আমার প্রিয় পোস্ট

১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষ : Wikipedia বনাম বাস্তবতা : আবু তাশফীন

১১ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৩২

শেয়ারঃ
0 12 0

১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষ : Wikipedia বনাম বাস্তবতা আবু তাশফীন

১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দূর্ভিক্ষে ১০ লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে। অথচ, উইকি অত্যন্ত দায়সারা ভাবে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমরা এখানে প্রমাণ সহকারের বাস্তবতাকে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

Wiki information
ইংরেজী উইকির ১৯৭৪ সালের বাংলাদেশের এই দূর্ভিক্ষের উপর Bangladesh famine of 1974 শীর্ষক ৫-৬ লাইনের ছোট লেখাটি পড়ে যে কেউ ৭৪ এর দুর্ভিক্ষের ঘটনাকে গুরুত্বহীন মনে করবেন এবং ভূল তথ্য পাবেন। এর পেছনে যে প্রকৃতপক্ষে সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত বাংলাদেশ সরকার ও প্রশাসনের সীমাহীন দূর্নীতি ও লুটপাট, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, মুক্তিযুদ্ধে সাহায্যকারী ভারত সরকারের লুটপাট - এরকম কারণগুলো মূলত দায়ী - উইকির নিবন্ধে সে সব কিছুই আসেনি।
উইকির নিবন্ধে দূর্ভিক্ষের জন্য দায়ী করা হয়েছে দু'টি কারণ:

১) a combination of natural disasters (cyclones, droughts and floods) in the early 1970's: আশ্চর্য ব্যাপার! ১৯৭০ এর ঘুর্নিঝড়ের পরপর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে এদেশের মানুষ না খেয়ে মরেনি। তাহলে ১৯৭০ সালের ঘুর্নিঝড়ের কারণে কেন ১৯৭৪ সালে মানুষ মরবে। পাগলেও একথা বিশ্বাস করবে না। আর কারণ যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে ১৯৭২-৭৪ পর্যন্ত ৩ বছরে বাংলাদেশ সরকার কি করেছিল? (এ আলোচনায় পরে আসছি)

২) various local and internationally influenced socio-political factors: the U.S. had withheld 2.2 million tonnes of food aid: মানুষ এতো কান্ডজ্ঞানহীন কিভাবে হয়? আমেরিকর সাহায্যের জন্য কেন আমাদের বসে থাকতে হবে? এরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল, হেনরী কিসিন্জার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি উপাধি দিয়েছে, তারা পাকিদের দোসর -- কেন বাংলাদেশ সরকার আমেরিকার সাহায্যের আশায় বসেছিল? কেন ভারত-রাশিয়া-ইসরাঈল-ভুটান, যারা বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বীকৃতিদাতা, সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এলনা? এরাই তো তৎকালীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু!
মজার ব্যাপার হলো, socio-political factors গুলোর মধ্যে প্রকৃত কারণগুলো উইকি লিখেনি!

বাস্তবতা:
এবার আসুন দেখি ১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষের জন্য তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার ও ভারতীয় আগ্রাসন কতটুকু দায়ী।
১) ৫০০০ কোটি টাকার সম্পদ ভারতে পাচার:
দুইশ বছরের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ যা পারেনি, ২৫ বছরে পাকিরা যা করার সাহস পায়নি, মাত্র ৩ বছরে হিন্দুস্হানী মাড়োয়ারী বঙ্গবন্ধুরা (!) তাই করেছে। লুটপাটের খতিয়ান:

ক. ধান-চাল-গম (৭০-৮০ লাখ টন, গড়ে ১০০ টাকা ধরে): ২১৬০ কোটি টাকা।
খ. পাট (৫০ লাখ বেলের উপরে): ৪০০ কোটি টাকা।
গ. ত্রাণ-সামগ্রী পাচার: ১৫০০ কোটি টাকা।
ঘ. যুদ্ধাস্ত্র, ঔষধ, মাছ, গরু, বনজ সম্পদ: ১০০০ কোটি টাকা।
-------------------------------------
সর্বমোট: ৫০০০ কোটি টাকা (প্রায়) (সূত্র: জনতার মুখপত্র, ১ নভেম্বর ১৯৭৫)

ভারতীয় অমৃতবাজার দৈনিক (১২ মে ১৯৭৪) থেকে, ভারত সরকার ২-২.৫ শত রেলওয়ে ওয়াগন ভর্তি অস্ত্র-শস্ত্র স্হানান্তর করেছে, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২৭০০ কোটি টাকা। এছাড়াও, চীন থেকে জয়দেবপুর অর্ডিনেন্স ফ্যাক্টরী থেকে অস্ত্র নির্মানের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ভারতে স্হানান্তরিত হয়। (অলি আহাদ: জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে '৭৫, পৃ:৫২৮-৫৩১)

২) পাটের মুকুট স্হানান্তর:
বাংলাদেশের পরিবর্তে রাতারাতি আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের মুকুট পরল ভারত। ফারাক্কা চুক্তির নামে বাংলাদেশকে মরুভূমি করার চক্রান্ত, টাকা বদলের নামে অর্থনীতি ধ্বংস, বর্ডার বাণিজ্যের নামে ভারতের বস্তপঁচা মালের বাজার। বাংলাদেশের শিল্প কারখানা থেকে যন্ত্রাংশ চুরি করে আগরতলায় পাঁচটি নতুন পাটকল স্হাপন! (আখতারুল আলম, দু:শাসনের ১৩৩৮ রজনী, পৃ: ১১৫-১১৬)

৩) সৌখিন দেশপ্রেমিকদের অর্থনৈতিক শোষণ:
স্বাধীনতার পর কি হলো? এক সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা চলল অর্থনীতি ধ্বংসের। উৎপাদন কমে গেল, শ্রমিক অসন্তোষ বেড়ে গেল। কলকারখানা ধ্বংস হলো। গুপ্ত হত্যা শুরু হল। কোন এক অশুভ শক্তি যেন বাংলার মানুষকে নিয়ে রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠল। সেসব সৌখিন মানুষ চারখার করে দিল বাংলার মানুষের স্বপ্নসাধ। চোরা কারবারের লাইন তারা আগেই করে রেখেছিল। প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সরকারী কর্মচারী, অসাধু ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সরকারী সমর্থনপুষ্ট না হলে এমন অবৈধ ব্যবসা সম্ভব না ... শুধু তাই নয়, ভেজালে চেয়ে গেল সারা দেশ।
দীর্ঘ ৩ টি বছর আমরা এমনটি প্রত্যক্ষ করেছি। আমাদের চোখের সামনে চাল-পাট পাচার হয়ে গেছে সীমান্তের ওপারে, আর বাংলার অসহায় মানুষ ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিশ্বের দ্বারে দ্বারে। (মেজর অব: মো: রফিকুল ইসলাম বীরোত্তম: :শাসনের ১৩৩৮ রজনী, পৃ: ১১৯-১২৬)

৪) শক্তিশালী চোরাচালানী সিন্ডিকেট:
সীমান্তের ১০ মাইল এলাকা ট্রেডের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হলো। এর ফলে ভারতের সাথে চোরাচালানের মুক্ত এলাকা গড়ে উঠে। পাচার হয়ে যায় দেশের সম্পদ। (আবুল মনসুর আহমদ: আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর, পৃ: ৪৯৮)
এর ফলে চোরাচালানীদের যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, তা আজও আছে এবং তা দেশের অনুন্নত অর্থনীতির জন্য দায়ী।

৫) তাজুদ্দীন কর্তৃক মুদ্রামান হ্রাস:
এক অভাবনীয় ও অচিন্তনীয় ঘটনা। ১ জানুয়ারী ১৯৭২ সালে তাজুদ্দিন এক আদেশ বলে দেশের মুদ্রামান ৬৬% হ্রাস করেন। এর আগে বাংলাদেশের মুদ্রামান ভারতের চেয়ে বেশি ছিল। তাজুদ্ধীনের আদেশে দেশের অর্থনীতি মুদ্রাস্ফিতি বেড়ে গেল ও জনজীবনে দ্রব্যমূল্য হল আকাশচুম্বী।
এছাড়া ভারত-বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পূরক আখ্যা দিয়ে ভারতে পাট বিক্রির নিষেধাজ্ঞা উঠে গেল। নাম মাত্রমূল্যে বা জালটাকায় পাট পাচার শুরু হল। (অলি আহাদ: জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে '৭৫, পৃ:৫২৮-৫৩১)

৬) ভারত জালনোট ছেপে অর্থনীতি ধ্বংসের আয়োজন করে:
বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া ধনসম্পদের পরিবর্তে আরো যে সব মহামূল্যমান (!) ধনসম্পদ আসত সেগুলোর মধ্যে ছিল ভারতে ছাপা বাংলাদেশী জাল নোট। এর পরিণাম এতই ভয়াবহ যে তাজুদ্দীন বলতে বাধ্য হয়েছেন, 'জালনোট আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস করিয়া দিয়াছে'। (আব্দুর রহিম আজাদ: ৭১ এর গণহত্যার নায়ক কে: পৃ: ৫২)

৬) ক্ষমতাসীনদের স্বীকারোক্তি:
বাংলাদেশের কতিপয় নেতার বিদেশে ব্যাংক ব্যালান্স রয়েছে, তারা অনবরত দেশ থেকে মুদ্রা পাচার করে দিচ্ছে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদ্ন্ড ভেঙ্গে পড়ছে। দেশের মানুষ কাপড়ের অভাবে মরছে, আর এক শ্রেণীর মানুষ লন্ডনে কাপড়ের কল চালু করছে। (তাজুদ্দীন, জনপদ ১১ মার্চ ১৯৭৪)

দেশ স্বাধীনের দুদিনেই শুরু হল হরিলুট। শিল্প কারখানায় অস্তিত্বহীন শ্রমিকের নামে মাহিনা লুট, পাটকলগুলিতে যন্ত্রাংশ ক্রয়ের নামে লুট, বস্রশিল্পে তুলা ও সুতা কেনায় কোটি কোটি টাকা লুট, ১৯৭১ এর অবাঙ্গালীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে লুট, ১৬ ডিভিশন নামের ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার নামে সরকারী সম্পদ লুট। (এম এ মোহায়মেন: বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ, পৃ ১৪, ৪৪)

৭) কলকাতায় রাজনৈতিক নেতাদের যৌন ট্রিপ, গায়ক ও নর্তকী আমদানী:

'কয়েকদিন আগে তোমাদের কিছু নেতা কলকাতা এসেছিল কিছু নমকরা গায়ক-নর্তকী ভাড়া করার জন্য। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে এরকম কাজ শুধু অনৈতিকও নয়, অমার্জনীয়। দু:খ হয়, তোমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে আমারও কিছু অবদান ছিল।' (কবি বুদ্ধদেব বসু, আমার দেশ : আমার স্বাধীনতা, পাক্ষিক পালাবদল)

লুটপাট সমিতির সদস্যরা তখন কোলকাতার অভিজাত পাড়ার হোটেল, বার, রেস্তোরায় বেহিসেবী খরচের জন্য 'জয় বাংলার শেঠ' উপাধী পেয়েছিল। সেখানে মুক্তহস্তে খরচ করতো, বিলাসবহুল ফ্লাটে থাকতো। সন্ধ্যের পরে হোটেল গ্র্যান্ড, প্রিন্সেস, ম্যাগস, ব্লু ফক্স, মলিন র্যু, হিন্দুস্হান ইন্টারন্যাশনালে দামী পানীয় ও খাবারের সঙ্গে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি উপভোগ করতো। সারার রাত পার করে ভোর বেলা ফিরতো নিজেছের বিলাসবহুল ফ্লাটে। (শরীফুল হক ডালিম, যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি, পৃ ১২০-১২২। নোট: ডালিম বঙ্গবন্ধুর স্বঘোষিত খুনি, বিতর্কিত। তার বক্তব্যের সাথে কবি বুদ্ধদেব বসুর বক্তব্য মিলে যাওয়ায় এই সূত্র রাখা হলো।)

পরিশেষে, উইকি কি ১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষের উপরের প্রকৃত কারণগুলো লিখবে, নাকি গঁদবাঁধা দু-একটি দূর্বল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষদের বিভ্রান্ত করবে? তবে উইকি যাই করুক, আমাদের আমাদের ইতিহাস জেনে শিক্ষা নিতে হবে।
(লেখক.গবেষক)
Click This Link

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১১ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:০০
অ রণ্য বলেছেন: এমন তথ্যবহুল লেখা যে আমি পড়ার পর পর-ই শোকেসে নিলাম এবং সেই সাথে পুরোটা কপি করেও রাখলাম।

এমন একটা পোষ্টের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবনা। কত অজানায় আর মিথ্যায় ভরপুর আমাদের বাস্তব জানা, ফলতঃ বর্তমান একটা জাতীর আবির্ভাব তেমন কি আর আশ্চর্যের বরং বলা যায় এরচেয়ে ভাল আর কিছুই আমাদের কাছে আশা করার ছিলনা যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থান থেকে আজ অব্দি।

মঙ্গল কামনা রইল।
৩. ১১ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:১৫
কিরিটি রায় বলেছেন: বিস্ময়কর!!!!!!!!!!!!!!

শুনেছি এমন কিছু তথ্যের ভিডিও রেকর্ডের জন্যই প্রাণ দিতে হয়েছে জহির রায়হানকে.... আর তা বৈধ করেছে গুপ্ত ঘাতক দের ঘাড়ে চাপিয়ে!!!!!

তবেই কি ওরাই????

৪. ১১ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:২৮
ক্যামেরাম্যান বলেছেন: ২) various local and internationally influenced socio-political factors: the U.S. had withheld 2.2 million tonnes of food aid: মানুষ এতো কান্ডজ্ঞানহীন কিভাবে হয়? আমেরিকর সাহায্যের জন্য কেন আমাদের বসে থাকতে হবে? এরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল, হেনরী কিসিন্জার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি উপাধি দিয়েছে, তারা পাকিদের দোসর -- কেন বাংলাদেশ সরকার আমেরিকার সাহায্যের আশায় বসেছিল? কেন ভারত-রাশিয়া-ইসরাঈল-ভুটান, যারা বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বীকৃতিদাতা, সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এলনা? এরাই তো তৎকালীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু!
মজার ব্যাপার হলো, socio-political factors গুলোর মধ্যে প্রকৃত কারণগুলো উইকি লিখেনি

- নতুন জন্ম নেয়া রাষ্ট্র বাংলাদেশ বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল ছিল প্রচন্ডভাবে। যার মধ্যে অন্যতম ছিল আমেরিকার পিএল ৪৮০ এর অধীনে খাদ্য সাহায়্য। সরকার হিসাব করে রেখেছিল আমেরিকা থেকে খাদ্য সাহায্য আসছে একটা নির্দিস্ট পরিমান। বাংলাদেশ সেই সময় কিউবার কাছে চটের
৫. ১১ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৩১
ক্যামেরাম্যান বলেছেন: ২) various local and internationally influenced socio-political factors: the U.S. had withheld 2.2 million tonnes of food aid: মানুষ এতো কান্ডজ্ঞানহীন কিভাবে হয়? আমেরিকর সাহায্যের জন্য কেন আমাদের বসে থাকতে হবে? এরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল, হেনরী কিসিন্জার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি উপাধি দিয়েছে, তারা পাকিদের দোসর -- কেন বাংলাদেশ সরকার আমেরিকার সাহায্যের আশায় বসেছিল? কেন ভারত-রাশিয়া-ইসরাঈল-ভুটান, যারা বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বীকৃতিদাতা, সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এলনা? এরাই তো তৎকালীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু!
মজার ব্যাপার হলো, socio-political factors গুলোর মধ্যে প্রকৃত কারণগুলো উইকি লিখেনি

- নতুন জন্ম নেয়া রাষ্ট্র বাংলাদেশ বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল ছিল প্রচন্ডভাবে। যার মধ্যে অন্যতম ছিল আমেরিকার পিএল ৪৮০ এর অধীনে খাদ্য সাহায়্য। সরকার হিসাব করে রেখেছিল আমেরিকা থেকে খাদ্য সাহায্য আসছে একটা নির্দিস্ট পরিমান। বাংলাদেশ সেই সময় কিউবার কাছে চটের বস্তা রপ্তানি করায় আমেরিকা জাহাজ ভর্তি গম ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ায় প্রচন্ড বেকায়দা অবস্থায় পড়ে সরকার। সরকারের কাছে স্বল্প সময়ে এত বিপুল পরিমান খাদ্য আমদানী করার মতো টাকা বা মাধ্যম কিছুই ছিল না।

সেইসময় দূনীতি হয়েছিল - অবশ্যই। আপনি কি জানেন স্বাধীন বাংলাদেশে দূর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত প্রতম রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম ? প্রয়াত কে.এম. ওবায়েদ - বিএনপি'র অণ্যতম নেতা! এইরকম আরেকজন হলেন ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ। আওয়ামী লীগে প্রতিক্রিয়াশীল চক্র সক্রিয় ছিল স্বাধীনতার আগে থেকেই। আওয়ামী লীগ বুঝে কিংবা না বুঝে এদেরকে ক্ষমা করায় ব্যাপক মূল্য দিতে হয়েছে তাদেরকে। ৭৪ এর দূর্ভিক্ষ কাটিয়ে যখন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি করতে সমর্থ হয় সরকার তখনই হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুকে।
৬. ১১ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৪
হরিপদ দে বলেছেন: ক্যামেরাম্যান ভাই এর সাথে সহমত
৭. ১১ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:২০
সমুদ্রের তীরে বলেছেন: আপনি কি জানেন,স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজনৈতিক বন্দী মেজর (অব:) আবদুল জলিল।কারণ তিনি আমাদর বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের লুটপাটের বিরুদ্ধে সীমান্তে অস্ত্র ধরেছিলেন।আর তাই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে তাকে বন্দী করা হয়।
৮. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৮
সুবিদ্ বলেছেন: দেশ স্বাধীনের পরে সবাই ভেবেছিল স্বাধীন দেশে সবাই যার যার মতো স্বাধীন......কিন্তু সাথে যে দায়িত্ববোধ বলেও কিছু থাকা উচিত, এটা বোধহয় তাদের মাথায় ছিলনা.......

৯. ১০ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৮:৩৪
প্র।ইভেট বলেছেন: ক. ধান-চাল-গম (৭০-৮০ লাখ টন, গড়ে ১০০ টাকা ধরে): ২১৬০ কোটি টাকা।
খ. পাট (৫০ লাখ বেলের উপরে): ৪০০ কোটি টাকা।
গ. ত্রাণ-সামগ্রী পাচার: ১৫০০ কোটি টাকা।
ঘ. যুদ্ধাস্ত্র, ঔষধ, মাছ, গরু, বনজ সম্পদ: ১০০০ কোটি টাকা।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৫৪০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সাধারণ মানুষেরা খুব সাধারণ জীবন চায় । তেমনি আমিও খুব সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে চাই । আল্লাহর দেয়া...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই