আমার প্রিয় পোস্ট

"অবশ্যই আমার নামাজ আমার এবাদাত আমার জীবন আমার মৃত্যু সবকিছুই সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহর জন্যে।"

মিলাদ ও জন্মোত্সব - বিদআ'ত থেকে সতর্ক থাকা অপরিহার্য - ২য় পর্ব

০১ লা আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৯

শেয়ার করুন:                   Facebook

-আল্লামা শায়খ আবদুল বিন আবদুল্লাহ বিন বায

~~~পূর্ব প্রকাশিতের পর~~~

মিলাদ মাহফিল বা নবীর জন্মোত্সব পালন বা এ জাতীয় অন্যান্য উত্সবাদির প্রবর্তনের মাধ্যমে এ কথাই বোঝা যায় যে, আল্লাহ তায়ালা এই উম্মতের জন্য ধর্মকে পূর্ণতা দান করেননি এবং যা যা করণীয় তার বার্তা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের নিকট পৌঁছাননি। তাই, এইসব পরবর্তীকালের লোকেরা এসে এমন কিছু প্রবর্তন করেছেন যার অনুমতি আল্লাহ তায়ালা তাদের দেননি, অথচ তারা ভাবছেন এতে আল্লাহর নৈকট্য অর্জিত হবে। নিঃসন্দেহে এতে মারাত্মক ভয়ের কারণ রয়েছে এবং তা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর আপত্তি উত্থাপনের শামিল। অথচ আল্লাহ তাঁর বান্দাহ্‌দের জন্য ধর্মকে সর্বাঙ্গীনভাবে পূর্ণ করেছেন ও তাঁর নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের স্পষ্ট বার্তা যথাযথভাবে পৌঁছিয়েছেন। তিনি এমন কোন পথ যা জান্নাতের দিকে নিয়ে যায় এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখে উম্মতকে তা জানাতে ক্রটি করেননি। যেমন - আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আ'স থেকে সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আল্লাহ যত নবী পাঠিয়েছেন উম্মতের প্রতি তাদের দায়িত্ব এই ছিল যে, উম্মতের জন্য যা কিছু ভাল জানেন তাই বলবেন আর যা কিছু মন্দ বলে জানেন তা থেকে তাদেরকে সতর্ক করবেন।' সহীহ মুসলিমে এই হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

এ কথা সকলের জানা যে, আমাদের নবী সকল নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ট ও সর্বশেষ। তিনি সবার চেয়ে অধিকতর পরিপূর্ণভাবে দ্বীনের পয়গাম ও উপদেশ বার্তা পৌঁছিয়েছেন। যদি মিলাম মাহফিল আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত দ্বীনের অংশ হতো তাহলে তিনি নিশ্চয়ই উম্মতের কাছে বর্ণনা করতেন বা তাঁর সাহাবীগণ তা করতেন। যেহেতু এমন কিছু পাওয়া যায় না, অতএব, প্রমাণিত হয় যে, ইসলামের সাথে এই মিলাদ মাহফিলের কোনই সম্পর্ক নেই বরং এটা বিদআ'ত যা থেকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। যেমন পূর্বোল্লিখিত হাদীস সমূহে বর্ণিত হয়েছে।

এক দল উলামায়ে কেরাম উপরোক্ত ও অন্যান্য দলীলের উপর ভিত্তি করে মিলাদ মাহফিল পালনের বৈধতা অস্বীকার করে এ সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন। এটা জানা কথা যে, বিরোধপূর্ণ বিষয় এবং হালাল বা হারামের ব্যাপারে শরীয়তের নীতি হলো কোরআন ও হাদীসে রসূল-এর মীমাংসা অনুসন্ধান করা। যেমন -
আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ
"হে ঈমানদার মানুষরা, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, আনুগত্য করো (তাঁর) রসূলের এবং সে সব লোকদের, যারা তোমাদের মাঝে (বিশেষভাবে) দায়িত্বপ্রাপ্ত, অতঃপর তোমাদের মাঝে যদি কোনো ব্যাপারে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়, তাহলে সেই বিষয়টিকে (ফায়সালার জন্যে) আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও, যদি তোমরা (সত্যিকার অর্থে) আল্লাহর ওপর এবং শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান এনে থাকো ! (তাহলে) এই পদ্ধতিই হবে (তোমাদের বিরোধ মীমাংসার) সর্বোত্কৃষ্ট উপায় এবং পরিণতির দিক থেকেও (এটি) হচ্ছে উত্তম পন্থা।" (সূরা আন নেসাঃ আয়াত ৫৯)

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,
"(হে মানুষ,) তোমরা যে বিষয়ে মতবিরোধ করো, তার ফায়সালা তো আল্লাহ তায়ালারই হাতে। (বলো, হে নবী,) এই হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা, তিনিই আমার মালিক, আমি তার ওপরই নির্ভর করি, (যাবতীয় প্রয়োজন) আমি তার দিকেই রুজু করি," (সূরা আশ শূরাঃ আয়াত ১০)

যদি এই মিলাদ মাহফিলের বিষয়টি সম্পর্কে কোরআন শরীফের দিকে ফিরে যাই তাহলে দেখতে পাই আল্লাহ তাঁর রসূল যা আদেশ বা নিষেধ করেছেন আমাদের তা-ই অনুসরণ করার নির্দেশ দেন এবং জানান যে, তিনি এই উম্মতের জন্য তাদের ধর্মকে পূর্ণতা দান করেছেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার মধ্যে মিলাদ অনুষ্ঠানের কোন ইঙ্গিত পর্যন্ত নেই। সুতরাং এ কাজ সে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় যা আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য পূর্ণ করে দিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে আমাদেরকে তাঁর রসূলের পদাঙ্ক অনুসরণ করার নির্দেশ রয়েছে।

এভাবে যদি আমরা এ ব্যাপারে সুন্নাতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাই যে রসূল এ কাজ করেননি, এর আদেশও দেননি। এমনকি তাঁর সাহাবীগণও (তাঁদের উপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক) তা করেননি। তাই আমরা বুঝতে পারি যে, এটা ধর্মীয় কাজ নয় বরং বিদআ'ত এবং ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের উত্সব সমূহের অন্ধ অনুকরণ। যে ব্যক্তির সামান্যতম বিচক্ষণতা আছে এবং হক গ্রহণে ও তা অনুসন্ধানে সামান্যতম বিবেক ও আগ্রহ রাখে তার বুঝতে কোন অসুবিধা হবে না যে, ধর্মের সাথে মিলাদ মাহফিল বা যাবতীয় জন্ম বার্ষিকী পালনের কোন সম্পর্ক নেই। বরং যে বিদআ'ত সমূহ থেকে আল্লাহ ও তাঁর রসূল নিষেধ ও সতর্ক করেছেন এটি সেগুলোরই অন্তর্ভুক্ত।

বিভিন্ন স্থানে অধিক সংখ্যক লোক এই বিদআ'তী কাজে লিপ্ত দেখে কোন বুদ্ধিমান লোকের পক্ষে প্রবঞ্চিত হওয়া সংগত নয়। কেননা ন্যায় বা হক, লোকের সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে জানা যায় না বরং শরীয়তের দলীল সমূহের মাধ্যমে তা অনুধাবন করা হয়। যেমন আল্লাহ তায়ালা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের সম্পর্কে বলেছেন -
"তারা বলে ইহুদী ও খৃষ্টান ছাড়া আর কেউই বেহেশতে যাবে না, (আসলে) এটা হচ্ছে তাদের নিছক কল্পনা মাত্র। তুমি (হে নবী,) বলো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও (তাহলে) তোমাদের কোনো দলিল প্রমাণ নিয়ে এসো !" (সূরা আল বাকারাঃ আয়াত ১১১)

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,
"(হে মোহাম্মদ !) দুনিয়ার অধিকাংশ মানুষের কথা যদি তুমি মেনে চলো, তাহলে তারা তোমাকে আল্লাহ তায়ালার পথ থেকে বিচ্যুত করে ছাড়বে। কেননা এরা নিছক অনুমানের ওপর ভিত্তি করেই চলে, (অধিকাংশ ব্যাপারেই) এরা মিথ্যা কথা ছড়িয়ে বেড়ায়।" (সূরা আল আনআমঃ আয়াত ১১৬)

এই মিলাদ মাহফিল ও জন্ম অনুষ্ঠান সমূহ বিদআ'ত হওয়ার সাথে সাথে অনেক এলাকায় প্রায়শঃ তা অন্যান্য পাপাচার থেকেও মুক্ত হয় না। যেমন নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ, গান-বাজনা ও মাদক দ্রব্যের ব্যবহার ইত্যাদি। সর্বোপরি মিলাদ মাহফিলে শিরকে আকবর সংঘটিত হয়ে থাকে। আর তা হলো - রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ও অন্যান্য আওলিয়ায়ে কেরামের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা, তাদের কাছে দোয়া করা, সাহায্য ও বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করা এবং এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, তারা গায়েব জানেন, ইত্যাদি কাজ যা করলে লোক কাফের হয়ে যায়। কারণ, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে রয়েছে, তিনি বলেছেন - 'সাবধান ! ধর্ম অতিরঞ্জিত করো না। তোমাদের আগে যারা ছিল তারা ধর্মে অতিরঞ্জনের ফলেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।'

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আরও বলেন - 'তোমরা আমার এমন অতি প্রশংসা করো না যেমন খৃষ্টানগণ ইবনে মারইয়ামের (ঈসা আলাইহিস সালাম) অতি প্রশংসায় লিপ্ত হয়েছিল। আমি একজন বান্দা, তাই আমাকে আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল বলে উল্লেখ করো।' ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এই হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।

অতীব আশ্চর্য ও বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, অনেক লোক এ ধরনের বিদআ'তী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য খুবই তত্পর ও সচেষ্ট এবং এর স্বপক্ষে যুক্তি প্রমাণ দাঁড় করাতে স্বতঃ প্রস্তুত। অথচ তারা জামায়াতে নামাজে ও জু'মার নামাজে অনুপস্থিত থাকতে কুণ্ঠাবোধ করে না, যদিও তা আল্লাহ ওয়াজিব করেছেন। এমনকি এ বিষয়ে তারা কথা পর্যন্ত তোলে না এবং এটাও উপলব্ধি করে না যে, তারা একটি মারাত্মক অন্যায় কাজ করছে। নিঃসন্দেহে ঈমানের দূর্বলতা, ক্ষীণ বিচক্ষণতা ও নানা রকম পাপাচার হৃদয়ে আসন করে নেওয়ার ফলেই এরকম হয়ে থাকে। আল্লাহ তায়ালার কাছে আমাদের এবং সকল মুসলিমের জন্য সংযম ও নিরাপত্তা কামনা করি।

এর চেয়েও বিস্ময়কর ব্যাপার এই যে, অনেকের ধারণা, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম মিলাম মাহফিলে উপস্থিত হন। তাই তারা তাঁকে অভিনন্দন জানাতে দাঁড়িয়ে যান। এটা মস্ত বড় অসত্য ও হীন অজ্ঞতা বৈ কিছু নয়। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের পূর্বে তার কবর থেকে বের হবেন না, বা কারো সাথে যোগাযোগ করবেন না এবং কোন সমাবেশেও উপস্থিত হবেন না। বরং তিনি কিয়ামত পর্যন্ত স্বীয় কবরেই অবস্থান করবেন এবং তাঁর পাক রূহ প্রভূর নিকট উর্ধ্বতন ইল্লিনের সম্মানজনক স্থানে সংরক্ষিত থাকবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন -
'(একটা সুনির্দিষ্ট সময় দুনিয়ায় কাটিয়ে) এরপর আবার তোমরা মৃত হয়ে যাও, তারপর কেয়ামতের দিন তোমরা (সবাই) পুনরুত্থিত হবে।' (সূরা আল মোমেনুনঃ আয়াত ১৫-১৬)

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেছেন - 'কিয়ামতের দিন আমার কবরই সর্ব প্রথমে খন্ডিত হবে। আমিই প্রথম সুপারিশকারী এবং আমারই সুপারিশ সবার আগে গৃহীত হবে।'

এই আয়াত ও হাদীস শরীফ এবং এই অর্থে আরও যেসব আয়াত ও হাদীস এসেছে তার দ্বারা বুঝা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম সহ অন্যান্য সব মৃত লোকগণ শুধুমাত্র কিয়ামতের দিনই তাদের কবর থেকে বের হবেন। সমস্ত মুসলিম আলেমগণের মধ্যে এ ব্যাপারে ঐক্যমত (ইজমা) প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এতে কারো মত বিরোধ নেই। সুতরাং সকল মুসলিমের উচিত এসব বিষয়ে অবহিত হওয়া এবং অজ্ঞ লোকেরা যেসব বিদআ'ত ও কুসংস্কার আল্লাহ পাকের নির্দেশ ব্যতিরেকে প্রবর্তন করেছে সেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর উপর দরূদ ও সালাম পড়া নিঃসন্দেহে একটি ভাল আমল এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক উত্তম পন্থা। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেছেন -
"নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর ফেরেস্তারা নবীর ওপর দরূদ পাঠান। (অতএব) হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরাও নবীর ওপর দরূদ পাঠাতে থাকো এবং (তাকে) উত্তম অভিবাদন (পেশ) করো। (সূরা আল আহযাবঃ আয়াত ৫৬)

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেন - 'যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠায় আল্লাহ তায়ালা এর প্রতিদানে তার উপর দশবার দরূদ পাঠান।'

সব সময়ই দরূদ পড়ার বৈধতা রয়েছে। তবে নামাজের শেষে পড়ার জন্য বিশেষভাবে তাকিদ করা হয়েছে বরং অনেক আলেমের মতে নামাজের মধ্যে শেষ তাশাহ্‌হুদের সময় দরূদ পড়া ওয়াজিব। অনেক ক্ষেত্রে এই দরূদ পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। যেমন - আযানের পরে, জুম'আর দিনে ও রাতে এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম উল্লেখ হলে।

আমার জেনে খুবই দুঃখ হয় যে, এরূপ বিদআ'তী অনুষ্ঠান এমন সব মুসলমান দ্বারাও সংঘটিত হচ্ছে যারা তাদের আকায়েদ ও রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) মহব্বতের ব্যাপারে খুবই দৃঢ়তা রাখেন। যে এইসবের প্রবক্তা তাকে বলছি, যদি তুমি সুন্নী ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম-এর অনুসারী হওয়ার দাবী রাখ তাহলে বল, তিনি স্বয়ং বা তাঁর কোন সাহাবী বা তাঁদের সঠিক অনুসারী কোন তাবেয়ী কি এ কাজটি করেছেন, না এটা ইহুদী ও খৃষ্টান বা তাদের মত অন্যান্য আল্লাহর শত্রুদের অন্ধ অনুকরণ? এ ধরনের মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ভালবাসা প্রতিফলিত হয় না। যা করলে ভালবাসা প্রতিফলিত হয় তা হলো তাঁর নির্দেশের অনুসরণ করা, যা কিছু তিনি বলেছেন তা বিশ্বাস করা, যা কিছু নিষেধ করেছেন তা বর্জন করা। আল্লাহ যেভাবে নির্দেশ করেছেন কেবল সেভাবেই তাঁর উপাসনা করা। এমনিভাবে, রসূলের উল্লেখ করা হলে, নামাজের সময় ও সদা সর্বদা যে কোন উপলক্ষে তাঁর উপর দরূদ পাঠ করার মাধ্যমে তাঁর প্রতি ভালবাসা প্রমাণিত হয়।

ভ্রান্ত ধর্মে বিশ্বাস রাখা, বেদআ'তী ও কুসংস্কার পূর্ণ উত্সবাদি পালন না করা এবং এই কার্যকলাপ অস্বীকার ও নিষেধ করা উচিত। কেননা, এসব কাজ ধর্মে নতুন সংযোজন হিসেবে পরিগণিত আর সব নতুন সংযোজনই বেদআ'ত।

আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূল এসবের অনুমতি দেননি। ইসলামী শরীয়ত একটি পরিপূর্ণ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ধর্ম। এতে নতুন কিছু সংযোজনের কোন প্রয়োজন বা অবকাশ নেই। তাই মুসলমানদের শুধুমাত্র অনুকরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নব নব ধর্ম প্রথা প্রবর্তনের জন্য বলা হয়নি।

এ কথা মনে করা ঠিক নয় যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম-এর জন্মোত্সব পালন বা এর সংশ্লিষ্ট শিরক ও অতিরঞ্জনকে নিষেধ করা কোনরূপ অনৈসলামিক কাজ এবং এতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়। বরং এটা তো রসূলেরই আনুগত্য ও তাঁরই নির্দেশ পালন।

এ বিষয়ে আমি যা সতর্ক করতে চেয়েছিলাম তা করেছি। আশা করি, আল্লাহ তায়ালা যার প্রতি উপলব্ধির দ্বার খুলেছেন ও যার দৃষ্টি শক্তিতে আলো দান করেছেন তার জন্য এটুকুই যথেষ্ট। আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদের ও অন্যান্য সকল মুসলমানকে দ্বীন উপলব্ধি করার, এর উপর কায়েম থাকার, সুন্নাতে রসূল দৃঢ়ভাবে ধারণ করার এবং বেদআ'ত থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি অশেষ দাতা ও পরম করুণাময়।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীদের উপর দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

~~~সমাপ্ত~~~

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মিলাদ ও জন্মোত্সব - বিদআ'ত থেকে সতর্ক থাকা অপরিহার্য ইসলামমিলাদ ও জন্মোত্সব - বিদআ'ত থেকে সতর্ক থাকা অপরিহার্য ইসলামমিলাদ ও জন্মোত্সব - বিদআ'ত থেকে সতর্ক থাকা অপরিহার্য ইসলাম মিলাদ ও জন্মোত্সব - বিদআ'ত থেকে সতর্ক থামিলাদ ও জন্মোত্সব - বিদআ'ত থেকে সতর্ক থাকা অপরিহার্য ইসলাম মিলাদ ও জন্মোত্সব - বিদআ'ত থেকে সতর্ক থামিলাদ ও জন্মোত্সব - বিদআ'ত থেকে সতর্ক থাকা অপরিহার্য ইসলাম মিলাদ ও জন্মোত্সব - বিদআ'ত থেকে সতর্ক থা ;

 

  • ৫ টি মন্তব্য
  • ৩৩৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৭ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০১ লা আগস্ট, ২০০৭ রাত ৮:২২
comment by: অশ্রু বলেছেন: ভালো লিখা
২. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ২:৪০
comment by: ফজলে এলাহি বলেছেন: বই পাগল ভাই,
এটা তো একটি পুস্তিকা তাই না? আপনার নিজস্ব কোন সাইট থাকলে তুলে দিতে পারেন। অথবা আমাকে জানাবেন, আমি আমার সাইটে দেব। লেখার আলসেমীতে বইগুলো তুলে দেয়া হয় না নেটে অথচ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই।

ব্লগে না আসায় পোষ্টখানা আরো আগে পড়া হয়নি।

জাযাকাল্লাহ।
৩. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ১১:১৯
comment by: বইপাগল বলেছেন: ফজলে এলাহি, আপনি নিঃসংকোচে আপনার সাইটে এ পোস্টগুলো তুলতে পারেন। আমার কোনো আপত্তি নেই, আপনি বরং এটা প্রচার করে মানুষকে সচেতন করছেন, যার সওয়াব আপনি কেয়ামত পর্যন্ত পেয়ে যাবেন।

তোলার সময় অবশ্যই "আল্লামা শায়খ আবদুল বিন আবদুল্লাহ বিন বায" এর নাম উল্লেখ করবেন। কারণ এ সচেতনতামূলক বইটি তার লেখা, আমার নয়।

আপনার সাইটের এড্রেসটা জানাবেন অনুগ্রহ করে। ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনার উত্তম কাজের সর্বোত্তম প্রতিদান দিন। আমীন।
৪. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১০:২৪
comment by: আবূসামীহা বলেছেন: ৫
৫. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:০৯
comment by: শিয়া বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার সতর্ক বাণীর জন্যে। আমি অত্যন্ত মনোযোগের সাথে আপনার লেখাটি পড়লাম কিন্তু আপনি যে হাদিস বা কোরআনের আয়াতগুলো উল্লেখ করেছেন তাতে কোন খানে কিন্তু নিষেধের কথা আসে নাই আর যে বিষয়ে নিষেধের কথা আসে নাই সে বিষয়টিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার আগে একবার আল্লাহ বা তাঁর রাসূলের (সাঃ) দিকে তাকানো কি শ্রেয় নয় যে তাঁরা এই সব বিষয় নিষিদ্ধ ঘোষণার অনুমতি দিয়েছেন কি না? অর্থাৎ যে বিষয়টি তারা নিষেধ করেননি সে বিষয়টি আপনি কার অনুমতিতে নিষেধ বা বিদআত বলে ঘোষণা করছেন? আর যা কিছু নবী বা সাহাবীরা করেননি তা বিদআত এ কথা কার, নবীর? আর যা তারা করেন বা বলেননি তা যদি বিদআত হয় তাহলে আপনি যে ইন্টারনেট এ এই লিখাটি দিয়েছেন সেটা কি বিদআত নয়? কারন, নবী বা সাহাবারা তো আর ইন্টারনেট ব্যবহার করেননি বা করতে আদেশ দেননি। তাহলে আপনি স্বয়ং একজন বিদআত সৃষ্টিকারী হয়ে কিভাবে অন্যদেরকে বিদআত সম্পর্কে হুশিয়ারী দেন? নিজে আগে বিদআত বুঝতে শিখেন, নিজেকে আগে বিদআত থেকে রক্ষা করেন তারপর নিষেধ করেন। তাহলে লোকে আপনার কথা শুনবে।

 



 


"... তোমরা যা কিছু করছো আল্লাহ তায়ালা তার সব কিছুই দেখছেন।" (সূরা আল হাদীদঃ আয়াত ৪)
/////////
"তিনি চোখের খেয়ানত সম্পর্কে (যেমন)...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৫৩৯৩৬