বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোরবানীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব : আমিনূল মোহায়মেন
০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:২৯
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোরবানীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব
আমিনূল মোহায়মেন
ঈদুল আজহা বা কোরবানীর ঈদ শুধু যে ধর্মীয় দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, তাই নয়, বরং এর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। কোরবানীর পশুর যে বিশাল বাজার ঈদ উপলক্ষ্যে তৈরী হয়, তাকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা সম্ভব।
বাংলাদেশে প্রতিবছর ৩৫ লক্ষ গরু এবং ১.৫ কোটি ছাগল খাওয়া হয় যার ৪০ শতাংশ হয় কোরবানীর ঈদের সময়। টাকার অংকে যা দাড়ায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার মত। অর্থাৎ ঈদুল আজহায় বাংলাদেশে সাড়ে চার হাজার টাকার গরু-ছাগলের বেচা-কেনা হয়। গবাদি পশুর চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য রপ্তানী থেকে বাংলাদেশ ২০০৪-০৫ অর্থবছরে আয় করেছিল ২২০ মিলিয়ন ডলার বা দেড় হাজার কোটি টাকা। তৈরী পোষাক এবং চিংড়ি মাছের পরেই রপ্তানী আয়ে এই খাতের স্থান।
এখোনো কোরবানীর পশুর ৪০ শতাংশ ভারত থেকে আমদানী করা হয়। বেকার যুবকদের গরু মোটাতাজাকরণ, ছাগল পালন ইত্যাদিতে প্রশিক্ষণ, আত্ম কর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধকরণ, সহজ শর্তে ঋণপ্রদান - ইত্যাদি কিছু উদ্যোগ নেয়া হলে এই পরিমাণ পশু আমাদের দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে দেড় হাজার কোটি টাকা দেশে থেকে যাবে এবং এই অর্থ পাবে আমাদের দেশের বেকার যুবকেরা। এর মাধ্যমে দেড় লক্ষ বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থানের ইতিবাচক প্রভাব অর্থনীতি ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপরও পড়বে।
কোরবানীর ঈদকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিও জমে ওঠে। রাজনৈতিক নেতারা তাদের এলাকায় অনেকগুলো করে কোরবানী দেন। প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে প্রতিযোগিতাও চলে। তবে রাজনীতির ক্ষেত্রে কোরবানীর প্রভাবের একটি ব্যতিক্রমী উপলব্ধি হয়েছিল কয়েকমাস আগে। বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম অঘোষিত লক্ষ্য ছিল সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীকে রাজনীতি থেকে নির্বাসনে পাঠানো, যা মাইনাস টু থিওরী নামে প্রসিদ্ধি পায় । একজন নেত্রীকে সহজেই দেশের বাইরে পাঠানো গেলেও আরেকজন বেঁকে বসেন, যার পরিণতিতে ক্ষমতাশীনদের পুরো পরিকল্পনাই ভেস্তে যায়। সেই সময় পত্র-পত্রিকায় খবর বেরিয়েছিল যে, শেষোক্ত নেত্রীকে নির্বাসনে যেতে রাজী করানোর জন্য তাঁর দুই কারারুদ্ধ পুত্রকে অনেকটা জিম্মি ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় একজন কলাম লেখক বলেছিলেন, উক্ত নেত্রীর উচিৎ পুত্রদের প্রতি ভালোবাসার উপর জনগণের প্রতি তাঁর দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেয়া। মহৎ কোন উদ্দেশ্যে প্রিয় সন্তানকে কোরবানীর প্রয়োজন যে এখনও হতে পারে, এই ঘটনা তার একটি প্রমাণ।
Click This Link
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
আলাউদ্দীন বলেছেন:
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন: মুসলমানদের কোরবানী উৎসব একটা মধ্যযুগীয় বর্বর উৎসব......
ব.........ল..........দ।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আপনার কি কেউ হিন্দুদের পাঠাবলী দেখেছেন? সেটাও এক ধরণের ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠান। অমাবস্যার রাতে কালির লাল জিহবা বের করা ভয়াল মূর্তির সামনে এক কোপে পাঠা মস্তক আলাদা করা, সেটাকে কেন্দ্র করে আনন্দ-উল্লাস....., এসব যদি প্রত্যক্ষ করে থাকেন বুঝবেন (যদি নিষ্ঠাবান হিন্দু না হয়ে থাকেন)- কি রকম নিষ্ঠুর- পৈশাচিক- বর্বর একটা ধর্মীয় আচার!!! আপনি যদি মুসলমান হন তবে আপনিও হয়তো এই পাঠাবলীকে বর্বর বলে মানতে রাজী হবেন (আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি কোন মুসলামানের সামনে পাঠাবলীর বিবরণ দেয়াতে সে শিউরে উঠেছে- ভয়াভহ, বর্বর এসব বিশেষণ বরাদ্দ করেছে)। এবারে কোরবানীকে দেখি।
উপররে লেখা অনুযায়ী- ৩৫ লাখ গরু আর ১.৫ কোটি ছাগল এর ৪০ শতাংশ মানে ১৪ লাখ গরু আর ৬০ লাখ ছাগল মাত্র একটি দিনে জবাই করা হচ্ছে। ধর্মীয় উৎসবের নামে একটা দিনে এই সংখ্যক পশু হত্যা- মানুষের মধ্যে আনন্দকেই বাড়িয়ে তুলছে। কি অদ্ভুত এমন হত্যাযজ্ঞকে কেন্দ্র করে একটা জাতীয় উৎসব!!!!
চিন্তা করুন তো এটা বর্বর উৎসব কি না?
আমি হনুমান বলেছেন:
আমি কোরবানি না দেয়ার পক্খে, তার চেয়ে টাকাগুলা অসহায়দের প্রতিষঠিত হতে দিলে বেশী স ওয়াব হবার কথা।
মাসুদ যা বলেছেন ঠিকই বলেছেন:
মুসলমানদের কোরবানী উৎসব একটা মধ্যযুগীয় বর্বর উৎসব......ব.........ল..........দ।
মদন বলেছেন:
কেএফসিতো ফ্রায়েড চিকেন আর পিজ্জা হাটে গিয়ে বিফ পিজ্জা খাইতে খাইতে কইতেই হয়- "রসনার জন্য প্রানী হত্যা মহাপাপ"
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
রসনার জন্য প্রাণী হত্যাকে পাপ মনে করিনা, তবে প্রাণী হত্যাই যখন কোন ধর্মীয় আচারের কেন্দ্র হয়, প্রাণী হত্যাকে কেন্দ্র করেই উৎসব হয়, প্রাণীহত্যাকে কেন্দ্র করেই যখন যজ্ঞ-টজ্ঞ বসে যায়; তখন সেগুলোকে বর্বর মনে না করার কোন কারণ দেখি না।
কামাল উদ্দিন ফারুকী জুয়েল বলেছেন:
@নাস্তিকের ধর্মকথা- নজরুলের কবিতাটি নিশ্চয় পড়েছেন। বর্তমানে হত্যাকে কেন্দ্র করেই উৎসবই হচ্ছে, অনতর্নিহিত spirit টি মরে গেছে।
http://www.sonarbangladesh.com/ থেকেও দেখেছি। ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















মুসলমানদের কোরবানী উৎসব একটা মধ্যযুগীয় বর্বর উৎসব......