somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারী নাকি পন্য?

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিরোনাম শুনে অনেকেই অবাক হলেন? আমাকে হয়ত নারীবাদীরা বলবেন, নারীদের নিয়ে টানা হেচড়া হচ্ছে, তাদের মর্যাদা হানি করা হচ্ছে, আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। কিন্ত বাস্তবতা হল, নারীবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ এর হাত থেকে বউ কিংবা বাড়ির কাজের মেয়ে বা বুয়াটা পর্যন্ত বাদ পড়েনি। এমনকি তার বিরূদ্ধে বুয়া হয়রানির অভিযোগ ও উঠে বাদী পাড়ায়।

যাই হোক বাদীদের নিয়ে আর ঘাটাঘটি না করলাম মূল কথায় আসা যাক। জাহেলী যুগে নারীর কোন সম্মান ছিলনা, তাদের একমাএ আমোদ প্রমোদের বস্ত হিসেবে গ্রহণ করা হত। তাদেরকে দাসী হিসেবে ব্যবহার করা হত। বাজারের মধ্যে তাদের নিলাম হত। যে যার মত দাম বলে সর্বোচ্চ দাম দেওয়া ব্যক্তির নিকট আগের মনিব তাকে তাকে হস্তান্তর করত। অর্থাৎ দাসীই ছিল তার পরিচয়। বর্তমান মনিব তাকে নিয়ে যেত। বর্তমান মনিব তাকে দিয়ে নিজের ক্ষুব্দ লালসা নিবারণের পাশাপাশি তাকে দিয়ে ব্যবসা করত। সেখানে তাকে দিয়ে বাড়ীর আনুসঙ্গিক কার্যাবলি সমাধা করত। কখনো নিজ গো্ত্রের সাথে অন্য গোত্রের যুদ্ধ বাধলে ( অবশ্য যুদ্ধটা তাদের নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার ছিল) তাদেরকে যুদ্ধের মাধ্যমে নির্মম মুত্যুর দিকে ধাবিত করত। তাদেরকে যে জীবন্ত দাপন করা হত। ইতিহাস এ এমন ব্যাক্তি অনেক রয়েছে যারা এহেন কর্ম সাদন করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হল "দাহিয়াতুল কালবি" যিনি বহু বিবাহ করার কারনে তার অনেক কন্যা সন্তানকে জীবন্ত বালিচাপা দিয়েছেন। যার সংখ্যা প্রায় ৯০ এর কাছাকাছি। অবশ্য পরবর্তীতে মুসলিম হওয়ার পর এই ভুলের জন্য সারাজীবন অাপসোস করেছেন।

বর্তমানে আবু জাহেল বা জাহেলী যুগ নাই কিন্তু তাদের উত্তরসুরী রয়েই গেছেন। এখন অবশ্য আগের মত বাজারে নারীর নিলাম হয়না কিন্ত দামী স্টার লেভেলের হোটেলগুলোতে তাদের পসরা সাজানো হয় এবং মাঝে মাঝে প্যাকেজ সিষ্টেম এর মাধ্যমে ডিসকাউন্ট এর আওতায় ও আনা হয়। বিভিন্ন উন্নত মানষিকতা সম্পন্ন ব্যক্তি যারা নিজেদের আধুনিক বলে দাবী করেন তাদের মাধ্যমে আজ নারীদের পন্যতে রূপান্তর করা হয়েছে। নারীদেরকে পন্যতে রূপান্তর করার কিছু মাধ্যম নিছে দিয়ে দিলাম:
১. বিভিন্ন WOOD টাইফের মুভি হল সবচেয়ে মারাত্তক মাধ্যম।
২. এন জি ও সংস্থা। যারা শুধুমাএ মহিলাদেরকে লোন দিয়ে থাকে।
৩. ফ্যাশন শো। যার মাধ্যমে পন্য বানানোর আর কোন অবশিষ্ট স্থান বাকি রাখেনি।
৪. রাস্তার বিলবোর্ড ত এখন নারীছাড়া একদম বেমানান হওয়ার সংন্কৃতি তৈরি হয়েছে।
৫. বিঞ্গাপন মাধ্যম । যা কিনা তাদের বাথরুম পর্যন্ত পৌছে দিয়েছে।
৬. ন্যাশনাল, মাল্টি ন্যশনাল, ইভেন ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি গুলো নারী ছাড়া নাকি বেশ জমেনা। অবশ্য তাদের নিকট কোন অবিঙ্গতা চাওয়া হয়না , তারা নাকি এক্সপার্ট না হলে ভালো হয়।
৭. গাড়ী বিক্রি হবে কিন্ত একটা নারীকে সামনে দাড় করিয়ে রাখা হয় । বেচারা ক্রেতা মাঝে মাঝে কনফিউজড হয়ে যায় কোনটা আসলে পন্য। নাকি একটার সাথে একটা ফ্রি।
৮. আজকাল বিমানে যাএীদের খাবার পরিবেশনের জন্য নারী ছাড়া নাকি হয়না। এটা নিয়ে বিমান সংস্থা গুলোর মাঝে রয়েছে আনেক কম্পিটিশন ।
৯. কোন পন্য প্রথম বাজারজাত করবেন সেখানে নারীর হাত থাকবেনা এটা কেমন করে হয়।
১০. অনুষ্ঠান সম্প্রচার থেকে শুরূ করে হোষ্টিং এবং ডেন্সিং এখন নারীদের পদচারনায় মুখরিত।
১১. খেলাধুলায় তারা কেন পিছিয়ে থাকবে । সো মিনি স্কাট তো চলেই।

মোট কথা নারীদের স্পর্শ ছাড়া কোন কিছুই আপনি আজকাল দেখবেন না। যা কিনা তাদের অজান্তেই পন্য করে তোলে। আবার কিছু আবাল আছে যারা নারীবাদী আন্দোলনের নাম দিয়ে তাদের রাস্তায় নামিয়ে পতিতালয়ের আমোদ প্রমোদের খোরাক করে। অবশ্য এটার জন্য বাদী মহলে বিচ্ছেদের গুন্জন ও শুনা যায়।

এখন প্রশ্ন হল , এটার সমাধান কি? আমরা করলে বস্ত্র হরন, কে করলে বস্ত্র বরন হবে? সেটার সমাধান আগামিতে তুলে ধরব।

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:৩২
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

উপেক্ষিতার সম্ভ্রম

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৭

ফুলের দোকানে সেদিন খুব ভিড় ছিল,
ফুলপ্রেমী ক্রেতাদের আনন্দোচ্ছ্বাস ছিল।

সুশোভিত, সুঘ্রাণ, সতেজ ফুলের মাঝে
পেছন সারিতে ছিল এক বাসি ফুল লাজে।

কারো কারো দৃষ্টি ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দাওয়াত খাওয়া এবং কিছু রিয়েল টাইম অভিজ্ঞতা

লিখেছেন পয়গম্বর, ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১:২৫

একটু আগে একটা দাওয়াত থেকে ফিরলাম। দাওয়াতের উদ্দেশ্য সুইট সিক্সটিন। অর্থাৎ, যিনি দাওয়াত দিয়েছেন, তাঁর মেয়ের বয়স ষোল বছর পূর্ণ হলো। মেয়ের জন্যে ষোলতলা কেক বানানো হয়েছে। ডমপেনের কেক। খুবই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রামের ভ্রমন

লিখেছেন নূর-ই-হাফসা, ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:৪৩

.

শীতের এই সময়টা বলা চলে ডিসেম্বর মাস এলেই আমার আনন্দ আর ধরে রাখা যেতো না । স্কুলে পড়া কালীন বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়া মানেই গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাচ কা সামনা

লিখেছেন কি করি আজ ভেবে না পাই, ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০৫



আজ থেকে বিশ বছর পরের কথা, গেমু বিয়ে থা করে থিতু হয়েছে, ১২/১৪ বছরের একটা সদ্য বখে যাওয়া(গেমু যথা) পুত্রধনও আছে। গেমু এখন পুরাই ভালো লোক। টোটো কোম্পানির... ...বাকিটুকু পড়ুন

এমন শিক্ষিকার ৪০ বছরের জেল নয় মিত্যু দণ্ড দেয়া উচিৎ

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ২০ শে নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:৩০


আজকাল পেপার পত্রিকা খুললেই যে বিষয়টি সামনে আসে তা হল ছাত্র ছাত্রী দের সাথ
শিক্ষক বা শিক্ষিকার অনৈতিক সম্পর্ক করার ঘটনা। সাম্প্রতিক মেল অনলাইন নিউজে
এক সংবাদ উঠে এসেছে ৪০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×