ব্লগের আমি ব্লগের তুমি ব্লগ দিয়ে যায় চেনা

হুমায়ুন আজাদ যেখানে জিতে গেছেন

১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৯:২৬

শেয়ারঃ
0 0 0

১.

বৈপরীত্যে ভরা মানুষের জীবন। হুমায়ুন আজাদের জীবনও তার ব্যতিক্রম ছিলো না। প্রশংসা করে লিখলেন "শামসুর রাহমান : নিঃসঙ্গ শেরপা" নামের বইটি, সেই শামসুর রাহমানের নামে এখানে ওখানে কুৎসা গেয়েছেন তিনি নিজে। মতামত প্রকাশে কিছুটা চমক সৃষ্টির ঝোঁকও তাঁর ছিলো বলে মনে হয়, যা তাঁর বুদ্ধিবৃত্তির সঙ্গে ঠিক খাপ খায় না।

আমাদের দেশে নির্ভয়ে সত্যউচ্চারণ করার মতো সাহসী বুদ্ধিজীবীরা ভয়াবহ রকমের সংখ্যালঘু। অল্প সময়ের ব্যবধানে আহমদ শরীফ ও আহমদ ছফার মৃত্যুর পর মনে হয়েছিলো, এখন? শাসক, সমাজের মোড়ল ও ধর্মান্ধদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সত্যি কথাটি বলার মতো হাতে রইলেন এক হুমায়ুন আজাদ। তাঁকেও যেতে হলো। পূর্বোক্ত দু’জনকে হুমকি-ধামকি প্রচুর দেওয়া হয়েছিলো, প্রাণসংশয় হয় এমন শারীরিক আক্রমণের মুখে তাঁদের পড়তে হয়নি। হুমায়ুন আজাদকে হয়েছিলো। তাঁর মৃত্যুর জন্যে সেই আক্রমণকে হয়তো প্রত্যক্ষভাবে দায়ী করা চলে না, কিন্তু পরোক্ষে তা অস্বীকার করা অসম্ভব বলেই মনে হয়।

আর সব মানুষের মতো তিনিও দোষেগুণে মানুষ ছিলেন। ঔপন্যাসিক হিসেবে তাঁকে তেমন কিছু একটা কখনোই মনে হয়নি। বরং মনে হয়েছে নিজের বক্তব্যটিকে যেনতেন প্রকারে প্রচার করার জন্যে কিছু সম্ভব-অসম্ভব ঘটনা ও দ্বন্দ্বের অবতারণার দিকেই তাঁর ঝোঁক বেশি ছিলো। হুমায়ুন আজাদের ভাষাতত্ত্ব বিষয়ে গবেষণাকর্ম নিয়ে আমি আদার ব্যাপারীও নই। কবি হিসেবে কতোখানি সফল-অসফল তা নিয়েও আমার মতামত দেওয়া সাজে না। তবে আধুনিক বাংলা কবিতা সংকলনে পক্ষপাতমূলক নির্বাচন তাঁর সুনাম বাড়ায়নি, বরং তাঁর বিবেচনাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী মানুষ ছিলেন তিনি। সেই আত্মবিশ্বাস, বিশেষ করে নিজের মৌলিক রচনাগুলি সম্পর্কে তাঁর ধারণা অনেকটাই বাস্তবতাবিবর্জিত মনে করা যায়। বাংলা ভাষায় লিখিত একমাত্র তাঁরই রচিত কিছু কবিতা ও গদ্য বিশ্বমানে পৌঁছাতে পেরেছে, এরকম বালখিল্য দাবিও তিনি একাধিকবার করেছেন।


২.

হুমায়ুন আজাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয় আমার ঘটেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডরে কয়েকবার ছাড়া তাঁকে চাক্ষুষ দেখিওনি আর কোথাও। যদিও তাঁর "লাল নীল দীপাবলী" বইটি বিষয়ে আলোচনা লিখেছিলাম ১৯৭৭-এ। আমার ছোটো বোনের সরাসরি শিক্ষক ছিলেন তিনি। সে তাঁর ভক্ত হিসেবে আমাকে ৯২ সালে পাঠিয়েছিলো "প্রবচনগুচ্ছ"। ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমির বইমেলা থেকে "আমার অবিশ্বাস" তার স্যারকে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছিলো আমার নামে। সে বই আমার হাতে আসার কয়েকদিন আগেই বইমেলা থেকে বেরিয়ে দুর্বৃত্তদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন খবর পেয়েছি। বইটি পৌঁছালে হুমায়ুন আজাদের স্বাক্ষরের নিচে তারিখ দেখে চমকে উঠতে হয়। ওই তারিখেই তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন।

পরিচিত এক ভদ্রমহিলা "আমার অবিশ্বাস" পড়তে নিয়েছিলেন। বইটি তাঁকে পড়তে দেওয়া যায় কি না, এই নিয়ে কিছু দ্বিধায় ছিলাম। এই বইয়ে হুমায়ুন আজাদ সকল ধর্মবিশ্বাসের প্রতি প্রবল অনাস্থা জানিয়েছেন, মানুষের ধর্মবিশ্বাসগুলির অযৌক্তিকতা ও অসারত্ব সবিস্তারে বলেছেন তীক্ষ্ণ যুক্তি দিয়ে। আমার দ্বিধা ছিলো সেই কারণেই। ভদ্রমহিলা বড়ো হয়েছেন ধর্মপরায়ণ পরিবারে, ছোটোবেলা থেকে ধর্মবিশ্বাস ও আচরণে নিষ্ঠ। এখন ধর্মাচরণে অনিয়মিত হলেও ভদ্রমহিলার বিশ্বাসটি অক্ষত ও অটুট। তাঁর বিশ্বাস আহত হোক তা আমি চাইনি। একরকম জোর করেই তিনি বইটি নিয়ে গেলেন।

পড়া হয়ে গেলে বইটি ফেরত দিয়ে মহিলা অপ্রত্যাশিতভাবে একটি আশ্চর্য মন্তব্য করলেন। গ্রন্থে উপস্থাপিত তথ্য ও যুক্তি সম্পর্কে তিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন, একমাত্র আমার অন্ধবিশ্বাস ছাড়া আর কিছু দিয়ে তো আমি হুমায়ুন আজাদের যুক্তিগুলি অস্বীকার করতে পারছি না!

হুমায়ুন আজাদ জিতে গেছেন ঠিক এখানেই।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): হুমায়ুন আজাদ যেখানে জিতে গেছেন ;
প্রকাশ করা হয়েছে: বিবিধ রচনা  বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৯:৩৪
মোহক বলেছেন: ভাই যদি কিছু মনে না করেন একটা কথা জিজ্ঞেস করতে চাই । আপনার একই লেখা দেখলাম আরেক ব্লগে । একই লেখা একাধিক জায়গায় কেন দেন?

লেখা ভালো হইছে । আপনারে ৫ দিছি ।
২. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৯:৪২
মুহম্মদ জুবায়ের বলেছেন: ভাই মোহক, আপনার সংকুচিত হওয়ার কিছু নেই। প্রশ্নের উত্তরটা এই যে, একই লেখা একাধিক ব্লগে প্রকাশ করতে বাধা আছে বলে আমার জানা নেই। সামহোয়্যারইন বা সচলায়তন কেউই আমাকে সেরকম বিধিনিষেধের মধ্যে ফেলেনি। দ্বিতীয় কারণ, দুই জায়গায় কিন্তু্ আমি একই পাঠক পাচ্ছি না। আমার লেখা বেশি পাঠকের চোখে পড়ুক, তা-ই আমি চাই।

ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্যে।
৩. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৯:৪২
কালপুরুষ বলেছেন: বরাবরের মতই চমত্কার লিখেছেন। সুন্দরভাবে যুক্তি ও বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। গোছানো লেখা।
৪. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৯:৪৪
মোহক বলেছেন: ঠিকাছএ ভাই । এমনেই মনে হইলো আর কি । ঐখানে মনে হয় আগে দিছেন । পরে এইখানে এইটা দেইখা একটু কেমন লাগলো আর কি । ঐখানে তো আমগোরে নেয়না ।
৫. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৯:৪৭
মুহম্মদ জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ @ কালপুরুষ ও মোহক।
৬. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৯:৪৮
ডাক্তার আইজউদ্দিন বলেছেন: ৫ দিলাম। লোল পুরুষ টিয়া পাখী কিনচেন
৭. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৯:৫৯
অশ্রু বলেছেন: কালপুরুষকে লোলপুরুষ ডাকছেন কেন আইজুদ্দিন?
৮. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১০:০০
মুহম্মদ জুবায়ের বলেছেন: ও ভাই ডাক্তার সা'ব, আপনের ৫ তো বুঝলাম। বাকিটা কী কইলেন বাংলায় কন। :)
৯. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১০:০১
মোহক বলেছেন: কালপুরুষ ভাইরে কেউ কেউ আদর কইরা লোলপুরুষ কয় । এইটা অবশ্য হিংসাজাত । তিনি এই বয়সে ও যেরকম বালিকাভাগ্যের অধিকারী হিংসুটেদের দোষ কি?
১০. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১০:০৪
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: হুমায়ুন আজাদ যখন নিজের প্রশংসা করতেন সেটা বাঙালী ভদ্রতাবোধের সাথে ঠিক মিল খায় না। বাঙালী নিজের প্রশংসা নিজে করে না। এটা হয়তো বাঙালীর নয়, মানুষেরই ধর্ম। কিন্তু বাঙালি যেটা করে সেটা হচ্ছে নিজের প্রশংসার জায়গাগুলোর বিষয়েও কনফিডেন্ট থাকে না। অশক্ত মেরুদন্ডের। হুমায়ুন আজাদ নিজের প্রশংসা নিজে করতে পেরেছেন সবার সামনে, সেটা কতদূর আন্তর্জাতিক হয়েছে, তা তো নির্ধারিত হবে ক্রমশঃ/ভবিষ্যতে।

যেমন আমার মনে হয় তার উপন্যাস ও কবিতা বাঙালীর অন্যতম সম্পদ। যার ভেতর ভিন্নতা আছে, ভিন্নতা নির্মাণে নিখাঁত মৌলিকতাও আছে। সবই বাঙালি কনটেস্টে। কিন্তু তা বিশ্বে মৌলিক নয়। হুমায়ুন আজাদের বলা কথা অনেক আগে বলে গেছেন জার্মান ও ফেঞ্চের দার্শনিক, নারীবাদীরা। হয়তো তিনি বৈশ্বিক মৌলিকত্বের ধারবাহিকতা হয়েছেন।

সেজন্য তিনি আন্তর্জাতিক মানের একজন চিন্তক ছিলেন, একজন সাহসী ছিলেন, সত্যিকারের প্রথাবিরোধী ছিলেন। তিনি সময়ের সবচেয়ে প্রাজ্ঞ দূরদর্শী ছিলেন।

পুনশ্চঃ জুবায়ের ভাই, হুমায়ুন আজাদ বলতেন, আমাদের দেশে সমালোচনা সাহিত্য সমৃদ্ধ নয়। আসলেও তাই। তারপরেও কেহ তেমন আগ্রহ প্রকাশ করে না সাহিত্যের এই শাখাটাতে কাজ করতে। আমার মনে হচ্ছে আপনার হাতে সাহিত্যসমালোচনা ভাল মাত্রা পেতে পারে। বিশেষ করে হুমায়ুন আজাদের উপন্যাসগুলো নিয়ে।

আরেকটা কথা, আপনি ৭৭ এ লাল নীল দীপাবলী নিয়ে যে আলোচনা করেছিলেন, সেটা পড়ার আগ্রহ বোধ করছি। কিভাবে পাওয়া সম্ভব?
১১. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১০:১৭
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: তাঁর সাহসের প্রশংসা করতেই হবে।

হুমায়ুন আজাদের লেখার স্টাইল অসম্ভব ভাল লাগে, আমার মনে হয়েছে তাঁর বাংলা লেখা সবচেয়ে নির্ভুল, বিশেষ করে যতিচিন্হের ব্যবহারের ক্ষেত্রে ... ভাষার প্রকাশ অসম্ভব শক্তিশালী মনে হয়েছে তাঁর লেখা পড়ে

উল্টো আমি তাঁর 'এই জিতে যাবার' ব্যাপারটায় শক খাইছি ... যেজন্য তাঁরই অগ্রজ আহমদ শরীফকে আমি অনেক বেশী বিজয়ী ভাবি ... হুমায়ুন আজাদ হয়ত ভাবেননি তিনি এত তাড়াতাড়ি মৃত্যুবরন করবেন, তাই বলে যেতে পারেননি, কিন্তু তাঁর অন্তেষ্টিক্রিয়ায় একটা বিশেষ ধর্মমতের প্রয়োগ তাঁর জিতে যাওয়াকে কিছুটা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে ...


আর আমি নিশ্চিত না, তবে শুনেছি, তাঁর ছেলে নাকি বলেছেন ড. আজাদ নামাজ পড়তেন জাতীয় কিছু ... এটা অবশ্য পুরো শোনা কথা ... আমি যাস্ট জানতে চাইছি ব্যাপারটা নিয়ে একটা কৌতুহল ছিল বলে ... তবে ব্যাপারটা সত্য হলে ড. আজাদকে নিয়ে হিসেব মেলানোটা কঠিন হয়ে যাবে।

১২. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১০:২৩
মুহম্মদ জুবায়ের বলেছেন: কৌশিক, আপনার মন্তব্যগুলি কিছু নতুন চিন্তার খোরাক দিলো। অনেক ধন্যবাদ।

সমালোচনা লেখা ভাই আমার কর্ম নয়। পড়াশোনার দৌড় আমার সীমিত, সুতরাং ওদিকে যেতে সাহস হয় না।

"লাল নীল দীপাবলী" নিয়ে আলোচনাটি লিখেছিলাম বাংলা একাডেমীর "ধানশালিকের দেশ" পত্রিকায়। কিশোরদের উপযোগী করে লেখা। কী লিখেছিলাম কিছুই মনে নেই। সিরিয়াস কিছু যে নয়, তা নিশ্চিত। সেই লেখার তো বটেই, পুরনো কোনো লেখারই কপি আমার কাছে নেই। কোথায় হারিয়ে গেছে সেসব!
১৩. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১০:৩৭
মুহম্মদ জুবায়ের বলেছেন: জ্বিনের বাদশা, হুমায়ুন আজাদের ভাষা ব্যবহার ও শব্দপ্রয়োগের কৌশল সত্যিই ঈর্ষণীয়। আপনার সঙ্গে একমত।

তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বিষয়টি আমাকেও ভাবিয়েছিলো। ঘটনাটা যেভাবে ঘটেছিলো, তাঁকে দায়ী করা চলে না। আপনার অনুমান হয়তো সঠিক, এমন আচমকা প্রস্থানের সম্ভাবনা হয়তো তাঁর কল্পনায়ও আসেনি।

নামাজ পড়ার কথাটা আগে শুনিনি। সত্যি হলেও অবাক হবে না। ঐ যে শুরুতেই বলেছি, মানুষের জীবন বৈপরীত্যে ভরা।
১৪. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১০:৪৪
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: জ্বীনের বাদশ, কখনও নাস্তিকদের নামাজ পড়ার দরকার হতে পারে। অন্য কারো জন্য। হুমায়ুন আজাদ এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, প্রথাবিরোধী মানে এমন কিছু করা নয় যাতে একান্ত জড়ি্ত লোকেরা ভোগে। তিনি মত প্রকাশে প্রথাবিরোধী ছিলেন বটে, ব্যক্তিগত জীবনে কিছু আচরণেও প্রথাবিরোধী হতে চেষ্টা করতেন হয়তো, কিন্তু সবকিছু প্রথা ভেঙে চলা আমাদের সমাজে যে সম্ভাব নয় সেটাও বুঝতেন। তার মানে সেগুলোকে স্বীকার করে নেয়া নয়, বাধ্য হয়ে করা। যদি বাধ্য না হতেন তবে হয়তো করতেন না।
.
জুবায়ের ভাই, আপনি কি আনোয়ার শাহাদাত কে চেনেন?
১৫. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১১:০২
অন্যআনন বলেছেন: স্যারের আত্মবিশ্বাস অনেক সময়ে অহংকারে পরিণত হয়েছিলো। যা কখনো কখনো স্যারের কথা বার্তায় প্রকাশ পেয়েছ। তরুণ লেখকদের নিয়ে স্যারকে আমি একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, স্যার আপনি কেন বললেন যে, ( সাপ্তাহিক ২০০০ এর এক সাক্ষাতকারে) তরুণ লেখকরা লেখালেখি না করে টেম্পো ড্রাইভার হলে ভালো করতো!!
স্যার বলেছিলেন, স্তুতির কথা। তরুণরা নাকি স্তুতি করতে পছন্দ করে।স্তুতি শুনতে পছন্দ করে! স্যার তরুণদের স্তুতি করতে চাননি!! তাই এ কথা বলেছেন!
কিন্তু আমি জানি, স্যারও ব্যক্তিগত ভাবে স্তুতি পছন্দ করতেন। কিন্তু স্বীকার করতেন না!!
স্যারের উপন্যাস সবচেয়ে সমৃদ্ধ। কবিতায় ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রবল প্রতিষ্ঠায়ন (!!) থাকার দরুণ, সেটা নিয়ে আমার একটু দ্বন্দ্ব আছে।
তবে, স্যারের অহংকারের যে ব্যাপারটা আমার ভালোলাগতো, ওনার বলার সততা! সরল ও অকপটে নিজেকে তুলে ধরার বাচন ক্ষমতা। ব্যক্তিগত ভাবে ওনার সাথে আমার অনেক জায়গাতেই আমার মেলেনা। তবে, মাথানিচু করে চলা মানুষদের মধ্যে হুমায়ূন আজাদ স্যারের উচ্চশির আর নির্ভীক উচ্চারণ আমাকে গর্বিত করে।
১৭. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১১:৩৮
মুহম্মদ জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ অন্যআনন, আপনার ভাবনা ও স্মৃতি শেয়ার করার জন্যে।

ধন্যবাদ, যীশূ।

কৌশিক, আনোয়ার শাহাদাতকে নামে চিনি। পরিচয় নেই।
১৮. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১১:৩৮
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: কৌশিকদা, আপনার বক্তব্যে একমত হতে পারলামনা ... প্রথা ভাঙার কথা বলার চেয়ে প্রথা ভেঙে দেখিয়ে দেয়াটা অনেক বেশী শক্তিশালী ...

আর নামাজের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একদমই খাটেনা ... আমাদের সমাজে এখনও এমন অবস্থা আসেনাই যে নামাজ না পড়ার জন্য সমাজে চলা সম্ভব না ... অধিকাংশ মানুষই তো পড়ছেননা ... এটা যদি এমন হতো সৌদির মতো যেখানে মুতাওয়াল্লীরা লাঠিহাতে তাড়া করে, বা অজ গ্রামের মতো যেখানে সামাজিকভাবে নিন্দিত হয় নামাজ না পড়ার জন্য তাহলে মানা যেত ...
বরং, তাঁর পরিমন্ডল তো ছিল পুরো উল্টো ... ঢাবি আর বাংলা সাহিত্যিক পরিমন্ডল ... সেখানে তো বরং নামাজ পড়লেই অনেক সময় সামাজিক চোখটাটানি সহ্য করতে হয় ...
১৯. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১১:৫৬
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: বৃদ্ধ শাশুড়ী এত কিছু দেখেনি জামাতার। জামাতার প্রথাভাঙার গল্পও জানে না। বললো, বাবা শুক্রবারের নামাজটা একটু পইড়ো! বৃদ্ধা জানে না, কেউ ইশ্বরে অবিশ্বাসে করে থাকতে পারে কিনা, তার এটা বিশ্বাস ই হবে না, একজন ইশ্বরকে খারিজ করে দিতে পারে। জামাতা তখন অনেক মানবীয় দৃষ্টিতে দেখবে বৃদ্ধার বিশ্বাসের জায়গাটা। সে ভাঙতে চাইবে না তার প্রথাবিরোধীতার গল্প বলে। সে হয়তো শারিরীক ভাবে অসমর্থ নতুন চাপ নেয়াতে। প্রথা ভেঙে দেখিয়ে দেয়াটা অনেক বেশী শক্তিশালীতো বটে। কিন্তু তার চেয়ে বেশী কঠিন তো মনে হচ্ছে মত প্রকাশ করা। প্রথা ভেঙে বিয়ে না করে দুজন শারিরীক মিলন করছে, একই ঘরে থাকছে, এটা খুব কমন ঘটনা। কিন্তু সে কথা বলছে না কেউ। বা কেউ যখন বলে, তখন সে তসলিমা হয়। তাকে সমর্থন দিলে সে হুমায়ুন আজাদ হয়। এবং দেশ থেকে বিতারিত হয়, এবং নিহত হয়।
.
প্রথা ভেঙে দেখিয়ে দেই আমরা প্রতিনিয়ত, কিন্তু সে প্রথা ভাঙার গল্প আদৃত হয় না।
২০. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:০১
রবিনহুড বলেছেন: (তাঁর মৃত্যুর জন্যে সেই আক্রমণকে হয়তো প্রত্যক্ষভাবে দায়ী করা চলে না, কিন্তু পরোক্ষে তা অস্বীকার করা অসম্ভব বলেই মনে হয়। )


যেখানে হুমায়ুন আজাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে সে খানে পূর্বের কিছু ঘটনার সংযোগ সূত্রতা আবিষ্কারের চেষ্টা হাস্যকর।
২১. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:০৭
মুহম্মদ জুবায়ের বলেছেন: এরকম আকাট মূর্খের মতো কথা আপনার মুখে খুব মানায়, রবিনহুড। আগেও এরকম দেখেছি, তাই বলা। আরেকটা কথা আপনাকে জানিয়ে রাখি, আমি আমার রেটিং নিয়ে মাথা ঘামাই না একটুও। কারণ আমি জানি আমি কী লিখছি, কেন লিখছি, কেমন লিখছি। আপনি এইমাত্র রেটিং কমালেন, আপনার বন্ধুদের বলে আরো কমানোর ব্যবস্থাও করতে পারেন। আমার কিচ্ছু আসে যায় না।
২২. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:১২
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: কৌশিকদা, সেখানেই তাঁকে নিয়ে হিসেবটা মেলাতে পারিনা ...
নিজের জন্য যদি এতটুকু কপ্রোমাইজ করা না যায়, তাহলে তাঁর প্রথাভাঙার গল্প পড়ে একজন তরুন যখন তার বাবা-মাকে 'বাবা যখন বেহেশতে ৭০ টা হুরপরী নিয়া ... ' বলে বুড়োবুড়ির বিশ্বাসকে অপমান করবে, তখন কি হবে?
সেই তরুনটি হয়ত "সত্য" না "বাবা-মা'র অপমান না হওয়া" দুটো ইস্যু নিয়ে অনেকরাত ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে "সত্য"কে বেছে নেবে,
আর সে যখন জানবে তার গুরু অন্যটাকে বেছে নিয়েছে তখন সে গুরুকে নিয়ে হিসেব মেলাবে কিভাবে? গুরুর সত্য তার কাছে কতটুকু আবেদন রাখবে?

কথায় আর কাজে মিল থাকাটা তো খুব জরুরী, তাইনা?
২৩. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:২০
রবিনহুড বলেছেন: মুহম্মদ জুবায়ের@ আপনি মানসিক ডাক্তার দেখান।
কোন যুক্তি খন্ডন না করে মন্তব্য করা ঠিক না।


রেটিং এর ব্যাপারটা আমার কাছে হাস্যকর মনে হয়। কারন আমি নিজেই নিজের রেটিং কমপক্ষে ১০০ বার দিতে পারব। সেই সুবিধা/ সুযোগ আমার আছে। তাই এ গুলা নিয়ে আমি কখনো মাথা ঘামাই না। আর যারা মাথা ঘামান তাদের বিষয়টা, মামুলি একটা ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি বলে আমার কাছে মনে হয়।
২৪. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:২৬
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: জ্বীনের বাদশা, কথা ও কাজে মিল থাকাটা জরুরী সাধারণদের জন্য। সাধারণরা তাই করে। তাদের কথা ও কাজ কোনটাই শিল্পিত না, নতুন কিছু না, মৌলিক কিছু নয়, কোনটাই প্রথাভাঙার গল্প নয়, কোনটাই সমাজের বিকাশের জন্য নয়। সমাজের বিবর্তন হয়েছে মানুষের চিন্তার বিকাশের মাধ্যমে, তার মননশীলতা বিকাশের মাধ্যমে। কেউ প্রথা ভাঙার গল্প, প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেছে। একদল সেপথে হেঁটে গেছে। সেই ব্যক্তি পুরোপুরি কাজ করে যেতে পারে নি, তার মানবীয় দূর্বলতা, সামাজিক সংকোচন আর সংক্রীর্ণ বেড়ির জন্য। তাকে নির্যাতন করে নিঃশেষ করেছে। কিন্তু সমাজের পরিবর্তন এভাবেই সাধিত হয়েছে। যে তরুন আজকে নতুন প্রথাকে ভালবেসেছে, সে তার কাজে কিছু প্রতিফলন করে দেখাচ্ছে। কিন্তু তার অনুপ্রেরণা দেখেছে সে কারো লেখায়। হয়তো একজন হুমায়ুন আজাদ তাকে অনুপ্রানিত করেছে।

গুরুর জীবনের ঘটনা ততটা নয়, যতটা গুরুর বচনের মান্যতা জরুরী। এটা মুক্ত চিন্তার জায়গা, আপনি তার যুক্তিতে আস্থা রাখছেন, তার জীবনে নয়।
২৫. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:২৮
মুহম্মদ জুবায়ের বলেছেন: রবিনহুড, পাগলরা নিজেকে ছাড়া পৃথিবীর সবাইকে পাগল ভাবে এটা নতুন কিছু না। সুস্থ মানুষরা তা জানে। আপনার কী সুবিধা বা সুযোগ আছে এই নিয়ে তড়পানোরও কোনো মানে নেই। আমার শোনার সময় বা ধৈর্য কোনোটাই নেই।
২৬. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:৩২
হোসেইন-দ্য এ টিম বলেছেন: এই আলোচনাটা সমৃদ্ধ হইয়া এক্কেরে ঐ বৈঠকখানার রূপ পাইতেছিল।সোবহানাল্লাহ,এখন এই খানে রবিনহুড চলে আইছেন,উনি ব্যাপারটা সামলাইবেন।

রবিন ভাই,আসেন ঘোড়ারডিম আর তেলাপুকারে ডাইকা আনেন।নূর৩আইডি আর লাউয়া মাহমুদরেও ডাক দেন।(অবশ্য এরা হুমায়ুন আজাদের নাম জানে কি না সেইটাই সমস্যা)।তারপর একটা সুন্দর আলোচনারে "নাটাইয়া" দেন।ত্রিভুজ ভাই কই?উনারে ফোন দেন।উনার অংশগ্রহন জরুরীভাবে কাম্য।
২৭. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:৩২
অন্ধকার বলেছেন: আহমদ শরীফ, আহমদ ছফা ও হুমায়ূন আজাদ... তিনজনকেই অত্যন্ত কাছে থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা তাদের কথা শুনেছি। তাদের সাথে কাজও করেছি বিভিন্ন সময়ে। তিনজনকে নিয়েই অতীতে লিখেছি। তাই আজকে আর রিপিট করলাম না।
জুবায়ের ভাই, লেখাটা ভালো হয়েছে।
২৮. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:৩৪
হোসেইন-দ্য এ টিম বলেছেন: জুবায়ের ভাই,এই পোস্টটারে প্রিয় পোস্টে এড কইরা রাখলাম।
যে আবালের গুষ্ঠি 'সব মতের সমাহার চাই' কইয়া চিল্লায় তাগোরে মাঝে মাঝে রেফারেন্স দিমু।

এই সব আবালীয় যন্ত্রনায়,এই ালের সাইটে ভালো লেখা দেয় না কেউ।
২৯. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:৪৪
মুহম্মদ জুবায়ের বলেছেন: অন্ধকার, আপনি আহমদ শরীফ, আহমদ ছফা ও হুমায়ুন আজাদ বিষয়ে লেখাগুলো এই ব্লগে দিয়েছিলেন?

হোসেইন, আপনার প্রশংসাটুকু খুব ভালো লাগলো। ভালো লাগলো বলার কৌশলটাও। আপনার কবিতা পড়তে চাই।
৩০. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:৪৮
হোসেইন-দ্য এ টিম বলেছেন: আর কবিতা।ভালো লেখা দিলেই এই খানে ব্যান খাইতে হয়।
তাই আপাতত:ট্রলিংয়ের উপ্রেই আছি।
৩১. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:৫৪
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: গুরুর বচন আর করনে মিল না থাকলে ভক্ত তো কনফিউজড হয়ে যাবে ... আপনি বই লিখে একই সাথে সেটার ব্যান্ড হবার বিরোধিতা করলেন, আবার শাশুড়ীর কাছে সেটাকে ব্যান্ড করে রাখলেন, আমি সেই নীতিকে কি বলব?
তাইলে তো প্রথা ভাংলোইনা ... ডিফারেন্সটা হলো এমন, যে আপনি 'বলা উচিতনা'র সাবজেক্ট হিসেবে নিলেন শুধু নিজের মুরুব্বীদের, আর আরেকজন নিল সবমানুষকে ... সেটাতে 'বলা উচিতনা'র কোন লাভ হলোনা ... বরং আপনার বা আরেকজনের যতটুকু পরিমন্ডলকে আপনি কেয়ার করেন ততটুকু পরিমন্ডলের সাপেক্ষে বিতর্ক তৈরী না করে থাকতে পারলেন
হুমায়ুন আজাদ যদি নামাজ পড়ে থাকেন, তাহলে আমার কাছে তাঁর শক্তিশালী চেহারাটা ম্রিয়মান হয়ে যাবেই।

তাঁকে নিয়ে কথা এখানেই শেষ। কারণ পরের কথাটুকু যাদের নিয়ে এরা তার ধারেকাছেও আসার যোগ্য না।


গুরুর বচনেই কি সব, নাকি ক্রিয়াও লাগে?
ছোট্ট উদাহরনে, গুরু কিন্তু হাসিনা-খালেদা-তারেক- নিজামীরাও, কেউই কিন্তু বচনে কম যাননা ... মহৎ মহৎ কথা কইতে কইতে উল্টাইয়া ফেলেন ... আমরা কিন্তু বিচার করি কর্ম দেখে
৩২. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:১২
মুহম্মদ জুবায়ের বলেছেন: কৌশিক ও জ্বিনের বাদশার বিতর্কটা উপভোগ করছিলাম চুপচাপ। এ বিষয়ে আমার বলার এইটুকুই যে, কৌশিক সামাজিক ও প্রথার যে চাপের কথা বলেছেন, তা সাধারণ মানুষদের বেলায় মানতে আমাদের অসুবিধা হয় না। কিন্তু ব্যক্তিটি হুমায়ুন আজাদ হলে আমাদের প্রত্যাশা অন্যরকম হবেই। তাঁকে আমরা যেভাবে বলতে শুনেছি, কর্মেও তাঁকে ঠিক সেরকমই দেখতে চাইবো।
৩৩. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:২০
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: বচন আর করণকে একই রকম দেখা যায় না। করণ হচ্ছে কিছু ক্রিয়া যার সাথে স্থানিক, পরিন্ডলীয় অনেক প্রতিক্রিয়া উৎপাদনসম্ভবনা জারি রাখে। বচন হচ্ছে একটা তত্বীয় ব্যাখ্যা যার ফলিত রূপ হতে পারে করণ বা কর্ম বা বাস্তবায়ন বা তার সামাজিক, ব্যক্তিক রূপায়ন। ব্চন অর্থে যে তত্বকে, যে প্রথার নির্মাণের স্বপ্ন ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তা ঠিক সেই অর্থে ফলিত রূপে ক্রিয়াকর্মে প্রতিফলিত করার বিষয়ের অনুরূপ নাও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টা হচ্ছে অনুভূতি ধারণ, প্রকাশ ও আচরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ যার ক্রিয়াকর্মে করণ বলে জীবনে প্রতিফলন দেখা একেবারেই অসম্ভব। এটা ঠিক নামাজ কেন্দ্রিকতার একটা ক্ষুদ্র উদাহারণে স্পষ্ট হচ্ছে না। বা সবটুকু ধারণ করা যাচ্ছে না। তবে এটা একটা রূপকে বোঝার জন্য যা প্রতিবন্ধকতা, বা সমস্যাকে তুলে ধরে তা বোঝালেও বর্তমান প্রথার কোনগুলো ভেঙে দেখিয়ে তবে ভাঙার কথা বলতে হবে বিষয়টা ঠিক এমন চলচিত্রিক প্রকাশের দাবী রাখে না। তা সম্ভবও না।
.
হুমায়ুন আজাদ দৃষ্টিভংগী পরিবর্তনের যে প্রভাব তৈরী করেছেন তার লেখায় তা দৃষ্টিভংগি হিসাবে মেনে নেবার বিষয় নয়। এটা আপনার মধ্যেও তৈরি হতে পারে, যখন নারীবাদ নিয়ে আপনি বৈসম্যহীন হতে চান, স্বাধীণতার প্রসংগে নির্মোহ আপোষবিমুখ হতে চান, বিশ্বাস নামক শক্তিতে ভর না করে সত্যিই দেখতে চান সূর্যের রোদের সত্যতা। হয়তো আপনিও জীবনের এই ব্যাখ্যাগুলোর মুখোমুখি হবেন। হুমায়ুন আজাদকে ফলো করার উদ্দেশ্য নিয়ে তাকে পুজ্য করা যায় না। হুমায়ুন আজাদ আপনার মনে একটা বোধ ও চিন্তার জগৎ তৈরী করে দিতে পারে কেবল, আপনি আপনার মননশীল বিশ্লেষণে তা দিয়ে পেয়ে যাবেন কিছু খোরাক। এই যে আমাদের গুরু মেনে তার জীবনদর্শন মেনে তার মতই হবার বিষয়টা - এটা একটা পরিষ্কার ভুল ধারণা হুমায়ুন আজাদ অনুধাবনে। আজাদ কেন আশ্রয় হবে সবকিছুর জন্য, আজাদ আপনাকে প্রশ্রয় দেয়, আরেকজন আজাদ হতে।
৩৪. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:৩৩
রবিনহুড বলেছেন: (আপনার কী সুবিধা বা সুযোগ আছে এই নিয়ে তড়পানোরও কোনো মানে নেই। আমার শোনার সময় বা ধৈর্য কোনোটাই নেই)


অভিযোগ করার সময় আছে, উৎত্ শোনার সময় নাই।
(আমি কিন্তু প্রথমে রেটিং নিয়ে কোন কথাই বলি নাই, অথচ না জেনে বুঝে অভিযোগ আনলেন।)
আবার হাস্যকর কথা বললেন। এত আবেগ আর উত্তেজিত কেন ভাই? আমার মন্তব্যে কোন বাজে কথা পেয়েছেন?
প্লিজ ডাক্তারের কাছে যান।


সর্বপরি আলোচনাটা কিন্তু সুন্দর হচ্ছে।
------------------------------------------
হোসেইন-দ্য এ টিম @ আমি কারো সাথে জোট বেধে কথা বলাটা পছন্দ করি না। আমি আমার মত করে মন্তব্য করি, যা হয়তো কারো কারো সাথে মিলে যেতে পারে। যুক্তির বাহিরে গিয়ে জোট বেধে কথা বলাটা এক ধরনের নোংরামি বলে মনে করি।
৩৫. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:৩৩
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: এই আলোচনা গুচ্ছের একটি বড় দুর্বলতা হল, চর্চিত ধর্ম এবং হুমায়ুন আজাদের বক্তব্যকে একই পাটাতনে বিচার করার প্রচেষ্টা। তিনি অহংকারী ছিলেন, নাকি স্ববিরোধী ছিলেন এই তর্ক আসলে বাহাস ছাড়া কিছু নয়। তার কাজকে মুল্যায়ন করার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামলে বিষয়গুলো আরো পরিষ্কার হয়। বাঙলা সাহিত্যে নতুন প্রবণতা এবং অত্যন্ত সফলভাবে সেটির বাস্তবায়ন। নতুন সাহিত্য ও ভাষা এবং সর্বোপরি চেতনা দর্শন নিয়ে তার দৃঢ় অবস্থান বারবার মনে করিয়ে দেয় যে পাঠক সমাজ কতটা অজ্ঞ যে তার বক্তব্যকে ধারণ তো দূরের কথা তর্ক করার জন্যও উপযুক্ত নয়। তবুও আলাপচারিতার প্রশ্ন যখন এলই তখন বিচার্য বিষয় তার কাজ ও পড়াশুনা। ব্যাক্তি সততার তথাকথিত বুদ্ধিজীবি বলয়ের অনেক বাইরের লোক তিনি। পিঠ চুলকানির সরল পথে হাটেন নি বলেই হুমায়ুন আজাদ অনেক বেমানান এখনো। কিন্তু একজন মানুষ কেন মানানসই হতে চাইবেন..? বেমানান হওয়াটাই সবচেয়ে সাহসী পদক্ষেপ, বিশেষত বঙ্গ সমাজের মত বদ্ধ এবং অতীতমুখী একটি জাতির জন্য।
৩৬. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:৪৮
অন্ধকার বলেছেন: জলদীপ নামে লিখতাম একসময়। সেখানে গতবছর হুমায়ূন আজাদের মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা অনুষ্ঠানের পর পোস্ট দিয়েছিলাম। তার পর পরই লিখেছিলাম অন্য মনীষিদের নিয়ে। এখন পাবেন না, মুছে ফেলেছিলাম। আগ্রহ প্রকাশের জন্য ধন্যবাদ।
৩৭. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:৫৩
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: কৌশিকদা, আপনার বক্তব্যের বিপক্ষে বলছি, তাহলে আমি যদি হুমায়ুন আজাদের সব বই পড়ে, তাঁর লেকচার শুনে তাঁকে বলতাম 'আমি অভিভূত, আমি মুগ্ধ আপনার কথায়, আপনি একদম সঠিক কথা বলেছেন।' আর তারপর তাঁকে দেখিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে মসজিদে যেতাম, তাহলে কি তিনি আমাকে দেখে খুশী হতেন?
তিনি কি ভাবতেন যে আমাকে দেয়া তাঁর শিক্ষা সার্থক?

বচনটা এখানে শিক্ষার পরিপূরক, আর সেটা সফল হয় একমাত্র সেটার প্রয়োগ, অর্থাৎ করণের মাধ্যমে। সেখানেই আমার কথা, শুধু শিষ্য কেন, গুরুকেও করণের মাধ্যমে দেখাতে হবে, কারন গুরু নিজে তো অতিপ্রকৃত কেউ না।

আর জুবায়ের ভাই যেটা সহজভাবে বলে দিয়েছেন, তাহলে তো হুমায়ূন আজাদ আর সাধারণ মানুষের পার্থক্য রইলনা।

শরৎ, আমি বুঝতে পারছিনা এই বিতর্কে সমস্যা কোথায়? তাঁর বাংলা সাহিত্যে অবদান নিয়ে আমার বা কৌশিকদার মধ্যে সামান্যও বিতর্ক নেই, আমার ধারনা, কঠিন কথা এত গুছিয়ে আর কেউ লিখতে পারেননি। কিন্তু সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদের চেয়ে সমাজের প্রথাবিরোধী হুমায়ুন আজাদ এখানে অনেক বেশী ফোকাসড।
৩৮. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:১৭
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: সমাজের প্রথবিরোধী হুমায়ুন আজাদকেই অতিমানব মনে করার তো কোন কারণ নেই। তিনি নিজে সামাজিক প্রথা সম্পর্কে বলেছেন ব্যাখ্যা করেছেন এবং বসবাস করেছেন সেই সমাজেই। এটাই তো স্বাভাবিক তাই না! নাকি বিদেশে বসে দেশের খবর নেয়াই তার জন্য উপযুক্ত হোত। আমাদের সমাজব্যবস্থাই নানাবিধ বৈপরীত্যের মিশেল এবং এই সেগুলোকে সমাজের ভেতরে থেকেই বোঝা অনেক ভালোভাবে সম্ভব।, দকে জানি বললেন যে তার ছেলে নাকি বলেছিল, তিনি নামাজ পড়তেন' । হাস্যকর। খুবই হাস্যকর।

যে বিষয়গুলো এখানে মনে রাখা দরকার তা হল দসমাজের প্রথাবিরোধী হুমায়ুন আজাদ' একটি আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় থেকেই কথা বলছেন এবং তার কাজের প্যাটার্ণ আধুনিকতাবাদী। বিশ্বজ্ঞানের ধরণও ইতিমধ্যে অনেক বদলে গেছে, সমাজও প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে কিন্তু যেসব প্রথা সমাজের শেকড়ে ঘুণ পোকার মত বিদ্যমান তা কিন্তু পাল্টায়নি।
৩৯. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৩১
সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: বচন আর ক্রিয়ার অমিল দিয়ে মানুষকে সাময়িক ভাবে মোহগ্রস্ত করা যাবে হয়তো, কিন্তু রাজনৈতিকদের মুখে সততার কথা বলে পকেটে টাকা ভরার কথা দেখে আমরা যেমন সমস্ত বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি, যাদের পথ প্রদর্শক হিসেবে দেখতে চাই, তাদের কথা বুলি সর্বস্র দেখলে তাদের জিতে যাওয়া মনে করার কোন কারন দেখি না। পথ প্রদর্শকদেরই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বচন আর ক্রিয়ায় মিল রেখে চলা। বেশির ভাগ মানুষই কর্ম দিয়ে বচন যাচাই করে, বচন দিয়ে কর্ম না। তাই পাড়ার মোল্লাকে যখন দেখে কোন মিথ্যা কিছুর সাথে জড়িত থাকতে কিংবা মাদ্রাসার হুজুরকে কোন নিপীড়নে, তখন হুজুর/মোল্লার বিশ্বাসটাকেই ছুড়ে ফেলে--ওই যে কর্ম আর বচনে মিল দেখে না যে। ওরা এক ধরণের হিপোক্রেসীকে নিজের অংশ করে নিয়েছে, making it okay for themselves to say one thing and doing quite the opposite. । হুমায়ূন আজাদের এই দিকটা সম্পর্কে প্রায় একই পাড়ায় থাকার কারণে আগে শুনেছি। সেদিন একজন বলছিলেন তিনি হুমায়ূন আজাদের লেখা পড়েই নাস্তিক তিনি প্রথম ফোনে সালাম দেয়ার ভন্ডামি বাদ দিলেন। পথ প্রদর্শকের জিতে যাওয়ার কারণ হয়তো এটাই--তাকে কাছ থেকে দেখা হয় নি। ভন্ডামি চোখে পড়লেই মুগ্ধতার চাদর ফিঁকে হয়ে যায়...
৪০. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৩৬
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: আপনার মতের বিপক্ষে অনঢ় অবস্থানে থেকে বিতর্ক চালাতে এখনও আমার কিছু বলা বাকী আছে। গুরু পদবাচ্য থেকে বেরিয়ে গুরুসমষ্টিলগ্না হবার একটা দীক্ষার কথা বলেছিলাম। মানুষ নিজে নিজের মত করে নিজের জীবনের প্রথা নির্মাণ করবে। হুমায়ুন আজাদ তেমন করেছেন। মানে তিনি প্রথা বিরোধী মানে চলমান প্রথায় অনাস্থাশীলতা প্রকাশ করেছেন। যেমন রাজনৈতিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে। মুক্তিযুদ্ধ বলতে তিনি আওয়ামী বোঝেননি। রাজনীতি বলতে তিনি নেতাশূণ্য, বিকারগ্রস্থ প্রজাতির চতুর্থ শ্রেনীর মস্তিস্ক বুঝিয়েছেন। ধর্ম বলতে তিনি অজ্ঞ, অন্ধের গোয়াল বুঝিয়েছেন। সাহিত্য বলতে তিনি কল্লোলকে বাঙালির শ্রেষ্ঠ বলেছেন। ষাটদশকের সমাজকে অনেক বেশী মৌলবাদী মুক্ত বলেছেন। এখন যা কিছু প্রথা হিসাবে স্বীকৃত তার মধ্যে পহেলা বৈশাখে আমাদের পিছিয়ে থাকার দুঃখগাঁথা শুনিয়েছেন। আবার আবেগে নির্বাসিত হয়েছেন ভেন্টলেটরে আশ্রিত চড়ুইয়ের মত।
.
হুমায়ুন আজাদ যে প্রথা না মানার কথা বলেছেন, তেমন আমিও বলতে পারি। এবং আমি যখন এগুলো বলবো, আপনি ঠিক দেখবেন সেগুলো নির্জলা আক্রমনের স্বীকার হয়ে যাচ্ছে। তার সাথে সংশ্লিষ্ট চাপ আমার পরিবার, চাকুরী, আমার অবস্থানকে আতংকিত করতে পারে। কিন্তু আমার সে প্রথা না মানার বিষয়টা কি এবং কেন আমি সে প্রথা মানতে চাই না তার তো একটা ব্যাখ্যা দিতে হবে। এবং পরের প
৪১. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৪৫
মাহবুব সুমন বলেছেন: দারুন বিতর্ক চলছে, অনেক কিছু শিখতে ও জানতে পারছি।
জুবায়ের মামাকে ধন্যবাদ।
বিতর্কে অংশগ্রহন করছি না ।
৪২. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:০৭
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: কৌশিকদা, আমি তো আপনার এই কথাটাই বলছি ...
"প্রথা বিরোধী হবার এই ব্যাখ্যাটা হুমায়ুন আজাদ কেবল বলেছে। এরপরে সে যদি কিছু প্রথা মেনেও থাকে সেটা তার দূর্বলতাই। "

তাঁকে আমি ভীষন শক্তিশালী ভাবতাম, কারণ নিজের মতকে অমন সাহস করে প্রকাশ করে কয়জন?সেজন্যই তো তাঁর নামাজ পড়ার কথা শুনে হিসাব মিলাতে পারিনি।

কাজেই ড. হুমায়ুন আজাদকে নিয়ে আর বিতর্ক করছিনা, উনাকে বেসিক্যালি শ্রদ্ধা করি; জুবায়ের ভাইর লেখায় বুঝেছি জুবায়ের ভাই অনেক জানেন, সেজন্য কৌতুহলটা মেটাতেই এই প্রসঙ্গের অবতারনা।

(নিচের কথাগুলো তাঁকে উদ্দেশ্য করে না, আমাদের সাধারণ মানুষদের উদ্দেশ্য করে)

প্রথা ভাঙার যে প্রসঙ্গটা আসল সেখানে বলতে হয়, প্রথা ভাঙতে হলে বক্তব্যের চেয়ে কর্তব্যটা অনেক জরুরী।
আমিও জানি আপনেও জানেন, "বলা সহজ করা কঠিন।"
আমি প্রথা ভাঙার কথা বলে গেলাম আর কিছু করলামনা, তখন আসলে আমি প্রথা ভাঙতে চেয়েছিলাম কিনা সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
কাজেই যিনি চিন্তা করবেন, মতপ্রকাশ করবেন তাঁর কাজেও যদি সেটা আসে তাহলেই তিনি টিকে যাবেন;
কার্ল মার্কস যদি আলীশান দালানে আলীশান জীবনযাপন করে সমাজতন্ত্রের কথা বলতেন তাহলে কিছুই হতোনা, একজন এক্সিকিউটর লেনিন তখন মার্কসের কথায় অত সহজে উদ্বুদ্ধ হতেননা বলেই আমার মনে হয়।
৪৩. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:১৬
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: কথা ও কাজ এক করাটা অনুসারী বানাবার জন্য দৃষ্টান্ত দেখাতে প্রয়োজন। কিন্তু এখন অনুসারী হবার সুযোগ নেই। কারো এমন দেখলেও তো আমি হবো না। কারণ তার কি কথা কি কাজ তার কোনটাই পছন্দ নাও হতে পারে। সবাই যার যার নিক্তিতে মেপে দেখে। তারপরেও আমার মনে হয় না কথা ও কাজ একই রকম হওয়া সম্ভব। এটা কখনই সম্ভব নয়। সে হয়তো মহৎ যে বেশি পারে। কিন্তু ১০০% সম্ভব নয়। সবাই নিজের পক্ষ জাস্টিফাই করে দেখানোর জন্য নতুন ব্যাখ্যা তৈরী করে একটা ধামাচাপা দেয়। মানুষ মানুষই। আর কথা আর কাজ আলাদা হবে মানুষের অনেক দূর্বলতার জন্যই।

আমি জানি না, তবে খুঁজলে কার্লমার্কসের কথা ও জীবনের অনেক কিছুতে বৈপরীত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে।
৪৪. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:২০
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: যেমন কৌশিকদা, আপনার উপরের মসজিদের অপ্রয়োজনীয়তা সম্পর্কিত মতবাদ ... এখন ধরুন এমন হলো, আপনি আপনার অফিসে মতবাদটা সবার কাছে প্রকাশ করলেন ... কয়েকদিনপর আপনার বস্ হুজুর হয়ে গেলেন, এবং বললেন তিনি একটা মসজিদ বানাবেন, সবাইকে চাঁদা দিতে ... বস্ কে খুশী করতে সবার মধ্যে চাঁদা দেবার হিড়িক পড়ল ... আপনি কি করবেন? আপনার অনেক অপশন আছে
১. ঝামেলা এড়াতে আপনিও চাঁদা দিলেন
২. চাঁদা দিলেননা, এবং কিছু বললেনওনা চেপে গেলেন কেন চাঁদা দেননি
৩. চাঁদা দিলেননা এবং সবাইকে মনে করিয়ে দিলেন কেন আপনি চাঁদা দেননি
৪. চাঁদা দিলেননা, কারণ জানালেন, এবং বস্ কে যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করলেন এটা কনভিন্স করতে যে এখানে একটা স্কুল করা বেটার।

আপনি ১,২,৩,৪ এর কোনটা করবেন তার উপরই বেসিক্যালি অফিসে আপনার মতবাদের অস্তিত্বের টিকে থাকার প্রবাবিলিটি নির্ভর করবে, এবং বুঝতেই পারছেন প্রবাবিলিটিটা কোন ডিরেকশনে বাড়বে।

যেজন্যই বলছিলাম, মতবাদ প্রচার হয় হাজার হাজার, টিকে থাকে যেটার টিকে থাকার প্রবাবিলি স্ট্রং।
৪৫. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:২২
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: এটা ঠিক ১০০% হওয়া সম্ভব না ... বৈপরীত্য থাকেই ... সেটাই বলছি ... অনেক সময়ই কি সেটা শকিং না?
৪৬. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:২৩
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: আপনার ব্লগ পড়ে আমার বস না আবার একটা মসজিদ খুলে বসে! দেখুন আমার মতবাদ প্রতিষ্ঠার দরকার দেখছি না। এটা প্রকাশের বিষয়। আমি কি আমার এই মত প্রকাশ করায় স্বাধীন, বলছি সেই কথাটা। সমাজের অনেক প্রথাই যে এভাবে অলরেডি ভেঙে বসে আছে সেটা আমরা কিন্তু এই না প্রকাশের জন্যই জানি না।
৪৭. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:২৪
মানুষ বলেছেন: হুমায়ুন আজাদ = রসময় গুপ্ত
৪৮. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:২৬
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: হা হা হা ...
বস্, আমি তো মতবাদ প্রকাশে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কিছু বলছিনা
৪৯. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:২৭
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: শকিং? কি আশায় বাঁধি খেলাঘর টাইপ! বেশী কিছু আশা করা ভুলও গাওয়া যায়। তবে আবার শকিংও। ভালোলাগা যেখানে বেশি সেখানে শকিং হবেই। ব্যক্তি বিশেষের জন্য শকিংও বটে। আমার কাছে অবশ্য নয়, কারণ অনেকের চেয়ে তিনি কথা ও কাজে সঠিক ছিলেন। সম্ভবত বাঙালিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী।
৫০. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৭
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: নাহ, আমার কাছে আহমদ শরীফ আরো অনেক বড় হিরো ...
৫১. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৪২
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: আহমেদ শরীফ কে নিয়ে একটা পোস্ট দেন। অনেকদিন তার সন্বন্ধে কিছু পড়ি না।
৫২. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:০০
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: দেখি, সময় করতে পারলে অবশ্যই দেব ...
৫৩. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ১২:৩০
মুহম্মদ জুবায়ের বলেছেন: কৌশিক আর জ্বিনের বাদশা তো ভালো জমিয়ে দিয়েছেন। পুরোটা এখনো পড়ে উঠতে পারিনি। ধন্যবাদ তাঁদের দু'জনকে। অন্যমনস্ক শরৎকেও। আরো মন্তব্য আসুক না।
৫৪. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৯:৫৫
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: জুবায়ের ভাই, জমানোর কৃতিত্ব আপনার। একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে চাই, আপনার কোন বই কি আছে? দুদিনের জন্য ঢাকার বাইরে যাচ্ছি, ভাবছিলাম, তাহলে পথেই পড়ে শেষ করে ফেলতে পারবো। যদি থাকে তবে নাম ও কোন দোকানে পাওয়া যাবে জানালে কিনে নিতে পারবো।
৫৫. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:১৪
মুহম্মদ জুবায়ের বলেছেন: কোনো লেখায় এতোগুলো মন্তব্য পেতে আমি অভ্যস্ত নই, স্বীকার করে নিচ্ছি। পেয়ে একেবারে ক্যাবলাকান্ত হওয়ার দশা। সত্যিই অভিভূত আমি।

আমার লেখার শিরোনাম ও মূল প্রতিপাদ্য থেকে আলোচনা সরে গেছে। তা যাক, ক্ষতি কিছু হয়নি। বরং লাভ হয়েছে। অনেক চমৎকার সব মন্তব্য এসেছে, নতুন চিন্তার সঙ্গে পরিচিত হওয়া গেছে। সবচেয়ে বড়ো কথা, খুব সুস্থ তর্ক-প্রতিতর্ক হয়েছে যা এই ব্লগে প্রায় দুর্লভ বলা যায়।

সময়ে বিতর্কে অংশগ্রহণ করা আমার হয়ে ওঠেনি। ব্লগে বিষয় এবং আলোচনা দ্রুত পচনশীল বস্তুর মতো। বাসি হয়ে যাওয়া জিনিসে সবার রুচি না হলে দোষ দেওয়া যায় না।

ধন্যবাদ সবাইকে আপনাদের চিন্তার শরিক করার জন্যে।
৫৬. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:২০
মুহম্মদ জুবায়ের বলেছেন: কৌশিক, আমার বই আছে এবং নেই দুটোই সঠিক। অনেককাল আগে একটি ক্ষুদ্র উপন্যাস বেরিয়েছিলো "অসম্পূর্ণ" নামে। বইটি ততোধিক ক্ষুদ্র পোকাদের পেটে গেছে বলে অনুমান করি। সেই কীটরাও আর ধরাধামে আছে বলে মনে করার কারণ দেখি না। আমার নিজের কাছেও কোনো কপি নেই। বছর চারেক আগে "আমাদের অমল" নামে একটি কিশোর উপন্যাস প্রকাশ করেছিলো "অনন্যা"। বাজারে আছে কি না (বিক্রি না হওয়ার কারণে) জানি না। এই তো। গল্পের শেষ আপাতত।
৫৭. ১৭ ই আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৬:৪৮
নাজিম উদদীন বলেছেন: আজাদ কেন আশ্রয় হবে সবকিছুর জন্য, আজাদ আপনাকে প্রশ্রয় দেয়, আরেকজন আজাদ হতে।
--- একমত
দেবত্ব দেয়ার কোন দরকার নেই।
৫৮. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:৪৭
চে বলেছেন: অনেকদিন পর একটা চমতকার ব্লগ পড়লাম।
৫৯. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৮
সূর্যবাসী বলেছেন: জুবায়ের সাহেব অাপনি এতা কিছু বললেন, এটা বললেন না যে,আজাদ স্যার তার সত্য বলার প্রশংসার কারনে লজ্জা পেতেন। তিনি একবার আমাকে বলেছিলেন - সবাই আমার সত্যবাদীতা নিয়ে আলোচনা করে, হায় এই দেশে সত্যবাদীরা আলোচনারও বিষয়, তার কণ্ঠে ছিলো আপনাদের মতো লোকদের জন্য দুখঃবোধ যারা,মানুষের চরিত্রের প্রত্যাশিত এবং স্বাভাবিক দিক বুঝতে পারে না। অথচ সমালোচনা করে প্রশংসা পেতে চায়্
৬০. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:০৪
সবুজ আরেফিন বলেছেন: অনেককিছুই জানা হলো।
৬২. ০৭ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৪৮
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: ভালো লাগলো একই সাথে আলোচনাগুলোও
৬৩. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:৪৩
সৈয়দ সাইফুল আলম শোভন বলেছেন: আমি জানি, ভালো ক'রেই জানি, কিছু অপেক্ষ ক'রে নেই আমার জন্যে; ড.হুমায়ুন আজাদ

গতকাল শ্রীনগর গিয়েছিলাম শামুক-ঝিনুক নিধনের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহনের জন্য। পাশেই রাড়িখাল জগদীশ চন্দ্রবসুর বাড়ী ভাবলাম একবার দেখে যাই। পথে দেখা পেলাম অনেক কিছুর।
ভাবছিলাম পোস্ট দিব শামুক-ঝিনুক নিয়ে কিন্তু ঘুম থেকে ওঠে পত্রিকার পাতায় দেখি আজ ড.হুমায়ুন আজাদ এর মৃত্যু বার্ষিক। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। আমার ক্যামেরায় তোলা কিছু ছবি।

এপিটাফ
আমি জানি, ভালো ক'রেই জানি, কিছু অপেক্ষ ক'রে নেই আমার জন্যে;
কোনো বিস্মৃতির বিষন্ন জলধারা, কোনো প্রেতলোক, কোন পুনরুত্থান,
কোন বিচারক, কোন স্বর্গ, কোন নরক; আমি আছি, একদিন থাকবো না,
মিশে যাবো, অপরিচিত হয়ে যাবো, জানবো না আমি ছিলাম। নিরর্থক সব
পুণ্যশ্লোক, তাৎপর্যহীন সমস্ত প্রার্থনা, হাস্যকর উদ্ধত সমাধি; মৃত্যুর পর যে-
কোনো জায়গায়ই আমি প'ড়ে থাকতে পারি,-জলাভূমিতে, পথের পাশে,
পাহাড়ের চূড়োয়, নদীতে মরুভূমিতে, তুষারস্তূপে! কিছুই অপবিত্র নয়...







৬৪. ২৮ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:০৭
তরু বলেছেন: এপিটাফটা.... অসাধারণ।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৩৫০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
এখানটা শূন্যই থাক
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ