্রহণ করবে না। কেননা প্রত্যেক নব প্রবর্তিত বিষয়ই বিদআ'ত এবং প্রত্যেক বিদআ'তই পথভ্রষ্টতা।' রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুম'আর দিন খুৎবায় বলতেন - 'নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব আর সর্বোত্তম হেদায়াত হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হেদায়াত। সর্বনিকৃষ্ট বিষয় হলো মনগড়া নব প্রবর্তিত বিষয় বিদআ'ত এবং এরূপ প্রতিটি বিদআ'ত-ই পথভ্রষ্টতা।'
এই সমস্ত হাদীসে বিদআ'ত প্রবর্তনের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্ক বাণী উচ্চারণ করা হয়েছে এবং উম্মতকে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সাবধান করা হয়েছে। আর, এতে লিপ্ত হওয়া থেকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আরো অনেক সহীহ হাদীস বর্ণিত আছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
'... (আল্লাহর) রসূল তোমাদের যা কিছু (অনুমতি) দেয় তা তোমরা গ্রহণ করো এবং সে যা কিছু নিষেধ করে তা থেকে বিরত থাকো এবং আল্লাহ তায়ালাকেই ভয় করো, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা কঠোর শাস্তি দাতা।' (সূরা আল হাশরঃ আয়াত ৭)
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,
'...যারা তার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদেশের বিরুদ্ধাচারণ করে তাদের এ ব্যাপারে ভয় করা উচিত যে, তাদের ওপর (এ জন্যে এ দুনিয়ায়) কোন বিপর্যয় এসে পড়বে কিংবা (পরকালে) তাদের কোনো কঠিন আযাব এসে গ্রাস করে নেবে।' (সূরা আন নূরঃ আযাত ৬৩)
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,
'(হে মুসলমানরা) তোমাদের জন্যে অবশ্যই আল্লাহর রসূলের (জীবনের) মাঝে অনুকরণযোগ্য উত্তম আদর্শ রয়েছে, (আদর্শ রয়েছে) এমন প্রতিটি ব্যক্তির জন্যে যে আল্লাহ তায়ালার সাক্ষাৎ পেতে আগ্রহী এবং যে পরকালের (মুক্তির) আশা করে (সর্বোপরি) যে বেশী পরিমাণে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করে।' (সূরা আল আহযাবঃ আয়াত ২১)
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,
'মোহাজের ও আনসারদের মাঝে যারা প্রথম দিকে (ঈমান এনেছে এবং পরে) যারা একান্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তায়ালা এদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন, এবং এরাও আল্লাহ তায়ালার ওপর সন্তুষ্ট হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্যে এমন এক সুরম্য জান্নাত তৈরী করে রেখেছেন যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর তাই (হবে) সর্বোত্তম সাফল্য।' (সূরা আত তাওবাঃ আয়াত ১০০)
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,
'... আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, আর তোমাদের ওপর আমার (প্রতিশ্রুত) নেয়ামতকেও আমি পূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের জন্যে জীবনের ব্যবস্থা হিসাবে আমি ইসলামকেই মনোনীত করলাম। ...' (সূরা আল মায়েদাঃ আয়াত ৩)
এই আয়াত দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রবর্তিত দ্বীনকে পরিপূর্ণ করেছেন, তাঁর নেয়ামতকে সম্পূর্ণ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উপর অর্পিত স্পষ্ট বার্তাকে পৌঁছাবার এবং কথায় ও কাজে শরীয়তকে বাস্তবায়িত করার পরই পরলোক গমন করেন। তিনি এই বিষয়টি পরিস্কার করে বলে গেছেন যে, তাঁর পরে লোকেরা কথায় বা কাজে যেসব নব প্রথার উদ্ভাবন করে শরীয়তের সাথে সম্পৃক্ত করবে সেসব বিদআ'ত বিধায় প্রত্যাখ্যাত হবে। যদিও এগুলোর প্রবক্তার উদ্দেশ্য সৎ থাকবে। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণ বিদআ'ত থেকে জনগণকে সতর্ক ও ভয় প্রদর্শন করেছেন। কেননা এটা ধর্মে অতিরিক্ত সংযোজন যার অনুমতি আল্লাহ তায়ালা কাউকে দেননি এবং ইহা আল্লাহর শত্রু ইহুদী ও খ্রীষ্টান কর্তৃক তাদের ধর্মে নব নব প্রথা সংযোজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য স্বরূপ। এরূপ করার অর্থ এই দাড়ায় যে, ইসলামকে অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিযুক্ত বলে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার সুযোগ প্রদান করা। এটা যে কত বড় ফাসাদ ও জঘন্য কাজ এবং আল্লাহর বাণীর বিরোধী তা সর্বজন বিদিত।
আল্লাহ বলেন,
'... আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, ...' (সূরা আল মায়েদাঃ আয়াত ৩)
সেই সাথে এগুলো রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিস্কার হাদীস সমূহ যেগুলোতে তিনি বিদআ'ত থেকে সতর্ক ও দূরে থাকতে বলেছেন সেগুলোরও সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

