প্রথমেই বলে নেই আমি মানুষ, আমার ভুল হতেই পারে। ভুল হলে ক্ষমা চাই। আর যেহেতু লেখাটা ধর্মীয় ব্যাপারে তাই আরও আগে ক্ষমা চাই। লেখাটা লেখার জন্য কয়েকটা ভালো বই reference হিসাবে ব্যবহার করেছি, বই গুলোর নাম উল্লেখ প্রয়োজন মনে করি না।
আমার এ প্রচেষ্টা তাদের জন্য যারা নামায পড়তে জানেন না বা যারা নামাযের ভেতরের দোআ সমূহ ভুলে গেছেন, আমি আশা করি আমার এ কাজের মাধ্যমে আপনারা কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন এবং নামায পড়তে উৎসাহী হবেন। (জোবায়ের)
বিসমিল্লা-হির রহ’মা-নির রহী’ম
Namaz tips
{Written by Zobair}
নিয়ত করা: নামায আদায়ের প্রথম কাজ সুষ্ঠ সুন্দর ও সঠিকভাবে নিয়ত করা। আর নামায আদায় ও অনান্য উত্তম কাজের নিয়ত মনে মনে করতে হয়।
নিয়ত করার নিয়ম: নামাযের ইকামতের সময় মনে মনে এ কথাগুলো উচ্চারন করতে হয়। আমি কিবলামুখী হয়ে ইমামের পিছনে দাড়িয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ( ফযর, যোহর, আছর, মাগরিব, এশা ) দুই / তিন / চার রাকাআত নামায আদায় করছি। উল্লেখ্য যে জামায়াতে নামায পড়া ব্যতিত অন্য কোথাও ইমামের পিছনে দাড়িয়ে কথাটি উচ্চারন করা যাবে না।
নামায শুরুর বর্ননা: ইকামতের পর ইমাম যখন আল্লাহুু আকবার বলে হাত বাধেন ঠিক তখনই নামাযির আল্লাহুু আকবার বলে হাত বাধতে হবে এবং নামাযির এ ব্যপারে খুবই তৎপর হতে হবে। কেননা পুরো নামাযের সওয়াবের বেশির ভাগই এই সময় নিহিত থাকে।
ছানার বর্ননা: হাত বাধার পর কেরাত পড়ার আগে নিম্ন বর্নিত ছানা পড়তে হয়। (সুবহা’নাকা আল্লাহুম্মা ওয়াবিহা’মদিকা ওয়া তাবারক্কাস্মুকা ওয়া তাআ’লা- জা’দ্দুকা ওলা ইলা-হা গয়রুক্ ) অর্থাৎ হে আল্লাহ! গৌরব, প্রসংশা, বরকত ও মর্যাদা তোমারই। আমি খাঁটিভাবে আমার সমগ্র মনোযোগ তোমার প্রতিই দিলাম।
কেরাত পাঠ: নামাযে কেরাত পাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেরাত পাঠ সর্তকতার সাথে সহীহভাবে করতে হয়। ইমাম যখন কেরাত পড়েন তখন নামাযি কেরাত না পড়ে তা মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে। আর যখন ইমামের কেরাত শোনা যায় না তখন নামাযিকে আওয়াজহীনভাবে কেরাত পড়তে হবে। প্রতি রাকাআত নামাযেই সূরা ফাতিহা পড়তে হয়। প্রথম দুই রাকাআত ব্যতিত অন্য রাকাআত গুলোতে শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা আওয়াজহীনভাবে পড়তে হয়।
রুকু করা: সূরা ফাতিহা ও কেরাত পড়ার পর রুকু করতে হয়। রুকু করার সময় পীঠ সরল রাখতে হয়। রুকুতে পার্শ্ব বর্নিত তাসবীহ যথাক্রমে তিন / পাঁচ / সাতবার পাঠ করতে হয়। ( সুবহা’না রব্বিয়াল আ’যীম ) অর্থাৎ আমার মহান রব পবিত্র।
রুকু থেকে ওঠা: রুকুর তাসবীহ পড়ার পর নামাযিকে ( সামিআ’ল্লাহুলিমান হা’মিদাহ ) অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রসংশা করে তিনি তার প্রসংশা শোনেন বলে ওঠে সোজা হয়ে দাড়াতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যে এখানে যেন তাড়াহুড়া না হয়। তার পর দাড়ানো অব¯থায় ( রব্বানা লাকাল হা’মদ্ ) অর্থাৎ হে আমাদের রব তোমার জন্যই সকল প্রসংশা বলে আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যেতে হবে। উল্লেখ্য যে ইমামের পিছনে নামায আদায়ের সময় ( সামিআ’ল্লাহুলিমান হা’মিদাহ ) না বলে শুধুমাত্র ( রব্বানা লাকাল হা’মদ্ ) পড়তে হবে।
সিজদাহ করা: নামাযের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সিজদাহ করা। কারন এ সময় বান্দাহ আল্লাহর সবচেয়ে বেশি নিকটে অবস্থান করে। সিজদায় নামাযিকে চরম বিনয়ের ভাব নিয়ে পার্শ্ব বর্নিত তাসবীহ যথাক্রমে তিন / পাঁচ / সাতবার পাঠ করতে হয়। (সুবহা’না রব্বিয়াল আ’লা ) আমার মর্যাদাবান রব পবিত্র, তিনি সর্বোচ্চ। উল্লেখ্য যে রুকু থেকে সিজদায় যাওয়ার সময় দুই হাত আগে মাটিতে রাখতে হবে তারপর পর্যায়ক্রমে দুই হাটু, নাক এবং কপাল মাটিতে রাখতে হবে। (লেখকের মতে )
সিজদাহ থেকে ওঠে বসা: দুই সিজদাহকে পার্থক্য করতে প্রথম সিজদাহর পর আল্লাহু আকবার বলে ওঠে বসতে হবে এবং কিছু সময় পর আল্লাহু আকবার বলে দ্বিতীয় সিজদাহ করতে হবে। সিজদাহ থেকে ওঠে বসার ওয়াজিব আদায় করার জন্য পার্শ্ব বর্নিত দোআ পাঠ করতে হবে। ( আল্লা-হুম্মাগ্ফিরলিই ওয়ার হা’ম্নিই ওয়াজ’্বিরনিই ওয়ার ফা’নিই ওয়াহ্ দিনি ই ওয়া আ’ফিইনিই ওয়ার জুক্ব্নিই ) অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাকে মাফ কর, আমার ওপর রহম কর, আমাকে শক্তিশালী কর, আমার মর্যাদা বৃদ্ধি কর, আমাকে হেদায়েত দান কর, আমাকে সুস্থ রাখ ও আমাকে রিযিক দাও। দোআ সংক্ষিপ্তভাবে এতটুকু পড়লেও যথেষ্ট হবে। (আল্লা-হুম্মাগ্ফিরলি ওয়ার হা’ম্নিই ওয়ার জুক্ব্নিই )
বৈঠক: নামাযে বৈঠকও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতি দুই রাকাআত নামাযের দ্বিতীয় রাকাআতের বৈঠক ফরয এবং প্রতি চার রাকাআত নামাযের দ্বিতীয় রাকাআতের বৈঠক ওয়াজিব ও চর্তুথ রাকাআতের বৈঠক ফরয হয়ে থাকে। নামাযিকে বৈঠকে তাশাহুদ, দরূদ, ও দোআ মাছুরা দোআ সমূহ পাঠ করতে হয়, সেগুলো নিম্নরুপঃ তাশাহুদ:- ( আত্তাহি’ইয়াতু লিল্লা-হি ওয়াসোয়ালাওয়াতু ওয়াত্তোয়ইবাতু আস্সালামু আ’লাইকা আইয়্যুহান্নাবিইয়্যু ওয়ারহ’মাতুল্লা-হি ওয়াবারাকাতুহু- আস্সালামু আ’লাইনা ওয়া আ’লা- ই’বাদিল্লা-হিস্সোয়ালিহি’ইনা আশহাদু আল্লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহা’ম্মাদান আ’বদুহু- ওয়া রসূলুহ ) অর্থাৎ সকল সম্মানজনক সম্বোধন, বরকত ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার জন্য শান্তি , আল্লাহর রহমত ও বরকত নাযিল হোক। আমাদের ওপর ও আল্লাহর নেক বান্দাহদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ( সঃ ) আল্লাহর দাস ও রাসূল। দূরূদ:- ( আল্লা-হুম্মা সোয়াল্লিআ’লা- মুহা’¤মাদিও ওয়াআ’লা- আ-লি মুহা’ম্মাদিন কামা সোয়াল্লাইতা আ’লা- ইব্র-হিইমা ওয়াআ’লা- আ-লি ইব্র-হিইমা ইন্নাকা হা’মিইদুম্ মাজীদ। আল্লা- হুম্মা বারিকআ’লা- মুহা’¤মাদিও ওয়াআ’লা- আ-লি মুহা’ম্মাদিন কামা বারক্তা আ’লা- ইব্র-হিইমা ওয়াআ’লা- আ-লি ইব্র-হিইমা ইন্নাকা হা’মিইদুম্ মাজীদ। ) দোআ মাছুরা:- ( আল্লা-হুম্মা ইন্নি যোয়ালামতু নাফ্সিই যুলমান কাছিরও ওয়ালা ইয়াগ্ফিরুয্ যুনূওবা লা-ইলা-হা ইল্লা আন্তা ফাগর্ফিলি মাগফির-তাম্ মিন ঈ’ন্দিকা ওয়ার হা’মনিই ইন্নাকা আংতাল্ / আন্তাল্ গফুওর্রু রহি’ইম্। ) অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি আমার নাফ্সের উপর অনেক যুলুম করেছি, তুমি ছাড়া আর কেউ তা মাফ করতে পারে না। সুতরাং তোমার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা কর এবং আমার ওপর রহম কর। নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল ও মেহেরবান।
সালাম ফিরানো: সালাম ফিরানো নামাযের আরেকটি ওয়াজিব। সালামের মাধ্যমে নামায শেষ করা হয়। নামাযিকে আস্সালামু আ’লাইকুম ওয়া রহ্’মাতুল্লাহ্ বলে ধীরভাবে ডান কাধের দিকে তাকিয়ে প্রথম সালাম এবং আবার আস্সালামু আ’লাইকুম ওয়া রহ্’মাতুল্লাহ্ বলে বাম কাধের দিকে তাকিয়ে দ্বিতীয় সালাম ফিরতে হয়।
নামায শেষে কপিতয় দোআ: নামায শেষ হওয়ার সাথে সাথে তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ ও একবার আল্লাহু আকবার পড়তে হয়। এছাড়া প্রত্যেক নামাযের পর ৩৩ বার করে সুবহা’নাল্লাহ, আলহা’মদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার পড়া এবং একবার লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্’দাহু- লা- শারিকালাহু- লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হা’ম্দু ওয়াহুয়া আ’লা- কুল্লি শয়ইন ক্বর্দি পড়া। সুবহা’নাল্লা-হি আ’ম্মা ইয়ুশরিকুন ও সুবহা’নাল্লা-হি আ’ম্মা ইয়াসিফুন পড়া। এছাড়াও অনেক নামায পরবর্র্তি দোআ আছে যা আমাদের শিক্ষা গ্রহন করতে হবে।
দোআ কুনুত: ( আল্লাহম্মা ইন্না নাসতাঈ’নুকা ওয়া নাসতাগফিরুকা ওয়া নু*মিনুবিকা ওয়া নাতাওয়াক্কালু আ’লাইকা ওয়া নুছনি আ’লাইকাল খইরা ওয়া নাশকুরুকা ওলা নাকফুরুকা ওয়া নাখলাঊ’ ওয়া নাতরুকু মাইয়াফজুরুকা আল্লাহুম্মা ইয়্যাকানা’বুদু ওয়া লাকা নুসোয়াল্লি ওয়া নাসজুদুওয়া ইলাইকা নাসআ’ ওয়া নাহ্’ফিদু ওয়া র্নাজুও রহ’মাতাকা ওয়া নাখশা- আ’যাবাকা ইন্না আ’যাবাকা বিল কুফ্ফারি মুলহি’ক্ব। ) অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমরা তোমারই সাহায্য চাই। তোমারই নিকট ক্ষমা চাই, তোমারই প্রতি ঈমান রাখি, তোমারই ওপর ভরসা করি এবং সকল মঙ্গল তোমারই দিকে ন্যস্ত করি। আমরা তোমার কৃতজ্ঞ হয়ে চলি, অকৃতজ্ঞ হই না। হে আল্লাহ! আমরা তোমারই দাসত্ব করি, তোমারই জন্য নামায পড়ি এবং তোমাকেই সিজদাহ করি। আমরা তোমারই দিকে দৌড়াই ও এগিয়ে চলি। আমরা তোমারই রহমত আশা করি এবং তোমার আযাবকে ভয় করি। আর তোমার আযাবতো কাফেরদের জন্যই র্নিধারিত। ( দোআ কুনুত বিতরের নামাযের শেষ রাকাআতের সূরা পাঠের পর আল্লাহু আকবার তাকবীর দিয়ে পড়তে হয়। )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

