somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুক্তিবিদ্যা

২৩ শে মে, ২০১৩ সকাল ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাখি লাফ দিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসলো । তার অসম্ভব মন খারাপ লাগছে । এখন কি রাত? কত রাত? রাখি কিছুই খেয়াল করতে পারলো না । তার কেন ঘুম ভাঙ্গলো, সে কোথায় আছে সে কিছুই খেয়াল করতে পারছে না , সে শুধূ বুঝতে পারছে তার অসম্ভব মান খারাপ ।



বাইরে পচন্ড বৃষ্টি । ভাব দেখে মনে হচ্ছে অমাবস্যার গভীর ডাক । অন্য দিন এ সময় শেয়ালের সম্মিলিত ডাক শুনা যেত আজ বৃষ্টির তান্ডবে সেও বন্ধ । মফস্বলের শেষ প্রান্তে বলে রাখিদের বাসা থেকে এখনও শেয়ালের ডাক শোনা যায় । তবে ইদানীং মানুষজন আবার গাছ-পালা লাগানোর প্রতি মনোযোগ দিয়েছে তাই শহরের মাঝখানেও কিছুটা গাছ দেখা যায় । কিন্তু ঐ খানে শেয়ালেরা যায় না । ঐ খানে গাড়ী-ঘোড়া বেশী, মানুষজনও বেশী কিন্তু ঐ খানে শেয়ালদের খাবার নেই । তাই তারা যায় না । শেয়ালরা মানুষ হলে যেত , কারণ মানষেরা তার খাবার না জেনেও অন্য খাবারেও মূখ বসায় । কেন বসায় তারাই জানে । রাখির বিছানার অনেকটা ভিজে গেছে, ঘরের এক কোনায় কিছুটা পানিও জমেছে । খোলা জানালা দিয়ে হুহু করে বৃষ্টির পানি ডুকছে । রাখি জানালা খুলেই ঘুমায় । এখানে তেমন একটা চোর ছ্যাচ্ছড় নেই । আর আশে পাশে সবাই শফিকদের আত্নীয় । শফিক আসতে দেরি করলেও ভয় পাবার কিছু নেই । আর মাঝে মাঝে সন্ধ্যার দিকে শফিকের আত্নীয়রা আসে । চরম বিরক্তি, ক্ষোভ নিয়ে রাখি হাসি মুখে শফিকের আত্নীয় স্বজনদের সাথে গল্প করে, আপ্যায়ন করে । নতুন বৌ-এর প্রতি এটা আত্নীয় স্বজনদের এক ধরনে দায়িত্ব । তাই তারা আসে । আর শফিকও আসে রাতের নয়টার দিকে । ততক্ষন রাখি হাসি মুখে বিষ গিলে । বিষতো গত এক দেড় মাস থেকেই গিলছে । রাখি সবার সাথে হাসি মূখে থাকার চেষ্টা করে, কাউকে কিছু বুঝতে দেওয়া যাবে না ।



কিন্তু রাখির এ মুহূর্তে কিছুই মনে পড়ছে না । তার অসম্ভব মন খারাপ, কেবলই মনে হচ্ছে কি যেন নেই, এমন কিছু যা না থাকলে রাখির চলবে না । কাছে কোথাও বাজ পড়ল, রাখির তখনও কোন বোধ নেই । হঠাৎই রাখির মনে পড়লো দুস্বপ্ন দেখে তার ঘুম ভেঙ্গেছে । কিন্তু কি দুঃস্বপ্ন দেখেছে রাখি মনে করতে পারলো না । রাখি কয়েকবার মনে মনে আউড়ালো, দুস্বপ্ন দেখে মন খারাপের কিছু নেই, স্বপ্ন স্বপ্নই । রাখি জানালার দিকে তাকালো । ঘর ভেসে যাচ্ছে বৃষ্টিতে , ভিজুক । রাখির কিছুই আসে যায় না । রাখির অভ্যাসই হলো ঘুম থেকে উঠে ঘড়ি দেখা । আজ দেখেনি, বলা যায় দেখার কথা মনে নেই । অসম্ভব মন খারাপ রাখির, অসম্ভব মন খারাপ , কি যেন নেই, কি যেন নেই সব শূন্য শূন্য । কি নেই কি নেই ? বুক ভর্তি হাহাকার । রাখির মনে হলো মরে যেতে পারলে ভালো হতো । কাদতে পারলে রাখির কিছুটা ভালো লাগতো, কান্না বলে যে একটা জিনিষ আছে হয়ত এখন রাখির মনেই নেই ।



রাখির তার বাবার প্রতি আবার ঘৃণা উথলে উঠল । সব ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া বৃষ্টিরও এতো গভীরতা নেই, নিজের বাবার প্রতি রাখির এখন যতটা ঘৃণা । শফিকের দোকান থেকে রাখির বাবা পাইকারী কাপড় কিনত । শফিকের অবস্থাও ভালো অন্তত বলা যায় রাখির বাবার চেয়ে ৫০ গুন ভালো । রাখির বাবা রাখির সাথে ফয়েজের প্রেমের ব্যাপারটা কিছুটা জানতো । তেমন কিছু একটা বলে নি কখনও । ফয়েজদের একটা টেম্পু আর একটা ছোট পিক আপ আছে । ফয়েজও মাঝে মধ্যে পিকআপ চালায় , নিজের বাবার টা চালায় তাই তারে পুরাপুরি ড্রাইভারও বলা যাবে না । পড়ালিখা বেশী না হইলেও ফয়েজের তেমন কোন দুর্নাম নাই । কিন্তু ঠিক মত কাজ কাম করে না ।গ্রামে জমি ঝিরাত আছে, দুইটা গাড়ী আছে, এত পড়ালেখার দরকার কি? দুইটা মাত্র ভাই । বড় ভাই কুয়েতে, ফয়েজ কুয়েত চলে যেত শুধূ রাখির কথা ভেবেই যায় নি । শফিক একদিন তাদের বাড়ীর কাছে কি একটা কাজে এসেছিল , পথে িরাখির বাবার সাথে দেখা । পাইকারকে বাড়ীল কাছে পেয়ে জোর করে শফিককে বাড়ী নিয়ে গেলেন । পাইকারকে তুষ্ট করলে তার লাভ । তার ব্যাবসার অনেকটা নির্ভর করে শফিকের উপর । শফিক যদিও মাঝারী েমানের পাইকার, বড় পাইকারদের কাছে যাওয়ার মত ব্যাবসাও না রাখির বাবার ।



বাড়ীতে আসার তিন দিনের দিন, পাশের দোকানদারকে দিয়ে শফিক রাখির বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিল । রাখির বাবা আলীর কথা জেনেও এক মুহূর্তের মধ্যেই বিয়েতে মত দিয়ে দিয়েছিল । বিয়ের দিন সন্ধ্যায়ও রাখি জানতো না সে দিন তার বিয়ে, যদিও বাড়ীতে কাছের আত্নীয় স্বজন কয়েকজন এসেছিল । রাখির আফসোস হয়- কেন সে বুঝতে পারেনি এতজন আত্নীয় স্বজন একসাথে আসার পিছনে ণিশ্চয় কোন কারণ আছে । রাখিকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হলো শফিকের সাথে । রাখির হয়ে কবুল বলে ছিল রাখির এক নানী । রাখির বাবা হালকা ভাবে আলীর ব্যাপারটা শফিকে জানিয়েছিলেন, তিনি এখন রাখির বিয়ে নিয়ে নিজেকে কিছুটা বুদ্ধিমান দাবী করেন । িসুযোগ জীবনে খুবেই কম আসে, তিনি এবারের সুযোগটা চিনতে পেরেছিলেন । শফিককে তিনি আলীর ব্যাপারটা জানিয়েছিলেন যাতে ভবিষ্যতে কোন সমস্যা না হয় বা আলী কোন সমস্যা করলে শফিক তৈরী থাকে । এ সব শুনে শফিখ যদি পিছাতো তাহলে আলী ছিলই । যদিও আলীর চেয়ে শফিকের অবস্থা অনেক অনেক ভালো ।



রাখি শফিককে আলীর কথা জানিয়ে করজোড়ে অনুরোধ করে ছিল যেন তাকে যেতে দেয় । যেন তাকে নষ্ট না করে । শফিক প্রথম তিন দিন রাখির গায়ে হালকা হাত ছোয়ানোর চেষ্টা করেছিল , রাখি ঝাপটা দেওয়াতে আর আগ বাড়ায় নি । কিন্তু চতুর্থ রাতে জানোয়ারটা জোর করেই..... । এর পর থেকে প্রায় প্রতি রাতেই । প্রথম রাতেও রাখি খুব একটা বাধা দেয়নি । একসময় সে বুঝতে পেরেছিল বাধা দিয়ে লাভ নেই, আজ না হলেও কাল হবেই । যতবারই শফিক রাখির শরীরে ঝড় তুলেছে ততবারই রাখি ২ ঘন্টা ধরে গোসল করেছে । ঘষে ঘষে শরীর থেকে উঠিয়ে ফেলতে চেয়েছিল শফিকের সব স্পর্শ । রাখির একে একে বোধ ফিরে আসছে । রাখি বাইরের দিকে তাকালো সমান তেজে বৃষ্টি চলছে । আর একটু পানি জমলে ঘরে মাছ চাষ করা যাবে, রাখি দেখেও গা করলো না । মনে মনে গালি দিল কুত্তার বাচ্চা, জানোয়ারের বাচ্চা । রাখি গালি গুলো তার বাবাকে না শফিককে দিয়েছে প্রথমে ঠিক বোঝা গেলনা । রাখি মনে মনে আবার গালি দিল, এইবার বোঝা গেল সে গালি দিচ্ছে শফিককে । যদিও গত ২০/২৫ দিন শফিকের সাথে ভাল ব্যাবহার করেছে । কিছুই বুঝতে দেওয়া যাবে না । রাতের বেলা শফিখ কাছে টানলে, আগ বাড়িয়ে না গেলেও বাধা দেয় নি । কিছুই বুঝতে দেওয়া যাবেনা । কাক পক্ষী কেন ঘরে ঘুেরে বেড়ানো মশা মাছিও টের পাবে না একটু সাবধান থাকলে । রাখি পাশে রাখা মোবাইলে সময় দেখলো, শফিকের আসার সময় হয়েছে । ওল্ড হোস্টেলের রাস্তা দিয়ে এ সময় হেটে হেটে আসে । সন্ধ্যার পর এখানে রিক্সা টিক্সা পোওয়া যায় না । রাস্তা প্রচন্ড ভাঙ্গা । খাটাশটা বড় রাস্তা পর্যন্ত রিক্সায় এসে তারপর হেটে হেটে আসে । রিক্সা ভাড়া বেশী দিলে আবার না আসে? খাটাশ, জানোয়ার । রাখির মন এখনও খারাপ, এখন মনে হচ্ছে কি জেন একটা হানিয়ে যাচ্ছে । রাখিতো পেতে যাচ্ছে । আলী সব কিছ জেনেও এখনও রাখিকে বিয়ে করতে চায় । সত্যিকারের ভালবাসলেই এমন সম্ভব । কিন্তু রাখির মনের গুমোট ভাব, হাহাকার এখন অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে । রাখি মনে মনে দুবার বলল - আল্লাহ আমাকে নিয়ে যাও । রাখি কেন এ কথা বলল সে নিজেও জানে না । রাখি আবার মোবাইল তুলে ঘড়ি দেখল । বৃষ্টির ভিতর কি শফিক হেটে হেটে আসবে, মনে হয় বৃষ্টি থামলে আসবে । যদি বৃষ্টির ভিতরই রওনা দেয়! রাখি দ্রুত মোবাইলে আলীর নাম্বার বের করার চেষ্টা করলো । কয়েকবার চেষ্টা করেও পারলো না । হাত অসম্ভব কাপছে ।



আলীকে এখনই ফোন দিতে হবে । সময় নেই সময় নেই! কিন্তু ফোন করে কি বলবে ? নাকি এত ক্ষনে কাজ শেষ । রোখির ইচ্ছ করছে নিজের হাত পায়েল রগ সব নিজেই টেনে ছিড়ে ফেলতে । আল্লাহ এখনও যেন কাজ শেষ না হয় । কিন্তু আলী যদি জিজ্ঞেস করে কেন এত দিন প্লান করার পরও আজ রাখি নিষেধ করছে । শফিখকে গাড়ী চাপা দিয়ে চলে গেলে কেউ টেরও পাবে না । মফস্বলের রাত নয়টা মানে অনেক রাত, এদিকে তো আরও বেশী রাত । তার উপর যে বৃষ্টি । রাখি আবারও নম্বর বের করার চেষ্টা করলো । কিন্তু পারছে না । আলী রাখির কথা শুনবে তো? শফিক বাসায় ফিরবেতো? আলী যদি না শুনে রাখির কথা ? কেন শুনবে, সেই বা কি বলবে ?



রাখি দ্রুত মোবাইলে আলীর নাুম্বার বের করার চেষ্টা করলো । কয়েকবার চেষ্টা করেও পারলো না । হাত অসম্ভব কাপছে । বাইরে তুমুল বৃষ্টি ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×