লেখকের অন্যান্য পোস্ট


dhakauniversity group image ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের স্মৃতি ভরা মুহূর্তগুলি আবারো আড্ডার মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য আমাদের এই প্রয়াস “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রুপ ব্লগ” । সকলে মিলে আবার আড্ডায় মেতে উঠি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোর স্মৃতি রোমান্থনে ।  

বিগত সময় ও বোবা গল্প

লিখেছেন আজহার ফরহাদ, ২৫ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:৩৯

                       

ভরাট জলের চোখ নিয়ে চলে যাওয়া তার। একটি শূন্যমত্ত দিবস হাহাকার
করতে করতে কোথাও গর্ত খুঁজে নিরুদ্দেশ হলে পর শুধু অন্ধকার আর
অন্ধকার- নিভছে সমস্ত আশা- আকাঙ্ক্ষার নীলচে' পাহাড়- সুন্দর কোন
দেহজ গড়ন দেখতে দেখতে ছুটে চলা চোখ ট্রেনের জানালায়- বাস্তবিক
তাই, হ্যাঁ চলছিলেন ট্রেনেই। জানালায় আপাত অন্ধকার হয়ে আসা
দৃষ্টির হরিদ্রাভ সাময়িক বিকাশের মুহূর্তে তিনি দেখছিলেন তার সমস্ত
হন্তারক বিশ্বাসকে চেপে একটি অনুপম সুন্দর রোগা আর দুর্বল চলার
গতির পরম্পরায় একটি মেয়ে- যেন যাচ্ছে সুর্যাস্তের দিকে কান পেতে
আস্তে আস্তে ট্রেনের সামন্ত শব্দের অধিকারকে মাড়িয়ে দু'য়েকটি কচি
উঁচা ঘাসকে ছিঁড়তে ছিঁড়তে এক মনে একাঙ্কিকা নাটকের সবচে' গাঢ়
অভিনয়টি সাঙ্গ করে। এখানে সন্ধ্যা আজকে বিষন্ন নয় যা বিগত কয়েক
দিবস লাগছিলো গুঁজে দেয় তুলার মতন।

বুড়ো মানুষটার ফ্যাস-ফ্যাস করে গান গাইবার সুরটিও স্পষ্ট আন্দোলিত
হচ্ছে- মনে আসছে কফ জমা কন্ঠের বিরতীযুক্ত ঠেকে চলা বুড়োর গান-
তুমুল হাওয়ার টানাপোড়েন আর জংশনে কাটানো রাত, ঘন মশার
জঙ্গলে নিষিদ্ধ যাপনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কাছে আজকের সন্ধ্যা- ক্রমশ
ঘন হয়ে আসা খয়েরী অন্ধকারের রেশ ধরে দূরে- ওই হেঁটে যাওয়া
বুড়োর গানের মতো মাঝে মাঝে হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা- ঘাস ছেঁড়া-
থেমে যাওয়া- ফড়িং ধরা- ধরতে না পারা- হাসা কিংবা না হাসা-
একবার ফিরে দেখা না দেখার বাসনা- সন্ধ্যার বিষন্ন আকাশের
নিচে এই মেয়েটির ক্রমশ উত্তাপ দেয়া স্নিগ্ধতার পাশ দিয়ে কখন যে
ট্রেনটি সাপের মতো বুক ডলে সবুজ প্রান্তরকে দু'ভাগ করে পূব
থেকে পশ্চিমে চলে গেলো- খেয়াল হলো না।

তিনি দেখলেন সেই মুহূর্তটি বিগত হলো। অনন্যোপায় বিকারগ্রস্ত চোখে
উঁকি মারলেন জানালার বাইরে মাথাটা দোলাতে দোলাতে যদ্দুর দেখা
হয়...। শুধু বৃষ্টির ভেজা তালগাছ আর ডুবন্ত ধানের মাঠ। হাত
বাড়িয়ে ধরতে যাবার আগেই তার মাথার টুপিটা দৃষ্টির নিক্ষেপের
মতোই মুহূর্তে দূরে বহুদূরে একবার গাছে, ঘাসে,
শেকড়ে আঘাত খেতে খেতে হারিয়ে যায়। অফুরান বেদনার বোবা শব্দের
কতক দৃষ্টিপাত ছাড়া আর কিছুই পেলো না গল্পটি।



কবিতাটির রচনাকাল ১৯৯৯ সাল। ২০০১ সালে আমার সম্পাদিত ছোটকাগজ 'কবিতাপত্র' র নভেম্বর সংখ্যায় এটি শাখের আহমেদ কবিনামে প্রকাশিত হয়। বহুদিন পরে কবিতাটি হাতে পেয়ে একপ্রকার স্মৃতিকাতরতা থেকে ব্লগে প্রকাশ ঘটানো হলো।

আর কবিতাটির ইলাস্ট্রেশন হিসেবে ব্যাবহৃত স্কেচটি আমার নিজের। এটি
Beyond the time in whispering শিরোনামের একটি সিরিজ চিত্রকর্ম থেকে নেয়া।

  • ০ টি মন্তব্য
  • ৫২বার পঠিত
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি

আপনি এই পোস্টটে কোন মন্তব্য করতে পারবেন না

 

dhakauniversity group image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের স্মৃতি ভরা মুহূর্তগুলি আবারো আড্ডার মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য আমাদের এই প্রয়াস “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রুপ ব্লগ” । সকলে মিলে আবার আড্ডায় মেতে উঠি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোর স্মৃতি রোমান্থনে ।

পোস্ট আর্কাইভ

সর্বমোট হিট

 ১৬৯১৪

মোট সময় লেগেছে ০.১১১৪ সেকেন্ড