আমার প্রিয় পোস্ট

"অবশ্যই আমার নামাজ আমার এবাদাত আমার জীবন আমার মৃত্যু সবকিছুই সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহর জন্যে।"

মুজাহাদা বা সাধনা সম্পর্কিত কোরআনের আয়াত ও হাদীসের শিক্ষা

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:১৯

শেয়ারঃ
0 0 0

*** মুজাহাদা শব্দের অর্থ সর্বশক্তি নিয়োগ করে চরম মেহনত করা ও চেষ্টা করা। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন এবং এটাকে বাস্তবে কায়েম ও বিজয়ী করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করে সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে দাওয়াত, সংগঠন, প্রশিক্ষণ এবং নিজের, সমাজের ও রাষ্ট্রের সংশোধনের মাধ্যমে আপোষহীন প্রচেষ্টা, সংগ্রাম ও সাধনা করার নাম হচ্ছে মুজাহাদা। আর এই মুজাহাদার মাধ্যমেই মানবজীবনের চরম লক্ষ্য আল্লাহর সন্তোষ ও নৈকট্য লাভ সম্ভবপর।
_________
"... তোমরা যা কিছুই খরচ করবে আল্লাহ তায়ালা তার (যথার্থ) বিনিময় দেবেন, কারণ তিনি সব কিছুই দেখেন।"
(সূরা আল বাকারাঃ আয়াত ২৭৩)

"(হে নবী,) যতোক্ষণ পর্যন্ত তোমার কাছে নিশ্চিত (মৃত্যুজনিত) ঘটনা না আসবে ততোক্ষণ পর্যন্ত তুমি তোমার মালিকের এবাদাত করতে থাকো।"
(সূরা আল হেজরঃ আয়াত ৯৯)

"(অপরদিকে) যারা আমারই পথে জেহাদ করে, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথে পরিচালিত করবো, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা নেককার বান্দাদের সাথে রয়েছেন।"
(সূরা আল আনকাবুতঃ আয়াত ৬৯)

"তুমি তোমার মালিকের নাম স্মরণ করো এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁর দিকেই মনোনিবেশ করো;"
(সূরা আল মোযযাম্মেলঃ আয়াত ৮)

"... (মনে রাখবে,) যা কিছু ভালো ও উত্তম কাজ তোমরা আগেভাগেই নিজেদের জন্যে আল্লাহর কাছে পাঠিয়ে রাখবে, তাই তোমরা আল্লাহর কাছে (সংরক্ষিত দেখতে) পাবে, পুরস্কার ও এর বর্ধিত পরিমাণ হিসেবে তা হবে অতি উত্তম, ..."
(সূরা আল মোযযাম্মেলঃ আয়াত ২০)

"অতএব যে ব্যক্তি এক অনু পরিমাণ কোনো ভালো কাজ করবে (সেদিন) তাও সে দেখতে পাবে;"
(সূরা আল যেলযালঃ আয়াত ৭)

আইশা (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে এত বেশি ইবাদত করতেন যে, তাতে এমনকি তাঁর পা দু'খানা ফুলে ফেটে যেত। আমি তাঁকে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি এরূপ করছেন কেন, আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের সমস্ত গুনাহ তো আল্লাহ মাফ করে দিয়েছেন? তিনি বললেন, আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়া পছন্দ করব না? (বুখারী ও মুসলিম)

আইশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসের শেষ দশক এলে সারা রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং নিজের পরিবারবর্গকেও জাগিয়ে দিতেন। এ সময় তিনি কোমর বেঁধে ইবাদতে লেগে যেতেন। (বুখারী ও মুসলিম)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর নিকট দুর্বল মুমিনের চেয়ে বেশী ভালো ও বেশী প্রিয়। আর প্রত্যেকের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। যা তোমার জন্য উপকারী তার প্রতি লোভ কর এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও, দুর্বল হয়ো না। যদি তোমার কোন বিপদ আসে তবে এ কথা বলো না, যদি আমি এরূপ করতাম তাহলে ঐরূপ হতো। বরং এ কথা বল যে, আল্লাহ তাকদীরে এটাই রেখেছেন এবং তিনি যা চান তাই করেন। কেননা 'যদি' শব্দটি শয়তানের কাজের দরজা খুলে দেয়। (মুসলিম)

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে তিনটি জিনিস অনুসরণ করে, তার পরিবার, তার মাল এবং তার আমল। তারপর দু'টি ফিরে আসে, আর একটি রয়ে যায়। ফিরে আসে তার পরিবার ও মাল, আর রয়ে যায় তার আমল। (বুখারী ও মুসলিম)

ইবনে মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাত তোমাদের প্রত্যেকের জন্য তার জুতার ফিতার চেয়েও নিকটে, আর দোযখও তাই। (বুখারী)

রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আজাদকৃত দাস সাওবান (রা.) বলেন, আমি রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তোমার বেশী বেশী সিজদা (অর্থাৎ নামায) করা উচিত। কেননা তুমি আল্লাহর জন্য একটা সিজদা করলেই তা দ্বারা আল্লাহ অবশ্যই তোমাকে একটা উচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং তোমার একটি গুনাহ মাফ করে দেন। (মুসলিম)

আবু সাফওয়ান আবদুল্লাহ ইবনে বুস্‌র্ আসলামী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সেই ব্যক্তি উত্তম যে দীর্ঘ জীবন লাভ করেছে এবং উত্তম কাজ করেছে। (তিরমিযী)

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মুজাহাদা বা সাধনা সম্পর্কিত কোরআনের আয়াত ও হাদীসের শিক্ষামুজাহাদা বা সাধনা সম্পর্কিত কোরআনের আয়াত ও হাদীসের শিক্ষা ;
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৪৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৪৩
কিন্তু কি বলেছেন: বই পাগল আপনার ইসলাম প্রিয়তা ভাল লাগে। আরো ভাল লাগে জামাতের ইসলামির ইসলামের প্রতি আপনার ঘৃনা যথারীতি ৫
২. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৫৩
বইপাগল বলেছেন: @কিন্তু কি - ধন্যবাদ। ইসলামকে ব্যবসায় প্রয়োগ করে আল্লাহর রহমত পাওয়া যায় কিন্তু ইসলামকে ব্যবসা হিসেবে নিলে পেতে হবে শুধুই ঘৃণা (অন্ততঃ আমার কাছে থেকে তো অবশ্যই)
৪. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৩:৪৪
আবূসামীহা বলেছেন: নিঃসন্দেহে দরকারী পোস্ট...৫

একটা কথা আমাদের খেয়াল রাখা দরকার। ইসলামকে যারা পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে মানেনা তারা আবার ইসলামপন্থীদের একজনকে অন্যজনের বিরুদ্ধে বা একদলকে আরেকদলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। কিছু সরলপ্রাণ মুসলিম আবার সবার কাছে গ্রহনযোগ্যতা পাওয়ার জন্য তাদের ফাঁদে পা দেয়। আমাকে যখন কেউ কোন মুসলিম ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে বলতে বলে পাবলিকলী, তখন আমি তা অস্বীকার করি। যার ফলে তারা আমাকে সেই মুসলিম দলের লোক বলে চালাতে চায়। নিজের ভাইয়ের পাবলিক সমালোচনা করে দীনের শত্রুদের খুশী করায় কোন লাভ নেই। এখানকার প্রথম মন্তব্যটা আমার কাছে ঐ ওয়াসওয়াসা দানের অংশই মনে হয়েছে। মনে রাখবেন মুসলমানদের যে দল বা গোষ্ঠিকে শয়তানের চেলারা তাদের পথে বড় প্রতিবন্ধক মনে করবে তাদের বিরুদ্ধে তারা তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে লাগবে। সরলপ্রাণ মুসলমানদের তাদের বিরুদ্ধে উস্কানী দেবে। এরপর তাদের পথের সবচেয়ে বিপজ্জনক এই একটি কাঁটা তারা সরিয়ে দিতে পারলে তখন অন্যগুলোর দিকে মনোযোগ দেবে।

এ জন্য কোন ইসলামী দল, সংগঠন বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমাদের ক্ষোভ থাকলে তা যথাযথ ভাবে প্রকাশ করা উচিত্‌, এমনভাবে করা উচিত্‌ নয় যাতে ইসলামের দুশমনরা খুশী হয়।
যে মুজাহাদার কথা আপনি উল্লেখ করেছেন, আল্লাহ্‌ যেন আমাদেরকে তা করার তওফীক দান করেন! আমীন! আর আপনাকে যেন তিনি উত্তম পুরস্কার দান করেন! আমীন।
৫. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:৩১
কিন্তু কি বলেছেন: বই পাগল জামাতের কথা বলায় আমাকে ইসলাম বিরোধী বলা হয়েছে, আপনি কি তাই মনে করেন?
৬. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:৩২
বইপাগল বলেছেন: @সারওয়ারচৌধুরী এবং আবূসামীহা - মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
৭. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২০
আবূসামীহা বলেছেন: যারা নিজেদের বান্দর/হনুমানের উন্নত প্রজন্ম মনে করে তারা কি ইসলামের পক্ষে ছিল কখনো @ কিন্তু কি ওরফে ডঃ/ডাক্তার/দাক্তার আইজুদ্দিন ওরফে ঠোটকাটা ওরফে ............?
৮. ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১:৪৩
বইপাগল বলেছেন: @কিন্তু কি - দুঃখিত, আপনার আমাকে করা প্রশ্নটা সকালে খেয়াল করিনি। না ভাই, আমি কাউকে সে কোন পক্ষের এ রায় দিতে চাই না। আল্লাহ ভালো জানেন কে কি, আমি কি বা আপনি কি বা আপনাকে যে ইসলাম বিরোধী বলেছে সে কি। আর আল্লাহর জানাই যথেষ্ট কারণ জবাব তাঁর কাছেই দিতে হবে। আর বড় কথা হলো, আপনি আমি সহ এ দুনিয়ার সব মানুষও যদি ইসলাম বিরোধী হয়ে যাইও তবু তাতে কি আল্লাহর কিছু আসবে যাবে? আমরা যাই করি তা করি আমাদের ভালোর জন্যে বা আমাদের খারাপের পরিণতির জন্যে। তাই না? সুতরাং মন খারাপ করবেন না। আপনি যদি জানেন আপনি সঠিক পথে আছেন, তবে তাতে দৃঢ় থাকুন। ধন্যবাদ।
৯. ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১:৪৫
বইপাগল বলেছেন: @আবূসামীহা - ভাই এভাবে বলবেন না দয়া করে, হেদায়াতের মালিক আল্লাহ, আমরা চেষ্টা করে যাই সবাই সত্যকে উপস্থাপন করতে, সত্যের পক্ষে থাকতে। তারা হয়তো কখনো সঠিক পথে আসতেও পারেন, তাই না? আমার মনে হয় আক্রমনাত্মক কথা বললে তো তারা আরো দূরে সরে যাবেন। ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৭১৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
"... তোমরা যা কিছু করছো আল্লাহ তায়ালা তার সব কিছুই দেখছেন।" (সূরা আল হাদীদঃ আয়াত ৪)
/////////
"তিনি চোখের খেয়ানত সম্পর্কে (যেমন)...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ