লেখকের অন্যান্য পোস্ট


dhakauniversity group image ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের স্মৃতি ভরা মুহূর্তগুলি আবারো আড্ডার মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য আমাদের এই প্রয়াস “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রুপ ব্লগ” । সকলে মিলে আবার আড্ডায় মেতে উঠি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোর স্মৃতি রোমান্থনে ।  

সাত হাজার ভরত পাখি আমাকে সাত হাজার গল্পের কথা বলেছিলো

লিখেছেন আজহার ফরহাদ, ০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ ভোর ৪:১২

                       

বিকল্প অমৃতের খোঁজে চারপেয়ে জিরাফের মতো গ্রীবা নাচিয়ে
প্রিয়তমা চৌহদ্দি আমার, তোমার আগেই দেখো পৌঁছে গেছি কাঙ্ক্ষিত আনাজের কাছে। দাঁতে চেপে ধরি শস্যের শ্যামল ভগবান বুদ্ধের মতো বিষ্ময়হীন আনন্দজ্ঞানে।

তারপর যখন একটা বিরাট হাতি, তার স্মৃতির ভল্ট থেকে চুরি গেলে দামী অতীত দুঃখ পায়; আমি তাকে আশ্বস্ত করি তবু একদিন শুনি সে
সারারাত কেঁদেছিলো মানুষের মতো, আমাকে সেই কথা বলেছিলো ভরত পাখি, তার ঠোঁটে করে নিয়ে এসেছিলো একটা নীল প্রজাপতি যে কী না মৃত আর সারারাত বসেছিলো বিরাট হাতিটার চোখে আর বলেছিলো ভোরবেলা ছদ্মঊষার মুহূর্তে মারা গিয়েছিলো সে এবং আরো বলেছিলো একটা কালো ময়ূর যে ভালোবাসতো তার ঘোরের নৃত্য আর সে নৃত্যে বৃষ্টি ঝরাতো বিরাট হাতির শুঁড়।

সে বলেছিলো হাতিটা ছিলো জ্ঞানী, তার কাছে দূরদূরান্তের কত জঙ্গলদেশের পশু আর পাখি ছুটে আসতো তাদের সঞ্চিত জীবনের নানান অভিজ্ঞতার কথা, হৃদয়ের আশ্চর্য আবেগের কথা ভল্টে জমা রাখতে। এর বদলে বিরাট হাতি তাদের কাছ থেকে নিতো শুধু এক বছরের আয়ু। তারা জেনেছিলো বিরাট হাতির আছে স্মৃতিময়তার অদ্ভুত অলৌকিক গুণ। তারা আরো জেনেছিলো বিরাট হাতি কাউকেই এসব কথা বলে না শুধু যখন বছরে একবার ঘনজঙ্গলে কালো ময়ূর নাচ দেখাবে, সেদিন থাকবে পূণিমার চাঁদ আকাশের বাঁ পাশে আর বিরাট হাতি বৃষ্টির মতো ছিটাবে জল অনবরত সূর্য না ওঠা পর্যন্ত।

এই বলে ভরত পাখিটা যাকে আমি কোনদিনও চোখে দেখিনি একটা পাখা ঝাপট দিয়ে উড়ে গেলো, আমি দেখলাম সে উড়ে গেলো অনন্তের দিকে আর একটি একটি করে তার দেহ হতে খসে পড়লো পালক যা বাতাসে উড়ে যেতে যেতে একেকটি ভরত পাখিতে পরিণত হলো। আমি দেখলাম।

এভাবে একসময় অনন্তে বিলীন হয়ে যাওয়া ভরত পাখিটার পালক থেকে জন্মে ওঠা সাত হাজার অবিকল পাখি আমাকে ঘিরে উড়তে লাগলো। এই সাত হাজার ভরত পাখি আমাকে সাত হাজার গল্পের কথা বলেছিলো। এবং বলেছিলো যে অনন্তে বিলীন হয়ে যাওয়া ভরত পাখিটির এই গল্পগুলি ছিলো বিরাট হাতির ভুলে যাওয়া অতীতের কথা । সম্পূর্ণ স্মৃতিহীনতার আগে, সম্পূর্ণ নিবে যাওয়ার আগে যে রকম জ্বলে ওঠে শিখা তেমনি মনে পড়েছিলো তার স্মৃতিহীন সাত হাজার গল্পের কিছু কিছু যা মৃত প্রজাপতি সম্পূর্ণ নিস্তেজ হবার আগে বলেছিলো ভরত পাখির কানে।

এই বলে সাত হাজার অবিকল ভরত পাখি উড়ে চলে গেলো আমার কাছ থেকে আমাকে গল্পগুলি না শুনিয়েই। শুধু ওরা বলেছিলো বিরাট হাতির ওই গল্পগুলি দূরদূরান্তের পশুপাখির ভল্টে রাখা একান্ত দুঃখের কথা ছিলো, বিয়োগান্ত অতীতের কথা ছিলো।

আমি তখন দাঁতে চেপে ধরি শস্যের শ্যামল। ভগবান বুদ্ধের মতো বিষ্ময়হীন আনন্দজ্ঞানে হাত বাড়াই আরেকটি গল্পের দিকে। ভাবছি এবারের গল্প বিষাদের না হর্ষের,


এই অর্ধমনষ্ক, অপূর্ণাঙ্গ, অদ্ভুত কবিতাটির কিংবা গল্পটির কিংবা টানাগদ্যটির কিংবা অপরিণত রচনাটির সাথে ইলাস্ট্রেশন হিসেবে দেয়া স্কেচটি আমার নিজের আঁকা।

  • ২ টি মন্তব্য
  • ৭৫বার পঠিত
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১০ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০২
comment by: অহনা বলেছেন: ভাব অনেক! দুর্বোধ্য রহস্যময়। বিষ্ণুদে'র মতো।
স্কেচটি অনেক সুন্দর!
০৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩০
comment by: আজহার ফরহাদ বলেছেন: মন্তব্য করার জন্যে আন্তরিক ধন্যবাদ।

আপনি এই পোস্টটে কোন মন্তব্য করতে পারবেন না

 

dhakauniversity group image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের স্মৃতি ভরা মুহূর্তগুলি আবারো আড্ডার মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য আমাদের এই প্রয়াস “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রুপ ব্লগ” । সকলে মিলে আবার আড্ডায় মেতে উঠি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোর স্মৃতি রোমান্থনে ।

পোস্ট আর্কাইভ

সর্বমোট হিট

 ১৬৯০৯

মোট সময় লেগেছে ০.১২৩২ সেকেন্ড