somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ম্যানইউ vs চেলসি মহারণ
তখন দুদলেই কাছেই ম্যাচটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেইসময় তাদের পয়েন্ট ব্যবধান ছিল মাত্র তিন। কিন্তু পরবর্তীতে চেলসির ধারাবাহিক বাজে পারফরম্যান্স তাদেরকে লীগ লড়াই থেকে একপ্রকার ছিটকে ফেলেই বলা যায়। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল ম্যানইউর সাথে চেলসির এখন পনের পয়েন্টের ব্যবধান। যদিও তারা ম্যানইউর চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলেছে। দৃশ্যত এই ব্যবধান আর কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। মূলত চেলসি এখন চাইছে যেন আগামী বছর চ্যাম্পিয়নস লীগ খেলতে পারে। সেইজন্য তাদেরকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চারের মধ্যে থাকতে হবে। আজ যদি তারা হেরে যায় তাহলে সে আশাও ক্ষীণ হয়ে আসবে।

জানুয়ারিতে ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার শেষ দিনে চেলসি লিভারপুল থেকে স্ট্রাইকার ফার্নান্দো টোরেসকে এনেও খুব একটা সুবিধা করতে পারছেনা। অন্যদিকে মূল স্ট্রাইকার দ্রগবাও খুব একটা ফর্মে নেই। তাই আজকের ম্যাচ নিয়ে ওদের খুব একটা সম্ভবনা নেই। কিন্তু আজ তারা নিজেদের মাঠ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে খেলবে। ওদের ইতালিয়ান কোচ কার্লোস অ্যানচেলেত্তির ট্যাকটিকসও আগের মতো কাজে আসছেনা। অথচ তারা লীগ শুরু করেছিল খুবই বীরদর্পে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নও বটে।


ম্যানইউর তারাকা ডিফেন্ডার রিও ফার্দিনান্দ ইনজুরির জন্য আজও মাঠে নামতে পারবেন না। কিন্তু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রায়ান গিগস হয়তোবা আজ মাঠে ফিরতে পারেন। স্ট্রাইকিং পজিশনে রুনির ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আর এ মৌসুমের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্কোরার দিমিত্রি বারবাতভতো আছেনই। আর আছেন নানি, যিনি একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।


বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে দুইটায় স্যাটেলাইট চ্যানেল ইএসপিএন খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে। ফুটবল অনুরাগীরা সময় থাকলে আসুন খেলাদেখি আর আড্ডা মারি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29336540 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29336540 2011-03-02 01:23:37
আমার বিশ্বকাপ ক্রিকেট স্মৃতিচারণ-১

তখন বাংলাদেশে ক্রিকেটের খুব একটা প্রসার হয়নি। আর গ্রামে কিংবা মফস্বলের কথা না হয় বাদই দিলাম। এর মাঝে আমাদের গ্রামটি ব্যতিক্রমই ছিল বলতে হবে। কারণ আমাদের জাগরণ ক্লাব তখন পুরোদস্তর ক্রিকেট ক্লাব। সেই ১৯৯০ সালে তখন ক্রিকেটের আধুনিক সব সরঞ্জাম নিয়ে তারা নিয়মিত ক্রিকেট খেলে। আমি তখন ক্লাস ফাইভের ছাত্র। স্কুল ছুটির পর মাঠে বসে তাদের খেলা দেখতাম। আর ভাবতাম আমি কবে খেলব। না খুব বেশিদিন ক্লাবটি ঠিকতে পরেনি। নোংরা গ্রাম্য রাজনীতি আর নিজেদের অর্ন্তদ্বন্ধে কয়েক বছরের মধ্যেই ক্লাবটির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু সেই বয়সেই বড় ভাইদের খেলা দেখে দেখে খেলাটির নিয়ম-কানুন শিখে গিয়েছিলাম এবং সেই সাথে খেলাটির প্রতি ব্যাপক আগ্রহ জন্ম নিয়েছিল।

কখন যে ৯২ বিশ্বকাপ চলে আসল সেটা টেরই পাইনি। কারণ তখন এখনকার মতো উম্মাদনা ছিল না। নীরবে আসতো নীরবেই চলে যেত। হার্ডকোর ক্রিকেটপ্রেমী ছাড়া তেমন কেউ খেলা দেখতোনা। আর তখন টেলিভিশন ছিল হাতেগোনা। জাগরণ ক্লাবে দেখতাম কিছু বড় ভাই খেলা দেখে। আমি ভয়ে ভয়ে, কিছুটা সংকোচ নিয়ে তাদের পাশে গিয়ে দাড়াতাম ওনারা আদর করে বসতে দিতেন। কারণ আমার বয়সী আর কেউ খেলা দেখার জন্য সেখানে যেতনা। মাঝে মাঝে বন্ধু জুনায়েদ আমার সাথে যেত। সেই ম্যাচগুলোর স্মৃতি খুব একটা মনে নেই। দুটো সেমিফাইনাল আর ফাইনালের স্মৃতি বেশ মনে আছে।

প্রথম সেমিফাইনাল হয়েছিল পাকিস্থান এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যে। নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৬২ রান করেছিল। ক্যাপ্টেন মার্টিন ক্রো বড় একটা ইনিংস খেলেছিলেন। কত করেছিলেন তা মনে নেই। অবশ্য এটুকু মনে আছে যে তিনি টুর্ণামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। পরে ব্যাট করে পাকিস্থান জিতেছিল। তরুণ ইনজামামুল হক আক্রমণাত্মক একটি ইনিংস খেলেছিলেন। একটু পরপর চার মারছিলেন।

দ্বিতীয় সেমিফাইনাল হয়েছিল ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে। এই ম্যাচের স্মৃতি খুব একটা মনে নেই। এটুকু মনে আছে খেলার শেষদিকে বৃষ্টি হানা দিয়েছিল। আর দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়েরা মনখারাপ করে মাঠ ছেড়েছিলেন। অদ্ভুত বৃষ্টি আইনে ওদের টুর্ণামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল। যা এখন অনেকেরই জানা।

ফাইনাল ম্যাচ ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৪৯ রান করেছিল। জবাবে ইংল্যান্ড ২২৭ রানে অলআউট হয়েছিল। ওয়াসিম আকরাম পরপর দুইবলে দুজনকে বোল্ড করেছিলেন। তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ক্রিকেট খেলা নিয়ে আগের সেই আগ্রহ এখন আর নেই। আরও স্পষ্ট করে বললে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে ম্যাচের আগ্রহ খুব কম। এর মধ্যে টি-টোয়েন্টি কে আমার কাছে ক্রিকেট নামের তামাশা মনে হয়। তবে টেস্ট ম্যাচের প্রতি এখনও আমার বিপুল আকর্ষণ। প্রায় প্রতিটা ম্যাচই দেখার চেষ্টা করি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29335341 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29335341 2011-02-27 20:53:42
আর্সেনাল vs বার্সেলোনাঃ উত্তেজনাপূর্ণ এক ম্যাচের রিভিউ
কিক অফের পরপরই ম্যাচে উত্তেজনা চলে আসে। শুরুতেই আক্রমণের ঢেউ তোলে ক্যাটালান সংস্কৃতির ধারক-বাহক বার্সেলোনা। অপরদিকে আর্সেনাল কাউন্টারআ্যাটাক নির্ভর খেলা খেলছিল। তেমনি পাল্টা আক্রমণ ৬ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল আর্সেনাল। অধিনায়ক সেস্ক ফ্যাব্রেগাস মাঝমাঠ থেকে বল ধরে দ্রুতগতিতে কয়েকজনকে কাটিয়ে বল ক্রস করেছিলেন ধাবমান স্ট্রাইকার রবিন ফন পার্সির দিকে। পার্সির জোরালো হেড প্রচেষ্টা বার্সা কিপারের তৎপরতায় নস্যাৎ হয়। পরের মিনিটেই মেসি মাঝবৃত্ত থেকে বল নিয়ে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার সময় আর্সেনালের এ্যালেক্স সং তাকে ফাউলের মাধ্যমে থামান। বিনিময়ে হলুদ কার্ড পান তিনি।

১৪ মিনিটের ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন মেসি। মাঝমাঠ থেকে মেসি এবং ভিয়া ওয়ান টু ওয়ান খেলে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ মেসি দিকপরিবর্তন করে চকিতে বক্সের ভেতর ঢুকে যান। সাথে সাথ ভিয়ার ডিফেন্সচেরা পাস খুঁজে পায় মেসিকে। চ্যাম্পিয়নস লীগে অভিষিক্ত আর্সেনাল কিপারকে একা পেয়েও বল বাইরে মারেন তিনি। তার আলতো চিপ বার ঘেষে চলে যায়।

২৬ মিনিটে আসে ম্যাচের প্রথম গোল। দ্রুত গতিতে বল নিয়ে উপরে উঠে বক্সে লব করেছিলেন ফ্যাব্রেগাস কিপার ভালদেস বলের ফ্লাইট বুঝতে না পারলেও এরিক আবিদাল হেড করে বিপদমুক্ত করেন। মেসি সেই বল ধরে ড্রিবল করে দুজনকে ছিটকে ফেলে এগিয়ে যান। পাস বাড়ান ভিয়ার দিকে বিপদ বুঝতে পেরে আর্সেনাল কিপার পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু কাজ হয়নি আলতো টোকায় বল জালে জড়ান ভিয়া।

গোল খেয়ে হতোদ্যম হয়নি আর্সেনাল বরং আরো গুছিয়ে উঠে। এর মধ্যে ২৮মিনিটে মেসির একটি গোল অফসাইডের কারনে বাতিল হয়। ২৯ মিনিটে পার্সির আরেকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে মাঝ মাঠে বার্সেলোনাকে অগোছালো মনে হয়েছে। ইনিয়েস্তা ছিলেন নিষ্প্রভ। অবশ্য মাঝে মাঝে জাভির ঝলক দেখা যাচ্ছিল। অন্যদিকে লেফট ব্যাক দানি আলভেস ছিলেন যথেষ্ঠ উজ্জ্বল। ১-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।

বিরতির পর নতুন উদ্যমে শুরু করে আর্সেনাল। এসময় দুই সৃষ্টিশীল মিডফিল্ডার সামির নাসিরি ও ফ্যাব্রেগাস মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রন নেন। ফলে আাক্রমণভাগকে অনবরত বল যোগান দিয়ে যান। ৫৭ মিনিটে ফ্যাব্রগাসকে ফাউল করে পিকে হলুদ কার্ড দেখেন। পরপর দুম্যাচ হলুদ কার্ডের কারনে দ্বিতীয় লেগে তাকে সাইডবেঞ্চে বসে কাটাতে হবে। ৬৫ মিনিটে ভালদেসের দক্ষতায় আবার রক্ষা পায় বার্সেলোনা। ৬৮ মিনিটে একটি হাফচান্স মিস করেন মেসি।

৭৮ মিনিটে একটি সংঘবদ্ধ আক্রমণ থেকে গোল পায় আর্সেনাল। উইং থেকে পাওয়া ক্রস চমৎকারভাবে হেড করে জালে পাঠান পার্সি। গোল পেয়ে আরো উজ্জীবিত হয়ে উঠে আর্সেনাল। ফলশ্রুতিতে প্রবলবেগে ঝাপিয়ে পড়ে প্রতিপক্ষের উপর।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ফলও পান। ৮৩ মিনিটে প্রায় মাঝমাঠ থেকে সামির নাসিরির দিকে লম্বা এক থ্রু বাড়ান পুরো ম্যাচে অসাধারণ খেলা ফ্যাব্রেগাস। থ্রু ধরে কিছুটা এগিয়ে তিনি পাস বাড়ান আগুয়ান স্ট্রাইকার আন্দ্রে আরশাভিনের দিকে কাল বিলম্ব না করে কিক নেন গোলে। ভালদেস কিছু বুঝে ওঠার আগেই বল জালে জড়ায়। উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা এমিরেটস স্টেডিয়াম।

বাকিসময় কোনদলই আর গোল আদায় করতে পারেনি। বার্সোলোনার অর্জন বলতে মুল্যবান এক এ্যাওয়ে গোল। ৮ই মার্চ পরবর্তী লেগে তারা নিজেদের মাঠে খেলতে নামবে।

ম্যাচের কিছু উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যানঃ

অন টার্গেটে আর্সেনাল কিক নিয়েছে ৭টি, বার্সেলোনা ৫টি। কর্ণার পেয়েছে আর্সেনাল ৪টি, বার্সেলোনা ১টি। আর্সেনাল ফাউল করেছে ১৬বার, বার্সেলোনা ১৩ বার। আর্সেনাল হলুদ কার্ড পেয়েছে ৪টি, বার্সেলোনা ২টি। বল পজিশন আর্সেনাল ৩৯%, বার্সেলোনা ৬১%। আর অফ টার্গেটে দুদলই ৩টি করে কিক নিয়েছে।

ডিসক্লেইমারঃ গতরাতে খেলা দেখার পর এই পোস্ট লিখতে বসেছিলাম। অর্ধেক লেখার পর জুমের লিমিট শেষ হয়ে যায়। সকালে দুইবার অর্ধেক করে লেখার পরপরই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে আর লেখা হয়নি। ক্রিকেট উম্মাদনার মধ্যে এই পোস্ট দেওয়ার জন্য দুঃখিত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29328811 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29328811 2011-02-17 22:12:06
আমাদের বাসার পাঁচতলায় বোমা বিস্ফোরণ
প্রথম ভেবেছিলাম বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার মনে হয় বিস্ফোরণ ঘটেছে। পরক্ষণেই আগুন লাগার ভয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসলাম। নিচে এসে ঠাহর করার চেষ্টা করলাম, বিস্ফোরণটা কোথায় হয়েছে। ততক্ষণে নিচে আশেপাশের ফ্ল্যাটের আরো অনেকেই জড়ো হয়েছে। দেখতে পেলাম পাঁচতলার জানালা দিয়ে তখনো ধোয়া বেরুচ্ছে। আমি থাকি ছয়তলায়। বাড়িটিই ছয়তলা বিশিষ্ট। আবার দৌড়ে উপরে উঠলাম। দেখলাম পাঁচতলার দরজা বন্ধ। দরজার বাইরে রক্তের ছোপছোপ দাগ। বুঝতে আর বাকি রইলনা কী ঘটেছে। দ্রুত বাড়িওয়ালাকে ফোন দিলাম। কিন্তু তখন তিনি ডাক্তারের চেম্বারে। ভদ্রলোক আবার ডায়াবেটিক। বললাম আঙ্কেল দ্রুত বাসায় আসুন একসিডেন্ট হয়েছে।

কিছুটা রিস্ক নিয়েই টান মেরে দরজা খুলে ফেললাম। তিনজন মহিলা ছাড়া কাউকে দেখতে ফেলাম না। বিস্ফোরণে ঘরের মধ্যে সবকিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ঘরে আসবা বলতে তেমন কিছু নেই। ফ্লোরে একটা তোষক পাতা। আগুনে একপাশ পুড়ে গেছে। বোমার বানানোর সরঞ্জাম ছড়িয়ে আছে। টুকরো পাথর, মাঝারি সাইজের কৌটা ইত্যাদি। বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে আমি যখন নিচে নামি তার আগেই দুজন পুরুষ যারা বোমা বানানোতে ব্যস্ত ছিলেন তারা আহত অবস্থায় পালিয়ে যায়। আমি মহিলাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম মেঝেতে রক্তের দাগ কেন? তারা বললেন বটি দিয়ে পা কেটে ফেলেছ। এরমধ্যে রুমের ভিতর বাইরের অনেক মানুষ চলে এসেছে।

ইতোমধ্যে পুলিশকে খবর দেয়া হয়েছে। তিনজন মহিলাকে আটকে রাখা হয়েছে। আমার বোনের মেয়ে ভয়ে এখনও আমাকে জড়িয়ে ধরে আছে। পাঁচতলায় এই ভাড়াটিয়ারা চলতি মাসেই এসেছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই এই দূর্ঘটনা। বড় আকারের বোমা যদি বিস্ফোরণ ঘটত তাহলে আমাদের মেঝে ধসে যেতে পারত। সৌভাগ্যবশত তেমন কিছু হয়নি।

সরকার প্রতিদিন গলা ফাটিয়ে বলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের যেকোন সময়ের চেয়ে ভালো। এই যদি হয় অবসথা তবে আমাদের সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা দিবে কে?

সর্বশেষ খবর হলো, পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে। ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

স্পটঃ মীরবাগ, মগবাজার।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29322807 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29322807 2011-02-08 22:13:02
বিএনপির সাম্প্রতিক আত্মরতিমূলক কার্যকলাপ নিয়ে কিছু কথা
পৌর ও সংসদ উপনির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠু হয়েছে বলা যায়। সেটা যে শুধু আমার ক্ষুদ্র দৃষ্টিতে তা নয় বরং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক মহলের ধারণাও তাই। যেটুকু সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে এটাই ঢের বেশি। সেটা এই জন্য যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এর নজির খুব একটা নেই। এটা আমাদের কলুষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটা অংশও বটে। স্বৈরাচার এরশাদের আমলে যদি এই সংস্কৃতি চালু হয়ে থাকে, তাহলে সেটা পূর্ণতা পেয়েছে বিএনপির দুই আমলে। তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকারের সময় এই জবরদস্তি তথা বাহুবলের মাধ্যমে নির্বাচনের রায় নিজের পক্ষে নেয়ার ধারা শুরু করে বিএনপি বিগত নব্বইয়ের দশকে মাগুরা উপনির্বাচনের সময়। আর ছিয়ানব্বইয়ের প্রহসনের নির্বাচনের কথা নতুন করে নাইবা বললাম। সে ধারা তারা অব্যাহত রাখে তাদের সর্বশেষ পিরিয়ডেও। ভুরু চাছা ম্যাডামের কাছের মানুষ বলে প্রচারিত ফালুকে উপনির্বাচনে জিতিয়ে আনার জন্য তারা দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় ঠ্যাঙ্গারে বাহিনীকে যেভাবে ব্যবহার করেছে তা আমার স্বচক্ষে দেখা। ক্ষমতা থাকলে সেটার অপব্যবহার যে কত বেশি পরিমাণে করা যায় সেটা সর্বক্ষেত্রে খুব ভালো ভাবেই দেখিয়েছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ যে খুব একটা পিছিয়ে তা কিন্তু নয়।

সদ্য সমাপ্ত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলে পরিচিত হবিগঞ্জে একটি আসন তারা হারিয়েছে। তাও হাজারখানেক ভোটের স্বল্প ব্যবধানে। ক্ষমতার অঙ্গুলি হেলনের মাধ্যমে চাইলেই তারা ফলাফল নিজেদের অনুকূলে আনতে পারত। কিন্তু সেটা তারা না করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার যে চেষ্টা করেছে এইজন্য তারা সাধুবাদ পেতেই পারে। সম্ভবত এটা বিএনপির ভালো লাগেনি। কারণ তারা এমনটি চায়নি, তারা চেয়েছিল তাদের সময়ে তারা যেভাবে নির্বাচনে চুরি-চামারি করেছিল আওয়ামী লীগও তা করবে। এতে তারা রাজপথে ঘেউ ঘেউ করার কিছু সুযোগ পেত। কিন্তু নষ্টামি যাদের রক্তের সাথে মেশা তারা কি এগুলো না করে পারে। তাই এরা বেছে নিল বি-বাড়িয়া উপনির্বাচন। বলল এখানে আওয়ামী লিগ আমাদের মতো পুকুর চুরি করেছে। আমরা যেভাবে কেন্দ্র দখল করে সীল মারতাম, তারাও তাই করেছে। অতএব, এ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পুনঃনির্বাচন দিতে হবে। এমনকি বিএনপির কেন্দ্রের নির্দেশে আজ বি-বাড়িয়ায় হরতাল পালিত হয়েছে। এসংক্রান্ত ঘেউ ঘেউ ইদানীং করছেন নজরুল ইসলাম খান। সম্ভবত মাতাল দেলোয়ারের মুখে মদের দুর্গন্ধের তীব্রতায় কেউই ঠিকতে পারছিল না। যাইহোক, আওয়ামী লীগের আসনে পাস করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, আর ফেল করলে কারচুপি হয় বিএনপির এধরণের কথা এখন পাবলিক আর খায় না। আর এই বিষয়গুলো এতা সস্তা এবং বহুল পরিচিত যে পাবলিকের এইগুলো সিটিএন। এরপরও ক্রমাগত ঘেউ ঘেউ করেই যাবে। এধরণের চুতিয়াগিরি যত কম করবে দেশ ও নিজের ততই ক্ষতি। ভুরু চাছা ম্যাডাম এবং তার ভাঁড়বৃন্দ এটা উপলব্ধি করলেই হলো।

সর্বশেষ সংসদে যাওয়া নিয়েও বিএনপি আছে দোদুল্যমানতায়। দৃশ্যত এখন তাদের সংসদে যোগ দিতেই হবে। না হলে ফাও বেতন-ভাতা তোলা বন্ধ হয়ে যাবে। এরকম চরম মুহূর্তেও তারা আত্মরতি চালিয়ে যাচ্ছে। আজ তাদের চীফহুইপ দিলেন নতুন শর্ত। সেটা হলো আত্মস্বীকৃত রাজাকার সাকা চৌধুরীকে সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। আরে, চুতিয়ারা তার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের তদন্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা তাদের এই অনায্য দাবি তারা নিজেরাই নিজেদের পশ্চাৎদেশে ঢুকিয়ে দিবে। কারণ এছাড়া সদস্যপদ বাচিয়ে রাখার আর কোনো উপায় নেই।

এখন বিএনপির উচিত স্বমেহন বাদ দেয়া। কারণ অতিরিক্ত স্বমেহনের পরিণতি ভালো না। নাহলে জনগণ এমন দাওয়াই দিবে যে ত্রিশ সিটের দলের টিকে থাকাই দায় হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29317456 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29317456 2011-01-30 23:26:04
দৈত্য ফেদেরার জোকোভিচে বধ


শীর্ষবাছাই রাফায়েল নাদালের পর এবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন থেকে বিদায় নিলেন দ্বিতীয় বাছাই রজার ফেদেরারও। একটু আগে শেষ হওয়া সেমিফাইনালে তিনি তৃতীয়বাছাই সার্বিয়ার নোভাক জোকোভিচের কাছে ৭-৬,৭-৫,৬-৪ ব্যবধানে হেরে যান। শীর্ষ দুই বাছাই খেলোয়াড়ের বিদায়ে এবারের টুর্নামেন্ট অনেকটাই জৌলুস হারালো। এখন শিরোপা লড়াই মূলত ব্রিটিশ অ্যান্ডি মারে ও সার্ব জোকোভিচের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ডার্কহর্স স্প‌্যানিশ ডেভিড ফেরার যে এর মধ্যে একেবারেই নেই তা কিন্তু নয়।

ফেদেরারের ভক্ত হিসাবে আজ বেশ আগ্রহ নিয়েই খেলা দেখতে বসেছিলাম। যদিও প্রিয় তারকা হেরে যাওয়াতে কিছুটা মন খারাপ কিন্তু দুজনেরই খেলায় মন ভরেছে। লড়াই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। ৫৭ মিনিট স্থায়ী প্রথম সেটই গড়িয়েছে টাইব্রেকারে। যেখানে নোভাক জোকোভিচ ৭-৩ ব্যবধানে টাইব্রেক সেট শেষ করেছেন। ফলশ্রুতিতে প্রথম সেটের ব্যবধান দাড়ায় ৭-৬।

দ্বিতীয় সেটেও সমানতালে লড়াই হয়েছে। প‌্রথম গেম ফেদেরার জেতেন তো দ্বিতীয় গেম জেতেন জোকোভিচ। এমনকি প‌্রতিটি পয়েন্টের জন্য ২৫ শট পর্যন্ত খেলতে হয়েছে। ৫-২ গেমে ফেদেরার এগিয়ে থাকা অবস্থায় জোকোভিচ টানা ৭টি গেম জিতে ৭-৫ ব্যবধানে ৬১ মিনিট স্থায়ী দ্বিতীয় সেট শেষ করেন।

তৃতীয় সেটের শুরুতে ফেদেরারকে বেশ বিমর্ষ লাগছিল সেইসাথে কিছুটা নার্ভাসও। ক্যামেরা বারবার ফেদেরারের স্ত্রী ভেরোনিকাকে ফোকাস করছিল। আর ভেরোনিকা অনবরত আঙ্গুলের নখ খুঁটে চলেছিলেন। সম্ভবত ফেদেরার আর ওই নার্ভাস ভাবটা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তবুও আমি আশায় ছিলাম ফেদেরার বলে কথা। শেষের তিন সেট টানা জিতে তার বিস্ময়কর প্রত্যাবর্তন আমি বেশ কয়েকবার দেখেছি। তাছাড়া কুল হেডেড বলে তার আলাদা একটা সুনাম আছে। কিন্তু আজ দিনটি ছিল যে জোকোভিচের।

প্রথম গেম জেতেন ফেদেরার। এরপর জোকোভিচ টানা চারটি গেম জিতে ৪-১ এগিয়ে যান। তখন ফেদেরারের হার মাত্র সময়ের ব্যাপার। এ অবস্থায়ও তিনি ৪-৪ গেমে সমতা আনেন। কিন্তু ওই পর্যন্তই, আর কুলিয়ে ওঠতে পারেননি। ৬-৪ ব্যবধানে ৬২ মিনিটে হেরে যান তৃতীয় সেট। সেই সাথে পাঁচটি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার স্বপ্নভঙ্গ হয়।

ফাইনালে নোভাক জোকোভিচ নাক উচু স্বভাবী ব্রিটিশদেরর শেষ সম্বল অ্যান্ডি মারে অথবা স্প‌্যানিয়ার্ড ডেভিড ফেরারের মোকাবিলা করবেন

ম্যাচের উল্লেখযোগ্য কিছু পরিসংখ্যানঃ

ফেদেরার এইস মেরেছেন ৫টি, অপরদিকে তার প্রতিদ্বন্ধী জোকোভিচ মেরেছেন ৬টি। নোভাক জোকোভিচ ডাবলফল্ট করেছেন ৫ বার, অন্যদিকে ফেদেরার আজ কোনো ডাবলফল্ট করেননি। ফেদেরারের আনফোসর্ড এরর করেছেন ৪৪ বার, আর জোকোভিচ ৩৫ বার। ফেদেরারের উইনার ৩৫টি, জোকোভিচের ২৯টি। মোট পয়েন্ট জিতেছেন ফেদেরার ১১১টি, আর জোকোভিচ ১১৯টি। আজ ফেদেরারের সার্ভের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘন্টায় ২০৩ কিমি, জোকোভিচের ঘন্টায় ২০৭ কিমি। তুলনামূলক ফেদেরারই ভালো খেলেছেন কিন্তু তবুও হেরে গেলেন। জীবন এরকমই হয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29315611 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29315611 2011-01-27 18:47:26
সহজ জয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে রজার ফেদেরার


আজ আবারও প্রতিপক্ষকে একেবারে উড়িযে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ানওপেনের সেমিফাইনালে পা রাখলেন সুইস গ্রেট রজার ফেদেরার।প্রতিপক্ষ স্ট্যানিসলেস ওয়ারিনকা নিয়ে আজ খানিকটা ভয় ছিল। কারণ তিনি আরেক কঠিন প্রতিপক্ষ অষ্টম বাছাই আমেরিকান অ্যান্ডি রডিককে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিলেন। কিন্তু সেদিনকার খেলার ছিটেফোটাও আজ ওয়ারিনকার মধ্যে দেখা যায়নি। গতিদানব রডিককে হারানো অনেকটা ফ্লুক ছিল বলা যায়। অপরদিকে ফেদেরারকে প্রথম দিকের খেলাগুলোর চেয়ে এখন অনেক বেশি আগ্রাসী দেখাচ্ছে। আজ ফেদেরারের রুদ্রমুর্তির সামনে দাড়াতেই পারেনি তারই স্বদেশি স্ট্যানিসলেস ওয়ারিনকা।

টসে জয় লাভ করে ফেদেরারেই পছন্দনীয় সাইড বেছে নিয়ে ছিলেন। শৃরৃতেই দ্রুতগিতর এইস মেরে প্রতিপক্ষকে ভড়কে দিয়ে পয়েন্ট প্রাপ্তির সূচনা। এই শুভসূচনাটা ধরে রেখে প্রথম সেট জিতে নেন মাত্র ২৯ মিনিটে ৬-১ ব্যবধানে।

দ্বিতীয় সেটের শুরুতে প্রতিপক্ষ কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দেন। এর একপর্যায়ে ৩-০ গেমে এগিয়ে যান। কিন্তু এপর্যন্তই। এর পরই ফেদেরার ভয়ঙ্কর রূপধারণ করে টানা ৬টি গেম জিতে ৪৩ মিনিটের মধ্যে ৬-৩ ব্যবধানে সেট জিতে ২-০ তে এগিয়ে যান।

তৃতীয় সেটেও একই ব্যবধান। কিন্তু এবার সময় আরও কম মাত্র ৩৫ মিনিট। এ নিয়ে টানা ২৮টি গ্র্যান্ডস্নাম টুর্নামেন্টে কোয়ার্টার ফাইনাল কিংবা তার উপরের রাউন্ডে উত্তীর্ণ হলেন। শুধু তাই নয় সেমিফাইনালে উঠার পথে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়ে পেছনে ফেললেন আরেক কিংবদন্তী জিমি কর্নসকে। এখন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ফেদেরারের ম্যাচ জয়ের সংখ্যা ৫৮টি।

ম্যাচের কিছু উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যানঃ

ফেদেরারের ৫টি এইসের বিপরীতে তার প্রতিপক্ষ মেরেছেন ১টি। আনফোসর্ড এরর ফেদেরারের ২৪টি, ওয়ারিনকার ৩০টি। ফেদেরারের উইনার ২৯টি, অপরদিকে ওয়ারিনকার ২১টি। ফেদেরারের সার্ভের সর্বোচ্চ গিত ছিল ঘন্টায় ২০৭ কিমি, অপরদিকে তার প্রতিদ্বন্ধীর ছিল ২১৪ কিমি। আশ্চর্যের বিষয় উভয়েই আজ কোন ডাবল ফল্ট করেননি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29314152 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29314152 2011-01-25 15:54:07
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌছলেন রজার ফেদেরার


বীরদর্পেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখলেন সুইস মাস্টার রজার ফেদেরার। আজ চতুর্থ রাউন্ডে তিনি স্পেনের টমি রবরিদোকে ৬-৩,৩-৬,৬-৩ ও ৬-২ সেটে পরাজিত করেন। আজ প্রতিপক্ষ রবরিদো বেশ ভালো খেলেছে। কিন্ত ফেদেরার যত এগিয়ে যাচ্ছেন তার খেলার ধারও তত বেড়ে যাচ্ছে।

প‌্রথম সেটে ৩-৩ গেমে সমতা থাকা অবস্থায় রবরিদোকে আর কোনো সুযোগ না দিয়ে ৬-৩ গেমে জয়লাভ করে মাত্র ৩২ মিনিটে প্রথম সেট শেষ করেন। ঠিক দ্বিতীয় সেটেই ঘুরে দাড়ান স্প‌্যানিয়ার্ড রবরিদো। ঠিক একইভাবে পাল্টা জবাব দিয়ে তিনিও মাত্র ৩২ মিনিটে একই ব্যবধানে দ্বিতীয় সেট জয়লাভ করে ১-১ সেটে সমতা নিয়ে আসেন।

তৃতীয় সেটে দুজনেই বেশ ভালো লড়াই করেন। কিন্তু অভিজ্ঞ ফেদেরারের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারেননি রবরিদো। ৪৫ মিনিট লড়াইয়ের পর ফেদেরারের কাছে হার মানেন তিনি। ব্যবধান আগের দুইসেটের মতোই ৬-৩।

চতুর্থ সেটে ফেদেরার রুদ্রমূর্তিধারণ করেন। প্রথম গেম প্রতিপক্ষ জয় লাভ করলেও পরবর্তী পাঁচটি গেম টানা জিতে তিনি ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে যান। সবাই যখন ধরেই নিচ্ছিল যে সপ্তম গেমেই ফেদেরার ম্যাচ শেষ করে দিবেন, ঠিক তখনই ০-৪০ অবস্থায় পিছিয়ে থেকে গেমটি জিতে ব্যবধান ৫-২ করেন রবরিদো। কিন্তু অষ্টম গেমে আর পার পাননি রবরিদো। এই গেমটি ফেদেরার জিতে নিয়ে মোট ২ ঘন্টা ২৫ মিনিটে ম্যাচ শেষ করেন।

কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি সম্ভবত আরেক কঠিন প্রতিপক্ষ অষ্টমবাছাই আমেরিকান অ্যান্ডি রডিকের মোকাবেলা করবেন।

ম্যাচের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যানঃ

ফেদেরার এইস মেরেছেন ১০টি, রবরিদো ৬টি। উভয়েই ডাবল ফল্ট করেছেন ১টি করে। ফেদেরারের আনফোসর্ড এরর ৪০টি, অন্যদিকে প্রতিকক্ষ রবরিদোর ২১টি। ফেদেরারের উইনার ৫০টি, রবরিদোর ২৮টি। রবরিদো ব্রেক পয়েন্ট পেয়েছেন ২টির মধ্যে ১টি, অপরদিকে ফেদেরার পেয়েছেন ১০টিতে ৪টি। আজ ফেদেরারের সার্ভিসের সবোর্চ্চ গতি ছিল ঘন্টায় ২০৩ কিমি, আর রবরিদোর ছিল ঘন্টায় সবোর্চ্চ ২০৫কিমি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29312763 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29312763 2011-01-23 13:35:20
সহজ জয় নিয়ে চতুর্থ রাউন্ডে ফেদেরার

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের চতুর্থ রাউন্ডে পৌছে গেলেন দ্বিতীয় বাছাই রজার ফেদেরার। আজ মেলবোর্ন পার্কের রড লেভার এ্যারেনায় তিনি বেলজিয়ামের জেভিয়ার মেলিসকে ৬-৩,৬-৩,৬-১ সেটে পরাজিত করেন। প্রথম সেটে দুজনেই সমানতালে লড়ছিলেন ৩-৩ গেমে সমতা থাকা অবস্থায় ফেদেরার তার ঝলক দেখিয়ে ৬-৩ ব্যবধানে সেট জিতে এগিয়ে যান। দ্বিতীয় সেটেই ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করেন মেলিস। প্রথম দুটি গেম তিনি অনায়াসেই জিতে যান। এসময় কোর্টে ফেদেরারের মুভমেন্ট ছিল বেশ ধীর। এটা ইচ্ছাকৃত কিনা বোঝা যাচ্ছিল না। কারণ পরের গেমেই তিনি বিপুল বিক্রমে ফিরে আসেন। পরপর দুটি গেম জিতে ২-২ সমতা নিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তিনি ৪-২ গেমে এগিয়ে যান। পরের গেমটি মেলিস জিতে ব্যবধান কমান। কিন্তু এপর্যন্তই। টানা দু'গেম জিতে ফেদেরার দ্বিতীয় সেট শেষ করেন। তৃতীয় সেটে বলা যায় ফেদেরার মেলিসকে একেবারে উড়িয়ে দিয়েছেন। টানা পাঁচটি গেম জিতে তিনি যখন জয়ের দ্বারপ্রান্তে তখন ষষ্ঠ গেমটি মেলিস জিতে যান। এসময় মেলিস দর্শকদেরকে হাত নেড়ে,কুর্ণিশ করে অভিননন্দনের জবাব দেন। মনে হচ্ছিল যেন ম্যাচটি তিনি জিতে গেলেন।<img src=" style="border:0;" /> ঠিক পরের গেমটি ফেদেরার জিতে ১ঘন্টা ৪৪মিনিটে ম্যাচের সমাপ্তি টানেন।

ম্যাচের উল্লেখযোগ্য কিছু পরিসংখ্যানঃ
ফেদেরার এইস মেরেছেন ৬টি, অপরদিকে তার প্রতিপক্ষ মেলিস মেরেছেন ৪টি। ফেদেরার ডাবল ফল্ট করেছেন ১বার, মেলিস ২বার। ফেদেরারের আনফোর্সড এরর ৩৬টি, মেলিসের ৩০টি। ফেদেরারের উইনার ৩৬, মেলিসের ১৬। ফেদেরার ব্রেক পয়েন্ট জিতেছেন ১৭তে ৭টি, মেলিস ৩ এ ২টি। আজ ফেদেরারের সার্ভের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘন্টায় ২০৪কিমি, অন্যদিকে মেলিসের ঘন্টায় ১৯৯কিমি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29311556 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29311556 2011-01-21 16:05:30
ফেদেরারের বাজে খেলার একদিন

বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টেনিস টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম রাউন্ড প্রায় নির্বিঘ্নেই পার পেয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডেই পড়তে হলো কঠিন লড়াইয়ের সম্মুখীন। যদিও প্রতিপক্ষ অখ্যাত ফ্রান্সের জাইলস সিমোন। কিন্তু অখ্যাত হলেও ফেদেরারের নাকের জল চোখের জল এক করে ছেড়েছে। ফেদেররার হালকা মেজাজেই শুরু করেছিলেন। প্রথম সেটে জয়ও তুলে নিয়েছিলেন খুব সহজেই। দ্বিতীয় সেটও এভাবেই। ফলে প্রথম দুই সেট শেষে ফলাফল ৬-২, ৬-৩। কিন্তু তৃতীয় সেট থেকে ঘুরে দাড়াতে থাকেন সিমোন। এসময় ফেদেরারকে পরিশ্রান্ত লাগছিল। ফলে কোর্টে খুব একটা দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যাচ্ছিল না। নাগালের একটু বাইরে বল গেলেই তা আর ধরার জন্য ছুটছিলেন না। তার উপর প্লেসিংও হচ্ছিলনা ঠিকমত। নিয়মিতই কোর্টের বাইরে বল মারছিলেন। এমনকি প্রতিপক্ষের কিছু রিটার্নশটও স্ম্যাশ করে বাইরে পাঠালেন। ফলে পরপর দুইসেট সহজেই জিতে সমতা আনেন ফ্রেঞ্চ তরুণ। পঞ্চম সেট শুরু হলে উপস্থিত দর্শকের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়। তারউপর কিছু ফ্রেঞ্চ দর্শক চিৎকার চেঁচামেঁচি, পতাকা আন্দোলিত করে সিমোনকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন। ঠিক এসময় পুরনো ফেদেরারকে দেখা যেতে থাকে। এই সেটের শুরুটা ছিল ২-২। কিন্তু একপর্যায়ে ফেদেরার ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যান যা অনভিজ্ঞ সিমোন আর ফিরতে পারেননি। পরবর্তীতে ৬-৩ ব্যবধানে সেট শেষ করে ম্যাচ জিতে তৃতীয় রাউন্ডে পা রাখেন।

ম্যাচের কিছু পরিসংখ্যানঃ
ফেদেরার এইস মেরেছেন ১১টি অপরদিকে প্রতিপক্ষ সিমোন মেরেছেন ৯টি। ফেদেরার ডাবল ফল্ট করেছেন ১বার, সিমোন করেছেন ৫বার। আনফোর্সড এরর ফেদেরার ৫৩টা, সিমোন ৪০টি। ব্রেক পয়েন্ট ১৮টির মধ্যে ৮টি জিতেছেন ফেদেরার, সিমোন ৯টির মধ্যে ৫টি। ফেদেরারের উইনার ৫১টি, অপরদিকে সিমোনের ৪৪টি। ফেদেরারের সার্ভের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘন্টায় ২০৮ কিমি, সিমোনের সার্ভের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘন্টায় ২০০ কিমি।

আশা করি পরর্বতী রাউন্ডে ফেদেরার আরও সহজে জিতে ফইনালের দিকে এগিয়ে যাবেন।

প্রায় বিশদিন পর বাসায় নেট কানেকশন চালু করলাম। এখনো কমেন্ট ব্যান আছি কিন্তু সবুজ বাতি জ্বলছে। <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29310944 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29310944 2011-01-20 16:09:40
কিছুই বলার নেই

সুশীলতার মুখোশ উম্মোচন করাতে (কর্তৃপক্ষের ভাষায় শর্তাবলী লঙ্ঘন করার দায়ে) আপাতত ওয়াচে আছি। সেই সাথে কমেন্ট ব্যান। কি আর করা কর্তার ইচ্ছায় কর্ম।

সবাইকে শুভ কামনা। হ্যাপি ব্লগিং।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29297671 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29297671 2010-12-28 17:08:01
আমি নাকি পাঁচলক্ষ ইউরো জিতেছি <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" width="23" height="22" alt=":P" style="border:0;" /><img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" width="23" height="22" alt=":P" style="border:0;" />
এই হলো সেই মেইল।

YAHOO MAIL PROMOTIONS.
Customer Service,580 N.Tenth Street,
Sacramento,CA 85914,An Affiliate of Charity
International.Arena 18 Route de Rufisque,
I.P.P Award Department,Amsterdam Holland.

Congratulations!!!
You won 500,000 EURO.

We Congratulate you for being one of the lucky winners of the 2010 Email Web promo for the AMSTERDAM HOLLAND

YOUR EMAIL ID HAS WON C500,000.00(Five Hundred Thousand Euro) in the 2nd category of our computer ballot free email lottery Star prize of the AMSTERDAM HOLLAND National lottery Promo.
Participants were selected randomly from the Internet Users through a computer draw system extracted from over {50,000} personal and corporate e-mails that were listed online.

These are your winning identification numbers:

Lucky Numbers:................20322MW
Batch Numbers:..............514-272-834-35
Serial Numbers:..............652-662
Ticket Numbers:...............577-744-3465-E77

No ticket was sold but, you won, it is to encourage the use of Internet world wide and to receive your prize you are requested to contact the Payment Agent In charge of Your Region in Jakarta Indonesia and send your full details including.

Name:...............................
Home Address:................
Telephone:.......................
Occupation & Age:..........
Nationality:........................
Lucky Numbers:...............
Batch Numbers:...............
Ticket Numbers:...............
Serial Numbers:................
Won Amount:....................

Contact your claim agent immediately through his email id below:
Professor MUHAMMED IBROHIM(Overseas Payment Officer)

BARRISTER MUHAMMED IBROHIM
ASIAN FIDUCIARY AGENT

E-mail:
Mobile: +62 85693615025

PLEASE SEND DETAILS ONLY TO:

All winnings must be claimed not later than 20days;

Keep this message private and confidential until you receive your prize money.
Note that nobody or even the appointed bank has the right to touch, deduct or get access to your prize money for any reason. They have been warned strictly!

For security reasons, we advice all winners to keep this information confidential from the public until your claim is processed and your prize released to you. This is part of our security protocol to avoid double claiming and unwarranted taking advantage of this program by non-participant or un-official personnel.

Congratulation once again from all staff and board members

Yours Sincerely,

APPROVED
Mrs. FLORENCE SMITH (PHD)
LOTTO CO-COORDINATOR.
Copyright (c)2010 Promotions

আমার এত টাকার দরকার নেই আপনারা কেউ চাইলে নিতে পারেন।<img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29294715 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29294715 2010-12-23 14:14:38
শচীনের ৫০তম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ হলো আজঃ অভিনন্দন!!!

এইমাত্র ক্রিকেটের রাজপুত্র শচীন টেন্ডুলকার তাঁর পঞ্চাশতম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন। টানা একুশ বছর ধরে খেলে চলেছেন এই গ্রেট। জানি না কোথায় গিয়ে থামবেন এই ভদ্র ও বিনয় অবতার।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29292564 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29292564 2010-12-19 20:08:36
ব্যাচেলরের রেসিপিঃ লইট্টা শুটকী ভুনা উইথ টমেটো (ইনস্পায়ার্ড বাই নীলু)

রান্না আসলেই একটা ঝামেলাপূর্ণ কাজ। বিশেষ করে প্রস্তুতি। এটা কাট, সেটা ধোয় আর কত কিছু। কিন্তু করে ফেলার পর দারুণ একটা অনুভূতি আসে। রান্নাকে আমি একটা উচুমানের শিল্প হিসেবেই দেখি। আমার রান্নাচর্চা ছয় বছর হতে চলল। যদিও এর আগে ডিমভাজিও করতে পারতাম না। কিন্তু সময় মানুষকে অনেক কিছু শেখাতে বাধ্য করে।

শুটকী অনেকেরই পছন্দনীয়। আমার আবার একটু বেশিই। ভর্তা,ভুনা দুটোই ভাল লাগে। একটু আগে লইট্টা শুটকী ভুনা করলাম। সেই রেসিপিটাই আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।

উপকরণঃ লইট্টা শুটকী ৮-১০ টি, টমেটো ৩টি,পিঁয়াজ কুচি ১ কাপ, রসুন কুচি ১/২ কাপ, কাঁচামরিচ ৪টি, সামান্য ধনেপাতা কুচি, রসুন বাটা ১ চা চামচ,হলুদ গুড়া ১ চা চামচ,মরিচ গুড়া ১ চা চামচ, আধা বাটা ১/২ চা চামচ, জিরা বাটা ১/২ চা চামচ, তেল ও লবন পরিমাণমতো।

প্রণালীঃ শুটকীগুলো লম্বা করে কেটে ফুটন্ত পানিতে ভিজিয়ে দশ মিনিট রাখুন। এতে শুটকীর গায়ে থাকা ধুলো-বালি,আঁইশ পরিস্কার হয়ে যাবে। এরপর পানি দিয়ে আবার ধুয়ে নিলেই চলবে।

চুলায় কড়াই বসিয়ে ওতে তেল দিন। তেল গরম হয়ে গেলে পিঁয়াজ ও রসুনকুচি দিয়ে দিন। লাল রং ধারণ করলে সব মসলা একত্রে দিয়ে দিন। অল্প আঁচে কষাতে থাকুন। প্রয়োজনে সামান্য পানি দিন। কষানো হয়ে গেলে শুটকী দিয়ে দিন। উল্টে-পাল্টে কিছুক্ষণ রান্না করুন। এবার ফালি করে কাটা টমেটো ও লম্বা-লম্বি করে কাটা কাঁচামরিচ দিয়ে নেড়ে ঢেকে দিন। চুলার তাপ বেশি বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। কারণ ওতে নিচে লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। মিনিট পাঁচেক পর ঢাকনা খুলে উপরে ধনেপাতা কুঁচি দিয়ে নামিয়ে নিন। ব্যস হয়ে গেল মজাদার শুটকী ভুনা।

যাই আগে খেয়ে আসি পরে কথা হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29281137 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29281137 2010-11-30 22:44:02
চলেন একটা দাবড়ানি দেই

রাজশাহী ইউনিভার্সিটির ঘটনার পর থেকে জামাতীদেরকে আরও বেশি সংগঠিত মনে হচ্ছে। সারাদেশেই এই বরাহ ছানাদের উৎপাত বেড়ে গেছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে। সেইসাথে এই শূয়োরছানাদের ধরতে চিরুনি অভিযানও চলছে। আজ আবার এই শূয়োরদের সাথে পুলিশেরও সংঘর্ষ হয়েছে।

ভার্চুয়াল শূয়োরদের চাইলেই গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। গোয়েবলসীয় প্রোপাগাণ্ডা অনবরত চলছে। ক্রমাগত ল্যাদিয়ে চলছে বিভিন্ন ব্লগে। এই শূয়োরের বাচ্চাদের থামাতে না পারলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এরা কলুষিত করবে।

তাই আসুন যে কোন মূল্যে এদের থামাই। শূয়োর নিধন কর্মসূচী চলুক অবিরাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29096276 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29096276 2010-02-12 23:44:53
দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো (প্রসঙ্গঃ তারেক জিয়া যখন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান)

আজ সকালে অফিসে যাওয়ার সময় বিভিন্ন দেয়ালে কিছু সাদাকালো পোস্টার চোখে পড়ল। পোস্টারগুলোতে তারেক জিয়ার কার্টুন ছিল এবং সেইসাথে উপরে কি যেন লেখা ছিল। চলন্ত গাড়ি থেকে পড়া যাচ্ছিল না। গাড়ি থেকে নেমে যখন অফিসে ঢুকতে যাব ঠিক তখনি পাশের দেয়ালে আমার চোখ আটকে গেল। পুরো দেয়াল জুড়ে পোস্টার সাঁটানো। একই রকমের দুটি পোস্টার কিন্তু লেখা ভিন্ন। একটি পোস্টারের গায়ে লেখা ছিল চমৎকার কিছু পংক্তিমালা। পংক্তিগুলো ছিল এ রকমঃ

হালের বলদ খুঁজতে গিয়ে, পেলাম এমন দামড়া, হয় না ঢেকি কোনোভাবেই, কাঠ যদি হয় আমড়া। বলদ আমার দাড়িয়ে থাকে, আটকে বাতাস আলো, এমন গরুর চেয়ে আমার শূন্য গোয়াল ভালো।

আমি পড়েতো হেসেই খুন। কী চমৎকার ভাবেই না মিলিয়েছে। ধ্রুবসত্য কথা।

পাশের পোস্টারের পংক্তিগুলোও কম নয়। সেখানে ছিল এ রকমঃ

কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন, মহাচোর আজ বিরাট লিডার। করবে দেশের দুঃখমোচন, তার মতো এক মহাচিটার।

অসাধারণ!! দুর্দান্ত!!! আরেকবার হাহাপগে।

বুঝতে পারলাম তারেক জিয়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় এরকম ব্যঙ্গাত্তক কাব্য সংবলিত চিকামারা হয়েছে। কাজটি কতটুকু অনুচিত হয়ছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। কিন্তু সাধারণ জনগণের কাছে তারেক জিয়ার চেহারা উপরোল্লোখিত ব্যঙ্গ কাব্যের চেয়ে অনেক বেশি কদর্য। মিস্টার টেন পার্সেন্ট হিসেবে তার খ্যাতি(!!) দেশজুড়ে। সরকারী, বেসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত হেন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে তার লোভের হাত বিস্তৃত হয়নি। আপনি যে লেগুনা দিয়ে ফার্মগেট থেকে নিউমার্কেট যাচ্ছেন, সেই লেগুনা থেকে প্রতিদিন সে নিচ্ছে দেড়শ টাকা। মিয়ানমারের যে রুই মাছ আপনি খাচ্ছেন এখান থেকেও সে প্রতি কেজিতে সাত টাকা বকরা পেত। এমন কি সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের যাতায়াত বাস সার্ভিস থেকেও সে চাঁদা নিত।

এরকম জঘন্য রুচিবোধের একজন যখন একটি দলের শীর্ষপদে নিয়োগ পায় তখন সাধারণ জনগণের মধ্যে একপ‌্রকার শংকা কাজ করে বৈকি। তার এ পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই সারাদেশ জুড়ে সমালোচনা হচ্ছে। কিন্তু হলে কি হবে তিনি একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক(!) প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়েছেন। এই যদি হয় আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর গণতন্ত্র চর্চা তাহলে কী আমাদের ভবিতব্য??]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29057697 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29057697 2009-12-12 21:11:31
সরকার ঘোষণা করেছে ডিজিটাল <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> সময় আর এনালগ হবে না। এ বিষয়ে আপনাদের কি মতামত কি? ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29031867 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29031867 2009-10-25 23:04:06 হিযবুত তাহরীরের পাশাপাশি ধর্মব্যবসায়ী জামায়াতে ইসলামী'কে ও নিষিদ্ধ করা হোক-
যাই হোক, দেরিতে হলেও সরকারের শুভবুদ্ধি উদয় হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে গত ৩৮ বছর যাবত যে দলটি এদেশের মাটিতে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করছে তাদের কেন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29030315 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29030315 2009-10-23 00:13:29
হিংস্র হায়েনার সম্মুখে আমরা, ক'জন অথবা একা- (উৎসর্গ-জইন)

স্বৈরাচারীরা কখনোই কোন প্রতিবাদ মেনে নেয় না। কারণ, যুথবদ্ধ আন্দোলনকে তারা ভয় পায়। যদিও স্বৈরাচারীদের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। কিন্তু যুথবদ্ধ আন্দোলন সেইসব শিকড় অনায়াসেই উপড়ে ফেলতে সক্ষম। আর এখানটাতেই তাদের ভয়। কারণ, তারা কোন ক্রমেই রাজত্ব হারাতে চায় না। ক্ষমতা আকড়ে থাকার জন্য হেন অপকর্ম নেই যে তারা না করে। পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম অনেক ঘটেছে, ঘটবে। এইসব স্বৈরাচারদের টিকিয়ে রাখার জন্য কিছু নপুংসক ওদের হয়ে কাজ করে। কিছু মধ্যস্বত্তভোগী, মোসাহেব, তথাকথিত সুশীল, হিজড়া বুদ্ধিজিবী ও গোয়েবলস'রা তাদেরকে সবরকম সহযোগীতা করে। এইসব ক্লীবে যখন চারপাশ ভরে যায় তখন আমরা অসহায় হয়ে কেবল স্বৈরাচারের স্টীমরোলার চালানা দেখি। পিষ্ট হওয়ার ভয়ে প্রতিবাদ করি না। কে-ই বা চায় অকালে বেঘোরে প্রাণ হারাতে? কিন্তু কিছু মানুষ আছে যারা অসম সাহসী। এরা সকল অন্যায়-অবিচার তথা যাবতীয় নষ্টামির বিরুদ্ধে স্বৈরাচারের উদ্বত স্টীমরোলারের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়। মৃত্যুকে তুচ্ছ জ্ঞান করে। আত্মত্যাগ করে বাঁচিয়ে যায় নব প্রজন্মকে। তাদেরকে আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।

কিন্তু যাবতীয় নষ্টামি দূর করার জন্য প্রয়োজন স্বৈরাচারের উৎখাত। সেটা কি আদৌ সম্ভব?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29029282 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29029282 2009-10-21 00:04:41
ব্লগার ব্যতিক্রমী'র শুভ জন্মদিন আজ

ব্লগে আমার পদচারণা খুব বেশী দিনের নয়! আমি ব্লগ খুব একটা লিখি না। খুব একটা যে লিখতে পারি তাও নয়। তবে প্রায় সবার লেখাই পড়ার চেষ্টা করি। তাই প্রিয় ব্লগারের তালিকাটিও বেশ দীর্ঘ। সেরকমই একজন ব্লগার ব্যতিক্রমী। প্রায় সব বিষয়েই ওনার কমবেশী গভীরতা লক্ষ্য করা যায়। নিয়মিতই লিখে। সমকালীন বিষয়, গল্প, কবিতা ইত্যাদিতে হাত বেশ ঝরঝরে।

আমার কাছে তার সবচেয়ে যা ভালো লাগে তা হলো- প্রতিবাদী মনোভাব। সবসময় নিজের অবস্থানটা স্পষ্ট করে রাখে। ব্লগীয় দলাদলি, অনাচারের বিরুদ্ধে বেশ উচ্চকণ্ঠ।

আজ সেই প্রতিবাদী ব্লগার ব্যতিক্রমী'র জন্মদিন। যাবতীয় অনাচারের বিরুদ্ধে আপনার কলম চলুক অবিরাম।

শুভ জন্মদিন ব্যতিক্রমী।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29023214 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/29023214 2009-10-10 00:48:58
বাংলাদেশের প্রতি ভারতের ঐতিহাসিক নিপীড়নমূলক আচরণসমূহ
২। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরী অব্যাহত রেখেছে।

৩। মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ভারতকে বেরুবাড়ি হস্তান্তর করলেও, বাংলাদেশ এখনো ৩ বিঘা করিডোর ফেরত পায়নি। উপরন্তু, এ সব অঞ্চলের মানুষেরা স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও গত ৩৮ বছর যাবত উন্মুক্ত জেলখানায় বন্দী হিসেবে দিন কাটাচ্ছে।

৪। বাংলাদেশের সীমানায় জেগে উঠা তালপট্টি দ্বীপকে ভারত জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। নীলফামারী, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে এখনো এদেশের হাজার হাজার একর জমি ভারতের দখলে রয়েছে।

৫। আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ভারত আমাদেরকে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করেছে। তারা ফারাক্কা বাঁধ, টিপাইমুখী বাঁধসহ উজানে আরও ডজন খানেক বাঁধ দিয়ে এদেশকে পুরোপুরি মরুভূমি করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। ভারতের 'আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প' বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি ও অর্থনীতিতে ডেকে আনবে চরম বিপর্যয়। কমে যাবে নদীর নব্যতা, মিঠা পানির মাছের উৎপাদন হ্রাস পাবে, আর্সেনিক সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করবে এবং ক্রমশঃ বাংলাদেশের বিশাল এলাকা পরিণত হবে ধূ ধূ মরুভূমিতে।

৬। চোরাকারবারীদের মাধ্যমে ভারত এদেশে মাদক, জালমুদ্রাসহ ভারতীয় বিভিন্ন নিম্নমানের পণ্যসামগ্রী ঠেলে দিচ্ছে। আর, অপরদিকে এদেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে তেল ও সার। বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, পিলখানা ট্রাজেডির পর সীমান্তে বিডিআরের অনুপস্থিতির সুযোগে এদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল ও সার ভারত ও মিয়ানমারে পাচার হয়ে গেছে। আর দেশে প্রবেশ করেছে মাদকসহ বিভিন্ন নিম্নমানের ভারতীয় পণ্যসামগ্রী।

৭। ভারত সবসময়ই এদেশীয় কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের আশ্যয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। নানাভাবে উস্কে দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে। ২০০৭ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার সাথেও ভারতের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং সেই সাথে জেএমবি নেতাদের বহুবার ভারত যাওয়া আসার প্রমাণ মিলেছে।

৮। খোদ ভারতের মাটিতেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় 'নিখিল বঙ্গ সংঙ্ঘের' ব্যানারে চলছে বাংলাদেশকে বিভক্ত করার এক জঘন্য ষড়যন্ত্র। সম্প্রতি কলকাতার বঙ্গসেনারা এদেশের ১৯ টি জেলা নিয়ে কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রিক একটি প্রবাসী বঙ্গভূমি সরকার গঠনের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তাদের শ্লোগান ছিল 'বঙ্গভূমি দখল চাই'। তারা ভারত সরকারের চোখের সামনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এই হীন তৎপরতা চালাচ্ছে।

৯। বাংলাদেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করার জন্য ভারত দীর্ঘ এই সীমান্ত অঞ্চলে অসংখ্য ফেনসিডিললের কারখানা তৈরী করেছে এবং অবৈধ উপায়ে তা বাংলাদেশে পাচার করছে। ফলে মাদকের মরণ নেশায় ধ্বংস হচ্ছে এ দেশের যুবসমাজ।

কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে এদেশের বিরুদ্ধে ভারতের এত ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার পরও বিগত ৩৮ বছর ক্ষমতাসীন প্রতিটি সরকার ভারতকে বন্ধুর মর্যাদায় আসীন করে তার প্রতি নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করেছে। শুধু তাই নয়, তারা বিভিন্ন সময়ে ভারতকে এদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপেরও সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28973282 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28973282 2009-07-04 01:59:16
নারী ও তার পরিবার
সৃষ্টি জগতে দেখা যায় সূর্য, পৃথিবী, চন্দ্র থেকে শুরু করে অণু-পরমাণু, ইলেক্ট্রন, প্রোটন পর্যন্ত সবকিছুই দলবদ্ধ বা পরিবারভুক্ত হয়ে বিরাজ করছে। চতুর্দিকে গ্রহ-উপগ্রহ নিয়ে সৌর জগতের অবস্থান। একই বা বিভিন্ন প্রকারের পরমাণুর সম্মিলনে অণুর সৃষ্টি, আবার ইলেক্ট্রন, প্রোটন প্রভৃতি নিয়ে পরমাণুর অবস্থিতি। এই সবই পরিবার ভুক্তির প্রমাণ বহন করে।

পরিবার আমাদের ভারসাম্য রক্ষাকারী একটা ব্যবস্থা। প্রেম, যৌন মিলন, সন্তান লাভ, সন্তানের প্রতি অহেতুক আকর্ষণ প্রভৃতি পরিবার সৃষ্টি ও রক্ষণের পরিপূরকক। পরিবার বড় হলে আকর্ষণ শক্তি হ্রাসের দরুণ একটি পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে কয়েকটি পরিবারে পরিণত হতে পারে সন্দেহ নেই। কিন্তু তাই বলে পরিবারকে পরিত্যাগ কাম্য নয়। মানব জাতির শান্তি, সহযোগিতা ও প্রগতিই যদি আমাদের কাম্য হয়- তাহলে এই পদ্ধতিটিকে অবহেলা করলে প্রতিক্রিয়াকেই প্রশ্রয় দেওয়া হয়। একক কে বাদ দিয়ে যারা বৃহত্তর সমাজের কল্পনা করেন, তারা আর যাই করুন বাস্তব চিন্তা করেন না।

বর্তমানে আমাদের সমাজে যে গৃহকেন্দ্রিক বা পরিবারকেন্দ্রিক ব্যবস্থা রয়েছে তাতে অনেকে মনে করেন নারীর কোনো মর্যাদা নেই। কিন্তু আমার মতে, এই ব্যবস্থায় নারীর মর্যাদার অধিকতর সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ঐ ব্যবস্থার অনেক সংস্কারের প্রয়োজন। এই ব্যবস্থায় নারী যে কাজ করে, তা যেমন মর্যাদাকর তেমনি আনন্দদায়কও। নারী কাজ করে আপন জনের জন্য, তাদের সুখ-শান্তির জন্য। প্রাণপ্রিয় সন্তানের, স্বামীর বা পিতার জন্যে কাজ করে আনন্দ পায় না এমন নারী বিরল। একে কেউ অমর্যাদাকর ভাববে, এমন বিকৃতমনা লোক অতি অল্পই আছে। অবশ্য প্রত্যেক কাজের একটি সীমা আছে । অতিরিক্ত খাটুনি প্রিয়জনের জন্য বিরক্তি উদ্রেক করে বৈকি।

কিন্তু পুরুষের বেলায় (বিশেষ করে শিক্ষিত) একথা খাটে না। পুরুষ আপন জনের জন্য কাজ করে বটে কিন্তু তার কাজ বাইরে, আপন জনের মধ্যে এর কাজ সীমাবদ্ধ নয়। তাকে চাকুরী করতে বা অন্য কাজ করতে হয় অপরের- সে সরকারী অফিসে হোক বা অন্যত্র হোক। চাকুরী তো নয়, অনেক সময় এ দাসত্ব। এক হিসেবে পরের অধীনে কাজ করার মতো অমর্যাদাকর ও দুঃখজনক ব্যাপার অনেক মর্যাদাসম্পন্ন লোকের কাছে খুব কমই আছে। তবুও কর্তব্য কর্ম করতে হয়। এর বদলে অর্থ হয়তো উপার্জিত হয়, কিন্তু তার বদলে অনেক সময় বিবেক, স্বাস্থ্য, স্বাধীন মত, স্বাধীনভাবে চলাচল সব কিছু বিসর্জন দিতে হয়। আমাদের সমাজে নারীরা হয়তো অধীন। কিন্তু সে আপন জনের পিতা কিংবা স্বামীর সুসম্পর্কিত হলে তা হবে অত্যন্ত মধুর। কিন্তু পুরুষ অধীন হয়, আপন জনের নয় পরের ; উপরস্থ কর্মচারীর আদেশের বিরুদ্ধে কাজ করা তাদের সাধ্যাতীত। সময়ের নিয়মেও তারা বাঁধা। স্বাধীনতা এখানে সীমাবদ্ধ, কাজের কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের এদিক-ওদিক কার তাদের আয়ত্তের বাইরে।

সুতরাং বলা যেতে পারে এদেশী সমাজ নারীই অধিকতর মর্যাদার আসনে আসীন, পুরুষ নয়। পুরুষ এক হিসেবে অত্যন্ত হতভাগ্য। অর্থের জন্য তাকে অধিকাংশ সময় পরের অধীনে খাটাতে হয় নিজের সত্তা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেও।

নারীর চাকুরী করা বা মুজুরী করা অসম্ভব বা অন্যায় একথা আমি বলছি না। আমার বক্তব্য হলো- চাকুরী-মুজুরী দরকার হলে নারী করবে।

নারী স্বভাবতঃ শান্তিপ্রিয় ও গৃহপ্রিয় এটা সর্বজনস্বীকৃত। এই জন্যই উচ্চশিক্ষিতা অবিবাহিতা চাকুরে মহিলাকে কয়েক বছর পর বলতে শোনা যায়- চাকুরী তাদের আর ধাতে সয় না, পরের চাকুরী করতে করতে তারা হাঁপিয়ে উঠেছেন, শান্তি কোথাও পাচ্ছেন না। অর্থ উপার্জনের এই দাসত্বটা আর কারও ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে মুক্তি নিতে পারলে তারা বেঁচে যেতেন।

একথা সকলের জন্য প্রযোজ্য না ও হতে পারে। তবুও একথার মধ্যে যথেষ্ট সত্য রয়েছে। এমনও দেখা গেছে স্ত্রী শিক্ষকতার কাজ করছেন, স্বামী বিদেশে। বিদেশ থেকে ফেরার পর মহিলা চাকুরী ছেড়ে সন্তান পালন, গৃহকার্য ও স্বামীর সাহায্য করছেন।

তার মতে টাকার যতদিন দরকার ছিল, ততদিন তিনি চাকুরী করেছেন। এখন টাকার দরকার নেই, কারণ স্বামী যা টাকা পান তা একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট। টাকা শান্তি ও সুখের জন্যে। অতিরিক্ত টাকার জন্য দুজনের দুই দূরস্থানে গিয়ে চাকুরী করা ৩/৪ টি সন্তানের ভবিষ্যতকে অপরের হাতে ছেড়ে দেওয়া কোনো মতেই তিনি বাঞ্চনীয় মনে করেন না।

ব্যতিক্রম নিশ্চয়ই থাকবে। সব ক্ষেত্রে চাকুরী ছাড়াও দরকার হবে না। কিন্তু তবু মানুষের সুখ-শান্তিকে ছোট করে দেখা ঠিক নয়। কারণ সুখ-শান্তির জন্যেই চাকুরী।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28959849 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28959849 2009-06-04 01:33:26
নারী-পুরুষের ভারসাম্যহীনতা নিয়ে কিছুকথা
এই বিপর্যয় থেকে পারিবারিক শান্তিকে বাঁচাতে হলে --

নারী-পুরুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্নিক অধিকার মেনে নিয়ে এবং তাদের বহু কাজের ক্ষেত্র যে আলাদা তাও মেনে নেয়া উচিত।

পরিবার পরিচালনায় নারী-পুরুষের সম-দায়িত্বের ভিত্তিতে, পরিবারকে কেন্দ্র করে সমাজ গঠনের চিন্তা করা প্রয়োজন।

মানুষের সহজাত বৃত্তিগুলোকে ( কাম, ক্রোধ, লোভ ইত্যাদি ) ভালো-মন্দ প্রভৃতি বিশেষণে বিশেষিত করা অযৌক্তিক। তবে, এদের ভালো এবং মন্দ দু'রকম ব্যবহার হতে পারে এবং স্বাধীনভাবে তা ব্যবহার করার শক্তি মানুষের রয়েছে। দৃষ্টান্তস্বরুপ, কামনা প্রেমে রুপান্তরিত হতে পারে। ব্যক্তি বিশেষের প্রতি প্রেম বিশ্বপ্রেমে উন্নীত হতে পারে। অথচ বিকৃত কাম ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। প্রত্যেকটি বৃত্তি সম্বন্ধেই একথা প্রযোজ্য। এই বৃত্তিগুলোর মধ্যে নিহিত আছে মানুষের দুর্লভ শক্তির সম্ভাবনা। সুতরাং, মানুষের মনুষ্যত্বের বিকাশ তথা তার পূর্ণ পরিণতির জন্য প্রত্যেকটা বৃত্তিই সমভাবে প্রয়োজনীয়। বৃত্তিগুলোকে আগুন বা অস্ত্রের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। ব্যবহারের উপর এগুলোর উপকারিতা ও ধ্বংসকারিতা নির্ভর করে।

কাজেই বৃত্তিগুলোর কোনোটিকেই সমূলে ধ্বংস না করে, প্রত্যেকটিরই প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে তাদের সঠিক পথে চালনার জন্য বিবেক-বুদ্ধি ও ধর্ম-মানসিকতার প্রয়োগ করা যেতে পারে।

অন্তত ইসলাম ধর্ম কোনো কোনো বৃত্তিকে ধ্বংস করে বাকী কটার উন্নয়ন চায় না। বরং তাদের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে, কল্যাণের পথে রুপান্তরিত, সুন্দর ও মহীয়ান করে তোলাই তার মৌলিক নীতি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28956271 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28956271 2009-05-27 01:16:25
একজন আধুনিক নারীর রিকশাওয়ালা নিগ্রহ ও বিবেকবান (?) মানুষদের নির্লিপ্ততা
হঠাৎ সেই নারীর উচ্চকন্ঠ শুনতে পাই। গলা সপ্তমে চড়িয়ে বলছে "তোকে একটা চড় মারা উচিত''। বেচারী রিকশাওয়ালা মিনমিনে গলায় বলছে " আফা,ভাড়া পনর ট্যাকাতো আমি আফনেরে আগেই কইছি। অহন দশ ট্যাকা দিবেন কেন"? বুঝলাম ভাড়া নিয়ে লেগে গেছে। নারীটি তার বাজখাই গলায় চেঁচিয়েই যাচ্ছেন। দেখতে দেখতে কিছু নাট্যপ্রিয় জনতার ভিড় জমে গেল। রিকশাওয়ালা চলে যেতে চাচ্ছেন কিন্তু বীরাঙ্গনা তাকে রিকশাসহ টেনে ধরছেন। যেইমাত্র রিকশাওয়ালা একটু জোরে টানলেন অমনি বীরাঙ্গনা ঠাস ঠাস করে চড় লাগিয়ে দিলেন। শশ্রুমন্ডিত রিকশাওয়ালাটি ঘটনার আকস্মিতায় একেবারে বাকরুদ্ধ গেলেন। সেই বীরাঙ্গনার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। উপুর্যপুরি আঘাত করেই চলেছেন। সেইসাথে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ। কখনো ধীর লয়ে,কখনো দ্রুত লয়ে আবার কখনো রক মিউজিকের মতো তার গালিবৃষ্টি ঝরতে লাগল। ওই অসহায় বৃদ্ধ দু`হাত জোর করে শুধু ক্ষমাই চেয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু মুক্তি মিলছেনা। অন্য কয়েকজন রিকশাওয়ালা এসে অগ্নিকন্যাকে শান্ত করার চেষ্টা করে। কিছুটা শান্ত হয় বটে কিন্তু ক্ষ্যাপা ষাড়ের (গাভী) ন্যায় ঘড়ঘড় করতেই থাকে। আর বীণার ঝংকার ছড়ানো গালির সুর টেনেই যাচ্ছেন। বৃদ্ধ রিকশাওয়ালা ক্ষোভে,তীব্র অপমানে দু`হাতে মুখ ঢেকে বসে পড়ে। যেন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে মিশে যেতে চাইছে নশ্বর ধুলোয়। বেচারী অবশেষে ভাড়া না নিয়েই চলে যায়। অগ্নিকন্যা শীতল হতে হতে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলে। এতক্ষণ বীরত্ব দেখানোর পর এই মহীয়সী রমণীর ক্রন্দন আমাকে অবাক করে।

আমরা এতগুলো মানুষ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই ভয়ংকর দৃশ্যটা দেখলাম। কেউই কোনো প্রতিবাদ করলাম না। আমাদের নির্লিপ্ততা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28946447 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28946447 2009-05-05 01:11:52
নারী-পুরুষ সম্বন্ধে পরস্পরের ভুল ধারণা নিয়ে কিছু কথা দৈহিক শক্তি পুরুষের বেশী, এটা বাস্তব সত্য। কিন্তু দৈহিক শক্তি বেশী থাকলেই কেউ শ্রেষ্ঠ একথা বলা চলবে না। দৈহিক শক্তিতে অনেক পশুও মানুষ অপেক্ষা বেশী শক্তিশালী। পুরুষ দৈহিক শক্তিতে শ্রেষ্ঠ হলেও নারী তার হৃদয় শক্তিতে সৌন্দর্য ও কমনীয়তায় শ্রেষ্ঠতর প্রমাণিত হবার যোগ্য। আসল কথা, দু’য়ের মধ্যে এমনি করেই ভারসাম্য রক্ষিত হয়েছে তাই নারী-পুরুষ কারও চাইতে কেউ খাটো নয়, উভয়েই সমান মর্যাদার অধিকারী। যদিও পুরুষ পরিবারের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। আমাদের সমাজে কয়েকটি মারাত্মক ভুল ধারণা বিদ্যমান রয়েছে, যার ফলে নারী-পুরুষ সম্পর্ক দারুণ তিক্ত হয়ে উঠেছে। নারী যদি সন্তানাদি পালন করে, রান্নাবান্না করে, গৃহ রক্ষণাবেক্ষণ করে আর পুরুষ যদি চাকরি ইত্যাদি করে তখন মনে করা হয় নারী কোনো কাজের নয়, পুরুষই সব কৃতিত্বের মূলে। আসলে তা নয়। অর্থসংগ্রহ যেমন অপরিহার্য, তেমনি সন্তান ধারণ, পালন, রন্ধন, ঘরবাড়ি রক্ষণাবেক্ষণও অপরিহার্য; এ শুধু শ্রম বিভাজন। অর্থ সংগ্রহ সুখের বা শান্তির উপায় মাত্র, অর্থ উদ্দেশ্য নয়; শান্তি বা সুখই উদ্দেশ্য। নারীর কার্য দ্বারাই সে সুখ বা শান্তি বাস্তবায়িত হয়ে ওঠে। অবশ্য যদি কোনো পরিবারে অর্থ উপার্জনক্ষম পুরুষ না থাকে তাহলে নারীকেও অর্থ উপার্জন করতে হবে সন্দেহ নেই। সব ব্যাপারে বড় কথা হলো সমন্বয় সাধন। দৈহিক ভিন্নতা এবং মনের ভিন্নতার দিকে নজর রেখে এরূপভাবে শ্রম বিভাগ করা উচিত, যাতে পরিবারের অর্থনৈতিক কাঠামো অটুট থাকে। অথচ সুখ-শান্তি ও ভালোবাসা পরিবার থেকে নির্বাসিত হয় না। অর্থ উপার্জনকে আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য মনে করি বলে সুখ ও শান্তি আজ আমাদের পরিবার ও সমাজ থেকে সত্যই নির্বাসিত হতে চলেছে।

আজ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী বদলানো। দৈহিক ও মানসিক পার্থক্যের জন্য যে শ্রম বিভাগ নর-নারীর মধ্যে এতদিন চলে এসেছে তাকে বর্তমানে অস্বীকার করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমের কতগুলো রীতি-নীতির সঙ্গে পরিচয়ের ফলেই আধুনিক শিক্ষিত সমাজে দিন দিন এই প্রবণতা প্রবল আকার ধারণ করছে। পুরুষ ভাবছে মেয়েদের দিয়ে আমরা নিকৃষ্ট কাজ করাচ্ছি, আর শিক্ষিত নারীও ভাবছে পুরুষ নারীকে দিয়ে ঘৃণ্য দাসবৃত্তি করাচ্ছে। ফলে নারী এতদিন ভালোবেসেই স্বামী, পুত্র-কন্যা, আত্মীয়-স্বজনের কাজ করে যে আনন্দ পেত, আজ তার প্রতি এসেছে তার অশ্রদ্ধা। পরিণামে অশান্তি, উশৃঙ্খলতা মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। অথচ ভেবে দেখর বিষয়, আমাদের সমাজের অশিক্ষিত স্তরটাতে এই শ্রমবিভাগ রয়েছে। কিন্তু তার জন্য নারীর মনে কোনো হেয়তাবোধ বা দাস্যমনোবৃত্তি নেই। পুরুষ এজন্য নারীকে ছোট মনে করে না। শিক্ষার অভাবে নারীর উপর বলিষ্ঠ পুরুষ প্রায়ই অত্যাচার করে থাকে, একথা সত্য। কিন্তু নারী পুরুষের বাঁদী নয়, সে যৌন জীবনে, সংসার পরিচালনায় পুরুষের সঙ্গে সমদায়িত্বে সংসার পরিচালনা করে থাকে।যদি বাইরে পরের অধীনে কাজ বা চাকরি করা অমর্যাদার, হানিকর না হয়, তবে নিজের স্বামী, পুত্রকন্যাকে ভালোবেসে কাজ করাকে হীনতা বলে কি করে মেনে নেয়া যেতে পারে, তা বুঝা যায় না। অপরাধ এই স্বাভাবিক শ্রমবিভাগের নয়, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গীর। নারী-পুরুষের বর্তমান শ্রম বিভাগের মূলনীতিটুকু বজায় রেখে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তনের জন্য সচেষ্ট হওয়া দরকার। দৃষ্টিভঙ্গীর এই পরিবর্তন আসলে এই শ্রম বিভাগের মধ্যেই আমাদের বহু কাম্য শান্তি ও সুখের সাক্ষাৎ পাওয়া যাবে।

আজকাল কোনো কোনো শিক্ষিতা নারী স্বাধীনতাকে বোঝেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোকে। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যাবস্থায় জীবনটাকে অনেকেই রঙীন চশমার ভিতর দিয়ে দেখে থাকেন; কিন্তু বাস্তব জীবনের সঙ্গে এর সম্পর্ক খুব কম। তার প্রমাণ ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষা জীবন পার হয়ে যখন বের হয়ে আসেন কিংবা যখন কেউ চাকুরিও গ্রহণ করে থাকেন তখন বুঝতে পারেন: সমাজে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ও অন্য নিরপেক্ষ হয়ে চলা সম্ভব নয়। স্বাধীনতা মানেই পুরুষকে (নারীকেও) অস্বীকার করা নয়। বরং নারী-পুরুষের পারস্পরিক শক্তির অধিকার ও ক্ষমতার মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে পরস্পরকে স্বীকার করে নেয়ার মধ্যেই সত্যিকারের স্বাধীনতা রয়েছে। এই স্বাধীনতার মধ্যেই নারী-পুরুষের উভয়ের মুক্তি। এই সত্যকে অস্বীকার করলে নর-নারী উভয়ের জীবনেই অভিশাপ ডেকে আনা হয়। যে নারীরা স্বাধীনতা বলতে পুরুষ নিরপেক্ষ চলাফেরা ও কাজকর্মের অধিকার বোঝেন। তারা ভ্রান্ত সংস্কার নিয়ে কর্মক্ষেত্রে নামেন। তাদের বুঝতে বিলম্ব হয় না নিজেদের কি সর্বনাশ তারা করেছেন, এবং সমাজকে কতদূর ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। এক নিদারুণ বিভীষিকার মধ্যে তাদের সমস্ত রঙিন কল্পনা তখন হারিয়ে যায়। এমনও দেখা গিয়েছে, চল্লিশ পার হয়ে এইসব মহিলা বিয়ে করবার জন্য পাগল হয়ে উঠেছেন। কাজেই নারী স্বাধীনতা সম্বন্ধে এই ভ্রান্ত সংস্কার দূর না করলে নারী-পুরুষ উভয়ের পক্ষেই অমঙ্গল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28944864 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28944864 2009-05-01 01:41:07
নারীর বিয়েপূর্বক প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে কিছু আপাত (প্রকৃত) প্রলাপ
নারী-পুরুষের আকর্ষণ স্বাভাবিক। বিয়ের আগে কৈশোরে ও যৌবনের প্রথম অবস্থায় মন থাকে অত্যন্ত রোমান্টিক ও আকর্ষণশীল। ফলে যে কোনো পুরুষের প্রতি এই সময়ে আকর্ষণ বোধ করা অস্বাভাবিক নয়। সিনেমা, পত্রিকা, উপন্যাস ও অন্যান্য মাধ্যম এই আকর্ষণকে অন্ধ করে তোলে। ফলে বিচার করে হৃদয় দান করবার মতো শক্তি ও অবস্থা তার থাকে না। সমাজে সৎ লোকের সংখ্যা খুব বেশী নয়। ফলে শতকরা বহু ক্ষেত্রে অসৎচরিত্র ও অবিবেচক পুরুষের প্রলোভনে সরলমতি মেয়েরা তাদের হৃদয় দান করে সর্বনাশ ডেকে আনে।

এই হৃদয়দানের ফলে পবিত্র ও অপবিত্র যাই হোক না কেন, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় এটা অসাফল্যে পর্যবসিত হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে পুরুষরাই এই হৃদয়দানকে তুচ্ছ করে অন্য নারীর দিকে আকৃষ্ট হয়। বহু ক্ষেত্রে পুরুষরাই একে সামাজিক খেলা মনে করে একের পর এক বহু মেয়ের সর্বনাশ করে। আবার বহু মেয়েই বুঝতে পারে, অল্প বয়সের প্রেম মোহ ছাড়া আর কিছুই নয়। স্বভাব, চরিত্র, আদর্শ, অবস্থা, শিক্ষা ইত্যাদি বহু বিষয়ে মিল না থাকলে প্রেম হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিশাপ। ফলে পুরুষের নিষ্ঠা সত্ত্বেও অনেক নারী মন উঠিয়ে নিতে বাধ্য হয়। আবার বহু ক্ষেত্রে বিজ্ঞ অভিভাবকগণ তাদের মিলনের অযৌক্তিকতা বুঝতে পেরে বাধা হয়ে দাঁড়ান।

কথাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকগণও অবিবেচনা ও হৃদয়হীনতার পরিচয় দেন সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপাত্রে প্রেমদান বা নিবেদন করার জন্যে নারী যে প্রথম বয়স থেকেই অভিশপ্ত হয়, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এরূপ প্রেমগ্রস্ত ছাত্র-ছাত্রীর লেখা-পড়ার-যে সর্বনাশ ঘটে তাও সর্বজনবিদিত। এই প্রেমযজ্ঞে পুরুষের চাইতে নারীর ক্ষতি বেশী হয়। পুরুষ দুশ্চরিত্র হলেও সমাজে অপাংক্তেয় নয়। তার বিবাহ বা পুনঃপ্রেম ঠেকে না। কিন্তু নারীর বেলায় এটা মারাত্মক। একবার যদি সে হৃদয় দান করে, পবিত্র হোক কিংবা অপবিত্র হোক, তার আর কোনো উপায় থাকে না। বাইরে তার অফুরন্ত বদনাম হয়। অন্য কোনো পুরুষ তাকে বিয়ে করতে এগিয়ে আসে না। শতকরা ৯৫ টি ক্ষেত্রে বাল্য বা কিশোর কালের প্রেম অসফল হয় বলে শতকরা ৯৫ টি প্রেমেপড়া নারীরই জীবন হয় অভিশপ্ত ও অপমানকর।

হৃদয়ে একবার দাগ কাটলে সে দাগও সহজে মোছে না। বিশেষ করে সারল্য যার আছে। অসফল প্রেমের পর তেমন কোনো মেয়ের বাইরে বিয়ে হলে সেই বিয়েও জীবনে অশান্তি সৃষ্টি করে। পূর্বে অন্যদিকে আকৃষ্ট মন নতুন স্বামীকে আপন করে নিতে অনেক ক্ষেত্রেই অপারগ হয়। পুরুষ হয় সন্দেহশীল। অমিল ও তাচ্ছিল্যে ঘর হয় বিষময়। এর মারাত্মক ফল সন্তান সন্ততি পর্যন্ত গড়ায়। অসন্তুষ্ট স্বামী হয়ত চরিত্রহীন হয়ে বাইরে ঘোরে, নয়তো অন্য বিয়ের জন্য পাগল হয়ে ওঠে। নারীরও শেষ পর্যন্ত নিজের সত্তা পংকিল আবর্তে বিলীন করে দিতে বাধ্য হয়। নিজের জীবনের উপরও সে শ্রদ্ধা ভালোবাসা হারিয়ে ফেলে তিলে তিলে মরণের দিকে এগিয়ে যায়।

নারী-পুরুষের সম্পর্ক যেমন স্বাভাবিক, তেমনি জটিল। মানুষের শান্তির প্রায় ৮০ ভাগই নির্ভর করে এই সম্পর্কের উপর। এজন্য বিভিন্ন বয়সে এবং বিভিন্ন পরিবেশে পরষ্পর সম্পর্কের রূপ কি হবে তা নির্ধারণ ও অনুশীলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অবশ্যকরণীয়। অথছ এমন একটি বিষয়ে আমাদের স্কুল-কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা দেবার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে অনকেটা আনাড়ীর মতোই হাতড়াতে হাতড়াতে আমাদের তরুণ-তরুণীরা ঘর সংসার পাততে অগ্রসর হয়। এমন গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়ে অশিক্ষিত থাকার দরুন পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে তারা ভুল করে বসে। ভুল না করলেও বিবাহিত জীবনে পরস্পর সমঝোতার অভাবে স্বামী-স্ত্রী এবং গোটা পরিবারের পরিবেশ দারুণ তিক্ততায় ভরে ওঠে। ফলে, যে কারণে পরিবার শান্তির নিকেতন রুপে বিরাজ করতে পারত, তাই হয়ে ওঠে অশান্তি ও তিক্ততার কেন্দ্র। এই তিক্ততা যে শুধু নিজ পরিবার বা পার্শ্ববর্তী পরিবারেও প্রভাব বিস্তার করে তা নয়- ছেলে-পিলের মারফত ভবিষ্যত বংশধরদের মধ্যেও একটা খারাপ উদাহরণ রূপে এটা কাজ করে থাকে। আর এজন্যেই তো প্রায় পরিবারে অনেক নারী-পুরুষকে বলতে শোনো যায়: বিয়ে না হলেই ভালো হত; আগে যদি বিয়েকে এত ঝামেলা ও অশান্তি বলে বুঝতে পারতাম, তাহলে বিয়েই করতাম না। জীবনের সর্ববিষয়ে মানুষকে শিক্ষিত ও উপযুক্ত করে তোলাই তো শিক্ষার উদ্দেশ্য। কিন্তু জীবনের শান্তি-অশান্তি, উন্নতি-অবনতি, এমন কি চরিত্র পর্যন্ত যে বিয়ে ও পারিবারিক জীবনের উপর অনেকাংশে নির্ভর করে সে বিষয়ে আমরা কোনো শিক্ষাই দেই না। শিক্ষাজীবনে এর চাইতে লজ্জাকর প্রহসন আর কি হতে পারে।

আমাদের সমাজে প্রেমের পাত্র নির্বাচন অত্যন্ত দুরূহ বিষয়। বিশেষ করে নারীর পক্ষে। আগুনের দিকে পতঙ্গের আকর্ষণের মতো এটা অধিকাংশ মেয়েকে পুড়িয়ে মারে। রূপ দেখে বা দেহ-ভঙ্গি দেখে হৃদয় ও গুণগত বিষয়ের দিকে লক্ষ্য না করে তথাকথিত অন্ধ প্রেম করার ফল যে সমাজে কত মারাত্মক হয়ে দাঁড়াচ্ছে তা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত প্রায় প্রতিটি পরিবারের ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই বুঝতে কষ্ট হবে না।

অনেকে প্রেমের ব্যাপারে হয়তো পাশ্চাত্যের নজির আনবেন। প্রেমে পড়ে বিয়ে হওয়া ভালো। কিন্তু পাশ্চাত্যে শতকরা ৭০ ভাগ প্রেমে পড়া বিয়ে যে কার্যত অসফল হয়, তা কারো অজানা নয়।তথাকথিত প্রেমে গুণের বাছ-বিচার নেই বলে দেহের চাইতে গুণের প্রতি আকর্ষণ কম বলে আমাদের দেশে সামন্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া প্রেমের বিয়ে সাধারণত ঘৃণায় ও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

তবে একথা ঠিক যে, আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত কিছু নারী আছেন, যাদের জীবন আদর্শস্থানীয়। যারা অন্য নারী ও পুরুষদের সম্মান ও মর্যাদা দেন, যারা পরানুকরণ ও প্রদর্শনীবাতিকগ্রস্থ নন। সমাজে নারী শিক্ষিত হবে, পর্যাপ্ত স্বাধীনতা ভোগ করবে, দেশের ও সমাজের কাজে নিজেকে বিলিয়ে দেবে। অবশ্যই তার মনের শান্তি ও মর্যাদা রক্ষা করে । এটাই সকলের মনের কাম্য হওয়া উচিত। সত্যিকার শিক্ষার সঙ্গে নারী নিজের শক্তি যোগ না করলে আমাদের কল্যাণ নেই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28943430 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28943430 2009-04-28 01:45:47
আমাদের আধুনিক নারীদের আত্মঘাতী প্রবণতা আজকাল আমাদের তথাকথিত অভিজাত শ্রেণীর মেয়েরা ক্লাব, ডিসকো পার্টি, মদ ইত্যাদিকে ভালোবাসতে আরম্ভ করেছে। পারিবারিক শান্তি নষ্ট করে এরা শান্তি খুঁজছে ক্লাবে, থিয়েটারে, বিভিন্ন পার্টিতে। নিজের সংসারে, নিজের স্বামীতে মন বসছে না। সুখের সন্ধানে ছুটে বেড়াচ্ছে বাইরে। নারী যতই পুরুষের ভোগের সামগ্রী হিসেবে ধরা দেবে ততই নারী জাতির সর্বনাশ এগিয়ে আসবে। ফড়িং যেমন আগুনের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারায়, তথাকথিত আধুনিকতার বাহ্যিক ঝলকে অন্ধ হয়ে আজ আমদের নারীরাও মরীচিকার পেছনে ঘুরছে।

ইদানীং অভিজাত শ্রেণীর নারীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশীয় নৃত্য শিক্ষার প্রচলন হয়েছে। যেমন পেট দেখিয়ে নাচ, বক্ষ দেখিয়ে নাচ ,উরু ও নিতম্ব দেখিয়ে নাচ ইত্যাদি। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব নাচ দেখিয়ে এরা নিজেদের সৃষ্টিশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন। এদের নৃত্যানুষ্ঠানে মাঝে মাঝে গ্রাম্য জীবনের ছবি রূপায়িত হলেও এদের নিজেদের গ্রামের দরিদ্র মানুষের প্রতি এদের দরদ নেই। আর শহরের বৈদ্যুতিক আলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে যারা এই নৃত্য উপভোগ করেন তাদেরও এইসব দুর্গত মানুষের প্রতি তেমন কোনো ভালোবাসা নেই। তারা নারীদেহের বিচিত্র ভঙ্গিমার মধ্যে একপ্রকার যৌনতৃপ্তি লাভ করে থাকেন। এটাই তাদের কাছে সৃষ্টিশীলতা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব নৃত্য শুধু যৌন লালসাকেই উদ্দীপ্ত করতেই সহায়তা করে। মাঝে মাঝে শখ করে এসব নৃত্য পরিকল্পনায় দুর্গত জীবনকে স্থান দিলেও দুর্গত মানুষ তা দেখে না, দেখার সুযোগ পায় না। অন্যদিকে এসব ফাইন আর্ট অনুভব করার ক্ষমতাও তারা রাখে না। দেশের সাধারণ মানুষ যখন অন্নাভাবে, শিক্ষাভাবে, স্বাস্থ্যাভাবে মরছে তখন এইসব নৃত্যানুষ্ঠান শহুরে ধনী লোকদের একরকম যৌন ক্ষুধাই শুধু তৃপ্ত করছে। কোনো মহত্তর জীবনবোধে অণুপ্রাণিত করছে না। বিমল আনন্দ পরিবেশনের জন্য নারী নৃত্য শিখতে পারে কিন্তু, তার এই প্রদর্শনীমূলক নৃত্য তার জন্যে কিংবা সমাজের জন্যে কারও জন্য সংগত মনে হয় না। এটা শুধু সমাজ ও পারিবারিক জীবনের শান্তি ও শূচিতাই নষ্ট করে দিতে সহায়তা করছে। এইসব নারী ধনিকগোষ্ঠির মনতুষ্টির জন্য নিজের ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদাকে বলি দিয়ে প্রদর্শনীর সামগ্রী হয়ে নিজেকে অধিকতর রিক্ত করে ফেলছে। সেইসাথে নারী জাতিকেও খেলো করে তুলছেন।

আজকাল কোটিপতিদের সিনেমায় ও পত্রিকাতে প্রগতির নামে যে ভঙ্গি ও ছবি প্রদর্শন করা হয় তাও আমাদের নারী-পুরুষদের শান্তিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। শিক্ষামূলক বা নির্মল আনন্দদায়ক চলচ্চিত্র আজকাল খুব একটা নির্মাণ হয় না। নারী-পুরুষদের সস্তা যৌনাবেদনকে ক্ষেত্রবিশেষে গুণ্ডামি- পাণ্ডামিকে সম্বল করে অধিকাংশ চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। ফলে সমাজের উপর এর একটা মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। এসব কারণেই বর্তমানে আমাদের দেশে তরুণ-তরুণীরা উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনে অভ্যস্ত হচ্ছে। ফলে বিরাট সামাজিক সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28942233 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28942233 2009-04-25 01:53:10
আমাদের শহুরে নারীদের প্রদর্শনীবাতিক ও কিছু কথা
বর্তমানে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যত্র এমন কোনো কোনো নারীকে দেখা যায় যারা কড়া চকচকে লিপস্টিক দিয়ে পাউডারে মুখ ভর্তি করে রঙ মেখে, সঙ সেজে, অত্যন্ত আঁটসাট পোশাক পড়ে অথবা শরীরের অংশ বিশেষ অনাবৃত রেখে হাস্য-লাস্য অবস্থায় হেলে-দুলে ছেলেদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। পুরুষেরা যেখানে দীর্ঘ জামা পড়ে শরীরকে আবৃত রেখে সুশোভিত করে চলে, সেখানে কোনো নারী স্বল্পবসনা হয়ে বিশ্রীভাবে পেট কিংবা শরীরের উপরের অংশ দেখিয়ে রাস্তাঘাটে, বাজারে চলতে দ্বিধাবোধ করেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে কিংবা যে কোনো মর্যাদাবান পুরুষের সাথে আলোচনা করে বুঝতে পারা যায় এইসব নারীদের এরা পছন্দ করেন না। এদের তারা সম্মান ও মর্যাদা দিতে রাজি নন। তথাকথিত বিশিষ্ট শ্রেণীর পুরুষরা এদের সঙ্গে ঘন ঘন মিলতে মিশতে বা আলাপ করতে যে চায় তা সত্য, কিন্তু তা মর্যাদা দিয়ে নয়, তথাকথিত নাগরালি করার জন্য। পুরুষ সমাজের বেশিরভাগই এইসব নারীদের দেখে ভোগের বস্তু হিসেবে। ভালোবাসার বা সম্মানের পাত্রী হিসেবে নয়! প্রদর্শনীর বস্তু করে নিজেদেরকে পুরুষদের কাছে খেলো করে তোলা কোনো নারীরই উচিত নয়। পুরুষের মনোবৃত্তি না জানলে চলবে না। নারীর প্রতি তাদের আকর্ষণ স্বাভাবিক। এই আকর্ষণ মর্যাদা বা প্রেমে উন্নীত কিংবা ছিনালীপনায় পর্যবসিত হতে পারে। নারীর চালচলন, কথাবার্তায় এটা নির্ধারিত হয়। প্রদর্শনী বাতিকগ্রস্ত নারীর প্রতি পুরুষেরা যতই আকর্ষণ বা আগ্রহ দেখান না কেন, তারা সেই নারীকে সম্মান করে না ভালোবাসে না। মর্যাদাহীন ভালোবাসাও অত্যন্ত ঘৃণ্য বৈকি। ছাত্রদের মধ্যে প্রদর্শনী বাতিকগ্রস্ত মেয়েদের সম্বন্ধে যে আলোচনা সচরাচর হয় তা জানতে পারলেই এর সত্যতা স্বীকৃত হবে। যে ছেলে প্রদর্শনী বাতিকগ্রস্ত মেয়েদের পেছনে দৈনিক কয়েক ঘন্টা ঘুরে। সে হয়তো সঙ্গীদের সঙ্গে তার প্রাদর্শনিকতার জন্যে বিশ্রী মন্তব্য করতেও দ্বিধাবোধ করেনা।

এখনকার সময়কার নারী-পুরুষ একজন অন্যজনের মন বুঝতে পারে না বলেই আজ উভয়েই অসহায় হয়ে পড়েছে। নারীর প্রসাধন ও অলংকারপ্রিয়তা স্বাভাবিক। একে দূর করা চলবে না। কিন্তু অলংকারের, পরিধানের ও প্রসাধনের মধ্যেও একটা মর্যাদাবোধ, একটা সুরুচিবোধ আছে, একটা স্বভাবিকতা আছে। স্বাভাবিকতার সীমা লংঘন করলেই বিপদ। গাঢ় চকচকে লিপস্টিক পশ্চিম থেকে আমদানি। এতে পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণ ছাড়া অন্যকিছু হয় কি না আমার বোধের অগম্য। সৌন্দর্যের মধ্যে একটা স্বাভাবিকতা ও সোম্য ভাব থাকা চাই। নতুবা তা হয় উলঙ্গ চিত্রের মতো "বিশ্রী সৌন্দর্যের প্রতীক"।

পূর্বে তৈল, ক্রিম দিয়ে আমাদের নারীরা স্বভাবিক সৌন্দর্য বজায় রাখতেন। আজকাল নানা রকম রং ও পাউডার দিয়ে অস্বাভাবিকতাকে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ফলে দিন দিন কমনীয়তা ও মসৃণতা লয় পাচ্ছে। প্রসাধন মেয়েদের জন্য যে দরকারী তা পূর্বেই বলেছি। কিন্তু প্রসাধনের উদ্দেশ্য স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে আরও মহৎভাবে ফুটিয়ে তোলা, তাকে অস্বাভাবিকতার আড়ালে ঢেকে ফেলা নয়!

পশ্চিমা ঢংয়ে কাপড় পরিধান ও সাজসজ্জা আজ নারীকে আরও খেলো করে তুলছে। পাশ্চাত্য সমাজ নারী স্বাধীনতার যত বড় বুলিই আওড়াক না কেন, নারীকে সেখানে বহুলাংশে ভোগের ও প্রদর্শনীর সামগ্রী করা হয়েছে। সেখানে অধিকাংশ নারী তাদের হৃদয় হারিয়ে ফেলেছে, হারিয়েছে তাদের মর্যাদা। অর্থ হয়তো তারা নিজেরা অর্জন করতে পারে কিন্তু তা অনেক ক্ষেত্রে তাদের মর্যাদাকে বলি দিয়ে।

নারী-পুরুষের শান্তি ও আনন্দদায়িনী হবে নিশ্চয়ই, কিন্তু ভোগ লালসার সামগ্রী হয়ে পুরুষের হাতের পুতুল হিসেবে পুরুষ যখন যেভাবে নাচায় সেভাবে নাচবে, এটাকে যতই প্রগতি বলা হোক না কেন আসলে এটা চরম প্রতিক্রিয়াশীলতা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28941020 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28941020 2009-04-22 00:57:05
বাংলাদেশের প্রতি ভারতের ঐতিহাসিক নিপীড়নমূলক আচরণ সমূহ
এ দেশের বামঘরনা ও ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতির মানুষেরা কোন এক রহস্যজনক কারণে ভারতের ব্যাপারে অত্যন্ত রক্ষণশীল ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাই গত ৩৮ বছর যাবত বাংলাদেশের প্রতি ভারতের তীব্র শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব ও চরম বিমাতাসুলভ আচরণের পরও তারা সকল ক্ষেত্রে ভারতকে ষড়যন্ত্রকারীদের বাইরে রাখেন। প্রয়োজনে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে হলেও তারা ভারতমাতার পায়ে স্তুতি গাওয়াকেই অধিক যুক্তিযুক্ত মনে করেন। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশের অনেক বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও ভারত প্রেমিক বুদ্ধিজীবি ভারতমাতার পায়ে জীবন উৎসর্গ করতে চান। মেনে নিতে চান ভারতের সকল অন্যায় ও অযৌক্তিক দাবি-দাওয়া। কিংবা, ভারতের আধিপত্যবাদী ও আগ্রাসনমূলক কার্যকলাপকে দেখেন মাতৃসুলভ স্নেহের দৃষ্টিতে। গত ৩৮ বছরে বাংলাদেশের সাথে ভারত যে বন্ধুপ্রতিম (?) আচরণ করেছে তার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপঃ

১। প্রায় ৪ হাজার কি.মি দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চলে স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতের ভূমিকা আগ্রাসনমূলক। বিএসএফ গড়ে প্রতি ৩ দিনে একজন করে বাংলাদেশী হত্যা করছে বলে তথ্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এদের বেশীর ভাগই নিরীহ গ্রামবাসী। এমনকি ভারতের সীমান্তরক্ষীরা প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে নিরীহ গ্রামবাসীদের সম্পদ লুটপাট, হত্যা, ধর্ষণ ইত্যাদি জঘন্য কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।

২। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরী অব্যাহত রেখেছে।

৩। মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ভারতকে বেরুবাড়ি হস্তান্তর করলেও, বাংলাদেশ এখনো ৩ বিঘা করিডোর ফেরত পায়নি। উপরন্তু, এ সব অঞ্চলের মানুষেরা স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও গত ৩৮ বছর যাবত উন্মুক্ত জেলখানায় বন্দী হিসেবে দিন কাটাচ্ছে।

৪। বাংলাদেশের সীমানায় জেগে উঠা তালপট্টি দ্বীপকে ভারত জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। নীলফামারী, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে এখনো এদেশের হাজার হাজার একর জমি ভারতের দখলে রয়েছে।

৫। আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ভারত আমাদেরকে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করেছে। তারা ফারাক্কা বাঁধ, টিপাইমুখী বাঁধসহ উজানে আরও ডজন খানেক বাঁধ দিয়ে এদেশকে পুরোপুরি মরুভূমি করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। ভারতের 'আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প' বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি ও অর্থনীতিতে ডেকে আনবে চরম বিপর্যয়। কমে যাবে নদীর নব্যতা, মিঠা পানির মাছের উৎপাদন হ্রাস পাবে, আর্সেনিক সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করবে এবং ক্রমশঃ বাংলাদেশের বিশাল এলাকা পরিণত হবে ধূ ধূ মরুভূমিতে।

৬। চোরাকারবারীদের মাধ্যমে ভারত এদেশে মাদক, জালমুদ্রাসহ ভারতীয় বিভিন্ন নিম্নমানের পণ্যসামগ্রী ঠেলে দিচ্ছে। আর, অপরদিকে এদেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে তেল ও সার। বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, পিলখানা ট্রাজেডির পর সীমান্তে বিডিআরের অনুপস্থিতির সুযোগে এদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল ও সার ভারত ও মিয়ানমারে পাচার হয়ে গেছে। আর দেশে প্রবেশ করেছে মাদকসহ বিভিন্ন নিম্নমানের ভারতীয় পণ্যসামগ্রী।

৭। ভারত সবসময়ই এদেশীয় কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের আশ্যয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। নানাভাবে উস্কে দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে। ২০০৭ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার সাথেও ভারতের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং সেই সাথে জেএমবি নেতাদের বহুবার ভারত যাওয়া আসার প্রমাণ মিলেছে।

৮। খোদ ভারতের মাটিতেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় 'নিখিল বঙ্গ সংঙ্ঘের' ব্যানারে চলছে বাংলাদেশকে বিভক্ত করার এক জঘন্য ষড়যন্ত্র। সম্প্রতি কলকাতার বঙ্গসেনারা এদেশের ১৯ টি জেলা নিয়ে কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রিক একটি প্রবাসী বঙ্গভূমি সরকার গঠনের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তাদের শ্লোগান ছিল 'বঙ্গভূমি দখল চাই'। তারা ভারত সরকারের চোখের সামনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এই হীন তৎপরতা চালাচ্ছে।

৯। বাংলাদেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করার জন্য ভারত দীর্ঘ এই সীমান্ত অঞ্চলে অসংখ্য ফেনসিডিললের কারখানা তৈরী করেছে এবং অবৈধ উপায়ে তা বাংলাদেশে পাচার করছে। ফলে মাদকের মরণ নেশায় ধ্বংস হচ্ছে এ দেশের যুবসমাজ।

কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে এদেশের বিরুদ্ধে ভারতের এত ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার পরও বিগত ৩৮ বছর ক্ষমতাসীন প্রতিটি সরকার ভারতকে বন্ধুর মর্যাদায় আসীন করে তার প্রতি নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করেছে। শুধু তাই নয়, তারা বিভিন্ন সময়ে ভারতকে এদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপেরও সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে।

এ সেমিনারে কোনো বক্তাই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা উল্লেখ করেন নি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28939867 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28939867 2009-04-19 01:15:49
পিলখানা ষড়যন্ত্র ও কিছু কথা পিলখানা ষড়যন্ত্র। বিষয়টা দেখে আমার বেশ আগ্রহ জন্মালো। কারণ, বিষয়টি বেশ স্পর্শকাতর। এই বিষয়টি নিয়ে অনেক জল ঘোলা হচ্ছে। আসল ঘটনা সাধারণ জনগণ কিছুই জানতে পারছে না। ওনাদের দৃষ্টিতে ঘটনার বিশ্লেষণ শোনার জন্য গত বিকেলে গিয়েছিলাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে। আলোচনা শুরু হওয়ার পর প্রত্যেক বক্তাই তাদের আলোচনায় এই ঘটনার জন্যে ভারতকে সন্দেহের শীর্ষে রাখলেন। কেন শীর্ষে রাখলেন সেই বিষয়ে ওনারা যে ব্যাখ্যা দিলেন তা হলোঃ

১। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করা ভারতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। অতীতেও ভারত এই প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতের অখন্ড ভারত ও প্রতিদ্বন্দ্বী আঞ্চলিক শক্তির মর্যাদা লাভের পথ সুগম হয়।

২। মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী সবসময়ই ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। বি.ডি.আর বিদ্রোহের মাধ্যমে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের সেনাবাহিনী। এখানেও লাভবান একমাত্র ভারত । যেসব মেধাবী সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে তাদের মতো সেনা কর্মকর্তা তৈরী করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। উপরন্তু, এই সেনা হত্যাকান্ডের মাধ্যমে বি.ডি.আর ও সেনাবাহিনীর মধ্যে যে সন্দেহ এবং ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে, তার দীর্ঘ মেয়াদী সুবিধাও যাবে ভারতের পকেটে।

৩। দেশের সীমান্ত অরক্ষিত হলে সবচেয়ে সুবিধা হবে ভারতের। ভারত এ সুযোগে অনেক পুশ ইন করবে, যার মধ্যে রয়েছে ফেনসিডিল, ইয়াবা, ভারতীয় মোটর সাইকেল এবং কিছু মানুষ, যারা কোন ঘটনা ঘটাবার অপেক্ষায় থাকবে। অন্যদিকে বি.ডি.আরের চেইন অব কমান্ড ধ্বংসের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বি.ডি.আর কে তার পূর্বের শক্তিশালী অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।

এই বিষয়গুলো কি ভারতের প্রতি বিষেদেগার নাকি রূঢ় বাস্তবতা?


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28939517 http://www.somewhereinblog.net/blog/ziqu/28939517 2009-04-18 03:08:51