somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেনা বাহিনীকে ধ্বংস করতে চায় কারা? : ড. হোসেন খিলজী

১৭ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেনা বাহিনীকে ধ্বংস করতে চায় কারা?
ড. হোসেন খিলজী


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ( বুয়েট) এ পড়াশোনার সময়ই বাম আদর্শে বিশ্বাসী কিছু সহপাঠীর মাধ্যমে তাদের দলের মুখপাত্র সাপ্তাহিক একতা, মাসিক ভ্যানগার্ড সহ আরো কিছু বই পড়ার সুযোগ হয়। সেনাবাহিনী ও এর বাজেট সম্পর্কে তাদের যুক্তি ছিল বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে এত শক্তিশালী সেনাবাহিনীর তেমন কোন প্রয়োজন নেই।বঙ্গবন্ধুর উদ্বৃতি দিয়ে বলত, তিনি বাংলাদেশকে এশিয়ার সুইজারল্যান্ড বানানোর স্বার্থেই নাকি শক্তিশালী সেনাবাহিনীর স্বপ্ন দেখতেন না। বুয়েটের দেয়ালে চিকা মারার প্রচলন কম থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে এসব সংগঠন তথা ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশনের লিখিত শ্লোগানের একটি ছিল সামরিক খাতে ব্যয় কমাও, শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াও। কিছু বন্ধু যুক্তি দেখাতো, পাকিস্থানের আইয়ুব খান ষাটের দশকে যখন ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, ভারতের মনোযোগ তখন ছিল আই আই টি প্রতিষ্ঠার দিকে, ফলে ভারত নাকি অনেক এগিয়ে গিয়েছে। এছাড়াও সুশীল সমাজ নামে পরিচিত গ্রুপটির বক্তব্য একই রকম,সেনাবাহিনী একটি অনুতপাদনশীল খাত, তাই এর ব্যয় না বাড়িয়ে বরং কমানো উচিত । ধারনা পাওয়া যেত,বাম ঘরানার, সেক্যুলার আদর্শের অনুসারী বুদ্ধিজীবিদের সেনাবাহিনী-এলার্জি প্রকট। কিন্তু ২৫ ফেব্রুয়ারী পিলখানার নারকীয় হত্যাযজ্ঞের পর, এদেরই কিছু অংশের একটি বিবৃতি পড়ে বেশ খটকা লাগে।

গত ৮ মার্চ, ২০০৯, ২৮ বিশিষ্ট নাগরিকের একখানা বিবৃতি দেখা যায় প্রথম আলোতে। বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেন, সামরিক বাহিনীকে দুর্বল, সরকারকে বিপন্ন করতেই বিডিআরে এই হত্যাযজ্ঞ । বাংলাদেশ রাইফেলসের সদর দপ্তরে গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি যে হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে, তার ব্যাপকতা ও নিষ্ঠুরতায় সমগ্র জাতি স্তম্ভিত। এই নারকীয় ঘটনা কোনো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়; এ আক্রমণ ষড়যন্ত্রমূলক ও পূর্বপরিকল্পিত। এর ফলে সামরিক বাহিনী দুর্বল হবে, সদ্য-নির্বাচিত সরকার বিপন্ন হবে এবং দেশের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে-এটাই ছিল ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য। আমরা মনে করি, সরকার যেভাবে এই ঘটনার মোকাবিলা করেছে, তাতে আরও প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে।’ বিবৃতিদাতারা হলেন খান সারওয়ার মুরশিদ, রঙ্গলাল সেন, ড. আনিসুজ্জামান, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, অজয় রায়, হায়াৎ মামুদ, সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, শওকত আরা হোসেন, মেজর জেনারেল (অব) সফিউল্লাহ, মেজর জেনারেল (অব) আমীন আহমেদ চৌধুরী, সৈয়দ জাহাঙ্গীর, শেখ জিনাত আলী, খুশী কবির, আয়েশা খানম প্রমুখ। ( প্রথম আলো, ৮ মার্চ, ২০০৯)

উপরোক্ত বুদ্ধিজীবিদের আদর্শিক ও রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না, তারা সবাই বাম, সেক্যুলার বা সুশীল সমাজ ভুক্ত। বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেছেন, সেনাবাহিনীকে দূর্বল করার জন্যই নাকি পিলখানা হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। এই বিবৃতি থেকে এরা বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী চান বলেই প্রতিয়মান হয়। আসলেই কি তাই? কোন মন্তব্য করার আগেই এ সমাজভুক্ত বুদ্ধিজীবিদের বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত বক্তব্যের কিছু তুলে ধরা যেতে পারে।

ক. গত ২৬ আগস্ট ২০০৭ নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত উদীচীর অনুষ্ঠানে কলামিস্ট ও লেখক আব্দুল গাফফার চৌধুরী বলেন, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম ছাড়া মুক্তির পথ নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সকল সমস্যার উত্স হচ্ছে সেনাবাহিনী। উদীচী যুক্তরাষ্ট্র শাখা আয়োজিত রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত জয়ন্তী ও দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষনে তিনি উপরোক্ত মন্তব্য করেন। নিউ ইয়র্ক সিটির এস্টোরিয়াতে অবস্থিত পি.এস. ১১২-তে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু, ৪ নেতা সহ দেশের সেরা সন্তানদের হত্যা করেছে ওরাই। এরাই এখন চক্রান্ত করছে আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনাকে শেষ করার। এজন্য বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম ছাড়া মুক্তির পথ নেই।

গাফফার চৌধুরী আরও বলেন, বর্তমান সেনাবাহিনী বাংলাদেশের নয়। ওরা ভাড়াটে পাকিস্তানী। ৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে। আর এবার যুদ্ধ করতে হবে পাকিস্তানী দাসদের বিরুদ্ধে।

এই সেনাবাহিনী প্রতিটি হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী। বাংলাদেশের জাতীয় নেতা ছাড়াও উদীচী ও রমনা বটমূল বোমা হামলার নেপথ্য নায়ক হচ্ছে তারা। এজন্য এদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম ছাড়া জাতি মুক্তি পাবেনা (নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক "বাংলা পত্রিকার" রিপোর্ট, আগস্ট ২৭, ২০০৭)। গাফফার চৌধুরীর বক্তব্যের আরো অনেক উস্কানীমূলক কথা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা তা আর উল্লেখ করে পাঠকদের বিরক্তি সৃষ্টি করতে চাইনা। এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার। তার বক্তব্য সুস্পষ্টভাবে গৃহযুদ্ধের আহবান। সেনাবাহিনী এবং সরকারের বিরুদ্ধে "সশস্ত্র সংগ্রামকে" গৃহযুদ্ধ ছাড়া আর কিছু বলা যায় কিনা আমাদের জানা নেই।

খ. গত ১ ফেব্রুয়ারী ২০০৯ কলকাতা কনফারেন্স ২০০৯ নামে কলকাতার সুবাস ইন্সটিটিউটে বাংলাদেশের হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের একটি অংগ সংগঠনের ৪র্থ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষন ছিল, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির প্রযোজিত ডকুমেন্টারী মানুষ না মালাউন? ডকুমেন্টারীর ধারা বিবরনীতে বলা হয় বাংলাদেশে সংঘটিত সকল নির্যাতন নিপিড়নের জন্য দায়ী হচ্ছে, বর্বর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, সেনাবাহিনী ও এর গোয়েন্দা সংস্থা। ইসলাম ও সেনাবাহিনীকে উতখাত করতে না পারলে এ সংকটের সমাধা হবে না। এ ব্যপারে ভারত সহ সকল আন্তর্জাতিক শক্তির সহযোগিতা চাওয়া হয়। উল্লেক্ষ্য, ঐ সমাবেশে বাংলাদেশ থেকে উপস্থিত ছিলেন দুজন সাংবাদিক, রাজশাহীর দৈনিক সংবাদের সাবেক ব্যুরো চিফ কথিত মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর আলম আকাশ, চট্রগ্রাম থেকে সাপ্তাহিক একাত্তরের সুমী খান।

গ। জাতীয় ঐতিহ্য-আকাংক্ষার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রয়োজন শীর্ষক দৈনিক সমকাল ও বিএসবি-ক্যামব্রিয়ান কলেজ গোলটেবিল বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রেখে জাতীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য, জাতীয় মনন, জাতীয় আকাংক্ষার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার লক্ষ্যে শিক্ষানীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। রাজধানীর গ্র্যান্ড আজাদ হোটেলে যৌথভাবে দৈনিক সমকাল ও বিএসবি-ক্যামব্রিয়ান কলেজ আয়োজিত এ গোলটেবিল বৈঠকে উপস্তিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড আকবর আলি খান, সমকাল সম্পাদক আবেদ খান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক জিল্ক্নুর রহমান সিদ্দিকী, অধ্যাপক অজয় রায়, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম খান, অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক সালমা আখতার প্রমুখ।

অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, অতীতে সেনাশাসন আমাদের শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছে। জনগণকেই প্রতিরক্ষায় উপযুক্ত করে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিরক্ষা খাতের পরিধি না বাড়িয়ে সল্প পরিসরের সুশৃগ্ধখল প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তোলা প্রয়োজন। (সমকাল, ১৭ এপ্রিল, ২০০৮)

ঘ. সাপ্তাহিক ২০০০ এ সরকারী ব্যয় পর্যালোচনা কমিশনের রিপোর্ট স্বচ্ছতা ছাড়াই বাড়ছে প্রতিরক্ষা বাজেট শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধূরী বলেন, কার বিরুদ্ধে ব্যবহার করার জন্য বিশাল সামরিক বহর তা জানা দরকার। হাজার হাজার কোটি টাকা করচ করে মিগ-২৯, ফ্রিগেট কিনে সামরিক বাহিনীকে সুসজ্জিত করা হচ্ছে- এগুলো কোথায় ব্যবহার হবে? এসব বিষয়ে সংসদে অলোচনা হওয়া দরকার। (সাপ্তাহিক ২০০০, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০০৪)

ঙ. সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্ত কর্নেল ( অবঃ) এস ডি আহমেদ বলেন-পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যে সম্পর্ক আমাদের সম্পর্ক তেমন নয়। ফলে এত বড় সামরিক বাহিনীর কোন সার্থকতা নেই। তিনি বলেন সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী অবশ্যই দরকার। সেনাবাহিনীর একটি ছোট আনুষ্ঠানিক ফোর্স থাকতে পারে কিন্তু বিমান বাহিনীর কোনো প্রয়োজন নেই।(সাপ্তাহিক ২০০০, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০০৪)

চ. প্রতিরক্ষা বাজেট প্রসঙ্গে সম্পাদকীয়তে অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি অর্থনীতিবিদ ড মঈনুল ইসলাম লিখেছেন, রাজস্ব বাজেটের ৬০ শতাংশ ব্যয় হয় সাধারণ প্রশাসন ও আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তারক্ষার নামে।এটি যেহেতু পুরোপুরি অনুৎপাদনশীল খাত, সেহেতু ধাপে ধাপে এই খাতে ব্যয় বাড়ান নয় কমানো দরকার। (জনকন্ঠ, ২৫ মে ২০০২)

ছ. সুশীল সমাজের দলপতি টিআইবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোজাফফর আহমেদ এর ছাত্র ও বিনিয়োগ বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমানের বক্তব্য প্রনিধানযোগ্য। তিনি লিখেছেন, ড. মোজাফফর আহমেদের দুর্ভাগ্য যে, আমার মতো এক অকিঞ্চিৎকর ব্যক্তিকে আইবিএতে তিনি ছাত্র হিসেবে পেয়েছিলেন। সেনাবাহিনী সম্পর্কে এই অধ্যাপকের মনোভাব আমার কাছে দুর্জ্ঞেয়ই থেকে গেল। পড়ানোর সময় আমরা ধারণা করতাম, তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সেনাবাহিনীকে খুব একটা প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করেন না। একাধিক সাক্ষাৎকারে তার এমন বক্তব্যও পড়েছি যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে সেনাবাহিনী পোষা অপ্রয়োজনীয়। এ খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস করা উচিত । (সূত্র, আমার দেশ, ০১/০২/২০০৯)

জ. দেশে বেশ কিছু পত্রিকা মাঝে মাঝে জরিপ প্রকাশ করে থাকে। তেমনি একটি জরিপ প্রথম আলো নিজস্ব উদ্যোগে ২০০৬ সালের আগস্ট মাসের ২০-২১ তারিখে পরিচালনা করে। সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রয়োজনীয়তা একটা অগ্রাধিকারের বিষয় বলে মনে করেন কিনা এই শিরোনামে তাদের স্টাইলে জনমত জরিপ করে তারা দেখিয়েছিলেন, শতকরা
৬৮.৩ ভাগ উত্তরদাতা আমাদের সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রয়োজনীয়তা একটা অগ্রাধিকারের বিষয় বলে মনে করেন না। তবে এটা অগ্রাধিকারের বিষয় বলে মনে করেন ২৩.৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা। (প্রথম আলো, ২০-২১ আগস্ট ২০০৬)

আসলেই দেশের সিংহভাগ জনসাধারন সেনাবাহিনীর বাজেটের বিরোধী কিনা আমরা জানি না, কিন্তু ভাষার কিছু মারপ্যাচ থাকলেও প্রথম আলোর উদ্দেশ্য ও বক্তব্য পানির মতো পরিষ্কার। উপদেশটাও ছিল পরিষ্কার।

এরা আমাদের ডিফেন্স বাজেট নিয়ে গোস্বা প্রকাশ করতেন। দুটি চিহ্নিত পত্রিকা, এক বা দুটি টিভি চ্যানেল ও দুটি থিংক ট্যাংক সমন্বয়ে গঠিত গ্রুপটি আমাদের দেশে শক্তিশালী ও প্রফেশনাল সেনাবাহিনী রাখার বিরুদ্ধেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বিভিন্ন জনমত জরিপের মাধ্যমে তারা দেশের মানুষ ও নীতি নির্ধারকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
পিলখানার ঘটনা থেকে জনগনের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর জন্যই চারবছর আগে ঘঠিত ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার উপর একের পর এক তথাকথিত অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করলেও মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সংঘঠিত নারকীয় হত্যাযজ্ঞের উপর ছিটে ফোটা রিপোর্ট ও নেই এদের প্রথম পাতায়।

বর্তমান ও সাবেক সেনাকর্মকর্তাদের অভিয়োগ, সেনাবাহিনীকে দূর্বল এবং ধ্বংস করার পেছনে কিছু মিডিয়া সরাসরি দায়ী। বলার অপেক্ষা রাখেনা, দেশের ৯০ ভাগেরও অধিক মিডিয়া ধর্মনিরপেক্ষ, বাম ঘরানার ও ভারত-বান্ধব বলে পরিচিত। টিভি চ্যানেল গুলোর টক শোতে উপস্থিত আলোচকরাও প্রায় সবাই ঐ একই মতাবলম্বী বা সুশীল সমাজভুক্ত। এদের প্রায় সকলেরই সেনাবাহিনী-এলার্জি প্রকট।

জানি না আমাদের স্মৃতিশক্তি কতোটা দুর্বল। অজস্র প্রচেষ্টার প্রমাণ তারা রেখেছে আমাদের ডিফেন্স বাজেট বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে, সেমিনার করে, কুশলী জরিপ চালিয়ে ও তা নিজেদের মিডিয়ায় প্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করে। আমাদের সেনাবাহিনী বড়জোড় রক্ষীবাহিনীর মতো কিছু হলেই মনে হয় তারা খুশি হতেন। বিডিআর মুদির ব্যবসা ঠিকমতো চালাতে পারলে ও আমাদের নেভি রাজহাসের মতো সাদা ধবধবে ড্রেস পরে গ্রিন ওয়াটারে জলকেলি করলেই তারা মুগ্ধ হতেন।

লেখকঃ গবেষক, মানবাধিকার কর্মী, ই-মেইল, [email protected]
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×