somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইবাদত-বন্দেগীতে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের শিক্ষা

১১ ই অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

*** মুমিনের জীবনের সব কাজের মধ্যে একটা ভারসাম্য থাকা দরকার। কোন একদিকে বেশী ঝুঁকে পড়লে অন্যদিকের কাজের অবশ্যই ক্ষতি হবে। এজন্য প্রতিটি কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী সময়, অর্থ ও শ্রম দান করা অপরিহার্য। যে কোন কাজ নিয়মিত করলে তাতে বরকত হয় এবং তাতে যোগ্যতাও বাড়ে। নিয়মিত কাজ অল্প হলেও সেটা স্থায়ী হয় এবং তাতে ভালো ফল পাওয়া যায়।
কোন ব্যাপারে সীমা লংঘন করে বাড়াবাড়ি করলে বা মাত্রাতিরিক্ত করলে তাতে যেমন বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়, তেমনি তাতে ক্লান্তও হয়ে যেতে হয় এবং এতে যোগ্যতার বিকাশও হয় না। কারণ জীবনের কাজ তো অনেক। আল্লাহর হক আদায় করার সাথে সাথে বিভিন্ন বান্দার হকও আদায় করতে হয়। আর এজন্য আবার নিজের জরুরী ও প্রয়োজনীয় হকও আদায় করতে হয়। নতুবা কোন হকই ঠিকমতো আদায় করা সম্ভব হবে না। হঠাৎ করে জয্‌বায় এসে অনেক কাজ করে ফেলা এবং তারপর আর কোন তত্পরতা না থাকা ইসলামের মেজাজ নয়। তাই প্রত্যেকের পূর্ণ শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পন্থায় সব কাজ নিয়মিতভাবে করতে থাকা কুরআন ও হাদীসের দাবি।
_________
"... আল্লাহ তায়ালা তোমাদের (জীবন) আসান করে দিতে চান, আল্লাহ তায়ালা কখনোই তোমাদের (জীবন) কঠোর করে দিতে চান না। ..."
(সূরা আল বাকারাঃ আয়াত ১৮৫)

"(হে নবী,) আমি (এ) কোরআন এ জন্যে নাযিল করিনি যে, তুমি (এর দ্বারা) কষ্ট পাবে,"
(সূরা ত্বাহাঃ আয়াত ২)

আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনজন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণের বাড়িতে আসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইবাদত সম্পর্কে জানার জন্য। যখন তাদেরকে এ সম্পর্কে অবহিত করা হল, তারা এটাকে (নিজেদের জন্য) কম মনে করল। তারা বলতে লাগল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তুলনায় আমরা কোথায়? তাঁর পূর্বাপর সব তো মাফ করা হয়েছে। তাদের একজন বলল, আমি অনবরত সারা রাত নামাযে মগ্ন থাকব। আরেকজন বলল, আমি অনবরত রোযা থাকব, কখনও রোযাহীন থাকব না। একজন বলল, আমি নারীদের থেকে দূরে থাকব এবং কখনও বিবাহ করব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে এসে বললেন, তোমরা কি এরূপ এরূপ কথা বলেছ? আল্লাহ্‌র শপথ ! তোমাদের চেয়ে আমি আল্লাহকে বেশ ভয় করি এবং বেশী তাক্‌ওয়া অবলম্বন করি। কিন্তু আমি তো রোযা রাখি আবার খাই, নামায পড়ি আবার ঘুমাই এবং বিয়েশাদীও করি। যে ব্যক্তি আমার নিয়ম পালন করবে না সে আমার (দলভুক্ত) নয়। (বুখারী ও মুসলিম)

ইবনে মাসঊদ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অযথা কঠোরতা অবলম্বনকারীরা ধ্বংস হয়েছে। তিনি এ কথা তিনবার বলেছেন। (মুসলিম)

আইশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কারো নামাযরত অবস্থায় ঘুম এলে সে যেন শুয়ে যায়, যতোক্ষণ না তার ঘুম চলে যায়। কেননা তন্দ্রা অবস্থায় নামায পড়লে সে হয়ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে গিয়ে নিজেকে গালি দিতে থাকবে। (বুখারী ও মুসলিম)

ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবাদানকালে এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেলেন। তিনি তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সাহাবীগণ বললেন, এ ব্যক্তি আবু ইসরাইল। সে মানত করেছে যে, সে রোদে দাঁড়িয়ে থাকবে, বসবে না, ছায়ায় যাবে না এবং কারও সাথে কথা বলবে না, আর রোযা রাখবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে হুকুম দাও যেন সে কথা বলে, ছায়ায় যায়, বসে এবং তার রোযা পূর্ণ করে। (বুখারী)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৪৫
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×