গল্পের প্রথম চরিত্র হল ছেলে। সে খালি বির বির করে। বির বির করে আর মাঝে মাঝে তোতলায়। তোতলাদের ত, র, ট এইসবে সমস্যা থাকে। ছেলে তাই মাঝে মাঝে রিটেন এক্সাম আছে এটা না বলে বলে লিখিত পরীক্ষা আছে। দুইটার মানে একই কিন্তু সে বলবে লিখিত পরীক্ষার পর ভাইভা। কিছুটা বেমানান লাগতে পারে। ছেলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। ব্লগে কর্মকান্ড করে। ভাব দেখায় আদর্শবাদী। ভাবের পেছনে সে নারীবাদী। একটি নারীর স্ট্যাটাস লাইক পাঁচটি পুরুষের স্ট্যাটাস লাইকের সমান। ছেলে ব্লগ লিখে। ব্লগে গল্প লিখে। গল্পের চরিত্র মেয়ে খুঁজে পায়না। নিজের ক্ষেত্রেও তার এমনি মতবাদ। আল্লাহ জোড়ায় জোড়ায় মাটি দিয়ে বানিয়েছেন, তার ক্ষেত্রে মনে হয় জোড়া বানায়নি। হয়ত তাকে সবার শেষে তৈরি করা হয়েছিল। যে পরিমান মাটি ছিল তাতে না তো একজন হয় না তো দুই জন, হয়ত দেড়জন হয় তা দিয়ে সেই ছেলে একজন, তাই ছেলে একটু ভারী। হয়ত থাকার কথা ছিল আকাশে ভারী হওয়ার ধুম করে পরে গিয়ে এখন পাতালে। ছেলে তৈরি হচ্ছে। ডেটিং শব্দটা জানি কেমন বেমানান। কিন্তু উপযুক্ত শব্দ আর নাই। ছেলে গোসল করতে গিয়ে দেখে সাবান নেই। শাওয়ার জেল শেষের পথে। সেটা দিয়ে আপাতত সারা যাক। বডি স্প্রে কোনটা মাখা যায়। সেট ওয়েট ভেরি ভেরি সেক্সি? ঐ নামেই সেক্সি কামে ভেক্সি। এক্স চকোলেট? দেখায় তো মেয়েরা দৌড়ায় দৌড়ায় আসে। ঐ হল যা আছে তাই। নীল জিন্স সবুজ গেঞ্জি, কোন রকমে ঘড়ি আর বিরাট বাঁচোয়া রোজার মাস। মানিব্যাগ যেমনই থাকার থাকুক। ছেলে ফোন করল
ছেলেঃ আমি বের হলাম।
মেয়েঃ লুঙ্গি পড়ছ?
ছেলেঃ আরে ধুত আমি লুঙ্গি পড়িনা।
মেয়েঃ কেন?
ছেলেঃ লুঙ্গি পড়লে ক্ষ্যাত লাগে।
মেয়েঃ লুঙ্গি আবার ক্ষ্যাত কি? যে স্মার্ট তাকে লুঙ্গিতেও স্মার্ট লাগে। লুঙ্গি না পড়লে হবেনা।
ছেলেঃ আমি বের হয়ে গেছি তুমি আসলে আস।
ছেলে আগে পৌছাল। মেয়ে আসল বাদামী সানগ্লাস পড়ে?
ছেলেঃ এটা আবার কি ধরনের গ্লাস?
মেয়েঃ কালো পড়লে অন্ধ অন্ধ লাগে তাই এটা।
ছেলেঃ বাদামী হইতেছে দরজার কালার। সেটা সানগ্লাস হবে কেন?
রমজান মাস কিন্তু তারা খাবারের দোকান। মেয়ে রোজা, ছেলে পরীক্ষার অজুহাতে। জীবনের কোন কিছুতেই তার অজুহাতের শেষ নেই। তারা কথা বলে। নাটক সিনেমা হলে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক থাকত। বুকের ওড়না গলায় ঠেলিয়া তখন আরেক মেয়ের প্রবেশ। ছেলে তাকিয়ে আবার চোখ সরিয়ে ফেলল।
মেয়ে সপরিবারে ঘুরতে গেল ভারত। ঈদ হবে সেখানে। তাদের মধ্যে ২০ দিন আর কোন যোগাযোগ নেই। এর মাঝে ঈদের দিন ছেলের বাসায় বন্ধু বান্ধবের আগমন। বন্ধুদের সাথে থেকেও ছেলের মন কেমন অন্য কাউকে খুঁজে। নিজের ব্লগের গল্পে মেয়ের কমেন্ট দেখে। কিন্তু মেয়ে তখন অনেক দূরে। যোগাযোগের মাধ্যম নেই। ছেলের পরীক্ষা, লাইব্রেরী যাতায়াত করে। স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনার সাথে পরিচিত তাই নীরবেই আছে সব কিছু। কারো সাথে এটা নিয়ে কথা বলার মত সাহস তার নেই। এ ব্যাপারে কেউ তাকে সিরিয়াসলি নেয়না। একবার হাসির পাত্র হয়ে গেলে সেটা খুব দুঃখের ব্যাপার।
মেয়ে ইন্ডিয়াতে। বাবা-মায়ের সাথে শপিং করছে। হটাৎ একটা খেলনা ট্রেন তার চোখে এল। ছেলেটার মধ্যে বাচ্চাদের মত ব্যাপার আছে। ছোটবেলায় সব অপ্রাপ্তি তার মনে থাকে। তার ব্লগে সেই বর্ননা থাকে। ট্রেন নিয়ে এরকম কিছু একটা ছিল। ট্রেনটা তার জন্য নেওয়া যাক। কিন্তু আব্বাকে বুঝানো গেলনা কেন ট্রেনটা তার চাই। খেলনা ট্রেন দিয়ে কি হবে?
২০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর গল্পে চরিত্র এল নানা। আম্মার আব্বাকে নানা বলা হয় কিন্তু এ হল পাতানো নানা। ব্লগ কমিউনিটিতে এরকম মামা, নানা থাকে। নানা মেয়েকে জিজ্ঞেস করে,
নানাঃ নাতনী খবর কি?
মেয়েঃ না।
নানাঃ আমার নামের অর্ধেক তো বলতে বলিনাই।
মেয়েঃ ছেলে খালি বির বির করে।
নানাঃ বির বির করে মানে?
মেয়েঃ কি জানি আবোল তাবোল নিজের অজান্তে বলে।
নানাঃ আবোল তাবোল বলবে কেন? সুরা টুরা পড়তেছিল হয়ত।
মেয়েঃ রোজাই রাখেনায় আবার সুরা পড়বে কি?
মেয়ে আবার ব্লগ লিখে। ছেলের ব্লগ পড়ে। ছেলে ব্লগ লিখে। আর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। পৃথিবীর যাবতীয় সুখ বিদ্যমান ফেসবুক স্ট্যাটাসে। যেখানে মেয়েদের ১ লাইক ছেলেদের ৫ লাইকের সমান। কিন্তু সুখের সন্ধান তো আর এত সহজে মিলেনা। সুখের সন্ধান মিলানোর জন্য কোন মহাপুরুষের আবির্ভাবের জন্য বসে থেকে লাভ নেই। নিজের মুক্তির পথ নিজেতেই বিদ্যমান। এবার হবে দ্বিতীয় দেখা। কাহিনীর আরেক ছোট চরিত্র হল উকিল। এই উকিল পেশায় উকিল হতে দেরি আছে আপাতত মেয়ে অন্যতম বন্ধু সে। মেয়েকে নিরাপদ রাখা এই উকিলের অন্যতম দায়িত্ব। আগেরবার উকিলের দেখা পাওয়া যায়নি এবার যেই জায়গায় সেটা উকিলের ধারে কাছেই। তা উকিলকে কোন গুরুত্বপূর্ন চরিত্রে এই গল্পে এ কারনেই দেওয়া যাচ্ছেনা যে এবারও উকিল ফাঁকি দিল। এটা খুবই তাৎপর্যময় ব্যাপার বলা যেতে পারে। ছেলে আসে মেয়ে আসেনা মেয়ে আসে ছেলে আসেনা এখানে তৃতীয় পক্ষ আসেনায়। তাই কোন বিরহের গান এখানে ক্ষাপ খায় না। আসি আসি করে উকিল , আর এলোনা। কিংবা কালো কোট পড়া উকিল আমাদের কথা দিয়েছে, আসি আসি করে উকিল ফাঁকি দিয়েছে এটা কি আর গান হতে পারে?
ছেলে লাইব্রেরীতে বসে কিছু পড়ার চেষ্টা করছে আর মেয়ে ৩০ মিনিট ধরে তাকে ফোন করার চেষ্টা করছে। ছেলের মোবাইল সাইলেন্ট করা। মেয়ের ১৯ তম কলটা তাই কোনরকমে দেখা। মেয়ের কাঁদ কাঁদ অবস্থা কিন্তু ছেলেকে বুঝতে না দেওয়া। ছেলে দৌড়ায় দৌড়ায় এল। তারা কথা বলল। এমন কোন জরুরি কথা না। আসলে কে কি বলবে এটাই বুঝতেছেনা। কথা বার্তা অনেকটা সকালে নাস্তা খাইছি, পরোটা আলু ভাজি, ডিম ছিল, ডিম খাইনাই - এরকম অবস্থা। কোন এক পুকুর পাড়ে যাওয়ার পর ব্লগের আরেক চরিত্রের আবির্ভাব। মেয়ের বান্ধবী। তবে ব্লগের কমেন্টে ছেলের সাথে সামান্য ঝগড়া হয়েছিল প্রায়। সেই চরিত্রের প্রস্থান।
এবার কি করা যায়। ছেলে বীর বিক্রমে মেয়েকে তার প্রিয় খাবারের দোকানে নিয়ে যায়। এইখানে হেন পাওয়া যায়, এইখানে তেন পাওয়া যায় ,গিয়ে দেখে খাবারের দোকানই উঠে গেছে। তবে পাশেই প্রায় নির্মিত এক চাইনীজ রেস্টুরেন্ট। তা চাইনীজ বলে কথা, চাইনীজের জানালার পর্দার রঙ কমলা। কিন্তু উপায় নাই। কমলা কালারের পর্দার চাইনীজের খাবারের দাম কমনা। তবে সব কিছুকে মূল্য দিয়ে বিচার করতে হয়না। খাওয়া দাওয়া শেষে ফিরার পথে হল সমস্যা। ছেলের সারা জীবনের আশ্রয় যে কুচরিত্র তাতো আর এত সহজে যায়না। পাশে নিজ মেয়ে থাকা সত্ত্বেও তা বেমালুম ভুলে আশে পাশে নারী অবলোকন চলছে। মেয়ে ধমক দিয়ে বলে, কি দেখ? আমি তো পাশেই আছি। এটাই মনে হয় তাদের মধ্যে প্রথম রসায়নের উন্নয়ন বা কেমিস্ত্রীর ডেভেলপমেন্ট।
রাতে মেয়ের সাথে নানার কথা হল, উকিলের কথা হল। তার কয়েকদিন পর যা হল, তা হল ছেলে আর মেয়ের ফেসবুক রিলেশনশীপ স্ট্যাটাস পরিবর্তন। লাইক পড়ল ১৮০ টা কমেন্ট পড়ল ১২০টা। তবে এবার আর নারীর ১ লাইক পুরুষের ৫ লাইকের মত জেন্ডার ডিস্ক্রিমিনেশন নাই। ছেলের কাছে এখন সবার লাইক সমান। ছেলের এক বন্ধু বলল, রিলেশনশীপ স্ট্যাটাসের এটা প্রিন্ট করে রাখ। বুড়াকালে দেখতে ভাল লাগবে। এটা আজকে থেকে ঠিক ১ বছর আগের ঘটনা।
আজকের ঘটনা হল বছর ঘুরে আবার ঈদ এসেছে। আর ছেলে মেয়ের জন্য সব থেকে সুন্দর ঈদ কার্ডটা খুঁজে পাচ্ছেনা। কারন আর্চিসের গ্যালারীটাও উঠে গেছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১১:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



