রক্তাক্ত আগষ্ট(শেষ কোথায় ?)

২২ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:১৯

শেয়ার করুন:                   Facebook

আগষ্ট নিয়ে আর লেখার ইচ্ছা ছিলনা , কিন্তু পত্রিকায় আবু সাঈদ খানের আগষ্টের পটভূমিতে লেখার কিছু অংশ বিশেষ পাঠকদের জানাতে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

আগষ্টমাসে বাংলাদেশে তিনটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।
১৯৭৫-এর ১৫ই আগষ্ট স্বাধীন বাংলার মহান স্হপতি ,জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান জলপাই রঙের উছৃংখল সেনাসদস্যদের কিছু উচ্চভিলাষী সিনিয়র এবং জুনিয়র বাহিনী দ্বারা স্বপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। আর ঠিক ২৯ বছর পর ২০০৪ সালের ২১-এ আগষ্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে অনুষ্ঠিত আওয়ামি লীগের সমাবেশে বোমা হামলা হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪জন নেতা কর্মি প্রাণ হারান ,শেখ হাসিনাও আহত হন কয়েক শত নিবেদিত প্রাণ আওয়ামি কর্মি সমর্থক সহ ।সর্বশেষ ২০০৫ সালের ১৭ই আগষ্ট বেলা ১১টায় ৬৩টি জেলায় প্রায় পাচ শ" বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় - জেএমবি ।চারদলীয় জোটের শাসন আমলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলো ঘৃন্য জঙ্গীবাহিনী ।মোটামুটি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রসার ঘটে জঙ্গীবাদের।

এই তিনটি ঘটনার টার্গেট ছিল স্বাধীনতার স্বপক্ষের চেতনায় বিশ্বাসী এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামি লীগ । এবং সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ বঙ্গবন্ধু পরিবার অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে যে কোন উপায়ে বঙ্গবন্ধুর নাম নিশানা মুছে ফেলার প্রচেষ্টা।
১৫ই আগষ্টের হত্যাকান্ডের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত ছিল ,তা আজ প্রমাণীত এবং দিনের আলোরমত স্বচ্ছ।তবে যারা এটি ঘটিয়েছিল এবং জরিত ছিল তাদেরও নিজস্ব রাজনিতী ছিল।ঘটনাটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ,একদিকে ক্ষমতার লোভ ,অপরদিকে পশ্চাদপদ পাকিস্তানি ভাবধারায় তারা তাড়িত হয়েছিল।তাই পাকিস্তানের অনুকরণে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ বেতারের স্থলে "রেডিও বাংলাদেশ" এবং জয়বাংলা "র স্থলে "বাংলাদেশ জিন্দবাদ" বলা হয়েছিল ,মোশতাককে রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট অভিধায় বিশেষায়িত করা হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে বলতেই হয়,বাঙালি সেনা ও অফিসাররা দেশের রাজনৈতিক ওসামাজিক প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট বিভিন্ন প্রবণতার বাইরে ছিলেন না।তাদের মধ্যে দ্বিজাতিতত্ত্বভিত্তিক মুসলিম স্বাতন্ত্র্যবাদী ভাবধারাও ক্রিয়াশীল ছিল।সে কারণেই কতিপয় বাঙালি সেনা কর্মকর্তা পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করেছিল।কিন্তু সেই সুযোগ সবার জন্য অবারিত ছিল না।পাকিস্তানিরা বাঙালি নর্বিশেষে সবাইকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছিল। তাই দেখা যায় ,একদল দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বতস্ফূর্তভাবে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিল,একদল পরিস্থিতিগত কারণে মুক্তিযুদ্ধে শরিক হয়েছিল।লক্ষ করা যায়,অনেকেই সুযোগ পাওয়ার পরও দেশে আসার চেষ্টা না করে পাকিস্থানে অবস্থান করছিল।কিন্তু পাকবাহিনীর বিপর্যয়ের আলামত পেয়ে শেষ মূহুর্তে তড়িঘড়ি করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয় কেউ কেউ।সঙ্গত কারণেই শেষ মূহুর্তে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সবাইকে এক কাতারে ফেলা যাবে না।তবে নভেম্বরে কর্ণেল ফারুকের আকস্মিক মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের বিষয়টি স্বতঃস্ফূর্ত,না পরিস্থিতীগত কারনে বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত; তা আজ ভেবে দেখার বিষয়।
১৯৭৫-এর ৭ই নভেম্বরের পর জিয়া ক্ষমতায় এসেই ধর্মভিত্তিক রাজনিতীর গোরাপত্তন করেন স্বাধীন বাংলাদেশে।এরশাদ আরো একধাপ এগিয়ে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেন। ধর্মভিত্তিক রাজনিতীর উগ্ররুপ হচ্ছে মৌলবাদ যা বিগত চারদলীয় জোটের শাসন আমলে শাখা প্রশাখা বিস্তার লাভ করেছে।মৌলবাদ ,জঙ্গীবাদ এবং উগ্র রাজনিতীর আদর্শ স্থান হচ্ছে আজকের বিনপি।
................পরবর্তি পর্বে বাকি অংশ ..............।

 

 

  • ২ টি মন্তব্য
  • ৬১ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২২ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৮
comment by: জাহাঙ্গীর আলম আকাশ বলেছেন: জেনারেল জিয়া, জেনারেল এরশাদ, জেনারেল জিয়ার সহধর্মিনী বেগম জিয়া এবং সর্বশেষ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এরই সকলেই ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট, ৩ নভেম্বর এর বেনিফিশিয়ারী।
২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:৪৩

লেখক বলেছেন: জিয়া এবং তার পূরো পরিবার নেতৃত্ত্ব কায়েম রেখেছে বাংলাদেশকে পূনরায় পাকিস্তানের সাথে যুক্ত করতে। ভারত বিরোধীতা এবং পাকি চেতনার ধারক ও বাহক অদ্বিতীয় সংগঠন বিনপি।

 



 


ভালবাসি জন্মভুমি বাংলাদেশ ।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ১১৩১৩