উত্তরঃ জ্বি হা হাদীস থেকে জানা যায় হারাম উপার্জনকারী এবং তা দিয়ে খাবার খেলে তা থেকে পরিধান করলে আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন না তার ডাকে সাড়া দেন না। এবং হারাম উপার্জন দিয়ে দান খয়রাত করলেও তার সওয়াব পাওয়া যায় না।
প্রশ্ন ১৩৪. দপ ছাড়া অন্য সকল বাদ্যযন্ত্র হারাম কথাটি কি সঠিক? ইসলামী গানে যদি এটি ছাড়া অন্য কোন বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাহলে কি তা আমাদের বর্জন করা উচিত?
উত্তরঃ জ্বি না কথাটি আসলে এমন নয়। রাসূল (সঃ) এর সাথে যারা ছিলেন তারা দপ বাজাতেও বাধা দিচ্ছিলেন। কিন্তু রাসূল (সাঃ) তখন বললেন যে, না দপ বাজাতে দাও, বাধা দিও না। এ থেকে বুঝা যায় যে, আমাদের হাতে যদি শরিয়াহ থাকে তাহলে দপও জায়েজ হতো না বা নেই। আর রাসূল (সাঃ) এর হাতে শরিয়াহ থাকলে দপ জায়েজ। যেমন- রাসূল (সাঃ) গান গাওয়ার কথা বলেছেন এবং বিয়েতেও গান গাইতে বলেছেন। আসল কথা হচ্ছে রাসূল (সঃ) ইসলামকে অনেক সহজ করেছেন। কিন্তু আমরা তা কঠিন করার চেষ্টা চালিয়েছি। রাসূল (সঃ) দপ বাজানোর অনুমতি দিয়েছেন। আর দপ একটি বাদ্যযন্ত্র হিসেবেই স্বীকৃতি পেয়েছে সুতরাং দপ ছাড়াও অন্যান্য সহনীয় বাদ্যযন্ত্র কিছু ব্যবহার করলেই যে সেটি একেবারে হারাম হয়ে যাবে এমন কোন কথা আমরা ঠিক মনে করি না। তবে হ্যাঁ বাদ্যের আধিক্য অবশ্যই বর্জন করতে হবে। অনেক বেশী আওয়াজ সম্বলিত উগ্রতা সৃষ্টিকারী অসহনীয় কোন বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার ইসলামে নিষেধ করা হয়েছে।
প্রশ্ন ১৩৫. কারও গোসল ফরজ হবার পরে গোসল না করে যদি কেবল হাত মুখ ধুয়ে ভিজে হাতে জায়নামাজ বা অন্য কিছু ধরে তাহলে সেগুলো কি নাপাক হয়ে যাবে?
উত্তরঃ জ্বি না গোসল ফরজ হলে মানুষ তো আর পেশাব পায়খানা বা কোন নাপাক বস্তুর মত নাপাক হয়ে যায় না যে তার শরীরের পানি লাগলে তা নাপাক হয়ে যাবে। যদি মানুষের শরীরে কোন নাপাকি লেগে থাকে এবং সেই নাপাকি যদি কোন কিছুতে লেগে যায় তাহলে সেটি ধুয়ে পাক করে নিতে হবে। কিন্তু শুধুমাত্র গায়ের পানি বা হাতের পানি লাগলেই তা নাপাক হয়ে যাবে এমন কোন কথা নেই।
প্রশ্ন ১৩৬. জুনুবি অবস্থায় সেহরী খেয়ে রোজা রাখা যাবে কি?
উত্তরঃ জ্বী হ্যাঁ এ অবস্থায় সেহরী খেয়ে রোযা রাখার অনুমতি আছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পবিত্রতা অর্জন করে নিতে হবে।
প্রশ্ন ১৩৭. আমার নিজের বাড়ি ৮০ কিলোমিটার দূরে এবং আমার বোনের বাড়ি ৭৬ কিলোমিটার দূরে। যখন আমার বাড়ি এবং বোনের বাড়ি যাবো তখন কি কসর নামাজ পড়ব? যদি ১ মাস থাকি তখন কি নামাজ পড়ব?
উত্তরঃ নিজের বাড়িতে গেলে কখনই আপনি কসর পড়তে পারবেন না। তবে বোনের বাড়িতে গেলে আপনি কছর পড়তে পারবেন। যদি ১ মাস থাকার নিয়তে যান তাহলে বোনের বাড়িতেও কসর পড়া যাবে না।
প্রশ্ন ১৩৮. আমার বাবা ৯ ভাইবোনের মধ্যে বড় এবং আমার দাদা যখন মারা যান তখন বাবা কেবল চাকুরীতে ঢুকেছেন। আমার বাবা তার সকল ভাই বোনকে লালন পালন করেছেন কিন্তু বিনিময়ে তারা বাবাকে কিছুই দেননি। এখনও সকলে সাবলম্বী হবার পরেও বাবার কাছে টাকা পয়সা দাবী করেন। বাবা নামাজী হওয়ায় তিনি কষ্ট করে হলেও তাদের দাবী পূরণ করেন এবং বলেন না দিলে গুনাহ হবে। আমরা এ ব্যাপারে বাবার সাথে দ্বিমত পোষণ করি। ইসলামে এর সঠিক ব্যাখ্যা কি জানালে বাধিত হবো।
উত্তরঃ আপনার আব্বাই অবশ্য সঠিক অবস্থানে আছেন এবং সঠিক কাজই করে যাচ্ছেন। আপনাদের উচিত তার সাথে দ্বিমত পোষণ না করা। যিনি নেন তার চেয়ে তিনি ভালো যিনি দেন। অতএব আপনার বাবা ভালো অবস্থানে আছেন। আর ভাইবোনের সাথে সম্পর্ক রাথা সওয়াবের কাজ। রাসূল (সঃ) বলেছেন, তোমরা আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখো। সুতরাং আপনার আব্বার এই উদার আচরণের জন্য তিনি আল্লাহর কাছে পুরুস্কৃত হবেন। আপনার আব্বাকে বরং আপনারা এ ব্যাপারে আরও সহযোগিতা করুন।
* উত্তর দিয়েছেন, মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, সম্পাদক, মাসিক জিজ্ঞাসা
** এই বিভাগে আপনিও প্রশ্ন পাঠাতে পারেন / প্রশ্ন পাঠাবার ঠিকানা / মাসিক জিজ্ঞাসা, বাড়ী নং - ৫৭, রোড নং - ৭, সেক্টর - ৪, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা - ১২৩০।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

