আমার প্রিয় পোস্ট

"অবশ্যই আমার নামাজ আমার এবাদাত আমার জীবন আমার মৃত্যু সবকিছুই সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহর জন্যে।"

উত্তম কাজের বিবিধ পন্থা বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের শিক্ষা

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৮

শেয়ারঃ
0 0 0

*** উত্তম কাজ বহু প্রকার এবং অনেক ব্যাপক। কতকগুলো বিশেষ ধর্মীয় কাজকেই কেবল উত্তম ও সত্কাজ বলা হয় না। কুরআন ও হাদীসে আমলে সালেহ্ ও খায়ের (সত্কাজ)-এর গুরুত্ব ঈমানের মতোই। মূল ঈমানের সাথে সামঞ্জস্য রাখে এবং তার দাবি পূরণ করে এমন যে কোন কাজকেই আমলে সালেহ, উত্তম কাজ বলা হয়েছে। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সমষ্টিগত জীবনে সর্বস্তরের এরূপ ছোট-বড় কল্যাণকর কাজকেই দ্বীনি কাজ বলা হয়। সমাজকল্যাণমূলক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক ইত্যাদি সব রকমের কাজই ইসলামের অনুশাসন অনুযায়ী হলে তা আমলে সালেহ, উত্তম ও দ্বীনি কাজ হিসেবে পরিগণিত হয়। আর এসব কাজের মাধ্যমেই প্রকৃত ঈমানের পরিচয় ও প্রমাণ পাওয়া যায়।
_________
"... আর যতো ভালো কাজই তোমরা করো আল্লাহ তায়ালা (অবশ্যই) তা জানেন; ..."
(সূরা আল বাকারাঃ আয়াত ১৯৭)

"... যা কিছুই তোমরা তোমাদের পিতামাতার জন্যে, আত্মীয় স্বজনদের জন্যে, এতীম অসহায় মেসকীনদের জন্যে এবং মোসাফেরের জন্যে খরচ করবে (তাই আল্লাহ তায়ালা গ্রহণ করবেন); যা ভালো কাজ তোমরা করবে আল্লাহ তায়ালা তা অবশ্যই জানতে পারবেন।"
(সূরা আল বাকারাঃ আয়াত ২১৫)

"(তোমাদের মাঝে) যদি কেউ কোনো নেক কাজ করে, তা (কিন্তু) তার নিজের ভালোর জন্যেই ..."
(সূরা আল জাছিয়াঃ আয়াত ১৫)

"অতএব যে ব্যক্তি এক অণু পরিমাণ কোনো ভালো কাজ করবে (সেদিন) তাও সে দেখতে পাবে;"
(সূরা আল যেলযালঃ আয়াত ৭)

আবু যার জুনদুব ইবনে জুনাদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের যে কোন লোকেরই শরীরের প্রতিটি সংযোগস্থলের উপর সদাকা (ওয়াজিব) হয়। সুবাহানাল্লাহ্, আলহামদু লিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার - এসবের প্রতিটি এক একটি সদাকা। সত্কাজের হুকুম দেয়া এবং অসৎ কাজে নিষেধ করাও সদাকা। আর এসব চাশত্-এর (দুপুরের পূর্বেকার) দুই রাকআত নামায পড়লে পূরণ হয়ে যায়। (মুসলিম)

আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। কতিপয় লোক বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! ধনীরা তো সব সওয়াব নিয়ে গেল। আমরা যেমন নামাজ পড়ি তারাও তেমনি নামায পড়ে। আমরা যেমন রোযা রাখি তারাও তেমনি রোযা রাখে। (কিন্তু) তারা তাদের উদ্বৃত্ত মাল থেকে দান করে। তিনি বললেন, আল্লাহ কি তোমাদের জন্য এমন ব্যবস্থা করেননি যার মাধ্যমে তোমরা দান করতে পার? (জেনে রাখ) প্রতিবার সুব্‌হানাল্লাহ্ বলা সদাকা (দান), আল্লাহু আকবার বলা সদাকা, আলহামদু লিল্লাহ্ বলা সদাকা, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা সদাকা, সত্কাজের হুকুম করা সদাকা, অসৎ কাজের নিষেধ করা সদাকা এবং তোমাদের স্ত্রীর সাথে মিলনও সদাকা। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাদের কেউ তার যৌন আকাঙ্খা পূরণ করলে তাতেও সওয়াব হয়? তিনি বললেন, আচ্ছা বলতো, যদি কেউ হারাম উপায়ে যৌন আকাঙ্খা পূরণ করে তবে তার গুনাহ হবে কি না? এভাবে হালাল পন্থায় এ কাজ করলে তার সওয়াব হবে। (মুসলিম)

আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে কিংবা সন্ধ্যায় মসজিদে আসে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে প্রতি সকাল ও সন্ধ্যায় মেহমানদারির ব্যবস্থা করেন। (বুখারী ও মুসলিম)

আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে মুসলিম নারীগণ ! কোন মহিলা যেন তার প্রতিবেশী মহিলাকে ছাগলের খুর হলেও তা দিতে অবজ্ঞা না করে। (বুখারী ও মুসলিম)

আদী ইবনে হাতিম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আগুন থেকে বাঁচ, একটা খেজুরের অর্ধেকটা দান করে হলেও। (বুখারী ও মুসলিম)

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): উত্তম কাজের বিবিধ পন্থা বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের শিক্ষা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: কোরআন ও হাদীসের আলোকে  বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:০৭
চতুরভূজ বলেছেন: ৫
এই ব্লগে ঢুকে কিছু দেখার আগেই ৫ দিয়ে এরপর পড়া শুরু করি। যতবার আমি পবিত্র কুরআনের এইসব বানী পড়ি আমার কাছে মনে হয়, আমি একটা ভাল কাজ করছি। আল্লাহ তায়ালা আমাকে তাঁর মহান বানী যথাযথ ভাবে পালন করতে তৌফিক দান করুন । আমীন।
২. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৪৪
বইপাগল বলেছেন: @চতুরভূজ - আমার জন্য একটু দোয়া করবেন। আমি খুব মানষিক কষ্টে আছি। ধন্যবাদ।
৩. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৫৪
চতুরভূজ বলেছেন: বই পাগল ভাই,
কি সমস্যা ভাই? আচ্ছা থাক বলতে হবেনা, হয়ত ব্যাক্তিগত। অবশ্যই দোয়া করি।
৪. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৫৭
নাম্বারহীন বলেছেন: বইপাগল ভালো থাকবেন
৫. ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৫৮
বইপাগল বলেছেন: @চতুরভূজ - অনেক ধন্যবাদ আমাকে বোঝার জন্য। আমি আসলে জানি না আল্লাহ তায়ালা আমার ওপর কোনো ঈমানী পরীক্ষা নিচ্ছেন কিনা? তবে, তা যাই হোক, পাশ ইনশাল্লাহ আমি করবোই। তবে এখন এতো কষ্ট পাচ্ছি যে বলার ভাষা নেই এর। সারাদিন রাতের নামাজে কান্নাকাটি করে আমার সময় যায়।

@ নাম্বারহীন - দোয়া করবেন ভাই। ধন্যবাদ।
৬. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৩:০৭
আবূসামীহা বলেছেন: ৫ এবং প্রিয় পোস্টে যুক্ত।
৭. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৩:৩০
বইপাগল বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ @আবূসামীহা

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৫৩১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
"... তোমরা যা কিছু করছো আল্লাহ তায়ালা তার সব কিছুই দেখছেন।" (সূরা আল হাদীদঃ আয়াত ৪)
/////////
"তিনি চোখের খেয়ানত সম্পর্কে (যেমন)...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ