মিনার রশীদ খুবই ভালো লিখেন। তার এই লেখাটি পড়ুন
ওরা এখন সরব কেন?
মিনার রশীদ
এ লেখার প্রেরণা পেয়েছি মুনতাসীর মামুনের একটি লেখা থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশী শ্রমিকদের নিয়ে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে তার লেখার শিরোনামটি ছিল সরকার এখন নীরব কেন? সরকারের প্রতি তার এই ধমক দেখে মনে হতে পারে যে, বর্তমান সুশীল সরকার মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক এতটুকু শীতল করার পরও মামুন গংয়ের মন পুরোপুরি জয় করতে পারেনি। ডক্টর ক্লাবের ডক্টরেট উপদেষ্টা তার এই মেয়াদের মধ্যে প্রায় সমগ্র দুনিয়া ভ্রমণ করে ফেললেও দেশের অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তি এই রেমিট্যান্স আহরণে সহায়তাকারী প্রথম সারির দেশগুলোতে তাকে খুব একটা দেখা যায়নি। তবে আরো একটা দরকারি জায়গায় তিনি কম যান, সেটি হলো প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের পর অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এটিও তার ওপর ন্যস্ত হয়েছে। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, গত নয় মাসের মধ্যে একবারও নাকি এই মন্ত্রণালয়ে যেতে পারেননি। বলা বাহুল্য, যে দিকে ধাক্কা, চাপ কিংবা টান বেশি অনুভব করেন সে দিকেই যান। দেশের পররাষ্ট্র নীতিকে প্রায় ঘুরিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরো নাকি পণ করেছেন এমন অবস্থায় রেখে যাবেন দেশের পররাষ্ট্র নীতি যাতে ভবিষ্যতে কোনো অ-ডক্টরের পক্ষে তা পরিবর্তন করা সম্ভব না হয়।
এসব ধাক্কাতেই কি না জানি না, জাতিসঙ্ঘ প্রধান বান কি মুনের কাছে মনের অনেক কথা বলে এলেও চাল নিয়ে বিগ ব্রাদারের মহা চালবাজির কথা তুলতে ভুলেই গিয়েছিলেন। কাজেই বর্তমান সমস্যা সমাধানের জন্য এ ডক্টর মধ্যপ্রাচ্যে না গিয়ে মামুন গংয়ের পরামর্শমতো যে আইএলওর সদর দফতরেই আগে যেতে পছন্দ করবেন তাতে সন্দেহ নেই। সুশীল সরকারের অপ্রকাশ্য ড্রাইভিং ফোর্স এই মামুন গং কখন সরব হন আবার কখন নীরব থাকেন তা এখন জনগণের বোধে আসতে শুরু করেছে। তার লেখাটি পড়ে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে এটাই মনে হয়েছে যে, এবার নির্যাতক মনের মতো হয়েছে। নির্যাতকের গায়ে একটু মুসলিম মুসলিম আতরের গন্ধ পাওয়া গেছে।
অর্থনৈতিকভাবে সবল একটি রাষ্ট্র কখনো ব্যর্থ রাষ্ট্র হতে পারে না। কাজেই একটি রাষ্ট্রকে প্রকৃত অর্থে ব্যর্থ করতে হলে তার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড আগে ভেঙে দিতে হবে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে ফেলতে হবে। বিভিন্ন কৌশলে দেশের রাজনীতির বারোটা বাজানো সম্ভব হয়েছে। তবে দেশের অর্থনীতিটা এক আজব কন্ট্রিবিউটরদের ওপর টিকে রয়েছে। প্রবাসী শ্রমিকদের অমানসিক পরিশ্রমে ও সীমাহীন কৃচ্ছ্রে যে ডলার বা পেটে্্রা-ডলার একে একে সঞ্চিত হয়, তাই দেশের অর্থনীতির মাথাটি উঁচু করে রেখেছে। গার্মেন্টসও তেমনই একটি সেক্টর। প্রকৃত অর্থে আমাদের দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে হলে এ দুটিকেও নষ্ট করা দরকার। দুদককে দিয়ে রাজনীতিকে যেমনভাবে টাইট দেয়া হয়েছে, সমজাতীয় অন্য কিছু দিয়ে এটাকে টাইট করার উপায় নেই। ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর এ প্রচেষ্টায় দেশটিকে কমপক্ষে ৩০ বছর পিছিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে।
আমেরিকার এক রাষ্ট্রদূত তখন বলে গিয়েছিলেন এক তৃতীয় শক্তির কথা। এ তৃতীয় শক্তিই এখন কিছু দেখছি এবং সম্ভবত আরো কিছু আমাদের দেখার বাইরে রয়ে গেছে।
তবে দুটি ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের প্রচুর ক্ষোভ ও বিড়ম্বনার কাহিনী রয়েছে। এ ক্ষোভ ও বিড়ম্বনার প্রতি আমাদের সীমাহীন উদাসীনতা এই সব না দেখা তৃতীয় পক্ষকে সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। স্বাধীনতার পরপর জাতীয়করণের নামে যেভাবে এবং যাদের ওপর ভর করে আমাদের শিল্পকারখানা ধ্বংস করা হয়েছে, এবারো সেসব চেহারা বা ভূত দেখা যাচ্ছে। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের কথা বলে পুরো গার্মেন্টস সেক্টরকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়া হয়েছে। এখন নজর পড়েছে প্রবাসীদের এ রেমিট্যান্সের ওপর। শ্রমিকদের ওপর অবিচার থামাতে গিয়ে এসব হতভাগার পেটেই লাথি মারার আয়োজন করা হচ্ছে। এসব মানবতাবাদীর কলম বা ক্যামেরা তখন কাজ হারানো এসব হতভাগার রান্নাঘরে পৌঁছবে না। কাজেই যে পদ্ধতিতে এই সমাধান বাতলে দেয়া হচ্ছে তাতে আমাদের শঙ্কিত করে তুলেছে। নিজের বক্তব্য পেশ করার আগে তাই মুনতাসীর মামুনের লেখা থেকে কিছু হুবহু উদ্ধৃতি দিচ্ছি।
তিনি লিখেছেনঃ যে দেশগুলো অত্যাচার করে ফেরত পাঠাচ্ছে আমাদের শ্রমিকদের, সেগুলো ইসলামি দেশ। ইসলামের নামে সরকারপ্রধান থেকে প্রতিটি রাজনৈতিক দল জান কোরবানে প্রস্তুত। বিশেষ করে ইসলামি দলগুলোতে এই ইসলামি উম্মাহর নামে আমাদের জেরবার করে দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী এবং আমিনীরা তো এ ইসলাম প্রচারের জন্য দেশে জঙ্গি গড়ে তুলেছেন। বিদেশে তালেবান হতে চাচ্ছেন। ইসলামি দেশগুলো যে এ নির্মম অত্যাচার চালাচ্ছে নিজামী, মুজাহিদ, আমিনীরা এর বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি করেননি। ইরাক যখন আক্রান্ত তখনো এরা মার্কিনিদের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেননি। এর অর্থ কী? এসব দেশ কি তাদের কিনে রেখেছে? অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও তো তীব্র ভাষায় নিন্দা করেনি?
কাজেই তার সরবতার কারণটি সম্ভবত এতক্ষণে স্পষ্ট হয়ে পড়েছে। নির্যাতকদের ধর্মীয় পরিচিতিই তাকে সরব হতে বেশি উৎসাহ দিয়েছে। তার আহ্বানটি লক্ষ করুনঃ
আমি প্রবাসী হোয়াইট কালার বাঙালিদের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন এই সংবাদ (সচিত্র) ইন্টারনেটের মাধ্যমে আইএলও থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও মিডিয়ায় প্রেরণ করেন। আমাদের এ ভাইদের অত্যাচার থেকে বাঁচান। ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে তা প্রচারিত হলে মানুষ জানবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলো কী ভয়ঙ্করভাবে মানুষের রক্ত চুষে সম্পদের পাহাড় বানাচ্ছে! এরা ইহুদি-খ্রিষ্টান ছাড়া কাউকেই বিবেচনায় আনে না।
লক্ষ করুন বাঙালি দরদি এ বুদ্ধিজীবীর কথা। এই এক্সপ্লয়টেশন বন্ধ করার জন্য যেখানে আমাদের সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন, আমাদের বৈদেশিক মিশনগুলোকে আরো দক্ষ ও গতিশীল করা দরকার, ম্যানিং এজেন্টদের আরো জবাবদিহির আওতায় আনা দরকার। এগুলোর কিছুই না করে প্রথমেই আইএলওসহ সব আন্তর্জাতিক বলয়ে তুলে ধরার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। আইএলওর চাপে পড়ে বা বিব্রত হয়ে যদি সংশ্লিষ্ট দেশ আমাদের দেশ থেকে শ্রমিক নেয়া বন্ধ করে দেয়, তাতে কার ক্ষতি হবে? আমরা অভিমান করে নিজেদের লোকজন ফিরিয়ে আনলে কারা সে বাজার দখল করবে? আইএলও এসব নির্যাতককে শাস্তি দেয়া বা বিব্রত করার ব্যবস্থা করতে পারলেও কাজ হারানো এসব শ্রমিকের কতজনের কাজের ব্যবস্থা করে দিতে পারবে? কাজেই আজ দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, এই মামুন গং প্রথমেই আইএলওর কাছে ধরনা দিতে চান কেন?
এই আইএলওর হর্তাকর্তা কারা? কেমন তাদের মানবিকবোধ? শিশুরা কাজ করলে এদের মানবিকতা ফুলেফেঁপে ওঠে তবে কাজ হারিয়ে সেসব শিশু অভুক্ত পড়ে থাকলে এদের খোঁজ থাকে না। ব্যাপারটি এমন যে এক কালের কলোনিয়াল মাস্টার বা রক্তচোষা বাদুড়ের কাছে যাচ্ছি জোব্বা পরা বান্দরদের বিচার চাইতে। মানবাধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থানকারী দেশগুলো আমাদের সবার স্বপ্নের দেশ। এরা এক সময় ভিসামুক্ত বিশ্বের সুযোগ নিয়ে সব জায়গায় ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়িয়েছে। ভিসামুক্ত পৃথিবীর তাবৎ মধু খেয়ে এখন বিপরীতমুখী স্রোত বন্ধের জন্য ভিসার প্রচলন করেছে। নিজেদের দেশে বা নিজেদের আওতায় লাখ লাখ একর জমি অনাবাদি রেখে দিয়েছে। নেগেটিভ পপুলেশন গ্রোথের এ দেশগুলোতে এসব জমি আদৌ কোনো দিন আবাদ হবে কি না তা ভবিতব্যই জানে। এসব উদার(!) দেশগুলোর সাথে মধ্যপ্রাচ্যের অনুদার দেশগুলোর পার্থক্য এখানেই যে খেটে খাওয়া তৃতীয় বিশ্বের শ্রমিকদের জন্য তারা কিছুটা হলেও বাজার উন্মুক্ত রেখেছে। নিজের দেশের জনসংখ্যার চেয়েও এসব দেশের কোনো কোনোটিতে বাইরের লোকজন বেশি। পক্ষান্তরে এসব সাহেব তাদের গেট বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় পুরো বন্ধ করে নিট অ্যান্ড ক্লিন হয়ে এখন আইএলও সাহেব হয়ে বসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই শেখরা নিজেদের বাড়ির গেট খুলে দিয়ে গরিব মিসকিনকে অন্দরমহলে নিচ্ছে, খাওয়াচ্ছে এবং সাথে সাথে দুর্ববহারও করছে। কাজেই তারাও এসব আইএলও সাহেবের মতো নিট অ্যান্ড ক্লিন হয়ে গেলে এসব গরিব মানুষেরই সমস্যা হবে। আমাদের লক্ষ্য হবে, এই অবিচার বা দুর্ববহার কমিয়ে আনা। গেট প্রায় বন্ধ করে দিয়ে অরিজিনাল সাহেবদের মতো নিট অ্যান্ড ক্লিন হয়ে যাক এটা কাম্য নয়। মামুন গং সেটারই বন্দোবস্ত করতে চাচ্ছেন। নিট অ্যান্ড ক্লিন সাহেবদের কি বলতে পারবেন যে, তোমাদের অনাবাদি জমিগুলো এসব হতভাগার জন্য উন্মুক্ত করে দাও না। পৃথিবীকে আরেকবার ভিসামুক্ত করে দাও না।
কুয়েতসহ বহির্বিশ্বে বাংলাদেশী শ্রমিকরা চরম নির্যাতন কিংবা অবিচারের মুখোমুখি হচ্ছে। এতে দ্বিমত পোষণ করার উপায় নেই। একজন মানবতাবাদী ও সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে এসব হতভাগার জন্য কষ্ট হয়। কিন্তু এই এক্সপ্লয়টেশনের জন্য যতটুকু দায়ী এই বিদেশী শেখরা তার চেয়েও কম দায়ী নয় আমাদের নিজেদের শেখরা। বিদেশী শেখদের কিছু শেখাতে গেলে টেকনিক্যাল সমস্যার কথা আগেই বলেছি। তবে দেশীয় এই শেখদের সহজেই শিক্ষা দিতে পারি। মামুন গং কেন এ দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন না? তাদের পরিচয় ও কাজের সাথে আমরা সবাই পরিচিত। ম্যানিং এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সীমাহীন উদাসীনতা ও অতিরিক্ত লোভ এসব এক্সপ্লয়টেশনের জন্য দায়ী। এখন অপ্রিয় কিছু সত্য কথা বলতে হয়। অল্প পয়সায় মানুষকে খাটাতে পারলে কেউ আর পিছিয়ে থাকে না। এটা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের শেখদের একার দুর্বলতা নয় এটা সবার সহজাত প্রবণতা। এর মজাই আলাদা। আমাদের এক প্রবাসী সহকর্মীর স্ত্রী আক্ষেপ করে চমৎকারভাবে বলেন, ভাই গো কত দিন ধরে যে বলতে পারি না, ভানুরে এক গ্লাস পানি দে। অল্প পয়সার বিনিময়ে এই ভানুরা পানির গ্লাসটা এগিয়ে দেয় বলেই এ ভানুদের হাতের পানি এত মিষ্টি। এ অনিবার্য সত্যকে অস্বীকার করার উপায় নেই।
আমরা মধ্যপ্রাচ্যের শেখদের সমালোচনা করছি। অথচ তার চেয়েও কম পয়সা দিয়ে প্রত্যেকেই নিজের কাজের লোকের শ্রম কিনে নিচ্ছে। ওরা ওদের সময় ও সুখগুলো আমাদের কাছে বিক্রি করে অতি অল্প দামে। আমরা তো শুধু এক ধর্মের লোকই নই, এই কাজের লোকগুলো আমাদের নিজের দেশের মানুষ। আমরা একই ভাবে, একই ভঙ্গিতে ও একই ভাষায় হাসি ও কাঁদি। মাগো বলে যে কষ্টটি প্রকাশ করা হয়, পৃথিবীর অন্য কোনো ভাষায় এমন করে তা অনুবাদ করা যায় না। কাজেই আমাদের অপরাধ তো কমপক্ষে এই শেখদের চেয়ে দুই গুণ বড় হওয়ার কথা। মামুন গং কখনো তো ধর্মপ্রাণ বা বাংলাপ্রাণ স্বদেশবাসীকে এ ব্যাপারে সচেতন করেননি। আজ এখানে নির্যাতকের গায়ে সামান্য একটু আতরের গন্ধ (মানে মুসলিম গন্ধ) পেয়ে এত সরব হয়ে গেলেন?
অথচ যে স্বভাবের জন্য মরুর শেখদের গালি দিচ্ছি, সেই একই কাজ আমরাও করছি। জানি না মামুন গংয়ের বাসার কাজের মানুষটি আইএলওর বেঁধে দেয়া সময় ধরে কাজ করে কি না। কিন্তু বেশির ভাগ বাসায় যে তা মানা হয় না তা নিশ্চিত। সকাল থেকে দুপুর রাত পর্যন্ত এরা কাজ করে। বিনিময়ে দিচ্ছি অতি সামান্য পয়সা। ডলারে তাদের মাইনে হিসাব করলে অনেকের মাসিক বেতন হয় মাত্র ১০-১২ ডলার। নিজেরা যা খাই তাদেরকে তা খেতে দিই না। বাজারের কম দামি চাল, পচা মাছ তাদের জন্য কিনে নিয়ে আসি। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করে কারো কারো কাছ থেকে জবাব পেয়েছি যে, বেশি খাওয়ালে এদের শরীরের তেল বেড়ে যাবে। কিন্তু আমাদের ধর্ম আমাদের এ স্বভাবকে সমর্থন করে না। কাজেই অধার্মিকদের কাজের ভার মুনতাসীর মামুন ধার্মিক মানুষের কাঁধে চাপিয়ে দিচ্ছেন কেন? জোব্বা পরলেই মানুষ ধার্মিক হয় না। মানবতার বিরুদ্ধে যার বা যাদের অবস্থান তারা ধার্মিক হবে কিভাবে? ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের হাতে এমনিতেই সারাক্ষণ তসবিহ থাকে। অনেককে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করে জেনেছি এটাকে তারা সময় কাটানোর উপায় হিসেবে নেন। কাজেই তসবিহ ও মদ এক হাতে দেখে বা তা কারো কাছে শোনে মামুন গং ইউরেকা ইউরেকা বলে দৌড় দিয়েছেন। তথ্য অনুসন্ধানে এই জ্ঞানীগুণীদের এ অবস্থা দেখে সত্যিই করুণা হয়। নিজেরা ধার্মিক হওয়ার আগে মামুনরা আরব শেখদের এ ব্যাপারে খাঁটি ধার্মিক বানাতে চান। হঠাৎ পাওয়া ধন নিয়ে এই শেখদেরকে আমাদের চেয়ে অধিক মানবিক বোধসম্পন্ন জীব বলে আশা করতে পারি না। আমাদের নিজেদের অধীন বেচারা বা বেচারীরা যদি আমাদের কঠিন হৃদয়কে গলাতে না পারে তবে ওই সুদূর মরুভূমির শেখদের কঠিন হৃদয় নিয়ে ভাবা কতটুকু ন্যায্য হচ্ছে ?
জাতি হিসেবে আমরা আসলেই সহনশীল। প্রবঞ্চিত বা নির্যাতিত হওয়ার পরও চুপ করে থাকার মতো প্রজ্ঞার পরিচয় এবারই আমরা প্রথম দিইনি। আমাদের বিগ ব্রাদারকে বিব্রত না করে তার সুমতি উদয় হওয়ার জন্য আমরা ৩৭ বছর অপেক্ষা করেছি এবং যদি বুঝি তাতে কাজ হবে তাহলে আরো অপেক্ষা করব। বৃহৎ প্রতিবেশী যখন আমাদেরকে ভাতে মারার, পানিতে মারার এবং সর্বশেষ সরাসরি বিএসএফর বন্দুকের গুলিতে পাখির মতো মারার ব্যবস্থা করছে তখন তা আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচনার কথা উঠলে এই মামুন গং গোস্বায় ফেটে পড়েন। ওই বেলায় ঠিক থাকলেও এই বেলায় এরা সামান্য দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ বা ডিপ্লোম্যাটিক উদ্যোগের জন্য ৩৭ মিনিট অপেক্ষা করতে রাজি নন। এক জায়গায় ঋষীর মতো ধৈর্য ধরতে বলেন এবং অন্য জায়গায় সাথে সাথে সরব হওয়ার পরামর্শ দেন। অথচ কুয়েত সরকার ইতোমধ্যে কিছু ব্যবস্থাও নিয়েছে। তারা বিদেশী শ্রমিকদের জন্য মিনিমাম বেতন ধার্য করে দিয়েছে। এ নিয়ম ভঙ্গকারীদের শাস্তি ঘোষণা করেছে। এসব বিষয় মুনতাসীর মামুন সাহেবদের দৃষ্টিতে না পড়ারই কথা।
তবে যেখানেই হোক এই অবিচার চলতে দেয়া যাবে না। তা বন্ধের কার্যকর উপায় আমাদের খুঁজতে হবে। ফোবিয়া আক্রান্ত কোনো বুদ্ধিজীবী বা মতলববাজ কোনো মৌসুমি মানবতাবাদীর পরামর্শে আমাদের কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। এই সেক্টরকে নিয়ে আমাদের নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হবে। নেগেটিভ দৃষ্টিতে না দেখে এই ম্যানিং ব্যবসায়কে আরো মানবিক বোধসম্পন্ন ও শিক্ষিত মানুষ দিয়ে সাজাতে হবে। একে আরো জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এ ব্যাপারে আবেগের চেয়ে বাস্তব প্রয়োজন, পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা ও মানুষের মৌলিক স্বভাবকে বিবেচনায় নিতে হবে। আমার প্রতি অন্যের আচরণ নির্ভর করবে আমার নিজের আচরণ ও দক্ষতার ওপর। কাজেই এই সব শেখদের মানবিকতা শেখানো ও ধার্মিকতা স্মরণ করানোর চেয়ে আমাদের সব ক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর চিন্তা বেশি জরুরি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

