বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র করার রিহার্সাল
ড. মাহবুব উল্লাহ
গত ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের অকল্পনীয়ভাবে বিশাল বিজয় এবং চারদলীয় জোটের একই পরিমাণ অকল্পনীয় পরাজয়ের পর এই ফলাফল সম্পর্কে নানাজন নানাভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ মনে করেন, নির্বাচনে নারী ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং ভোটারদের মধ্যে প্রথমবারের মতো ভোটার হওয়া তরুণ-তরুণীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ফলে নির্বাচনের ফলাফল এরকম হয়েছে। এর ব্যখ্যা হলো, সাংসারিক বাজেটে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার কাজটি নারীদেরই করতে হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর আকাশছোঁয়া মুল্যবৃদ্ধির ফলে নারীরা সংসারের বাজেট মেলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন এবং যেহেতু চারদলীয় জোট সরকারের শেষের দু’বছরে মুল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছিল, সে কারণে নারীসমাজ বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছিল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল জরুরি সরকারের দু’বছরের শাসনামলের লাগামহীন দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধি। জরুরি সরকারের এই ব্যর্থতাও বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের ব্যর্থতার বোঝাকে অসহনীয় বলে ঠাওরাতে নারীসমাজকে বিভ্রান্ত করে। ফলে প্রতিপক্ষ দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধির পুরো দায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ওপর চাপিয়ে দিতে সক্ষম হয়। বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার ব্যর্থতা ছিল জরুরি সরকারের ব্যর্থতাকে সুস্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখাতে না পারা।
২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে ’৯১ থেকে যে ক’টি নির্বাচন হয়েছে, সবক’টি নির্বাচনেই নারীসমাজ বিএনপির পক্ষে বিপুলভাবে ভোট দিয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বলা হতো, নারী ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে এলে বিএনপির জন্য বিজয় সহজতর হয়। এই ধারণার পেছনে একটি কারণও ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারীসমাজকে জাতীয় জীবনের মুল স্রোতধারায় নিয়ে আসার জন্য উল্লেখযোগ্য অনেক কর্মসুচি গ্রহণ করেছিলেন। নারীমুক্তি ও নারীস্বাধীনতার প্রতি শহীদ জিয়ার অঙ্গীকারই বিএনপিকে নারীর সমর্থন লাভে আকর্ষণীয় করে তুলেছিল। একমাত্র দ্রব্যমুল্যই নারী ভোটারদের বিএনপির প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারে প্রভাবিত করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এর পরই আসে প্রথমবারের মতো যারা ভোটার হয়েছেন, তাদের সমর্থনের প্রসঙ্গটি। প্রতি নির্বাচনেই প্রথমবার ভোটার হওয়া অনেক ভোটার থাকে। অথচ অতীতে কখনোই এদের ভোট একটি বিশেষ পক্ষের দিকে চলে গেছে বলে কেউ বলেননি। কিন্তু এবার কথাটি বেশ জোরেশোরেই এসেছে। বিএনপির একজন গুরুত্বপুর্ণ নেতা নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করতে না পারার ব্যর্থতাও স্বীকার করেছেন। কিন্তু নতুন ভোটাররা কী করে একটি বিশেষ পক্ষের অনুকুলে চলে গেলেন, সেটাও তো ভাবার বিষয়। এ প্রসঙ্গে দাবি করা হয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামসহ অন্যরা দাবি তোলার ফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের জন্য প্রতিকুল পরিস্হিতির সৃষ্টি হয়। এই যুক্তি মেনে নিতে গেলে বলতে হয়, এ ব্যাপারে জোটের কোনো বক্তব্য ছিল না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গটিকে গুরুত্বহীন ও নিষ্ফল করতে মোক্ষম কোনো বক্তব্যও তুলে ধরা হয়নি। বিএনপির নির্বাচনী ম্যানিফেষ্টোতে জরুরি সরকারের কঠোর সমালোচনা থাকলেও আওয়ামী লীগের তেমন কোনো সমালোচনা ছিল না। আওয়ামী লীগের প্রতি সমালোচনা কেবল এই দলটির জরুরি সরকারের কর্মকান্ডের প্রতি সায় দেয়ার মধ্যেই সীমিত থেকে যায়। অথচ নির্বাচনে বিএনপি তথা জোটের প্রতিপক্ষ ছিল আওয়ামী লীগ, জরুরি সরকার নয়। ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী কার্যকলাপগুলো হতে পারতো তীব্র সমালোচনার বিষয়। রক্ষীবাহিনীর হাতে চল্লিশ হাজার তরুণ-তরুণীর নিহত হওয়ার কথা অতীতে অনেক নেতার মুখে জোরালো ভাষায় শোনা গেলেও এবার বিষয়টি ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়নি। বিশেষ করে, নতুন ভোটাররা যারা রক্ষীবাহিনীর নিষ্ঠুর নির্যাতনের পর্বটি দেখেননি, তাদের এ ব্যাপারে সচেতন করে তোলা ছিল অত্যন্ত জরুরি। স্বাধীন-পরবর্তী ৩৭ বছরের অনেকাংশ জুড়েই ছিল বিএনপির শাসন। অথচ কখনোই বিচারবহির্ভুতভাবে রক্ষীবাহিনীর হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের আদলে কোনো ফোরাম গঠিত হতে আমরা দেখিনি। সিরাজ শিকদারসহ অগণিত দেশপ্রেমিক হত্যাকারীদের বিচার হওয়াটা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কম জরুরি হতে পারে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলে কারোর যেমনি কিছু বলার থাকবে না, ঠিক তেমনি রক্ষীবাহিনী কতৃক দেশপ্রেমিক হত্যার জন্যও বিচার হলে যে কারোরই আপত্তি উত্থাপন হবে অযৌক্তিক ও অন্যায়।
জোট সরকারের আমলে সংঘটিত দুর্নীতিকেও চারদলীয় জোটের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতিপন্ন করা হয়েছে। কিন্তু একথাও ঠিক যে, এদেশে দুর্নীতির জন্য কেবল একটি দলের সরকারই দায়ী নয়। অন্য দলের লোকদের দুর্নীতির দায়দায়িত্ব আড়াল করে রাখাও দুর্নীতির শামিল। জরুরি সরকারের আমলে বেশিরভাব ক্ষেত্রে চারদলীয় জোটের অনেক হেভিওয়েটের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আসায় মিডিয়ায়, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এটাকেই স্বাভাবিক বলে সুশীলদের অনেকে দাবি করেছেন। তাদের কথা হলো, অব্যবহিত আগের সরকার হিসেবে তাদের সম্পর্কেই বেশি বেশি করে অভিযোগ দায়ের হওয়া স্বাভাবিক। দুর্নীতি যখনই ঘটুক না কেন এবং যে আমলে হয়ে থাকুক না কেন, তাকে দুর্নীতি বলেই স্বীকার করতে হবে। এ নিয়ে পক্ষপাতিত্ব করা হবে চরমভাবে অনৈতিক। অথচ সে কাজটিই করা হয়েছিল। কেউ বলল না মাত্র এক টাকার বিনিময়ে গণভবনের মতো বিশাল সম্পদও গ্রাস করার ব্যবস্হা করা হয়েছিল। আরো আশ্চর্য লাগে, গণভবন এখনো আইনানুগভাবে সরকারের মালিকানায় ফেরত যায়নি। নির্বাচনী প্রচারকালে এসব কথা কেন বলা হচ্ছে না, সে ব্যাপারে অনেক ভোটারকেই প্রশ্ন তুলতে শুনেছি। কিন্তু যাদের প্রশ্ন তোলার কথা, তাদের দেখেছি নির্বাক। তাহলে কি আওয়ামী প্রচারণার অভিঘাতে এরা এতই লাজওয়াব হয়ে পড়েছিলেন যে, কোনো কিছুই বলতে পারছিলেন না? তাই বলব, শুধু দুর্নীতির অভিযোগ নয়-তার সঙ্গে পাল্টা অভিযোগ উত্থাপনে পর্বতপ্রমাণ ব্যর্থতাই চারদলীয় জোটের নির্বাচনী ব্যর্থতার কারণ হতে পারে।
নির্বাচনের অবিশ্বাস্য ফলাফল দেখে অনেকরকম হিসাব কষাকাষি চলছে। এবার ৮৬ শতাংশেরও বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা সর্বকালের রেকর্ড। গড়পরতা ভোট দিতে সময় লেগেছে ৭০ সেকেন্ডের মতো। পাটীগণিতের হিসাব ভুল হতে পারে না। যুক্তিশীল মানুষের কাছে ভোট প্রদানের এই গড় সময়টি মোটেও বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে না। তাই বলা হচ্ছে, ভোটে বড়রকমের কারচুপি হয়েছে। একেবারেই ‘ডিজিটাল কারচুপি’। কিন্তু এই কারচুপির পক্ষে প্রমাণ জাহির করতে গেলে প্রয়োজন হবে ব্যালটের মুড়ির সঙ্গে প্রদত্ত ব্যালট মিলিয়ে দেখা। কিন্তু কীভাবে সেটি সম্ভব? ভোট সংক্রান্ত সব দলিলপত্র নির্বাচন কমিশনের হাতে। সংক্ষুব্ধ পক্ষকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া আর কোনো প্রতিকার নেই। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা সবাই জানি, আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার পেতে হলে বেশ ক’বছর অপেক্ষা করতে হবে। ততদিনে এই সরকারের মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে।
একটি মুখচেনা মহল বিএনপির পরাজয়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে দায়ী করেছে দলটির মুল নির্বাচনী ্লোগানকে। বিএনপির ম্যানিফেষ্টোতে এবার প্রধান ্লোগান ছিল ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’। এই মহলটির কাছে স্বাধীনতার ৩৭ বছর পর দেশ বাঁচানোর কথা বলা আজগুবি, অপ্রাসঙ্গিক, অবাস্তব ও অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে। তাদের দৃষ্টিতে এই ্লোগান বহু ভোটারকে বিএনপির প্রতি বিরক্ত করে তুলেছে। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার আওয়াজ তুলে বিএনপি ভোটারদের মনে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের কাল্পনিক ভুতের ভয় জাগাতে চেয়েছে! দেশপ্রেমিক মানুষমাত্রই জানেন, শুধু ৩৭ বছরেই নয়-৩৭০ বছর পরেও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নটি থাকবে। সেজন্যই তো বলা হয়, ঠরমরষধহপব রংঃযব বঃবৎহধষ ঢ়ৎরপব ড়ভ ভৎববফড়স. সদা সচেতনতাই স্বাধীনতার চিরন্তন দাম। মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদশালী দেশ ইরাক বাংলাদেশেরও বহু বছর আগে থেকেই স্বাধীন। কিন্তু কেউ কি বলবেন, দেশটির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের লেশমাত্র অবশিষ্ট রয়েছে? বিদেশি দখলদার বাহিনী নুরি আল-মালিকির পুতুল সরকারের মাধ্যমে দেশটি শাসন করছে। ইরাকি জনগণের জীবনে নেমে এসেছে ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যা, নির্যাতন ও নিষ্পেষণের এক অন্ধকার যুগ। ইরাকের তেলসম্পদই ইরাকের জন্য কাল হয়েছে। শত্রুর ছলের শেষ নেই। ইরাকের সাদ্দাম সরকারের বিরুদ্ধে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মজুদের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছিল। অভিযোগ তোলা হয়েছিল আমেরিকার টুইন টাওয়ারে হামলাকারীদের আশ্রয় ও মদদ দানের। আজ সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারপরও ইরাকের মাটি রক্তরঞ্জিত। আফগানিস্তান শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্বাধীন থেকেছে। আফগানরা আগ্রাসী সোভিয়েটদের বিতাড়ন করেছে। সোভিয়েট ইউনিয়নও আজ আর নেই। আফগানিস্তান এখন মার্কিনসহ বহুজাতিক বাহিনীর দখলে। হামিদ কারজাই আগ্রাসী বহুজাতিক বাহিনীর শিখন্ডী মাত্র। সিকিমকে গণতন্ত্রের নাটক মঞ্চস্হ করে ভারতভুক্ত করা হয়েছে।
২০০১ সালের পর থেকে বাংলাদেশ সম্পর্কে সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদীদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায় এবং তাদেরই ক্রীড়নক দেশীয় মিডিয়ায় একের পর এক আজগুবি প্রচারণা চালানো হয়েছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। ফার ইষ্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ ও নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার পাতাজুড়ে অনেকটা ইরাকের মতোই বাংলাদেশকে অভিযুক্তের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। বারটিল লিন্টনার ও অরবিন্দু আদিগাদের বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা সচেতন পাঠকদের ভুলে যাওয়ার কথা নয়। ভুলে যাওয়ার কথা নয় সেই বিখ্যাত শিরোনাম ইধহমষধফবংয ঞযব ঘবীঃ অভমযধহরংঃধহ. একটি রাষ্ট্র ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হলে কী হয়! ব্যর্থ রাষ্ট্রে দেখা দেয় মারাত্মক গোলযোগ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, গৃহযুদ্ধ ও রক্তপাত। এরকম পরিস্হিতিতে ব্যর্থ রাষ্ট্রের নাগরিকরা নিজ দেশ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আশপাশের দেশে ছোটে। এর ফলে আশপাশের দেশগুলো নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ে। এই পরিস্হিতিতে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে সামরিক হস্তক্ষেপ অনিবার্য হয়ে ওঠে। ভারতীয় ও পাশ্চাত্য মিডিয়ায় বাংলাদেশ সম্পর্কে ভীতি উদ্রেককারী প্রচারণার উদ্দেশ্য একটি-সেটি হলো, ভবিষ্যতের কোনো এক সময়ে তাদের সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য যৌক্তিকতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। দিনকয়েক আগে আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী সম্পর্কিত একটি তথাকথিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার, যিনি একজন সাবেক রাষ্ট্রদুতও, তিনি একটি প্রাইভেট চ্যানেলের টকশোতে দাবি করেছেন, বাংলাদেশে ১৫০টি জঙ্গি গ্রুপের ঘাঁটি রয়েছে। এ ব্যাপারে তার কাছে নাকি অকাট্য প্রমাণও রয়েছে। কারা তার হাতে এসব অকাট্য প্রমাণের দলিল তুলে দিয়েছে? তিনি কীভাবে এসব পেলেন? টকশোতে এই দাবি করার পর তার ওপর দায়িত্ব বর্তায় এগুলো সরকারের নিরাপত্তা সংস্হার হাতে তুলে দিয়ে দেশকে নিরাপদ করা। আমার ধারণা, তার মতো লোকেরা ইরাকের বিধ্বংসী অস্ত্রের গল্পের মতো আরেকটি গল্প বাংলাদেশের জন্য ফাঁদতে বসেছে। প্রশ্ন হলো, এই কল্পকাহিনী কোন[ &ৗ২৫০৯; ] সাম্রাজ্যবাদী বা আধিপত্যবাদী দেশের স্বার্থে? কাদের আগ্রাসনকে নিশ্চিত করতে এসব কাহিনীর অবতারণা? এরকম পরিস্হিতিতে বেগম খালেদা জিয়া দেশ বাঁচানোর বুলন্দ আওয়াজ তুলে একজন দেশপ্রেমিকের দায়িত্ব সম্পাদন করেছেন মাত্র। সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশ-একথা কোনোক্রমেই ভুলে গেলে চলবে না। নবাব সিরাজউদ্দৌলার ওপর রচিত শচীন সেনগুপ্তের লেখা নাটকের একটি উক্তি হলো, ‘বাঙালি দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বোঝে না।’ অর্থাৎ স্বাধীনতা থাকতে আমরা স্বাধীনতার মর্যাদা বুঝি না। নাট্যকারের এই হতাশা অনেক ক্ষেত্রেই হয়তো সত্য নয়। তবু বলতে হয়, স্বাধীনতার মর্যাদা বিস্মৃত হওয়ার জন্য জাতিকে অনেক ঘুম পাড়ানিয়া গান শোনানো হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে দেশ বাঁচাও ্লোগানটি ছিল জাতির প্রতি অতন্দ্রপ্রহরীর মতো জেগে থাকার এক আহ্বান। যারা এই জেগে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, নির্বাচনে তাদের অবিশ্বাস্য পরাজয় ঘটিয়ে দেয়া বাংলাদেশকে ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়ার ড্রেস রিহার্সাল কিনা কে জানে।
লেখকঃ প্রফেসর ডেভেলপমেন্ট ষ্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, (সুত্র, আমার দেশ, ১০/০১/২০০৯)
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


