ফেসবুক পেইজ ৩২টা থাপ্পড় দিয়া ১টা দাঁত ফালাইয়া দিমু এর ৫০,০০০ সদস্য প্রাপ্তিতে এই লেখা। এখনও ৩০০ এর মত মেম্বার বাকি আছে যদিও।
ফেসবুকে আমার একটা পেইজ আছে আর সেই পেইজে প্রায় ৫০,০০০ এর মত মেম্বার হতে চলছ নানা কারনে এই তথ্যটি দেওয়া থেকে ইদানিং বিরত থাকি। তার অনেক গুলা কারনের একটা হচ্ছে, যখন কেউ বলে, পেইজের নাম কি? কেউ পেইজের নাম পড়ে বা শুনে পেইজে ‘লাইক’ দিয়ে ফেললে সেটা একটা ব্যাপার কিন্তু কাউকে মুখে যদি বলি পেইজের নাম "৩২ টা থাপ্পড় দিয়া ১ টা দাঁত ফালাইয়া দিমু" –তার কপাল চোখের ভিতর ঢুকে যায়। সামনা সামনি যে টাইপের মন্তব্য আসে সেগুলো হল,
-আরে আমি তো মনে করেছিলাম কোন পাগল এরকম পেইজ বানিয়েছে এখন দেখি এটা তুমি।
ভাল কথা পেজ আমি বানাইনাই পেইজ বানিয়েছে রাহাত রহমান। রাহাত রহমান আর রাসয়াত রহমান এক নয়। দু’জনের বয়সের পার্থক্য দশ বছর। রাহাত রহমান পেইজ বানিয়ে জনসচতেনতামুলক পোস্ট দিতে শুরু করার পর আমার আগমন। রাহাত এস এস সি পরীক্ষার্থী, পেইজে সময় দেওয়া সম্ভব নয়, পেইজের অকাল মৃত্যু মেনে নেওয়া সম্ভব নয়, আমি তখন ব্লগে খলিল সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। রাহাত এসে বলল, "জিকো ভাই হাল ধরেন, আমি পাল তুলে পরীক্ষা দেই।" আমিও বললাম "ঠিক আছে।"
এই ঘটনা ১ বছর ১ মাস আগের। ২০১০ সালের ডিসেম্বর শুরু শুরু। পেইজের প্রথম স্ট্যাটাস ছিল আইন্সটাইনের সূত্র কিভাবে বাংলাদেশের নায়ক নায়িকারা ভুল প্রমান করে এই বিষয়ক। প্রথম স্ট্যাটাসে বেশ খানিকটা লাইক পড়ল, মনটা ভরল। তখন পেইজের মেম্বার বোধ করি ৩৫০০ এর মত। তবে সেটাই যে এই পেইজে আমার প্রথম স্ট্যাটাস তা না। রাহাত এর আগে আমার স্ট্যাটাস এই পেইজে দিয়েছে। খালি পার্থক্য তখন আমি এডমিন ছিলাম না। রাহাতকে খালি বুদ্ধি দিতাম এই যা!
ফেসবুক পেইজ চালাতে কেমন লাগে এই প্রশ্নের জবাব হল ধৈর্য্য লাগে। এটা সব থেকে গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার। পাবলিক কি খাবে আর কি খাবেনা এটা বোঝার জন্য ধৈর্য্য লাগে। পাবলিক কোন সহজ ব্যাপারনা। নানা রুচির, নানা মানুষের সমাহার এখানে, কে কখন কোনটাতে কি বলবে বোঝা সহজ নয়। ধরেন, আপনি বালামকে নিয়ে (পঁচায়) স্ট্যাটাস দিবেন ৫০০ মানুষ লাইক দিবেন একজন খেপে যাবে সে দিবে গালি। ৫০০ জনকে মজা দিয়েও গালিটা এডমিনকেই খাইতে হয়। এডমিন সব সময় ঝুকি সীমায় বাস করে। এই পেইজ অশ্লীল জোকসের জন্য না কিন্তু আকার ইঙ্গিতে মাঝে মাঝে দুইএকটা দেওয়া হয়। এবারও ৫০০ লাইকের সাথে সাথে দুই একজন খেপে যাবে। বলবে আপনার ম্যানার নেই, ভদ্রতা জানেন না, এই পেইজে আমি আর নাই। অনেককেই বোঝাতে পারিনা ফেসবুক পেইজ হল টিভির মত। টিভিতে সব ধরনের অনুষ্ঠান কি সবার পছন্দ হয়? কিছু আপনার পছন্দের হয় সেগুলা আপনি দেখেন, কিছু আপনার পছন্দ হবেনা অন্যের পছন্দ হবে সেগুলো আপনি এড়িয়ে যান। টিভিতে ফ্যাশন শো দেখালে তো কেউ টিভি ভাঙ্গেনা তাইলে আমার একটা ইঙ্গিতময় জোকসে কি দোষ করল!!
ফেসবুকে এখন পেইজের জোয়ার। যে যেভাবে পারে পেইজ খুলে। সবারই অধিকার আছে সেটা। তবে এদের মধ্যে কেউ কেউ আমাদের উপর খেপে থাকে। আপনারা বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, শুধুমাত্র পেইজ প্রমোট করার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আমাকে ফোন করাও হয়েছে। কিভাবে মেম্বার বাড়াব? একটু প্রমোট করে দেন। মানুষকে উপকার করতে পারলে তো আনন্দই লাগে কিন্তু পেইজ প্রমোট এমন একটা কাজ যেখানে কারো কোনো লাভ হয়না। না ঐ পেইজের, না আমাদের। যতদূর মনে পড়ে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে কোন একটা পেইজকে শেষ প্রমোট করা হয়েছিল। সেই পেইজ শিক্ষামূলক পেইজ, অনেক কিছু জানতে পারবেন এমনটি আমরা বলে দিয়েছিলাম, তারপর এক আপা আমাকে মেসেজ দিল, আপনাকে বিশ্বাস করে সেই পেইজে GRE word শিখতে গেলাম, এখন দেখি ডার্টি জোকস দিচ্ছে। এরপর থেকেই আমার আর রাহাতের সিদ্ধান্ত পেইজ প্রমোট সম্ভব না। যদি এমন কিছু শেয়ার করতে পারি যাতে মানুষের উপকার হবে, বা খুব গুরুত্ব বহন করে শুধুমাত্র সেটাই করা যাবে।
দেশের মানুষ সব সময় দুই ভাগ হতে ভালবাসে। সেটা এমনই ভয়ঙ্কর যে বলে বোঝানো যাবেনা। মেসির প্রশংসা করে স্ট্যাটাস দিয়ে গালি খাওয়া লাগে। বলা হয় নাইজেরিয়া আসার সময় তো স্ট্যাটাস দেইনাই। মেসির স্ট্যাটাসে এমনই কমেন্ট চাপা পড়েছে যে কেউ নাইজেরিয়ারটা খেয়াল না করেই আমার ভুল ধরা শুরু করেছে।!! আর ভারত-পাকিস্তানের কথা তো নাই বললাম। ভাত শব্দের ভা উচ্চারন করলে মানুষ বলে শালা "ভারতের দালাল।" আর পান এর পা বললে বললে "শালা রাজাকার"। ১৯৭১ এ পাকিস্তান কি করছে তা কি আমি জানিনা নাকি? তাদের সমর্থনও করিনা। কিন্তু খেলার প্রশংসা করাই যায়। ইনজামামের কথা বললেই বা আমি রাজাকার হব কেন আর শচীনের কথা বললেই বা ভাদা হব কেন? সব কিছুতেই এই দুই ভাগ কেন? ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে সব জায়গায় বিএনপি আওয়ামীলীগ বানানোর দরকার কি? আমরা তো সাধারন ক্ষমতাহীন মানুষ।
এই যে উপরে দুই-একটা ঘটনা লিখলাম, এগুলোর থেকে পেইজে চালানোর আনন্দ বহুগুনে বেশি। কারন আমাদের পেইজে সত্যিকার অর্থে অসাধারন সব সদস্য বিদ্যমান। মাঝে মাঝে পেজ ইনসাইড গিয়ে অভিভুত হয়ে যাই। আমি আমার ভাঙ্গা কি-বোর্ড দিয়ে কয়েকটা শব্দ লিখে সেটা পৃথিবীর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ১৯টা দেশের লোকজন লাইক দেয়। মানুষকে আনন্দ দেওয়ার মাঝে যে কি আনন্দ বলে বোঝাতে পারবনা। ভাই, আপারা, আমিও আপনাদের মতই সাধারন ব্যস্ত মানুষ। আমার পরিবার, প্রিয়জন, চাকরি, এমবিএ ক্লাস, এগুলা সহ আরও অনেক কিছু নিয়েই আপনাদের মতই ব্যস্ত থাকি। তারপরেও ছটফট করতে থাকি কখন আপনাদের জন্য কিছু একটা নিয়ে আসব। অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ নেই। অর্থই সবকিছু নয়, সময় বাঁচায় আপনাদের কাছে আসি, এই আনন্দের কোন তুলনা নাই।

মাঝে মাঝে অনেক সদস্য যখন কমেন্ট করেন তখন লুকিয়ে লুকিয়ে তাদের প্রোফাইল দেখে আসি। আমেরিকা, কানাডায় পিএইচডি করা লোকজন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুল-কলেজে পড়া ছেলেমেয়ে, গৃহিনী, ডাক্তার, ল-ইয়ার সবার সমারোহে মনটা ভরে যায়।
লেখালেখি করার সামান্য অভ্যাস ছিল, খুবই ভয়ে ভয়ে শুরুর দিকে কিছু লেখা শেয়ার করতাম, এগুলা আপনারা এত পছন্দ করবেন বুঝিনাই। নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে হয়। আপনাদের মাঝেও অনেকে লেখালেখি করতে চান, আমার সামহোয়ার ইন ব্লগের একাউন্ট দেখে সেখানেও একাউন্ট খুলেছেন এরকম অনেকেই জানিয়েছেন। আপনারাও লিখবেন। লেখালেখি হল আনন্দের বিষয়।
দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে যখন যা পারি শেয়ার করি আপনাদের প্রত্যাশা হয়ত মিটেনা কিন্তু আমরাও আপনাদের মতই সাধারন। নিজের নিরাপত্তা মানেই পরিবারের নিরাপত্তা। আপনাদের মত আমাদেরও সেটা রক্ষা করে চলতে হয়।
মাঝে মাঝেই স্ট্যাটাসে সাধু-চলিত মিশ্রনে গুরুচন্ডালী দেখা যায়। এটা খুব ভাল ব্যাপারনা। আসলে সমস্যা হচ্ছে মুখের ইমপারফেক্টশন গুলা বোঝানোর জন্য এটা করা হয়ে থাকে। সাহিত্যের বিচারে ব্যাপারটা খারাপ কিন্তু ফেসবুকের স্ট্যাটাস তো আর সাহিত্যের অংশ না। এটা সময়-রেখার (টাইম-লাইন) অতল গহ্বরে এক সময় হারিয়ে যাবে।
ইভা রহমান, সাকিব খান, ময়ুরী, আবুল হোসেন এদেরকে নিয়ে যদি মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি (পঁচানি) করে থাকি তাহলে দুঃখিত। কিন্তু আমিও যে আপনাদের মতই সাধারন মানুষ। আপনারা যেগুলাতে মজা পান আমিও সেগুলাতেই পাই। সবধরনের শিষ্টতা বজায় রাখা আনন্দ দেওয়াটা এখনও রপ্ত হয়নি।
মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি যথাযথ সম্মান সব সময় দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার ব্লগে লিখে শেয়ার করেছি। আত্মত্যাগী শহীদদের নিয়ে পোস্ট দিয়েছি। অজানা কিছু জেনে আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করেছি। যদিও আসল কথা হল, কোন কিছুতেই তাদের ঋন মেটানো যাবেনা।
৫০,০০০ সদস্য হওয়ার এই দিনে আপনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি। পেইজ চালানোতে ত্রুটি যে আছে তাতে কোন সন্দেহ নাই, তবে আমাদের আন্তরিকতার কারনে আপনারা যে সেই ত্রুটি ক্ষমা করে দেন তাতেই আমাদের মন ভরে যায়।
প্রথম আলোর লিঙ্ক শেয়ার করা হয় দেখে অনেকে আপত্তি জানান। প্রথম আলোর সব কিছুর সাথে যে আমাদের মতামত মিলে ব্যাপারটা তা না কিন্তু সব থেকে বেশি পঠিত দৈনিকের প্রতি আগ্রহটা একটু বেশি আর কি।
আমাদের পেইজে লাইক দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আর অন্যান্য সকল পেইজ এডমিনদের জন্য শুভকামনা।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



