আজকাল আমাদের তথাকথিত অভিজাত শ্রেণীর মেয়েরা ক্লাব, ডিসকো পার্টি, মদ ইত্যাদিকে ভালোবাসতে আরম্ভ করেছে। পারিবারিক শান্তি নষ্ট করে এরা শান্তি খুঁজছে ক্লাবে, থিয়েটারে, বিভিন্ন পার্টিতে। নিজের সংসারে, নিজের স্বামীতে মন বসছে না। সুখের সন্ধানে ছুটে বেড়াচ্ছে বাইরে। নারী যতই পুরুষের ভোগের সামগ্রী হিসেবে ধরা দেবে ততই নারী জাতির সর্বনাশ এগিয়ে আসবে। ফড়িং যেমন আগুনের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারায়, তথাকথিত আধুনিকতার বাহ্যিক ঝলকে অন্ধ হয়ে আজ আমদের নারীরাও মরীচিকার পেছনে ঘুরছে।
ইদানীং অভিজাত শ্রেণীর নারীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশীয় নৃত্য শিক্ষার প্রচলন হয়েছে। যেমন পেট দেখিয়ে নাচ, বক্ষ দেখিয়ে নাচ ,উরু ও নিতম্ব দেখিয়ে নাচ ইত্যাদি। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব নাচ দেখিয়ে এরা নিজেদের সৃষ্টিশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন। এদের নৃত্যানুষ্ঠানে মাঝে মাঝে গ্রাম্য জীবনের ছবি রূপায়িত হলেও এদের নিজেদের গ্রামের দরিদ্র মানুষের প্রতি এদের দরদ নেই। আর শহরের বৈদ্যুতিক আলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে যারা এই নৃত্য উপভোগ করেন তাদেরও এইসব দুর্গত মানুষের প্রতি তেমন কোনো ভালোবাসা নেই। তারা নারীদেহের বিচিত্র ভঙ্গিমার মধ্যে একপ্রকার যৌনতৃপ্তি লাভ করে থাকেন। এটাই তাদের কাছে সৃষ্টিশীলতা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব নৃত্য শুধু যৌন লালসাকেই উদ্দীপ্ত করতেই সহায়তা করে। মাঝে মাঝে শখ করে এসব নৃত্য পরিকল্পনায় দুর্গত জীবনকে স্থান দিলেও দুর্গত মানুষ তা দেখে না, দেখার সুযোগ পায় না। অন্যদিকে এসব ফাইন আর্ট অনুভব করার ক্ষমতাও তারা রাখে না। দেশের সাধারণ মানুষ যখন অন্নাভাবে, শিক্ষাভাবে, স্বাস্থ্যাভাবে মরছে তখন এইসব নৃত্যানুষ্ঠান শহুরে ধনী লোকদের একরকম যৌন ক্ষুধাই শুধু তৃপ্ত করছে। কোনো মহত্তর জীবনবোধে অণুপ্রাণিত করছে না। বিমল আনন্দ পরিবেশনের জন্য নারী নৃত্য শিখতে পারে কিন্তু, তার এই প্রদর্শনীমূলক নৃত্য তার জন্যে কিংবা সমাজের জন্যে কারও জন্য সংগত মনে হয় না। এটা শুধু সমাজ ও পারিবারিক জীবনের শান্তি ও শূচিতাই নষ্ট করে দিতে সহায়তা করছে। এইসব নারী ধনিকগোষ্ঠির মনতুষ্টির জন্য নিজের ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদাকে বলি দিয়ে প্রদর্শনীর সামগ্রী হয়ে নিজেকে অধিকতর রিক্ত করে ফেলছে। সেইসাথে নারী জাতিকেও খেলো করে তুলছেন।
আজকাল কোটিপতিদের সিনেমায় ও পত্রিকাতে প্রগতির নামে যে ভঙ্গি ও ছবি প্রদর্শন করা হয় তাও আমাদের নারী-পুরুষদের শান্তিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। শিক্ষামূলক বা নির্মল আনন্দদায়ক চলচ্চিত্র আজকাল খুব একটা নির্মাণ হয় না। নারী-পুরুষদের সস্তা যৌনাবেদনকে ক্ষেত্রবিশেষে গুণ্ডামি- পাণ্ডামিকে সম্বল করে অধিকাংশ চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। ফলে সমাজের উপর এর একটা মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। এসব কারণেই বর্তমানে আমাদের দেশে তরুণ-তরুণীরা উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনে অভ্যস্ত হচ্ছে। ফলে বিরাট সামাজিক সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৩:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



