লেখকের অন্যান্য পোস্ট


dhakauniversity group image ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের স্মৃতি ভরা মুহূর্তগুলি আবারো আড্ডার মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য আমাদের এই প্রয়াস “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রুপ ব্লগ” । সকলে মিলে আবার আড্ডায় মেতে উঠি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোর স্মৃতি রোমান্থনে ।  

সমকালীন উর্দু কবিতা: সম্পুরণ সিং কালরা গুলজার ( পর্ব ২ )

লিখেছেন আজহার ফরহাদ, ২৯ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৪৫

                       

গত পোষ্টে পাঠানো গুলজারের কয়েকটি কবিতার অনুবাদ অনেকেরই পছন্দ হয়েছে। অথচ আমি জানি অনুবাদ হলো কাশ্মিরি শালের উল্টো পিঠ। এ কথাটি বহু আগেই শুনেছিলাম যখন অনুবাদ করতাম না, স্কুলে পড়ি। এখন অনুবাদ করতে গিয়ে বারবার মনে হয় কথাটি সঠিক।

তবুও কিছু কিছু কবিতার, গল্পের, উপন্যাসের, আত্মজীবনীর অনুবাদ না হলেই নয়। গুলজারের কবিতা তেমনই। সমকালীন উর্দু কবিদের মধ্যে এমন রুচিবান আর সৃজনশীল মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। গুলজারের গল্পেও আছে হর্ষ আর বিষাদের দ্যোতনা। তার কবিতা যেমন আঙুলকে লাঙল বানিয়ে চষে আকাশের মাঠ, তেমনি ভরদুপুরের রোদে শরবতের কোমল পরশে বুলিয়ে দেয় পাঠকের মন।

গুলজার নিঃসন্দেহে সেই বিরলপ্রজদের একজন যারা শুধু কবিতার জন্যে জন্মান। এই পোস্টে তার আরো কিছু কবিতার অনুবাদ দেয়া হলো। সমঝদার পাঠক এবার কাশ্মিরি শালটিকে ঠিক করে পরে নেবেন। আমার কৈফিয়ত শেষ।


শফক.

রোয সাহিল পে খাড়ে হো-কে য়েহি দেখা হ্যায়
শাম কা পিঘলা হুয়া সুরখ-সুনেহরি রোগা.ন
রোজ মাটিয়ালে-সে পানি মেঁ য়েহ ঘুল জাতা হ্যায়

রোয সাহিল পে খাড়ে হো-কে য়েহি সোচা হ্যায়
ম্যায় যো পিঘলি হুয়ি রঙ্গীন শফক. কা রোগা.ন
পোঁছ-লু হাথোঁ পে

অওর চুপকে সে ইকবার কাভি
তেরে গুলনার সে রুখসারোঁ পে ছপ সে মল দুঁ
শাম কা পিঘল হুয়া সুরখ-সুনেহরি রোগা.ন

কিরণ

তীরে দাঁড়িয়ে এই দেখেছি রোজ
সন্ধ্যার গলে যাওয়া লালচে-সোনালী আলো
প্রতিদিন দিগন্তে মেশে জলে

প্রতিদিনই তীরে দাঁড়িয়ে এমন ভেবেছি
আমি, গলে যাওয়া রঙীন দিগন্ত-দ্যুতির আলো
মুছে নিই হাতে।

আর নিঃশব্দে একবার কখনো
তোমার দালিম ফুলের মুখমন্ডল ছেপে ডলে দিই
সন্ধ্যার গলে যাওয়া লালচে-সোনালী আলো


তরকী.ব

মুঝকো ভি তরকী.ব সিখাদো য়ার জুলাহে
আকসর তুঝকো দেখা হ্যায় কে তানা বুনতে
জাব কোয়ি তাগা টুট গ্যায়া য়া খ.তম হুয়া
ফিরকে বান্ধকে অওর সিরাহ কোয়ি জোড়কে উসমে
আগে বুননে লাগতে হো।
তেরে ইস তানে মে লেকিন ইকভি গাঁঠ গিরাহ
বুনতরভি দেখ নেহি সাকতা হ্যায় কোয়ি।

ম্যায়নে তো ইকবার বুনা থা ইকহি রিশতা
লেকিন উসকে সারি গিরাহ সাফ নজর আতা হ্যায়,
মেরে য়ার জুলাহে...
মুঝকো ভি তরকী.ব সিখাদো য়ার জুলাহে।

কৌশল

আমাকেও কৌশল শেখাও হে বন্ধু জোলা
প্রায়শই দেখি তোমায় টানা বুনতে
ছিঁড়ে গেলে কিংবা শেষ হয়ে এলে সুতা
বেঁধে আর জোড় লাগিয়ে ফের শুরু করলে বোনা,
তোমার এই টানা-পোড়েনে একটিও গিঁঠ চোখে পড়ে না কারো
বুনবার পর।

আমিতো একবার বুনেছিলাম একটাই সম্পর্ক
অথচ তার প্রতিটা গিঁঠ স্পষ্ট দেখতে পাই,
হে বন্ধু জোলা...
আমাকেও শিখিয়ো কৌশল, কী করে বুনতে হয় টানা।

দিনরাত

তেরি আখোঁ-সে হি খুলতি হ্যায় সাভেরোঁ-কে উফাক.
তেরি আঁখো-সে হি বন্দ হোতি হ্যায় য়ে সিপ-কি রাত
তেরি আখেঁ হ্যায় য়া সেজদে মে হ্যায় মাসুম নামাযি

পলকে খুলতি হ্যায় ইয়ুঁ গুন্জকে উঠতি হ্যায় নযর
জ্যায়সে মন্দির-সে জরস কি চলে নমনাক হাবা.
আওর ঝুকতি হ্যায় তো বাস জ্যায়সে আযান খ.তম হুয়ি হো

তেরি আঁখে, তেরি ঠ্যাহরি হুয়ি গ.মগি.ন-সি আঁখে
তেরি আখোঁ-সে হি তখ.লিক হুয়ি হ্যায় সাচ্চি
তেরি আখোঁ-সে হি তখ.লিক হুয়ি হ্যায় য়ে হায়াত

দিনরাত

তোমার চোখেই শুরু ভোরের দিগন্ত
তোমার চোখেই নেভে এই শঙ্খের রাত
এ তোমার চোখ না সেজদায় নত নিস্পাপ নামাজি

পলক খোলো তো এমন গুঞ্জন চলে দৃষ্টির
আর্দ্র হাওয়ায় যেন ঘন্টা বেজে ওঠে মন্দিরে
আর বুঁজে নাও তো ব্যাস যেনো আজান শেষ হয়ে আসে

তোমার চোখ, থেমে থাকা দুঃখ জাগানিয়া চোখ
এ চোখ হতেই পূর্ণ হয় সত্য
এ চোখ হতেই পূর্ণ হয় আয়ু।

উচ্চারণ প্রসঙ্গ:
s সর্বদা স, sh শ লিখিত হয়েছে। যেখানে খ এর পরে (.) দেয়া হয়েছে সেখানে খ উচ্চারণটি হবে সিলেটিয় ক উচ্চারণের মতো। আবার যেখানে ব এর পরে (.) আছে সেখনে উচ্চারণ হবে ব- w যেমন ব.ফা- wafa। তেমনি ক এর পরে (.) থাকলে ক এর উচ্চরণে কন্ঠনালীতে জোর প্রয়োগ করতে হবে। আর জ ও য এর উচ্চারণ বাংলা উচ্চরণ রীতি অনুযায়ী হবে। আসলে অনেক বর্ণের উচ্চারণ না শুনিয়ে বোঝানো মুশকিল। আর সবচাইতে বেশি সহযোগিতা পাওয়া যাবে আগ্রাসী হিন্দি সংস্কৃতি থেকে।

  • ০ টি মন্তব্য
  • ৪৯বার পঠিত
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি

আপনি এই পোস্টটে কোন মন্তব্য করতে পারবেন না

 

dhakauniversity group image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের স্মৃতি ভরা মুহূর্তগুলি আবারো আড্ডার মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য আমাদের এই প্রয়াস “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রুপ ব্লগ” । সকলে মিলে আবার আড্ডায় মেতে উঠি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোর স্মৃতি রোমান্থনে ।

পোস্ট আর্কাইভ

সর্বমোট হিট

 ১৬০৮৭

মোট সময় লেগেছে ০.১০৯৮ সেকেন্ড